সরাসরি মূল কন্টেন্টে যান

প্লান্ট সম্পত্তি, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং অস্পর্শনীয় সম্পত্তি

৩০ টি প্রশ্ন
টপিক তালিকা
একই বিষয়ের সব টপিক
ব্যাখ্যা (Explanation)
আমরা জানি,
সরলরৈখিক পদ্ধতিতে অবচয়ের হার = (১০০% ÷ আয়ুষ্কাল)
এখানে দেওয়া আছে,
সম্পদের আয়ুষ্কাল = ১০ বছর।
অতএব, অবচয়ের হার = (১০০% ÷ ১০)
= ১০%।
সুতরাং, সরলরৈখিক পদ্ধতিতে সম্পদের অবচয়ের হার হবে ১০%।
ব্যাখ্যা (Explanation)
অবচয় (Depreciation) হলো কোনো স্থায়ী সম্পত্তির ব্যবহার, সময়ের অতিবাহন বা প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে এর মূল্যের ধারাবাহিক ও স্থায়ী হ্রাস। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া যা সম্পত্তির কার্যক্ষমতা কমার সাথে সম্পর্কিত।

অন্যান্য পরিভাষা:
* অবলোপন (Amortization): অস্পর্শনীয় সম্পত্তির (যেমন: সুনাম, প্যাটেন্ট) মূল্য হ্রাস।
* শূন্যকরণ (Depletion): প্রাকৃতিক সম্পদের (যেমন: খনিজ পদার্থ, গ্যাস) ক্ষয় বা নিঃশেষকরণ।
ব্যাখ্যা (Explanation)
ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতিতে (Declining Balance Method) অবচয় ধার্য করার সময় সম্পত্তির প্রারম্ভিক ক্রয়মূল্য থেকে ভগ্নাবশেষ মূল্য (Salvage Value) বাদ দেওয়া হয় না।

এই পদ্ধতিতে সম্পত্তির প্রারম্ভিক মূল্যের ওপর একটি নির্দিষ্ট শতকরা হারে অবচয় ধার্য করা হয় এবং প্রতি বছর অবচয় বাদ দেওয়ার পর যে অবশিষ্ট মূল্য বা পুস্তক মূল্য (Book Value) থাকে, পরবর্তী বছরে তার ওপর অবচয় ধরা হয়। অন্যদিকে সরলরৈখিক বা উৎপাদন একক পদ্ধতিতে অবচয় নির্ণয়ের প্রথমেই ক্রয়মূল্য থেকে ভগ্নাবশেষ মূল্য বাদ দিয়ে অবচয়যোগ্য মূল্য বের করা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
অবচয় হলো ব্যবসায়ের একটি অনগদ ব্যয় (Non-cash expense)।

এর কারণ হলো, অবচয় ধার্য করলে আয় বিবরণীতে ব্যবসায়ের নিট মুনাফা কমে যায় ঠিকই, কিন্তু এর জন্য প্রতিষ্ঠান থেকে বাস্তবে কোনো নগদ অর্থের বহিঃপ্রবাহ (Cash outflow) ঘটে না বা কাউকে নগদ টাকা প্রদান করতে হয় না।
ব্যাখ্যা (Explanation)
স্থায়ী সম্পত্তির মোট ক্রয়মূল্য বা অর্জন মূল্য থেকে এর আনুমানিক ভগ্নাবশেষ মূল্য (Salvage Value) বাদ দিলে যে মূল্য পাওয়া যায়, তাকে অবচয়যোগ্য মূল্য (Depreciable Value) বলে।

সূত্র: অবচয়যোগ্য মূল্য = সম্পত্তির ক্রয়মূল্য - ভগ্নাবশেষ মূল্য।
সম্পত্তির ব্যবহার্য আয়ুষ্কাল ধরে এই অবচয়যোগ্য মূল্যের ওপর ভিত্তি করেই মূলত অবচয় হিসাব করা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
দ্বিগুণ ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতিতে (Double Declining Balance Method) অবচয়ের হার নির্ণয় করার জন্য সরলরৈখিক পদ্ধতির (Straight-line Method) স্বাভাবিক অবচয়ের হারকে ২ দিয়ে গুণ (দ্বিগুণ) করা হয়।

