সরাসরি মূল কন্টেন্টে যান

আর্থিক হিসাব বিজ্ঞান - লিপিবদ্ধকরণ প্রক্রিয়া

২৭ টি প্রশ্ন
টপিক তালিকা
একই বিষয়ের সব টপিক
ব্যাখ্যা (Explanation)
এক মালিকানা কারবারে আয় বিবরণী (Income Statement) প্রস্তুত করার প্রধান লক্ষ্য হলো একটি নির্দিষ্ট হিসাবকালে ব্যবসায়ের আর্থিক ফলাফল নির্ণয় করা।
- আর্থিক ফলাফল নির্ণয়: ব্যবসায়ের যাবতীয় আয় থেকে যাবতীয় ব্যয় বাদ দিলে নিট লাভ বা নিট ক্ষতি পাওয়া যায়।
- গাণিতিক নিয়ম: নিট লাভ বা ক্ষতি = মোট আয় - মোট ব্যয়।
- অন্যান্য বিবরণীর কাজ: সম্পদ ও দায় 'আর্থিক অবস্থার বিবরণী'-তে, নগদ অর্থের প্রবাহ 'নগদ প্রবাহ বিবরণী'-তে এবং মূলধনের পরিবর্তন 'মালিকানা স্বত্ব বিবরণী'-তে দেখানো হয়। সুতরাং, আয় ও খরচের বিবরণ দিয়ে নিট লাভ বা ক্ষতি নির্ধারণ করাই আয় বিবরণীর মূল উদ্দেশ্য।
ব্যাখ্যা (Explanation)
আর্থিক বিবরণীর যে অংশে একটি নির্দিষ্ট হিসাবকালে ব্যবসায়ের মালিকদের বা শেয়ারহোল্ডারদের মূলধনের পরিবর্তনসমূহ উপস্থাপন করা হয়, তাকে মালিকানা স্বত্ব বিবরণী (Statement of Owner's Equity) বলে।
- মালিকানা স্বত্বের উপাদান: প্রারম্ভিক মূলধন, নিট লাভ বা ক্ষতি, অতিরিক্ত মূলধন এবং উত্তোলন বা লভ্যাংশ।
- গাণিতিক নিয়ম: সমাপনী মালিকানা স্বত্ব = প্রারম্ভিক মূলধন + অতিরিক্ত মূলধন + নিট লাভ (বা - নিট ক্ষতি) - উত্তোলন/লভ্যাংশ।
- এর মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডাররা জানতে পারেন বছর শেষে তাদের প্রকৃত পাওনা বা মালিকানার পরিমাণ কতটুকু বৃদ্ধি বা হ্রাস পেয়েছে।
ব্যাখ্যা (Explanation)
হিসাবরক্ষণের ক্ষেত্রে যখন একটি ভুলের প্রভাব অন্য একটি বা একাধিক ভুল দ্বারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়, তখন তাকে Compensating Error বা পরিপূরক ভুল বলা হয়।
- বৈশিষ্ট্য: এই ভুলের ফলে ডেবিট ও ক্রেডিট দিকের যোগফল সমান থাকে, তাই রেওয়ামিল (Trial Balance) মিলে যায়।
- উদাহরণ: ধরা যাক, ক্রয় হিসাবে ৫০০ টাকা কম লেখা হয়েছে (ডেবিট ৫০০ টাকা কম) এবং একই সাথে বিক্রয় হিসাবেও ৫০০ টাকা কম লেখা হয়েছে (ক্রেডিট ৫০০ টাকা কম)। এখানে দুটি ভিন্ন ভুল একে অপরের প্রভাবকে কাটাকাটি করে দিয়েছে, ফলে রেওয়ামিলে কোনো গরমিল দেখা যাবে না।
ব্যাখ্যা (Explanation)
খতিয়ানে (Ledger) হিসাবের জের বা ব্যালেন্স স্থানান্তরের ক্ষেত্রে 'b/d' (Brought Down) শব্দটি ব্যবহার করা হয়। এর আক্ষরিক অর্থ হলো 'নিচে আনা হয়েছে'।
- ব্যবহার: পূর্ববর্তী হিসাবকালের বা পূর্ববর্তী পৃষ্ঠার সমাপনী জেরকে (Closing Balance) বর্তমান হিসাবকালে বা নতুন পৃষ্ঠায় প্রারম্ভিক জের হিসেবে নিয়ে আসতে এটি ব্যবহৃত হয়।
- পার্থক্য: যখন জের বা ব্যালেন্স বের করে নিচে বা পরের পৃষ্ঠায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হয়, তখন 'c/d' (Carried Down) বা 'স্থানান্তরিত হবে' লেখা হয়। আর যখন সেই জেরটি এক পৃষ্ঠা থেকে অন্য পৃষ্ঠায় বা নতুন স্থানে আনা হয়, তখন তাকে 'b/d' বা 'স্থানান্তরিত হয়েছে' হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
ব্যবসায়ের সত্তা ধারণা (Business Entity Concept) অনুযায়ী, মালিক এবং ব্যবসা দুটি সম্পূর্ণ আলাদা সত্তা।
