সরাসরি মূল কন্টেন্টে যান

আর্থিক হিসাব বিজ্ঞান - নগদ প্রবাহ বিবরণী প্রস্তুতকরণ

৩০ টি প্রশ্ন
টপিক তালিকা
একই বিষয়ের সব টপিক
ব্যাখ্যা (Explanation)
অবচয় (Depreciation) হলো একটি অনগদ খরচ (Non-cash expense)। এর মাধ্যমে স্থায়ী সম্পত্তির ব্যবহারজনিত মূল্য হ্রাস দেখানো হয়, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কোনো নগদ অর্থের আদান-প্রদান ঘটে না।

নগদ প্রবাহ বিবরণী (Cash Flow Statement) তৈরি করার সময় পরোক্ষ পদ্ধতিতে নিট আয়ের সাথে অবচয় যোগ করা হয়। অন্যদিকে, কর্মচারীদের বেতন, সাপ্লায়ারদের পাওনা এবং লভ্যাংশ প্রদান—এগুলোর মাধ্যমে নগদ অর্থের বহিঃপ্রবাহ ঘটে।
ব্যাখ্যা (Explanation)
নগদ প্রবাহ বিবরণীর বিনিয়োগ কার্যক্রম (Investing Activities) অংশে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত নগদ অর্থের আন্তঃপ্রবাহ ও বহিঃপ্রবাহ লিপিবদ্ধ থাকে।

স্থায়ী সম্পত্তি (যেমন- জমি, যন্ত্রপাতি, দালানকোঠা) ক্রয়-বিক্রয়ের পাশাপাশি অন্য প্রতিষ্ঠানকে ঋণ প্রদান (Loan given to others) এবং সেই ঋণ আদায় মূলত এক ধরনের বিনিয়োগ, তাই এগুলো বিনিয়োগ কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত। পরিচালন বা ফাইন্যান্সিং কার্যক্রমে এগুলো আসে না।
ব্যাখ্যা (Explanation)
'অপারেটিং' বা পরিচালন কার্যক্রম (Operating Activities) থেকে নগদ প্রবাহ নির্দেশ করে একটি প্রতিষ্ঠান তার মূল ব্যবসায়িক কার্যক্রম (পণ্য বিক্রয় বা সেবা প্রদান) থেকে কী পরিমাণ নগদ অর্থ তৈরি করছে।

এই অংশের বিশ্লেষণ মূলত ব্যবসায়িক কার্যক্রমের স্থিতিশীলতা পর্যালোচনা করতে করা হয়। এটি ধনাত্মক হওয়া মানে প্রতিষ্ঠানটি তার দৈনন্দিন খরচ মেটাতে এবং আর্থিকভাবে টিকে থাকতে সক্ষম। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ক্ষমতা বা মূলধন কাঠামো যাচাইয়ের জন্য যথাক্রমে বিনিয়োগ ও ফাইন্যান্সিং কার্যক্রম দেখা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
পরোক্ষ পদ্ধতিতে (Indirect Method) অপারেটিং কার্যক্রমের নগদ প্রবাহ নির্ণয়ের সময় প্রথমে নিট আয়কে (Net Income) ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।

এরপর এই নিট আয়কে বকেয়া ভিত্তি থেকে নগদ ভিত্তিতে রূপান্তর করতে এর সাথে অনগদ খরচ (যেমন- অবচয়, অবলোপন) এবং চলতি মূলধনের পরিবর্তন (চলতি সম্পদ ও চলতি দায়ের হ্রাস-বৃদ্ধি) সমন্বয় বা যোগ-বিয়োগ করা হয়। স্থায়ী সম্পদের ক্রয়-বিক্রয় এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ও শেয়ার ইস্যু যথাক্রমে বিনিয়োগ ও ফাইন্যান্সিং কার্যক্রমের অংশ।
ব্যাখ্যা (Explanation)
নগদ প্রবাহ বিবরণী (Cash Flow Statement) হলো এমন একটি আর্থিক প্রতিবেদন, যা একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিষ্ঠানের নগদ অর্থের আন্তঃপ্রবাহ (Inflow) ও বহিঃপ্রবাহ (Outflow) বিশ্লেষণ করে।