উদাহরণ: যদি কোনো সম্পত্তির আয়ুষ্কাল ৫ বছর হয়, তবে সরলরৈখিক পদ্ধতিতে অবচয়ের হার হবে (১০০% ÷ ৫) = ২০%। অতএব, দ্বিগুণ ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতিতে অবচয়ের হার হবে এর দ্বিগুণ, অর্থাৎ (২০% × ২) = ৪০%।
ব্যাখ্যা (Explanation)
পুঞ্জীভূত অবচয় (Accumulated Depreciation):
- এটি হলো একটি বিপরীত সম্পত্তি (Contra Asset) হিসাব।
- কোনো নির্দিষ্ট স্থায়ী সম্পত্তির উপর এ পর্যন্ত ধার্যকৃত অবচয়ের মোট পরিমাণকে পুঞ্জীভূত অবচয় বলা হয়।
- আর্থিক বিবরণীতে (উদ্বৃত্তপত্রে) সংশ্লিষ্ট স্থায়ী সম্পত্তির ক্রয়মূল্য বা ঐতিহাসিক মূল্য থেকে পুঞ্জীভূত অবচয় বাদ দিয়ে সম্পত্তির নিট বা পুস্তক মূল্য প্রদর্শন করা হয়।
- যেহেতু এটি সরাসরি সম্পত্তির মূল্য হ্রাস করে, তাই একে বিপরীত সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
অবচয় (Depreciation) এবং এর প্রকৃতি:
- হিসাববিজ্ঞানে অবচয়কে একটি অদৃশ্য লেনদেন এবং অনগদ লেনদেন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ব্যবহারের ফলে বা সময়ের আবর্তনে স্থায়ী সম্পত্তির যে মূল্য হ্রাস পায়, তাকে অবচয় বলে।
- এই লেনদেনের ফলে ব্যবসায়ের কোনো নগদ অর্থের আদান-প্রদান ঘটে না এবং সম্পত্তির বাহ্যিক বা দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন চোখে দেখা যায় না।
- তাই দৃশ্যমানতা ও প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে এটি অদৃশ্য লেনদেন।
ব্যাখ্যা (Explanation)
আমরা জানি,
বার্ষিক অবচয় (সরলরৈখিক পদ্ধতি) = (ক্রয়মূল্য – ভগ্নাবশেষ মূল্য) ÷ আয়ুষ্কাল
এখানে দেওয়া আছে,
যন্ত্রের ক্রয়মূল্য = ২০,০০০ টাকা
ভগ্নাবশেষ মূল্য = ২,০০০ টাকা
আয়ুষ্কাল = ৫ বছর
অতএব, বার্ষিক অবচয় = (২০,০০০ – ২,০০০) ÷ ৫ টাকা
= ১৮,০০০ ÷ ৫ টাকা
= ৩,৬০০ টাকা।
সুতরাং, যন্ত্রটির বার্ষিক অবচয় হবে ৩,৬০০ টাকা।

প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা ওয়েবসাইটে; সবগুলোর সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে অ্যাপ ইন্সটল করুন।