- উত্তোলন (Drawings): মালিক যদি তার ব্যক্তিগত বা পারিবারিক প্রয়োজনে ব্যবসা থেকে নগদ অর্থ, পণ্য বা অন্য কোনো সম্পদ গ্রহণ করেন, তবে তাকে উত্তোলন বলা হয়।
- হিসাবরক্ষণের নিয়ম: মালিক ব্যবসা থেকে কিছু নিলে ব্যবসায়ের মালিকানা স্বত্ব হ্রাস পায়। আধুনিক হিসাববিজ্ঞান সমীকরণ অনুযায়ী মালিকানা স্বত্ব হ্রাস পেলে তা ডেবিট হয়।
- জাবেদা দাখিলা:
উত্তোলন হিসাব – ডেবিট (মালিকানা স্বত্ব হ্রাস)
নগদান/ক্রয় হিসাব – ক্রেডিট (সম্পদ বা ব্যয় হ্রাস)
ব্যাখ্যা (Explanation)
রেওয়ামিল প্রস্তুতের সময় ডেবিট এবং ক্রেডিট উভয় দিকের যোগফল সমান হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু কোনো ভুলের কারণে যদি উভয় দিকের যোগফল সমান না হয়, তখন আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতের সুবিধার্থে সাময়িকভাবে একটি নতুন হিসাব খুলে দুই দিক সমান করা হয়।
  • এই সাময়িক হিসাবটিকে অনিশ্চিত হিসাব (Suspense Account) বলা হয়।
  • ভুলগুলো পরবর্তীতে খুঁজে বের করার পর সংশোধনী জাবেদার মাধ্যমে এই হিসাবটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
  • অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে, মূলধন ও উত্তোলন মালিকানা স্বত্বের অংশ এবং সমন্বয় হিসাব হিসাবকালের শেষের বকেয়া বা অগ্রিম লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
ধারে পণ্য ক্রয়ের পর যদি পণ্যটি ত্রুটিপূর্ণ হয় বা নমুনানুযায়ী না হয়, তখন ক্রেতা সেই পণ্য বিক্রেতার নিকট ফেরত পাঠান।
  • পণ্য ফেরত পাঠানোর সময় ক্রেতা বিক্রেতার পাওনা পরিমাণ কমিয়ে দেয়, অর্থাৎ বিক্রেতার হিসাবকে (পাওনাদার হিসাব) ডেবিট করে।
  • এই ডেবিট করার তথ্য জানিয়ে ক্রেতা বিক্রেতাকে যে চিঠি বা দলিল পাঠান, তাকে ডেবিট নোট বলে।
  • বিপরীতভাবে, বিক্রেতা যখন পণ্য ফেরত পায় তখন সে ক্রেতার হিসাব ক্রেডিট করে যে চিঠি পাঠায় তাকে ক্রেডিট নোট বলে।
  • চালান এবং ক্যাশ মেমো যথাক্রমে ধারে ও নগদে পণ্য বিক্রয়ের প্রমাণপত্র।
ব্যাখ্যা (Explanation)
হিসাবচক্রের একটি ঐচ্ছিক ধাপ হলো এমন একটি খসড়া প্রস্তুত করা, যা আর্থিক বিবরণী তৈরিকে সহজ করে।
  • হিসাবরক্ষক রেওয়ামিল, সমন্বয় দাখিলা, এবং অন্যান্য হিসাব একত্রিত করে একটি বহু-ঘরা বিশিষ্ট কাগজে যে বিবরণী প্রস্তুত করেন, তাকে কার্যপত্র (Work Sheet) বলা হয়।
  • এটি কোনো চূড়ান্ত হিসাব নয়, বরং আর্থিক বিবরণী (আয় বিবরণী, আর্থিক অবস্থার বিবরণী) নিখুঁতভাবে প্রস্তুত করার জন্য একটি খসড়া বা সহায়ক দলিল হিসেবে কাজ করে।
ব্যাখ্যা (Explanation)
হিসাববিজ্ঞানের নীতি অনুযায়ী, প্রতিটি হিসাবকালের শেষে নামিক বা অস্থায়ী হিসাবগুলোর (আয় এবং ব্যয়) জের শূন্য করতে হয়, যাতে পরবর্তী হিসাবকালে এগুলো প্রভাব না ফেলে।
  • আয় এবং ব্যয় হিসাবগুলো বন্ধ করে সেগুলোর জের আয় সারাংশ (Income Summary) বা লাভ-লোকসান হিসাবে স্থানান্তর করার জন্য যে জাবেদা প্রদান করা হয়, তাকে সমাপনী দাখিলা (Closing Entry) বলে।
  • প্রারম্ভিক দাখিলা বছরের শুরুতে সম্পদ ও দায় নিয়ে শুরু করার জন্য দেওয়া হয়।
  • সমন্বয় দাখিলা বকেয়া বা অগ্রিম আয়-ব্যয় সমন্বয়ের জন্য এবং বিপরীত দাখিলা পরবর্তী বছরের শুরুতে সমন্বয় দাখিলার উল্টো প্রভাব দেখানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।