এটি মূলত পরিচালন, বিনিয়োগ ও ফাইন্যান্সিং—এই তিনটি খাতের মাধ্যমে নগদের অবস্থার পরিবর্তনের কারণ এবং নিট ফলাফল প্রকাশ করে। আয় বিবরণী লাভ-ক্ষতি এবং ব্যালান্স শিট নির্দিষ্ট দিনে সার্বিক আর্থিক অবস্থা দেখালেও, নগদের সুনির্দিষ্ট পরিবর্তনের কারণ কেবল নগদ প্রবাহ বিবরণী থেকেই জানা যায়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
কোনো প্রতিষ্ঠানের আয় উপার্জন ক্ষমতা (Profitability) ভালো হলেও দৈনন্দিন খরচ মেটানো এবং দায় পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত নগদ অর্থের প্রয়োজন হয়।
সুষ্ঠু নগদ প্রবাহ বা নগদের ঘাটতি থাকলে প্রতিষ্ঠানটি তার পাওনাদারদের পাওনা সময়মতো পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়, যার ফলে তাকে আর্থিক ব্যর্থতা বা দেউলিয়াত্বের সম্মুখীন হতে পারে। লাভজনকতা এবং তারল্য (Liquidity) দুটি ভিন্ন বিষয়, এবং মূলত তারল্যের অভাবেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
নগদ প্রবাহ বিবরণী (Cash Flow Statement) তৈরির প্রাথমিক কাজ হলো প্রয়োজনীয় উপাত্ত একত্রিত করা।
আয় বিবরণী থেকে নিট আয় ও অনগদ খরচ (যেমন- অবচয়) এবং ব্যালান্স শিট থেকে সম্পদ ও দায়ের পরিবর্তন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা মূলত আর্থিক তথ্যসংগ্রহ ধাপ-এর অন্তর্ভুক্ত। এই সংগৃহীত তথ্যগুলোর ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী ধাপে নগদ প্রবাহ গণনা করা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
নগদ প্রবাহ বিবরণীর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো একটি নির্দিষ্ট হিসাবকালে নগদ অর্থের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে প্রারম্ভিক ও সমাপনী উদ্বৃত্তের সমন্বয় সাধন করা।
প্রারম্ভিক নগদ উদ্বৃত্তের সাথে মোট নগদ প্রবাহ (Net Cash Flow) সমন্বয় করার পর প্রাপ্ত শেষের নগদ অর্থ (Ending Cash) সর্বদা ব্যালান্স শিটের নগদ অ্যাকাউন্টের সমাপনী উদ্বৃত্তের সাথে হুবহু মিলে যেতে হবে। এটি হিসাবের গাণিতিক নির্ভুলতা যাচাইয়ের প্রধান উপায়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
ফাইন্যান্সিং বা অর্থায়ন কার্যক্রম প্রতিষ্ঠানের মূলধন ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ কাঠামোর সাথে সম্পর্কিত।
যখন কোনো প্রতিষ্ঠান তার গৃহীত ঋণ পরিশোধ করে অথবা বাজার থেকে নিজস্ব শেয়ার পুনর্ক্রয় (Share Buyback) করে, তখন প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ অর্থ বাইরে চলে যায় (Cash Outflow)। যেহেতু নগদ অর্থের বহিঃপ্রবাহ ঘটে, তাই এই লেনদেনগুলো প্রতিষ্ঠানের নগদ প্রবাহ কমায়।

প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা ওয়েবসাইটে; সবগুলোর সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে অ্যাপ ইন্সটল করুন।

