সরাসরি মূল কন্টেন্টে যান

Accounting for Labor

২০ টি প্রশ্ন
টপিক তালিকা
একই বিষয়ের সব টপিক
ব্যাখ্যা (Explanation)
প্রতিষ্ঠানে যখন কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের বেতন ও মজুরি নগদে পরিশোধ করা হয়, তখন হিসাবরক্ষণের জাবেদা দাখিলায় 'নগদান হিসাব' (Cash Account)-কে ক্রেডিট করা হয় । এর সহজ কারণ হলো, বেতন ও মজুরি প্রদান করা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি স্বাভাবিক ব্যবসায়িক খরচ বা ব্যয়। এই খরচের টাকাটি যখন প্রতিষ্ঠান তার ক্যাশ বাক্স বা তহবিল থেকে নগদে প্রদান করে, তখন কারবারের নগদ নামক সম্পদের পরিমাণ সরাসরি কমে যায়। হিসাববিজ্ঞানের আধুনিক নিয়ম বা সূত্র অনুযায়ী আমরা জানি, প্রতিষ্ঠানের সম্পদ হ্রাস পেলে তা ক্রেডিট করতে হয়। তাই নগদ অর্থ প্রতিষ্ঠান থেকে চলে যাওয়ার কারণে জাবেদায় 'নগদান হিসাব'-কে ক্রেডিট করা হয়, আর একইসাথে খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় 'বেতন ও মজুরি হিসাব'-কে ডেবিট করা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
শ্রমিকদের প্রদত্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা, বাসস্থানের ব্যবস্থা বা বিনোদনের সুযোগ মূলত হিসাববিজ্ঞানের ভাষায় অনার্থিক সুবিধা (Non-financial benefits) বা পরিপূরক সুবিধার (Fringe benefits) আওতাভুক্ত। সহজ কথায়, কারখানায় বা প্রতিষ্ঠানে কাজ করার বিনিময়ে একজন শ্রমিক বা কর্মচারী মূল বেতন ও অন্যান্য যেসব নগদ অর্থ (যেমন- মহার্ঘ ভাতা, যাতায়াত ভাতা ইত্যাদি) পেয়ে থাকেন, তার বাইরেও কর্মীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, শারীরিক সুস্থতা এবং কাজের প্রতি উৎসাহ বাড়ানোর জন্য মালিকপক্ষ সরাসরি যেসব সেবামূলক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে, সেগুলোকেই অনার্থিক বা পরিপূরক সুবিধা বলা হয়। এই সুবিধাগুলো কর্মীদের সরাসরি নগদ টাকায় না দিয়ে সেবার মাধ্যমে প্রদান করা হয়; যেমন— নগদ চিকিৎসা ভাতার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, নগদ বাড়িভাড়ার বদলে বিনামূল্যে বা স্বল্প ভাড়ায় বাসস্থানের সুযোগ দেওয়া কিংবা কাজের একঘেয়েমি কাটাতে বিনোদনের ব্যবস্থা করা।
ব্যাখ্যা (Explanation)
দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য করার মূল উদ্দেশ্যে 'ডিফারেনশিয়াল পিস রেট সিস্টেম' (Differential Piece Rate System) বা পৃথক কার্যহার মজুরি পদ্ধতির প্রবর্তন করেন এফ. ডব্লিউ. টেইলর। সহজ কথায়, কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের কাজের গতির ওপর ভিত্তি করে তাদের মূল্যায়ন করার জন্যই তিনি এই পদ্ধতিটি তৈরি করেন। এই নিয়মে যেসব শ্রমিক নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বা তার চেয়ে বেশি উৎপাদন করতে পারে (অর্থাৎ দক্ষ শ্রমিক), তাদেরকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য বেশি হারে মজুরি দেওয়া হয়। অন্যদিকে, যারা নির্ধারিত কাজটুকু করতে ব্যর্থ হয় (অর্থাৎ অদক্ষ শ্রমিক), তাদেরকে কম হারে মজুরি দেওয়া হয়। এর ফলে অদক্ষ শ্রমিকরাও বেশি উপার্জনের আশায় নিজেদের কাজের দক্ষতা বাড়াতে উৎসাহিত হয় এবং কারখানার সার্বিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায় ।