প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা ওয়েবসাইটে; সবগুলোর সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে অ্যাপ ইন্সটল করুন।

ব্যাখ্যা (Explanation)
বকেয়া ভিত্তির হিসাববিজ্ঞান অনুযায়ী, কোনো সেবা প্রদান বা পণ্য বিক্রয়ের মাধ্যমে আয় অর্জিত হলে তা ওই হিসাবকালেই লিপিবদ্ধ করতে হয়, নগদ অর্থ পাওয়া যাক বা না যাক।
  • যে আয় ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে কিন্তু নগদে পাওয়া যায়নি, তাকে বকেয়া আয় (Accrued Revenue) বলা হয়।
  • এটি ব্যবসায়ের জন্য একটি চলতি সম্পদ, কারণ ভবিষ্যতে এই অর্থ পাওয়া যাবে।
  • অগ্রিম আয় (বা অনুপার্জিত আয়) হলো নগদ পাওয়া গেছে কিন্তু সেবা দেওয়া হয়নি। বকেয়া ব্যয় হলো খরচ হয়েছে কিন্তু পরিশোধ করা হয়নি।
ব্যাখ্যা (Explanation)
হিসাবকাল শেষে বকেয়া, অগ্রিম, অবচয় ইত্যাদির হিসাব হালনাগাদ করার জন্য যে জাবেদা দেওয়া হয়, তাকে সমন্বয় দাখিলা (Adjusting Entry) বলে।

এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট হিসাবকালের প্রকৃত আয় ও ব্যয় নির্ণয় করে সঠিক ম্যাচিং নীতি বা সমন্বয় বিধান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

অন্যান্য অপশনগুলোর অর্থ:
• প্রারম্ভিক দাখিলা: বছরের শুরুতে সম্পদ ও দায়ের উদ্বৃত্ত নিয়ে যে জাবেদা হয়।
• সমাপনী দাখিলা: আয় ও ব্যয় হিসাবগুলো বন্ধ করার জন্য যে জাবেদা হয়।
• বিপরীত দাখিলা: পরবর্তী হিসাবকালের শুরুতে সমন্বয় দাখিলার উল্টো যে জাবেদা দেওয়া হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
হিসাববিজ্ঞানের নির্দিষ্ট নীতিমালা লঙ্ঘন করে কোনো লেনদেন লিপিবদ্ধ করলে তাকে নীতিগত ভুল (Error of Principle) বলা হয়।