ব্যাখ্যা (Explanation)
ব্যবসায়ের দৈনন্দিন বা নিয়মিত মূল কার্যক্রম থেকে সৃষ্ট নগদ আদান-প্রদান পরিচালন কার্যক্রম (Operating Activities)-এর অন্তর্ভুক্ত।
পণ্য বা কাঁচামাল ক্রয়ের পর সাপ্লায়ার বা সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধ করা ব্যবসায়ের একটি অত্যন্ত সাধারণ, পরিচালনগত ও নিয়মিত কাজ। তাই এটি পরিচালন কার্যক্রমের অধীনে নগদ বহিঃপ্রবাহ হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
⇒ নগদ প্রবাহ বিবরণী প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত: পরিচালন, বিনিয়োগ এবং ফাইন্যান্সিং কার্যক্রম।
⇒ কোম্পানির মূলধন সংগ্রহ এবং পরিশোধ সংক্রান্ত লেনদেনগুলো ফাইন্যান্সিং কার্যক্রমের (Financing Activities) অন্তর্ভুক্ত।
⇒ যেহেতু শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদান কোম্পানির মূলধন বা শেয়ার মালিকানার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত, তাই এটি ফাইন্যান্সিং বা অর্থসংস্থান কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
⇒ ব্যালান্স শিট বা উদ্বৃত্তপত্র একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ, দায় ও মালিকানা স্বত্বের চিত্র তুলে ধরে, কিন্তু এটি কীভাবে নগদের পরিবর্তন হলো তা সরাসরি ব্যাখ্যা করতে পারে না।
⇒ অন্যদিকে, নগদ প্রবাহ বিবরণী (Cash Flow Statement) একটি নির্দিষ্ট হিসাবকালে নগদের আন্তঃপ্রবাহ ও বহিঃপ্রবাহের বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে।
⇒ এই বিবরণীটি ব্যালান্স শিটের প্রারম্ভিক এবং সমাপনী নগদ তহবিলের মধ্যে পার্থক্য কীভাবে সৃষ্টি হলো তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে বলে একে ব্যালান্স শিটের পরিপূরক বিবরণী হিসেবে গণ্য করা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
⇒ নগদ প্রবাহ বিবরণী তৈরির দুটি প্রধান পদ্ধতি রয়েছে: প্রত্যক্ষ পদ্ধতি (Direct Method) এবং পরোক্ষ পদ্ধতি (Indirect Method)।
⇒ যে পদ্ধতিতে পরিচালন কার্যক্রম হতে নগদ প্রাপ্তি এবং নগদ প্রদানগুলো সরাসরি বা প্রত্যক্ষভাবে দেখানো হয়, তাকে প্রত্যক্ষ পদ্ধতি বলে।
⇒ বড় কোম্পানিগুলো নগদ লেনদেনের স্বচ্ছতা এবং বিস্তারিত তথ্য প্রদর্শনের জন্য সাধারণত প্রত্যক্ষ পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে।
ব্যাখ্যা (Explanation)
⇒ ব্যবসায়ের সবচেয়ে তরল সম্পদ হলো নগদ (Cash) অর্থ।
⇒ এটি এমন একটি চলতি সম্পদ যা যেকোনো সময় চলতি দায়দেনা পরিশোধ বা বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে কোনো রকম বাধা বা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করা যায়।
⇒ অন্যদিকে, সমতুল্য নগদ (Cash Equivalents) হলো স্বল্পমেয়াদী বিনিয়োগ যা দ্রুত নগদে রূপান্তরযোগ্য, কিন্তু সরাসরি নগদ নয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
⇒ পরোক্ষ পদ্ধতিতে (Indirect Method) নিট মুনাফার সাথে অনগদ দফা এবং চলতি সম্পদ ও চলতি দায়ের পরিবর্তনগুলো সমন্বয় করে নগদ প্রবাহ নির্ণয় করা হয়।
⇒ যেহেতু আয় বিবরণী ও ব্যালান্স শিট থেকে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো সহজেই পাওয়া যায়, তাই এই পদ্ধতিতে নগদ প্রবাহ বিবরণী তৈরি করা অধিক সহজ এবং তুলনামূলক কম সময়সাপেক্ষ।
⇒ এই কারণেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান পরোক্ষ পদ্ধতি অনুসরণ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।
ব্যাখ্যা (Explanation)
নগদ প্রবাহ বিবরণীতে (Cash Flow Statement) শূন্য বা নেতিবাচক নগদ প্রবাহ নির্দেশ করে যে কোম্পানির নগদ আগমনের চেয়ে নির্গমন বেশি হচ্ছে। এটি মূলত আর্থিক সমস্যা বা দুর্বলতা-এর একটি স্পষ্ট লক্ষণ।