ব্যাখ্যা (Explanation)
কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে মাসিক বেতনের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠান মূলত তাদের কাছ থেকে 'সেবা' (Service) ক্রয় করে থাকে। সহজ কথায় বলতে গেলে, কোনো ব্যবসায়িক বা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নিজে নিজে চলতে পারে না; এটি সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য মানুষের মেধা, সময় এবং কায়িক বা মানসিক শ্রমের প্রয়োজন হয়। কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রতিদিন তাদের জ্ঞান, দক্ষতা ও শ্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনে যে কাজগুলো করে দেন, তা মূলত এক ধরনের সেবা প্রদান। এই নিরবচ্ছিন্ন ও পেশাদারি সেবার আর্থিক মূল্য বা প্রতিদান হিসেবেই প্রতিষ্ঠান মাস শেষে কর্মীদের বেতন প্রদান করে থাকে । তাই হিসাববিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, নির্দিষ্ট বেতনের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠান তার কর্মীদের কাছ থেকে মূলত তাদের শ্রমভিত্তিক সেবাই কিনে নেয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
কারখানার পরোক্ষ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে সাধারণত 'টাইম রেট' (Time Rate) বা সময়ভিত্তিক মজুরি পদ্ধতিতে মজুরি বা বেতন প্রদান করা সর্বাধিক প্রচলিত। সহজ কথায়, কারখানায় যেসব শ্রমিক সরাসরি পণ্য উৎপাদনে জড়িত থাকেন না, বরং উৎপাদনের সহায়ক হিসেবে কাজ করেন (যেমন— পাহারাদার, সুপারভাইজার বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী), তাদের কাজের পরিমাণকে উৎপাদিত পণ্যের এককে মাপা বা নির্ধারণ করা যায় না [১]। যেহেতু তারা কয়টি পণ্য তৈরি করলেন তার সুনির্দিষ্ট হিসাব করা সম্ভব নয়, তাই তারা কারখানায় কতটুকু সময় কাজ করলেন, তার ওপর ভিত্তি করেই তাদের মজুরি নির্ধারণ করা সবচেয়ে যুক্তিসংগত। এ কারণেই পরোক্ষ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে কাজের পরিমাণের (পিস রেট) পরিবর্তে সাধারণত দৈনিক, সাপ্তাহিক বা মাসিক ভিত্তিতে সময়ভিত্তিক মজুরি পদ্ধতিই অনুসরণ করা হয়ে থাকে।
ব্যাখ্যা (Explanation)
প্রভিডেন্ট ফান্ডে বা ভবিষ্যৎ তহবিলে কর্মীর নিজস্ব দান মজুরি বা বেতন বিবরণীর 'কর্তন' (Deduction) খাতের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয় । সহজ কথায় বলতে গেলে, মাস শেষে একজন কর্মী যে মোট মজুরি অর্জন করেন, তার পুরোটা তাকে সরাসরি নগদে প্রদান করা হয় না । ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য কর্মীর বেতনের একটি নির্দিষ্ট অংশ কেটে নিয়ে এই ভবিষ্যৎ তহবিলে জমা রাখা হয়। যেহেতু এই টাকাটি কর্মীর বর্তমান প্রাপ্য বা 'মোট উপার্জন' থেকে বাদ দিয়ে নিট মজুরি বা নিট বেতন হিসাব করা হয়, তাই মজুরি বিবরণী প্রস্তুত করার সময় এটিকে 'কর্তন খাত'-এ লিপিবদ্ধ করা হয় [। উল্লেখ্য, এই ফান্ডে যদি প্রতিষ্ঠান বা নিয়োগকর্তা কোনো টাকা প্রদান করেন, তবে তা কর্মীর জন্য একদিকে যেমন 'অর্জন', অন্যদিকে ফান্ডে জমা হওয়ার কারণে সেটিও 'কর্তন' হিসেবেই বিবরণীতে দেখানো হয়; কিন্তু কর্মীর নিজস্ব দানটি শুধুমাত্র কর্তন হিসেবেই গণ্য হয় ।