বিশ্লেষণ:
• যখন কোনো মুনাফাজাতীয় ব্যয়কে (যেমন: যন্ত্রপাতি মেরামত) মূলধন জাতীয় ব্যয় (যেমন: যন্ত্রপাতি হিসাব) হিসেবে দেখানো হয়, বা এর উল্টোটি করা হয়, তখন তা হিসাববিজ্ঞানের মূল নীতির পরিপন্থী হয়।
• এই ভুলের ফলে রেওয়ামিলের দুই দিক মিলে গেলেও আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে ভুল তথ্য প্রদর্শিত হয়।

অন্যান্য ভুলগুলো (করণিক, পরিপূরক, বাদ পড়ার ভুল) মূলত গাণিতিক বা লেখার অগোচরে ঘটে, যা হিসাববিজ্ঞানের মূল নীতির সাথে সরাসরি যুক্ত নয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
কোনো লেনদেন হিসাবের বইতে লিখতে সম্পূর্ণ বা আংশিক ভুলে গেলে তাকে বাদ পড়ার ভুল (Error of Omission) বলে।

নিয়ম ও বিশ্লেষণ:
• সম্পূর্ণ বাদ পড়ার ভুল: যখন কোনো লেনদেন জাবেদা থেকে খতিয়ানে বা খতিয়ান থেকে রেওয়ামিলে একেবারেই তোলা হয় না। এর ফলে রেওয়ামিলের ডেবিট ও ক্রেডিট উভয় দিকেই সমান প্রভাব পড়ে এবং রেওয়ামিল মিলে যায়।
• লেখার ভুল: সঠিক হিসাবখাতে কিন্তু ভুল টাকার অঙ্ক লেখা।
• বেদাখিলার ভুল: এক হিসাবের পরিবর্তে অন্য হিসাবে লেখা।
ব্যাখ্যা (Explanation)
হিসাবচক্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো রেওয়ামিল (Trial Balance) প্রস্তুতকরণ।

উদ্দেশ্য ও প্রস্তুত প্রণালী:
• খতিয়ানের ডেবিট উদ্বৃত্ত এবং ক্রেডিট উদ্বৃত্তগুলো সঠিক আছে কিনা, অর্থাৎ হিসাবের গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাই করার জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখে রেওয়ামিল তৈরি করা হয়।
• দ্বিতরফা দাখিলা পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতিটি ডেবিটের সমপরিমাণ ক্রেডিট থাকে, তাই রেওয়ামিলের দুই দিকের যোগফল সমান হতে হয়।
• অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে আর্থিক অবস্থার বিবরণী ও আয় বিবরণী হলো আর্থিক ফলাফল নির্ণয়ের ধাপ, আর কার্যপত্র হলো একটি ঐচ্ছিক খসড়া বিবরণী।
ব্যাখ্যা (Explanation)
জাবেদা থেকে লেনদেনগুলোকে তাদের নিজ নিজ হিসাবের শিরোনাম অনুযায়ী খতিয়ানে স্থানান্তর করার প্রক্রিয়াকে পোস্টিং (Posting) বা খতিয়ানভুক্তকরণ বলা হয়।