এর প্রধান কারণগুলো হলো:
• পরিচালন কার্যক্রমে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ তৈরি না হওয়া।
• দৈনন্দিন খরচ মেটাতে ঋণ বা পূর্বের জমানো অর্থের ওপর নির্ভরশীল হওয়া।
• দীর্ঘমেয়াদে এই অবস্থা বজায় থাকলে কোম্পানির দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
নগদ প্রবাহ বিবরণী প্রস্তুত করার জন্য মূলত আয় বিবরণী (Income Statement) এবং ব্যালান্স শিট (Balance Sheet)-এর তথ্যের প্রয়োজন হয়।

• আয় বিবরণী: এখান থেকে নিট মুনাফা বা ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়, যা পরিচালন কার্যক্রম হতে নগদ প্রবাহ (Operating Cash Flow) নির্ণয়ের প্রাথমিক ভিত্তি।
• ব্যালান্স শিট: দুটি ভিন্ন হিসাবকালের (যেমন: চলতি ও পূর্ববর্তী বছর) ব্যালান্স শিট তুলনা করে সম্পদ, দায় এবং মালিকানা স্বত্বের পরিবর্তনগুলো নির্ণয় করা হয়, যা বিনিয়োগ এবং অর্থায়ন কার্যক্রমের নগদ প্রবাহ বের করতে অপরিহার্য।
ব্যাখ্যা (Explanation)
কোনো প্রতিষ্ঠানের মোট নগদ প্রবাহ নির্ণয়ের সূত্রটি হলো:
মোট নগদ প্রবাহ = অপারেটিং কার্যক্রমের নগদ প্রবাহ + বিনিয়োগ কার্যক্রমের নগদ প্রবাহ + ফাইন্যান্সিং কার্যক্রমের নগদ প্রবাহ

এখানে দেওয়া আছে:
• অপারেটিং কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহ = ২৫,০০০ টাকা
• বিনিয়োগ কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহ = -১৫,০০০ টাকা
• ফাইন্যান্সিং কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহ = ১০,০০০ টাকা

গাণিতিক সমাধান:
মোট নগদ প্রবাহ = ২৫,০০০ + (-১৫,০০০) + ১০,০০০
= ২৫,০০০ - ১৫,০০০ + ১০,০০০
= ২০,০০০ টাকা

সুতরাং, সঠিক উত্তর ২০,০০০ টাকা।
ব্যাখ্যা (Explanation)
ফাইন্যান্সিং বা অর্থসংস্থান কার্যক্রমে মূলত ঋণ গ্রহণ, পরিশোধ এবং শেয়ার সংক্রান্ত লেনদেন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এখানে নগদ আগমন যোগ এবং নির্গমন বিয়োগ করতে হয়।

এখানে দেওয়া আছে:
• ঋণ গ্রহণ (নগদ আগমন) = + ১৫,০০০ টাকা
• ঋণ পরিশোধ (নগদ নির্গমন) = - ৫,০০০ টাকা
• শেয়ার পুনর্ক্রয় (নগদ নির্গমন) = - ২,০০০ টাকা

গাণিতিক সমাধান:
নিট নগদ প্রবাহ = ১৫,০০০ - ৫,০০০ - ২,০০০
= ১৫,০০০ - ৭,০০০
= ৮,০০০ টাকা