ব্যাখ্যা (Explanation)
শ্রমিকের দৈনিক উপস্থিতি, অনুপস্থিতি এবং ওভারটাইমের তথ্য মূলত কারখানার 'হাজিরা খাতা' (Attendance Register)-এ লিপিবদ্ধ করা হয় । সহজ কথায় বলতে গেলে, কারখানায় বা প্রতিষ্ঠানে একজন শ্রমিক প্রতিদিন ঠিক সময়ে কাজে উপস্থিত হয়েছেন কি না, কোনো দিন ছুটি নিয়েছেন বা অনুপস্থিত আছেন কি না, কিংবা নির্ধারিত স্বাভাবিক কার্যসময়ের বাইরে অতিরিক্ত কোনো সময় (ওভারটাইম) কাজ করেছেন কি না— এই সমস্ত দৈনন্দিন কাজের হিসাব প্রতিদিন যে খাতায় বা নথিতে লিখে রাখা হয়, তাকেই হাজিরা খাতা বলা হয়। মাস শেষে বা নির্দিষ্ট সময়ান্তে শ্রমিকদের সঠিক মজুরি, বেতন ও ওভারটাইম ভাতা নির্ভুলভাবে হিসাব করার জন্য এই হাজিরা খাতাটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক দলিল হিসেবে কাজ করে।
ব্যাখ্যা (Explanation)
শ্রমিকের মোট উপার্জন বা মোট মজুরি হতে বিভিন্ন কর্তনসমূহ বাদ দেওয়ার পর যে অবশিষ্ট অর্থ থাকে, হিসাববিজ্ঞানের ভাষায় তাকে নিট মজুরি (Net wage) বা নিট বেতন (Net salary) বলা হয়। সহজ কথায় বলতে গেলে, মাস শেষে একজন শ্রমিক বা কর্মচারী তার মূল বেতন, মহার্ঘ ভাতা এবং অন্যান্য পরিপূরক সুবিধার সমন্বয়ে যে মোট টাকা উপার্জন করেন (যাকে 'মোট বেতন' বা Gross Salary বলে), তার পুরোটা তিনি হাতে পান না। প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী সেই মোট উপার্জন থেকে প্রভিডেন্ট ফান্ডের কর্তন, আয়কর বা অগ্রিম বেতনের কিস্তির মতো বিভিন্ন কর্তন বা Deduction-গুলো কেটে রাখা হয়। এই যাবতীয় কর্তনগুলো বাদ দেওয়ার পর যে প্রকৃত অবশিষ্ট টাকাটি শ্রমিকের হাতে নগদ প্রদান করা হয়, সেটিকেই নিট বেতন বা নিট মজুরি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়.
ব্যাখ্যা (Explanation)
মুদ্রাস্ফীতি, দ্রব্যমূল্য বা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বর্ধিত ব্যয়ের সাথে তাল মেলানোর জন্য শ্রমিকদের যে অতিরিক্ত ভাতা প্রদান করা হয়, তাকে হিসাববিজ্ঞানের ভাষায় মহার্ঘ ভাতা বা জীবিকা ভাতা (Dearness Allowance) বলা হয়। সহজ কথায় বলতে গেলে, বাজারে যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়, তখন শ্রমিক বা কর্মচারীদের তাদের বর্তমান মূল বেতন দিয়ে সংসার চালানো বা দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক ব্যয় মেটানো বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। কর্মীদের এই আর্থিক কষ্ট লাঘব করার জন্য এবং মূল্যস্ফীতির সাথে তাদের আয়ের একটা সামঞ্জস্য ধরে রাখার উদ্দেশ্যে নিয়োগকর্তা বা মালিকপক্ষ মূল বেতনের পাশাপাশি নিয়মিত যে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা দিয়ে থাকেন, তাকেই মূলত মহার্ঘ ভাতা বলা হয়। এটি কর্মীদের মোট উপার্জনের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সুবিধা।