ধাপসমূহ:
• প্রথমে লেনদেনগুলো ডেবিট-ক্রেডিট বিশ্লেষণ করে জাবেদায় লিপিবদ্ধ করা হয়।
• এরপর জাবেদা থেকে প্রতিটি নির্দিষ্ট হিসাবের জন্য (যেমন: নগদান হিসাব, ক্রয় হিসাব) খতিয়ানে স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করা হয়, যা পোস্টিং নামে পরিচিত।
• শ্রেণিবদ্ধকরণ হলো খতিয়ানের মূল উদ্দেশ্য, তবে এক বই থেকে আরেক বইতে তথ্য স্থানান্তর করার নির্দিষ্ট কাজটিই হলো পোস্টিং।
ব্যাখ্যা (Explanation)
জাবেদা মূলত দুই প্রকার হতে পারে: সরল ও মিশ্র বা জটিল।
• সরল জাবেদা: যেখানে একটি ডেবিট এবং একটি ক্রেডিট হিসাব থাকে।
• জটিল বা মিশ্র জাবেদা: যখন কোনো লেনদেনের ফলে একাধিক ডেবিট অথবা একাধিক ক্রেডিট অথবা উভয় দিকেই একাধিক হিসাব খাত প্রভাবিত হয়, তখন তাকে জটিল বা মিশ্র জাবেদা বলে।
যেহেতু এখানে একাধিক ডেবিট বা ক্রেডিট হিসাব থাকার কথা বলা হয়েছে, তাই সঠিক উত্তর হবে জটিল বা মিশ্র জাবেদা।
ব্যাখ্যা (Explanation)
হিসাববিজ্ঞানে বিশেষ লেনদেনগুলো লিপিবদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন বিশেষ জাবেদা ব্যবহৃত হয়।
• ক্রয় জাবেদা: শুধুমাত্র ধারে বা বাকিতে পণ্য ক্রয়ের লেনদেনগুলো এখানে লিপিবদ্ধ করা হয়।
• বিক্রয় জাবেদা: শুধুমাত্র ধারে পণ্য বিক্রয়ের লেনদেন রেকর্ড করা হয়।
• নগদ প্রাপ্তি জাবেদা: নগদ টাকার প্রাপ্তি সম্পর্কিত লেনদেন এখানে বসে।
যেহেতু লেনদেনটি ধারে পণ্য ক্রয় সম্পর্কিত, তাই এটি অবশ্যই ক্রয় জাবেদায় লিপিবদ্ধ করতে হবে।
ব্যাখ্যা (Explanation)
হিসাবচক্রের প্রথম ধাপ হলো লেনদেন শনাক্তকরণ এবং দ্বিতীয় ধাপ হলো লেনদেন লিপিবদ্ধকরণ।
• ব্যবসায়ের প্রতিটি লেনদেন সংঘটিত হওয়ার পর ডেবিট ও ক্রেডিট বিশ্লেষণ করে তারিখের ক্রমানুসারে এবং সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ যে প্রাথমিক হিসাবের বইতে প্রথম লেখা হয়, তাকে জাবেদা (Journal) বলা হয়।
• জাবেদাকে হিসাবের প্রাথমিক বই বা দৈনন্দিন বই (Day Book) ও বলা হয়।
খতিয়ান হলো হিসাবের পাকা বই, আর রেওয়ামিল হলো গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাইয়ের মাধ্যম। তাই সঠিক উত্তর জাবেদা।
ব্যাখ্যা (Explanation)
হিসাববিজ্ঞানে ব্যবহৃত 'জাবেদা' (ইংরেজি: Journal) পরিভাষাটির উৎপত্তির সাথে ফরাসি ভাষার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।

• ইংরেজি 'Journal' শব্দটি মূলত ফরাসি শব্দ 'Jour' থেকে এসেছে।
• ফরাসি ভাষায় 'Jour' শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো 'দিন' বা 'দিবস'। সেই সূত্র ধরে 'Journal' বা এর বাংলা পরিভাষা 'জাবেদা'-এর অর্থ দাঁড়ায় 'দৈনিক' বা প্রতিদিনের হিসাবের বই।
• শব্দের ব্যবহার: ব্যবসায়িক লেনদেন সংঘটিত হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে তারিখের ক্রমানুসারে ডেবিট ও ক্রেডিট বিশ্লেষণ করে যে বইতে লিপিবদ্ধ করা হয়, তাকে জাবেদা বা দৈনিক দাখিলার বই বলা হয়।

ভাষাগত উৎপত্তি ও শব্দভাণ্ডার: বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডারে যুগে যুগে নানা ভাষার শব্দের মিশ্রণ ঘটেছে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলা ভাষায় আগত বেশ কিছু ফারসি শব্দ হলো: আসমান, খোদা, জবানবন্দি, দফতর, দোকান, দস্তখত, দৌলত, বাদশাহ, আমদানি, রফতানি ইত্যাদি। ঠিক একইভাবে বিভিন্ন ইউরোপীয় ভাষা (যেমন- ফরাসি ও ইংরেজি) থেকেও অনেক শব্দ এবং ধারণা (যেমন- Jour থেকে Journal বা জাবেদা) আমাদের শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনে আত্তীকৃত হয়েছে।

নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন — অ্যাপে লাইভ পরীক্ষা দিয়ে মেরিট লিস্টে নিজের অবস্থান দেখুন।

ব্যাখ্যা (Explanation)
হিসাব সমীকরণটি হলো: সম্পদ (Assets) = দায় (Liabilities) + মালিকানাস্বত্ব (Owner's Equity)।
ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করার ফলে ব্যবসায়ের দুটি উপাদানে পরিবর্তন আসে:
১. নগদ বা ব্যাংক হিসাব (সম্পদ): ব্যবসায় নগদ টাকা বা ব্যাংকে জমার পরিমাণ বেড়ে যায়, অর্থাৎ সম্পদ বৃদ্ধি পায়।
২. ব্যাংক ঋণ হিসাব (দায়): যেহেতু ব্যবসাকে ভবিষ্যতে এই টাকা পরিশোধ করতে হবে, তাই ব্যবসায়ের দায় বৃদ্ধি পায়।
সুতরাং, এই লেনদেনের গাণিতিক প্রভাব হলো সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং একই সাথে দায় বৃদ্ধি পায়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
মৌলিক হিসাব সমীকরণটি হলো: A = L + E (সম্পদ = দায় + মালিকানাস্বত্ব)।
এই সমীকরণের মালিকানাস্বত্ব (E) অংশটি চারটি মূল উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। বর্ধিত সমীকরণে এর গাণিতিক নিয়মটি হলো:
• মূলধন (Capital/C): মালিক ব্যবসায় যা বিনিয়োগ করেন, তা মালিকানাস্বত্ব বৃদ্ধি করে (+)।
• আয় (Revenue/R): ব্যবসায়ের আয় মালিকানাস্বত্ব বৃদ্ধি করে (+)।
• ব্যয় (Expenses/Ex): ব্যবসায়ের যেকোনো খরচ বা ব্যয় মালিকানাস্বত্ব হ্রাস করে (-)।
• উত্তোলন (Drawings/D): মালিক নিজ প্রয়োজনে কিছু নিয়ে গেলে তা মালিকানাস্বত্ব হ্রাস করে (-)।
অতএব, মালিকানাস্বত্ব নির্ণয়ের সঠিক বর্ধিত সূত্রটি হলো: মূলধন + আয় - ব্যয় - উত্তোলন (C + R - Ex - D)।
ব্যাখ্যা (Explanation)
আধুনিক বা সমীকরণ পদ্ধতি (Modern Approach) অনুযায়ী হিসাবের খাতগুলোকে প্রধানত পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়।

এগুলো হলো:
১. সম্পদ হিসাব (Asset Account): ব্যবসায়ের মালিকানাধীন যা কিছু মুনাফা অর্জনে সহায়তা করে। যেমন: নগদান, আসবাবপত্র।
২. দায় হিসাব (Liability Account): ব্যবসায়ের ওপর তৃতীয় পক্ষের দাবি। যেমন: পাওনাদার, ব্যাংক ঋণ।
৩. মালিকানা স্বত্ব হিসাব (Owner's Equity Account): ব্যবসায়ের মোট সম্পদের ওপর মালিকের দাবি। যেমন: মূলধন।
৪. রেভিনিউ বা আয় হিসাব (Revenue/Income Account): ব্যবসায়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম থেকে অর্জিত অর্থ। যেমন: বিক্রয়, প্রাপ্ত কমিশন।
৫. ব্যয় হিসাব (Expense Account): আয় অর্জনের জন্য যে খরচ করা হয়। যেমন: বেতন, ভাড়া।
ব্যাখ্যা (Explanation)
সনাতন বা প্রাচীন পদ্ধতি অনুযায়ী হিসাবকে বৈশিষ্ট্য ও প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। যথা- ব্যক্তিবাচক, সম্পত্তিবাচক এবং নামিক বা আয়-ব্যয়বাচক।

ব্যক্তিবাচক হিসাব- যেসব হিসাব কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার সাথে সম্পর্কিত, তাকে ব্যক্তিবাচক হিসাব বলে। এই হিসাবে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সুবিধা গ্রহণকারী বা প্রদানকারী হতে পারে। যেমন: রহিম হিসাব, পাওনাদার হিসাব, ব্যাংক হিসাব ইত্যাদি।