সুতরাং, ফাইন্যান্সিং কার্যক্রম থেকে নিট নগদ প্রবাহ হবে ৮,০০০ টাকা।

নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন — অ্যাপে লাইভ পরীক্ষা দিয়ে মেরিট লিস্টে নিজের অবস্থান দেখুন।

ব্যাখ্যা (Explanation)
বিনিয়োগ কার্যক্রম বলতে দীর্ঘমেয়াদি সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়কে বোঝায়। সম্পত্তি বিক্রয় করলে নগদ টাকার আগমন ঘটে (যোগ) এবং ক্রয় করলে নগদ টাকার নির্গমন ঘটে (বিয়োগ)।

এখানে দেওয়া আছে:
• সম্পত্তি বিক্রয় (নগদ আগমন) = + ২০,০০০ টাকা
• সম্পত্তি ক্রয় (নগদ নির্গমন) = - ৩০,০০০ টাকা

গাণিতিক সমাধান:
নিট নগদ প্রবাহ = ২০,০০০ - ৩০,০০০
= -১০,০০০ টাকা

যেহেতু নির্গমনের পরিমাণ আগমনের চেয়ে বেশি, তাই নিট প্রবাহ ঋণাত্মক হবে। সঠিক উত্তর -১০,০০০ টাকা।
ব্যাখ্যা (Explanation)
নগদ প্রবাহ বিবরণী মূলত তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত থাকে:
১. অপারেটিং বা পরিচালন কার্যক্রম
২. বিনিয়োগ কার্যক্রম
৩. ফাইন্যান্সিং বা অর্থসংস্থান কার্যক্রম

হিসাববিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট হিসাবকালে এই তিনটি খাতের নিট নগদ প্রবাহের যোগফল বা বিয়োগফল নির্ণয় করলে প্রতিষ্ঠানের মোট নগদ প্রবাহ পাওয়া যায়। এর সাথে প্রারম্ভিক নগদ উদ্বৃত্ত যোগ করে সমাপনী নগদ উদ্বৃত্ত নির্ণয় করা হয়। তাই চূড়ান্তভাবে এই তিনটির সমন্বয়ে মোট নগদ প্রবাহ বের করা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
যেসব লেনদেনে সরাসরি কোনো নগদ অর্থের আগমন বা নির্গমন ঘটে না, হিসাববিজ্ঞানে সেগুলোকে Non-cash item বা অনগদ দফা বলা হয়।

এখানে দুটি বিষয়ের উল্লেখ আছে:
• অবচয় (Depreciation): এটি একটি পুঞ্জীভূত খরচ যা নিট মুনাফা কমায় কিন্তু এর ফলে কোনো নগদ অর্থ কারবার থেকে বাইরে যায় না।
• সম্পত্তি ক্রয়ের জন্য শেয়ার ইস্যু: এক্ষেত্রে সম্পত্তির বিনিময়ে সরাসরি শেয়ার দেওয়া হয়, কোনো নগদ টাকার আদান-প্রদান হয় না।

যেহেতু এই লেনদেনগুলোতে নগদ প্রবাহ শূন্য, তাই এগুলোকে Non-cash item হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
পরিচালনা কার্যক্রম থেকে প্রাপ্ত নগদ প্রবাহ বা Operating Cash Flow থেকে যখন মূলধন জাতীয় ব্যয় (Capital Expenditures) এবং লভ্যাংশ প্রদান (Dividends Paid) বাদ দেওয়া হয়, তখন যে অবশিষ্ট নগদ অর্থ থাকে তাকে Free Cash Flow (ফ্রি ক্যাশ ফ্লো) বলা হয়।

ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ:
- প্রথমে কোম্পানির দৈনন্দিন ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত নিট নগদ প্রবাহ বা Operating Cash Flow নির্ণয় করা হয়।
- এরপর দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ বা ক্রয়ের জন্য মূলধন জাতীয় ব্যয় (CAPEX) বাদ দেওয়া হয়।
- পরিশেষে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদানের পর যে নগদ অর্থ প্রতিষ্ঠানে স্বাধীনভাবে ব্যবহারের জন্য অবশিষ্ট থাকে, সেটিই Free Cash Flow।

গাণিতিক সূত্রানুসারে: Free Cash Flow = Operating Cash Flow - Capital Expenditure - Dividends।
ব্যাখ্যা (Explanation)
পরোক্ষ পদ্ধতিতে (Indirect Method) নগদ প্রবাহ বিবরণী প্রস্তুত করার সময় পরিচালন কার্যক্রমের নগদ প্রবাহ নির্ণয়ের প্রাথমিক ভিত্তি হলো নিট আয় (Net Income)।

গাণিতিক নিয়ম ও ধাপসমূহ:
- প্রথমে আয় বিবরণী (Income Statement) থেকে নিট আয় বা নিট ক্ষতি নেওয়া হয়।
- যেহেতু নিট আয় বকেয়া ভিত্তিতে (Accrual basis) প্রস্তুত করা হয়, তাই এটিকে নগদ ভিত্তিতে (Cash basis) রূপান্তর করতে হয়।
- এরপর নিট আয়ের সাথে অনগদ লেনদেনসমূহ (যেমন: অবচয়, অবলোপন) যোগ করা হয়।
- সবশেষে চলতি সম্পদ ও চলতি দায়ের হ্রাস-বৃদ্ধি সমন্বয় করে পরিচালন কার্যক্রম থেকে প্রকৃত নিট নগদ প্রবাহ নির্ণয় করা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
নগদ প্রবাহ বিবরণী (Cash Flow Statement) প্রস্তুত করার প্রধানত দুটি পদ্ধতি রয়েছে।

পদ্ধতিগুলো হলো:
১. প্রত্যক্ষ পদ্ধতি (Direct Method): এই পদ্ধতিতে নগদ প্রাপ্তি এবং নগদ প্রদানগুলো সরাসরি দেখানো হয় (যেমন: দেনাদারের কাছ থেকে প্রাপ্তি, পাওনাদারকে পরিশোধ)।
২. পরোক্ষ পদ্ধতি (Indirect Method): এই পদ্ধতিতে নিট আয়কে ভিত্তি হিসেবে ধরে তার সাথে অনগদ লেনদেন এবং চলতি সম্পদ ও চলতি দায়ের পরিবর্তনগুলো সমন্বয় করে পরিচালন নগদ প্রবাহ নির্ণয় করা হয়।

আন্তর্জাতিক হিসাবমান (IAS 7) অনুযায়ী এই দুটি পদ্ধতির যেকোনো একটি ব্যবহার করে পরিচালন কার্যক্রমের নগদ প্রবাহ নির্ণয় করা যায়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
কোম্পানির মূলধন কাঠামো বা ঋণের পরিমাণের সাথে সম্পর্কিত লেনদেনগুলো নগদ প্রবাহ বিবরণীর অর্থায়ন কার্যক্রম (Financing Activities) অংশে প্রদর্শিত হয়।

ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ:
- নগদ আন্তঃপ্রবাহ: যখন কোম্পানি নতুন শেয়ার ইস্যু করে বা ব্যাংক থেকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ গ্রহণ করে, তখন প্রতিষ্ঠানে নগদ অর্থের আগমন ঘটে।
- নগদ বহিঃপ্রবাহ: যখন কোম্পানি গৃহীত ঋণ পরিশোধ করে, বন্ডের মূল্য ফেরত দেয় বা শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ (Dividend) প্রদান করে, তখন নগদ অর্থ প্রতিষ্ঠান থেকে চলে যায়।
- এই ধরনের নিজস্ব মূলধন (Equity) এবং দীর্ঘমেয়াদি দায় (Long-term Liabilities) সম্পর্কিত সব লেনদেন অর্থায়ন কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত।
ব্যাখ্যা (Explanation)
দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ (Long-term Assets) ক্রয়-বিক্রয় এবং অন্য প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রমগুলো নগদ প্রবাহ বিবরণীর বিনিয়োগ কার্যক্রম (Investing Activities) অংশে অন্তর্ভুক্ত থাকে।