প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা ওয়েবসাইটে; সবগুলোর সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে অ্যাপ ইন্সটল করুন।

ব্যাখ্যা (Explanation)
কর্মীগণ যখন নিজ ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় প্রতিষ্ঠান থেকে স্থায়ীভাবে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয় বা কাজ ছেড়ে চলে যায়, তখন উক্ত পরিস্থিতিকে হিসাববিজ্ঞানের ভাষায় শ্রম আবর্তন (Labour Turnover) বলা হয়।

সহজ কথায় বলতে গেলে, কোনো কারখানায় বা প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময় নানা কারণে পুরনো শ্রমিকরা চাকরি ছেড়ে চলে যেতে পারেন— হতে পারে সেটি উন্নত সুযোগ-সুবিধার আশায় কর্মীর নিজস্ব ইচ্ছায় (পদত্যাগ), কিংবা অদক্ষতা বা অন্য কোনো কারণে মালিকপক্ষের সিদ্ধান্তে (ছাঁটাই)। পুরনো কর্মীদের এই চলে যাওয়া এবং তাদের শূন্যস্থান পূরণের জন্য নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়ার যে চক্রাকার প্রক্রিয়া, তাকেই মূলত শ্রম আবর্তন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। একটি প্রতিষ্ঠানে এই শ্রম আবর্তনের হার যত কম থাকে, প্রতিষ্ঠানের স্থিতিশীলতা ও নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন প্রক্রিয়ার জন্য তা তত বেশি ভালো হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
হ্যালসি প্রিমিয়াম পরিকল্পনায় বাঁচানো সময়ের মজুরির ওপর সাধারণত ৫০ শতাংশ (50%) শ্রমিককে বোনাস হিসেবে প্রদান করা হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশলী এফ. এ. হ্যালসি (F.A Halsey) ১৮৯১ সালে শ্রমিকদের নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে কাজ শেষ করতে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এই পরিকল্পনাটি প্রবর্তন করেন । এই পদ্ধতির মূল বিষয় হলো, যদি কোনো শ্রমিক নির্ধারিত প্রমাণ সময়ের আগেই তার কাজ সম্পন্ন করে কারখানার সময় বাঁচিয়ে দেন, তবে তাকে তার স্বাভাবিক মজুরির পাশাপাশি ওই বাঁচানো সময়ের মজুরির অর্ধেক বা ৫০% অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা তথা বোনাস হিসেবে প্রদান করা হয় [। এর ফলে শ্রমিকরা কাজে আরও মনোযোগী ও দ্রুতগতি সম্পন্ন হতে অনুপ্রাণিত হন।
ব্যাখ্যা (Explanation)
নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে কাজ শেষ করার জন্য উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে ১৮৯১ সালে প্রণীত 'হ্যালসি প্রিমিয়াম পরিকল্পনা'-এর উদ্ভাবক ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশলী সহজ কথায়, কারখানায় শ্রমিকদের কাজের গতি ও দক্ষতা বাড়ানোর জন্য তিনি এই পদ্ধতিটি চালু করেন। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য ছিল, যদি কোনো শ্রমিক তার জন্য নির্ধারিত প্রমাণ সময়ের আগেই কাজ শেষ করতে সক্ষম হন, তবে তাকে তার স্বাভাবিক মজুরির পাশাপাশি উক্ত বাঁচানো সময়ের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বা বোনাস প্রদান করে উৎসাহিত করা। এর ফলে শ্রমিকরা আরও মনোযোগ দিয়ে দ্রুতগতিতে কাজ সম্পন্ন করতে অনুপ্রাণিত হন।
ব্যাখ্যা (Explanation)
শ্রমিকদের প্রত্যেকটি ভিন্ন ভিন্ন কাজে বা নির্দিষ্ট উৎপাদন কার্যে ব্যয়িত সময় আলাদাভাবে লিপিবদ্ধ করার জন্য মূলত 'জব কার্ড' (Job Card) ব্যবহার করা হয় ।