সম্পত্তিবাচক হিসাব- যেসব হিসাব ব্যবসায়ের কোনো সম্পদ বা সম্পত্তির সাথে সম্পর্কিত, তাকে সম্পত্তিবাচক হিসাব বলে। এই হিসাব ব্যবসায়ের অধিকার বা মালিকানা নির্দেশ করে। যেমন: নগদান হিসাব, আসবাবপত্র হিসাব, যন্ত্রপাতি হিসাব ইত্যাদি।

নামিক বা আয়-ব্যয়বাচক হিসাব- যেসব হিসাব ব্যবসায়ের দৈনন্দিন আয় বা ব্যয়ের সাথে সম্পর্কিত, তাদের নামিক হিসাব বলে। এর কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই, কেবল হিসাব সংরক্ষণের সুবিধার্থে এগুলো ব্যবহৃত হয়। যেমন: বেতন হিসাব, ভাড়া হিসাব, বিক্রয় হিসাব ইত্যাদি।
ব্যাখ্যা (Explanation)
ব্যবসায়ে প্রতিদিন নানা রকম ঘটনা ঘটে, কিন্তু সব ঘটনা হিসাবের বইতে লিপিবদ্ধ করা হয় না। যে সকল অর্থনৈতিক ঘটনা ব্যবসায়ের আর্থিক অবস্থার সরাসরি পরিবর্তন ঘটায়, শুধুমাত্র সেগুলোকেই লেনদেন (Transaction) বলা হয়।

লেনদেনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. আর্থিক মূল্যে পরিমাপযোগ্য: ঘটনাটিকে অবশ্যই টাকার অঙ্কে পরিমাপযোগ্য হতে হবে।
২. আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন: ব্যবসায়ের সম্পদ, দায় বা মালিকানা স্বত্বে পরিবর্তন আনতে হবে।
৩. দ্বৈত সত্তা: প্রতিটি লেনদেনে অন্তত দুটি পক্ষ থাকবে- একটি সুবিধা গ্রহণকারী (ডেবিট) এবং অন্যটি সুবিধা প্রদানকারী (ক্রেডিট)।

যেহেতু প্রশ্নে উল্লেখিত ঘটনাগুলো কোম্পানির আর্থিক অবস্থার সরাসরি পরিবর্তন করে এবং ডেবিট-ক্রেডিটের মাধ্যমে রেকর্ড করা হয়, তাই এগুলোকে লেনদেন বলা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
বাংলাদেশে অ্যাকাউন্টিং রেকর্ড এবং রিপোর্টিং মূলত International Financial Reporting Standards (IFRS)-এর সাথে সংগতি রেখে পরিচালিত হয়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
• Institute of Chartered Accountants of Bangladesh (ICAB) আর্থিক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে IFRS গ্রহণ করেছে।
• পূর্বে Bangladesh Accounting Standards (BAS) এবং International Accounting Standards (IAS) ব্যবহৃত হলেও, বর্তমানে গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে IFRS সর্বাধিক অনুসরণ করা হয়।
• অন্যদিকে, Generally Accepted Accounting Principles (US GAAP) মূলত যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
হিসাববিজ্ঞানের মৌলিক হিসাব সমীকরণ (Basic Accounting Equation) হলো এমন একটি গাণিতিক সূত্র যা প্রমাণ করে যে, একটি ব্যবসায়ের মোট সম্পদ সর্বদা তার মোট দায় এবং মালিকানা স্বত্বের যোগফলের সমান হবে।

সমীকরণটি হলো:
Assets = Liabilities + Owner's Equity (সম্পদ = দায় + মালিকানা স্বত্ব)

গাণিতিক বিশ্লেষণ:
১. Assets (সম্পদ): ব্যবসায়ের মালিকানাধীন সব ধরনের অর্থনৈতিক উপাদান যা ভবিষ্যৎ সুবিধা প্রদান করে।
২. Liabilities (দায়): ব্যবসায়ের সম্পদের ওপর বাইরের পক্ষের বা তৃতীয় পক্ষের আর্থিক দাবি।
৩. Owner's Equity (মালিকানা স্বত্ব): ব্যবসায়ের মোট সম্পদের ওপর মালিকের নিজস্ব দাবি।