বিশ্লেষণ ও নিয়ম:
- নগদ বহিঃপ্রবাহ: ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে যখন স্থায়ী সম্পদ (যেমন: জমি, দালানকোঠা, যন্ত্রপাতি) ক্রয় করা হয় বা অন্য ব্যবসার অধিগ্রহণ করা হয়, তখন নগদ অর্থ চলে যায়।
- নগদ আন্তঃপ্রবাহ: পুরনো বা অব্যবহৃত দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ বিক্রি করে বা বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত অর্থ (যেমন: অন্য কোম্পানির শেয়ার বা বন্ড বিক্রি) নগদ প্রবাহ বৃদ্ধি করে।
- সুতরাং, ব্যালেন্স শিটের দীর্ঘমেয়াদি সম্পদগুলোর হ্রাস-বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট নগদ প্রবাহ মূলত বিনিয়োগ কার্যক্রমের অধীনে লিপিবদ্ধ করা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
নগদ প্রবাহ বিবরণীতে পরিচালন কার্যক্রম (Operating Activities) বলতে কোম্পানির দৈনন্দিন ও প্রধান ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে বোঝায়।

ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ:
- কোম্পানির মূল আয়ের উৎস হলো পণ্য বা সেবা বিক্রয়। এটি দৈনন্দিন নগদ আন্তঃপ্রবাহের অংশ।
- ব্যবসা পরিচালনার জন্য কর্মচারীদের বেতন, মজুরি, ভাড়া এবং আনুষঙ্গিক খরচ নিয়মিত পরিশোধ করতে হয়, যা দৈনন্দিন নগদ বহিঃপ্রবাহ।
- যেহেতু এই নগদ অর্থের আদান-প্রদান কোম্পানির নিয়মিত ও দৈনন্দিন পরিচালনা কাজের সাথে সরাসরি যুক্ত, তাই এগুলোকে পরিচালন কার্যক্রম অংশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বিনিয়োগ এবং অর্থায়ন কার্যক্রম সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ ক্রয়-বিক্রয় এবং মূলধন সংগ্রহের সাথে সম্পর্কিত। তাই সঠিক বিকল্পটি হলো পরিচালন কার্যক্রম।
ব্যাখ্যা (Explanation)
আন্তর্জাতিক হিসাবমান (IAS 7) অনুযায়ী, একটি প্রতিষ্ঠানের নগদ প্রবাহ বিবরণীতে নগদ অর্থের আগমন ও নির্গমনকে প্রধানত ৩টি ভাগে ভাগ করা হয়।

ভাগগুলো হলো:
১. পরিচালন কার্যক্রম (Operating Activities): দৈনন্দিন ব্যবসায়িক লেনদেন থেকে সৃষ্ট নগদ প্রবাহ (যেমন- পণ্য বিক্রয়, বেতন প্রদান)।
২. বিনিয়োগ কার্যক্রম (Investing Activities): দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ ক্রয় ও বিক্রয় থেকে সৃষ্ট নগদ প্রবাহ (যেমন- জমি বা যন্ত্রপাতি কেনা)।
৩. অর্থায়ন কার্যক্রম (Financing Activities): মূলধন সংগ্রহ বা ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ থেকে সৃষ্ট নগদ প্রবাহ (যেমন- শেয়ার ইস্যু বা লভ্যাংশ প্রদান)।

সুতরাং, একটি কোম্পানির সম্পূর্ণ নগদ প্রবাহ বিশ্লেষণ করতে এই ৩টি প্রধান খাতের উপর নির্ভর করা হয়।