সহজ কথায়, কারখানায় একজন শ্রমিক সারাদিনে কোন নির্দিষ্ট কাজে ঠিক কতটুকু সময় ব্যয় করেছেন, তার নিখুঁত হিসাব রাখার জন্যই এই কার্ডটি ব্যবহৃত হয়. অন্যদিকে, একজন শ্রমিকের দৈনিক মোট শ্রম ঘণ্টা বা কারখানায় মোট উপস্থিতির সময় লিপিবদ্ধ করার জন্য 'সময় কার্ড' বা 'টাইম কার্ড' (Time Card) ব্যবহার করা হয়ে থাকে । কিন্তু প্রতিটি কাজের আলাদা বা সুনির্দিষ্ট সময়ের হিসাব রাখার ক্ষেত্রে হিসাববিজ্ঞানে এই 'জব কার্ড'-এর ব্যবহারই প্রকৃত এবং কার্যকর মাধ্যম ।
ব্যাখ্যা (Explanation)
যে কার্ডে শ্রমিকদের দৈনিক মোট শ্রম ঘণ্টা লিপিবদ্ধ করা হয়, তাকে 'সময় কার্ড' বা 'টাইম কার্ড' (Time Card) বলা হয়।

সহজ কথায়, কারখানায় একজন শ্রমিক প্রতিদিন কতক্ষণ উপস্থিত ছিলেন এবং মোট কত ঘণ্টা কাজ করেছেন, তার প্রাথমিক হিসাব রাখার জন্যই মূলত এই কার্ডটি ব্যবহার করা হয়। নির্দিষ্ট সময় শেষে এই কার্ডের তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই শ্রমিকদের সময়ভিত্তিক মজুরি ও ওভারটাইম নির্ভুলভাবে হিসাব করা হয়।
আবার, শ্রমিকদের আলাদা আলাদা বা ভিন্ন ভিন্ন কাজে ব্যয়িত সুনির্দিষ্ট সময় লিখে রাখার জন্য 'জব কার্ড' ব্যবহার করা হয়; ঠিক তেমনিভাবে, তাদের সারা দিনের সার্বিক উপস্থিতির বা মোট শ্রম ঘণ্টার হিসাব রাখার জন্য এই 'সময় কার্ড' বা 'টাইম কার্ড' ব্যবহৃত হয়ে থাকে ।
ব্যাখ্যা (Explanation)
বাংলাদেশের শ্রম আইন ১৯৬৫ অনুসারে একজন শ্রমিকের জন্য সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টাকে স্বাভাবিক শ্রম ঘণ্টা হিসেবে ধরা হয়।