এই সমীকরণের মাধ্যমেই দু'তরফা দাখিলা পদ্ধতির গাণিতিক শুদ্ধতা প্রমাণিত হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
হিসাববিজ্ঞানে যে পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিটি লেনদেনের দুটি পক্ষ বা দ্বৈত সত্তা লিপিবদ্ধ করা হয়, তাকে দু'তরফা দাখিলা পদ্ধতি (Double Entry System) বলে। ইতালীয় গণিতবিদ লুকা প্যাচোলি ১৪৯৪ সালে এই পদ্ধতির প্রবর্তন করেন।

এই পদ্ধতির মূলনীতি বা নিয়মাবলি:
১. দ্বৈত সত্তা: প্রতিটি লেনদেনে কমপক্ষে দুটি পক্ষ বা হিসাব খাত থাকতে হবে।
২. দাতা ও গ্রহীতা: একটি পক্ষ সুবিধা গ্রহণ করবে এবং অন্য পক্ষ সুবিধা প্রদান করবে।
৩. ডেবিট ও ক্রেডিট: সুবিধা গ্রহণকারী হিসাবকে ডেবিট এবং সুবিধা প্রদানকারী হিসাবকে ক্রেডিট করা হয়।
৪. সমান অঙ্কের আদান-প্রদান: ডেবিট দিকের টাকার অঙ্ক সর্বদা ক্রেডিট দিকের টাকার অঙ্কের সমান হবে।

এটি হিসাবরক্ষণের সবচেয়ে বিজ্ঞানসম্মত, নির্ভরযোগ্য এবং পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি।
সঠিক উত্তর: ০ ভুল উত্তর: ০
নোটিশ

 ✅ টপিক ও সাব-টপিকভিত্তিক জব সলিউশন্স 

২০০৫ – ২০২৬ সাল পর্যন্ত সব জব সলিউশন্স প্রশ্ন টপিক ও সাব-টপিক আকারে যোগ করা হয়েছে — সর্বমোট প্রায় ২৫ হাজার ইউনিক প্রশ্ন। ১২তম – ২০তম গ্রেডের পরীক্ষার্থীরা শুধু এইগুলো পড়লেই হবে।

▶ প্রশ্ন ব্যাংক → অনুশীলন → এরপর উপরের ডানে হলুদ বাটনে ক্লিক করে Job Solutions ফিল্টার করে নিন।
↻ প্রতি সপ্তাহে নতুন জব প্রশ্ন টপিক ও সাব-টপিক আকারে যোগ করা হয়।


 ★ বর্তমান চলমান কোর্স (সব পরীক্ষা website থেকে OMR পদ্ধতিতে দিতে পারবেন) 

১) ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি'র লং কোর্স (১৫৬ দিন)  নতুন 
২) প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (লেকচার শিট ভিত্তিক কোর্স) নতুন 
৩) ‘অগ্রদূত বাংলা’ ৯০ দিনের মাস্টার স্টাডি রুটিন নতুন 
৪) Master English Study (৯৯ দিনের স্পেশাল কোর্স) নতুন 
৫)
১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন — লেকচারশীট ভিত্তিক
৬) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) — বাংলা 
 নতুন 
৭) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) — বাংলা 
 নতুন 
৮) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন — সমাজবিজ্ঞান
৯) ১৯তম নিবন্ধন (প্রভাষক) — গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান
১০) ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি — ২৩৬ দিনে সম্পূর্ণ সিলেবাস
১১) টপিক ভিত্তিক জব সলিউশন রুটিন (১৬৫ দিনের)
১২) প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (৩য় ব্যাচ)
১৩)  ৫১তম স্পেশাল বিসিএস (স্বাস্থ্য) সমন্বিত প্রস্তুতি রুটিন (মেডিকেল)  নতুন 
১৪) সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী


 ➤ আপকামিং কোর্স ও রুটরশ

✦ ১০তম-১৩তম গ্রেডের প্রস্তুতি।  
◆ ১৪তম-২০তম গ্রেডের প্রস্তুতি।  
◆ ৫২তম বিসিএস প্রস্তুতি।