এই টপিকের সব প্রশ্ন ব্যাখ্যাসহ, ভুল-সঠিক-বুকমার্ক আলাদা করে রিভিশন — অ্যাপে।

ব্যাখ্যা (Explanation)
আর্থিক হিসাববিজ্ঞানের নিয়মানুযায়ী, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিবেদনের আলাদা আলাদা উদ্দেশ্য থাকে।

প্রতিবেদনগুলোর বিশ্লেষণ:
- Income Statement (আয় বিবরণী): এটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিষ্ঠানের মোট আয় ও ব্যয়ের হিসাব করে নিট লাভ বা ক্ষতি নির্ণয় করে।
- Balance Sheet (উদ্বৃত্তপত্র): এটি একটি নির্দিষ্ট দিনে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ, দায় ও মালিকানা স্বত্বের চিত্র তুলে ধরে।
- Cash Flow Statement (নগদ প্রবাহ বিবরণী): এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিষ্ঠানে নগদ অর্থের আগমন (আন্তঃপ্রবাহ বা Inflow) এবং নির্গমন (বহিঃপ্রবাহ বা Outflow) স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করে।

যেহেতু বিবৃতিতে সরাসরি নগদ অর্থের আগমন ও নির্গমন প্রদর্শনকারী প্রতিবেদনের কথা বলা হয়েছে, তাই সঠিক বিকল্পটি হলো Cash Flow Statement।
সঠিক উত্তর: ০ ভুল উত্তর: ০
নোটিশ

 ✅ টপিক ও সাব-টপিকভিত্তিক জব সলিউশন্স 

২০০৫ – ২০২৬ সাল পর্যন্ত সব জব সলিউশন্স প্রশ্ন টপিক ও সাব-টপিক আকারে যোগ করা হয়েছে — সর্বমোট প্রায় ২৫ হাজার ইউনিক প্রশ্ন। ১২তম – ২০তম গ্রেডের পরীক্ষার্থীরা শুধু এইগুলো পড়লেই হবে।

▶ প্রশ্ন ব্যাংক → অনুশীলন → এরপর উপরের ডানে হলুদ বাটনে ক্লিক করে Job Solutions ফিল্টার করে নিন।
↻ প্রতি সপ্তাহে নতুন জব প্রশ্ন টপিক ও সাব-টপিক আকারে যোগ করা হয়।


 ★ বর্তমান চলমান কোর্স (সব পরীক্ষা website থেকে OMR পদ্ধতিতে দিতে পারবেন) 

১) ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি'র লং কোর্স (১৫৬ দিন)  নতুন 
২) প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (লেকচার শিট ভিত্তিক কোর্স) নতুন 
৩) ‘অগ্রদূত বাংলা’ ৯০ দিনের মাস্টার স্টাডি রুটিন নতুন 
৪) Master English Study (৯৯ দিনের স্পেশাল কোর্স) নতুন 
৫)
১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন — লেকচারশীট ভিত্তিক
৬) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) — বাংলা 
 নতুন 
৭) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) — বাংলা 
 নতুন 
৮) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন — সমাজবিজ্ঞান
৯) ১৯তম নিবন্ধন (প্রভাষক) — গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান
১০) ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি — ২৩৬ দিনে সম্পূর্ণ সিলেবাস
১১) টপিক ভিত্তিক জব সলিউশন রুটিন (১৬৫ দিনের)
১২) প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (৩য় ব্যাচ)
১৩)  ৫১তম স্পেশাল বিসিএস (স্বাস্থ্য) সমন্বিত প্রস্তুতি রুটিন (মেডিকেল)  নতুন 
১৪) সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী


 ➤ আপকামিং কোর্স ও রুটরশ

✦ ১০তম-১৩তম গ্রেডের প্রস্তুতি।  
◆ ১৪তম-২০তম গ্রেডের প্রস্তুতি।  
◆ ৫২তম বিসিএস প্রস্তুতি।