সহজ কথায়, কারখানায় বা প্রতিষ্ঠানে একজন শ্রমিকের প্রতি সপ্তাহে এই ৪৮ ঘণ্টা কাজ করাই হলো তার নিয়মিত বা স্বাভাবিক ডিউটি। যদি কোনো শ্রমিক এই নির্ধারিত ৪৮ ঘণ্টার চেয়ে বেশি সময় কাজ করেন, তবে সেই অতিরিক্ত সময়কে 'ওভারটাইম' (Overtime) হিসেবে গণ্য করা হয়। পূর্ববর্তী একটি আলোচনায় আমরা যেমনটি জেনেছিলাম, কারখানা আইন অনুযায়ী এই অতিরিক্ত বা ওভারটাইম কাজের জন্য শ্রমিককে তার স্বাভাবিক মজুরির দ্বিগুণ হারে মজুরি প্রদান করা হয়ে থাকে।
ব্যাখ্যা (Explanation)
কারখানায় উপস্থিত থেকেও মেশিনের ত্রুটি বা বিদ্যুৎ না থাকার কারণে শ্রমিক কাজ না করে যে সময় কাটায়, তাকে হিসাববিজ্ঞানের ভাষায় 'আইডল টাইম' (Idle Time) বা অলস/বেকার সময় বলা হয় । সহজ কথায় বলতে গেলে, একজন শ্রমিক তার নির্ধারিত ডিউটির সময়ে কারখানায় উপস্থিত আছেন ঠিকই, কিন্তু কারখানার যান্ত্রিক বা ব্যবস্থাপনাগত কোনো সমস্যার কারণে তিনি উৎপাদনমূলক কোনো কাজ করতে পারছেন না এবং বাধ্য হয়েই তাকে বসে থাকতে হচ্ছে। যেহেতু এই কাজ না করতে পারার পেছনে শ্রমিকের নিজের কোনো গাফিলতি বা দোষ নেই, তাই এই বেকার বা অলস সময়ের জন্যও প্রতিষ্ঠানকে স্বাভাবিক নিয়মে শ্রমিকদের মজুরি প্রদান করতে হয় ।
ব্যাখ্যা (Explanation)
বাংলাদেশের কারখানা আইন অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত সময় বা ওভারটাইম কাজের জন্য শ্রমিককে তার স্বাভাবিক মজুরির দ্বিগুণ হারে মজুরি প্রদান করা হয় । সহজ কথায় বলতে গেলে, একজন শ্রমিক তার নির্ধারিত বা স্বাভাবিক কর্মঘণ্টার বাইরে যদি কারখানায় অতিরিক্ত সময় কাজ করেন (যাকে ওভারটাইম বলা হয়), তবে সেই বাড়তি সময়টুকুর জন্য তাকে সাধারণ সময়ের মজুরির হারের দ্বিগুণ পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। মূলত শ্রমিকদের এই অতিরিক্ত শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন এবং উৎসাহ প্রদানের জন্যই শ্রম আইনে এই বিশেষ মজুরির বিধান রাখা হয়েছে। ওভারটাইম কাজের জন্য মজুরি সাধারণত কীভাবে হিসাব করা হয়?
ব্যাখ্যা (Explanation)
কারখানার পাহারাদার (গার্ড) বা সুপারভাইজারদের প্রদত্ত মজুরি মজুরি-হিসাবের 'পরোক্ষ শ্রম' (Indirect Labour) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত । সহজ কথায় বলতে গেলে, কারখানায় যেসব শ্রমিক সরাসরি পণ্য তৈরি বা উৎপাদনের সাথে যুক্ত থাকেন, তাদের শ্রমকে প্রত্যক্ষ শ্রম বলা হয় । কিন্তু পাহারাদার বা সুপারভাইজাররা নিজেরা হাতে-কলমে কোনো পণ্য তৈরি করেন না, বরং তারা পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সহায়ক ভূমিকা পালন করেন এবং সার্বিক তদারকির কাজ করেন । যেহেতু তাদের এই কায়িক বা মানসিক শ্রম সরাসরি উৎপাদিত পণ্যের সাথে যুক্ত থাকে না, তাই হিসাববিজ্ঞানের নিয়মানুযায়ী তাদের প্রদত্ত মজুরিকে 'পরোক্ষ শ্রম' হিসেবেই গণ্য করা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
যেসব শ্রমিকের শ্রম সরাসরি উৎপাদিত পণ্যের সাথে যুক্ত থাকে, হিসাববিজ্ঞানের ভাষায় তাদের শ্রমকে 'প্রত্যক্ষ শ্রম' (Direct Labour) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সহজ কথায় বলতে গেলে, কারখানায় যেসব শ্রমিক কাঁচামালকে নিজেদের কায়িক শ্রম বা মেশিনের সাহায্যে চূড়ান্ত পণ্যে বা ব্যবহারযোগ্য দ্রব্যে রূপান্তরিত করার কাজে সরাসরি নিয়োজিত থাকেন (যেমন- কারখানার সাধারণ উৎপাদন শ্রমিক), তাদের এই সুনির্দিষ্ট শ্রমকেই মূলত প্রত্যক্ষ শ্রম বলা হয়। যেহেতু এই ধরনের শ্রম ছাড়া কোনো পণ্যই চূড়ান্ত রূপ লাভ করতে পারে না, তাই হিসাবরক্ষণের ক্ষেত্রে এই প্রত্যক্ষ শ্রমের মজুরিকে সরাসরি উৎপাদন ব্যয়ের বা চলতি কার্য হিসেবে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন — অ্যাপে লাইভ পরীক্ষা দিয়ে মেরিট লিস্টে নিজের অবস্থান দেখুন।

ব্যাখ্যা (Explanation)
উৎপাদন কাজে নিয়োজিত মানুষের সর্বপ্রকার কর্মপ্রচেষ্টাকে হিসাববিজ্ঞানের ভাষায় 'শ্রম' (Labour) বলা হয় । সহজ কথায় বলতে গেলে, একটি কারখানায় বা প্রতিষ্ঠানে কাঁচামালকে চূড়ান্ত পণ্যে রূপান্তর করার জন্য কিংবা উৎপাদনের সহায়ক কাজে নিয়োজিত শ্রমিক, কর্মচারী বা কর্মকর্তাদের শারীরিক ও মানসিক যত ধরনের প্রচেষ্টা বা সেবা গ্রহণ করা হয়, তার সবকিছুই সামগ্রিকভাবে শ্রমের অন্তর্ভুক্ত। হিসাববিজ্ঞানে উৎপাদনের এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদানটিকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়; যথা— প্রত্যক্ষ শ্রম (যা সরাসরি পণ্য উৎপাদনে জড়িত) এবং পরোক্ষ শ্রম (যা উৎপাদনের সহায়ক হিসেবে কাজ করে)। কারখানায় নিয়োজিত মানুষের এই নিরবচ্ছিন্ন শ্রম বা সেবার বিনিময়েই মূলত প্রতিষ্ঠান তাদেরকে মজুরি বা বেতন প্রদান করে থাকে।
সঠিক উত্তর: ০ ভুল উত্তর: ০
নোটিশ

 ✅ টপিক ও সাব-টপিকভিত্তিক জব সলিউশন্স 

২০০৫ – ২০২৬ সাল পর্যন্ত সব জব সলিউশন্স প্রশ্ন টপিক ও সাব-টপিক আকারে যোগ করা হয়েছে — সর্বমোট প্রায় ২৫ হাজার ইউনিক প্রশ্ন। ১২তম – ২০তম গ্রেডের পরীক্ষার্থীরা শুধু এইগুলো পড়লেই হবে।

▶ প্রশ্ন ব্যাংক → অনুশীলন → এরপর উপরের ডানে হলুদ বাটনে ক্লিক করে Job Solutions ফিল্টার করে নিন।
↻ প্রতি সপ্তাহে নতুন জব প্রশ্ন টপিক ও সাব-টপিক আকারে যোগ করা হয়।


 ★ বর্তমান চলমান কোর্স (সব পরীক্ষা website থেকে OMR পদ্ধতিতে দিতে পারবেন) 

১) ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি'র লং কোর্স (১৫৬ দিন)  নতুন 
২) প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (লেকচার শিট ভিত্তিক কোর্স) নতুন 
৩) ‘অগ্রদূত বাংলা’ ৯০ দিনের মাস্টার স্টাডি রুটিন নতুন 
৪) Master English Study (৯৯ দিনের স্পেশাল কোর্স) নতুন 
৫)
১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন — লেকচারশীট ভিত্তিক
৬) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) — বাংলা 
 নতুন 
৭) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) — বাংলা 
 নতুন 
৮) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন — সমাজবিজ্ঞান
৯) ১৯তম নিবন্ধন (প্রভাষক) — গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান
১০) ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি — ২৩৬ দিনে সম্পূর্ণ সিলেবাস
১১) টপিক ভিত্তিক জব সলিউশন রুটিন (১৬৫ দিনের)
১২) প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (৩য় ব্যাচ)
১৩)  ৫১তম স্পেশাল বিসিএস (স্বাস্থ্য) সমন্বিত প্রস্তুতি রুটিন (মেডিকেল)  নতুন 
১৪) সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী


 ➤ আপকামিং কোর্স ও রুটরশ

✦ ১০তম-১৩তম গ্রেডের প্রস্তুতি।  
◆ ১৪তম-২০তম গ্রেডের প্রস্তুতি।  
◆ ৫২তম বিসিএস প্রস্তুতি।