ব্যাখ্যা (Explanation)
সুনাম (Goodwill) ও এর শ্রেণিবিভাগ:
- FASB (Financial Accounting Standards Board)-এর নিয়মানুযায়ী ব্যবসায়ের সুনাম হলো একটি অস্পর্শনীয় সম্পত্তি (Intangible Asset)।
- অস্পর্শনীয় সম্পত্তি বলতে এমন সম্পত্তিকে বোঝায় যার কোনো শারীরিক বা বস্তুগত অস্তিত্ব নেই, অর্থাৎ যা ধরা বা ছোঁয়া যায় না।
- সুনাম, প্যাটেন্ট, ট্রেডমার্ক, কপিরাইট ইত্যাদি অস্পর্শনীয় সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত।
- এগুলো ধরা-ছোঁয়া না গেলেও ব্যবসায়ের দীর্ঘমেয়াদি মুনাফা অর্জনে সাহায্য করে এবং এদের সুনির্দিষ্ট আর্থিক মূল্য রয়েছে।
ব্যাখ্যা (Explanation)
আয়ুষ্কালের বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে অস্পর্শনীয় (Intangible) সম্পদকে প্রধানত দুইটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:
১. নির্দিষ্ট আয়ুষ্কালবিশিষ্ট অস্পর্শনীয় সম্পদ: যেসব সম্পদের একটি নির্দিষ্ট আইনি বা চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ থাকে। যেমন: প্যাটেন্ট বা কপিরাইট। এদের নির্দিষ্ট সময় ধরে অবলোপন (Amortization) করা হয়।
২. অনির্দিষ্ট আয়ুষ্কালবিশিষ্ট অস্পর্শনীয় সম্পদ: যেসব সম্পদের ব্যবহারযোগ্য আয়ুষ্কালের কোনো নির্দিষ্ট সীমা থাকে না। যেমন: ট্রেডমার্ক বা সুনাম (Goodwill)। এদের অবলোপন করা হয় না, তবে প্রতি বছর মূল্যহ্রাস (Impairment) পরীক্ষা করা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
প্রাকৃতিক সম্পদের নিঃশেষণ বা শূন্যকরণ ভিত্তি (Depletion Base) নির্ধারণ করতে প্রধানত চারটি ব্যয়ের সমষ্টি বিবেচনা করা হয়। এগুলো হলো:
• অর্জন ব্যয় (Acquisition Cost): সম্পদটি ক্রয়ের বা অধিকার পাওয়ার ব্যয়।
• অনুসন্ধান ব্যয় (Exploration Cost): সম্পদটি খুঁজে বের করার ব্যয়।
• উন্নয়ন ব্যয় (Development Cost): সম্পদ উত্তোলনের উপযোগী করার ব্যয়।
• পুনর্নির্মাণ বা পুনরুদ্ধার ব্যয় (Restoration Cost): সম্পদ উত্তোলন শেষে ওই স্থানকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সম্ভাব্য ব্যয়।
সুতরাং, নিঃশেষণ ভিত্তি নির্ধারণে উল্লেখিত তিনটি ব্যয়ের সাথে পুনর্নির্মাণ ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
হিসাববিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, স্থায়ী সম্পদ বিক্রয়ের ক্ষেত্রে লাভ বা ক্ষতি নির্ণয়ের সূত্রটি হলো:
সম্পদ বিক্রয়জনিত লাভ বা ক্ষতি = বিক্রয়মূল্য – পুস্তক মূল্য (Book Value)
এখানে, পুস্তক মূল্য বা বহিমূল্য হলো সম্পত্তির ঐতিহাসিক ক্রয়মূল্য থেকে পুঞ্জীভূত অবচয় (Accumulated Depreciation) বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট মূল্য।
• যদি বিক্রয়মূল্য > পুস্তক মূল্য হয়, অর্থাৎ বিক্রয়মূল্য বেশি হয়, তবে লাভ হয়েছে বলে গণ্য করা হয়।
• বিপরীতক্রমে, বিক্রয়মূল্য পুস্তক মূল্যের চেয়ে কম হলে ক্ষতি হয়েছে বলে গণ্য করা হয়।
যেহেতু প্রশ্নে বিক্রয়মূল্য সম্পত্তির পুস্তক মূল্য অপেক্ষা বেশি, তাই হিসাববিজ্ঞানের দৃষ্টিতে লাভ হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।
ব্যাখ্যা (Explanation)
সঠিক উত্তর হলো (১০০% ÷ আনুমানিক আয়ুষ্কাল) × ২।

ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতিতে (Double Declining Balance Method) অবচয়ের হার দেওয়া না থাকলে, তা নির্ণয়ের জন্য সরলরৈখিক পদ্ধতির অবচয়ের হারের দ্বিগুণ ধরা হয়।
- সরলরৈখিক অবচয়ের হার = (১০০% ÷ আনুমানিক আয়ুষ্কাল)
- সুতরাং, দ্বিগুণ ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতিতে অবচয়ের হার = (১০০% ÷ আনুমানিক আয়ুষ্কাল) × ২

অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল হওয়ার কারণ:
- ১০০% ÷ আনুমানিক আয়ুষ্কাল হলো সরলরৈখিক পদ্ধতিতে অবচয়ের হার নির্ণয়ের সূত্র।
- বাকি বিকল্পগুলোর গাণিতিক বা হিসাববিজ্ঞানের নিয়মে কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি নেই।
ব্যাখ্যা (Explanation)
সঠিক উত্তর হলো Property, Plant and Equipment।

আন্তর্জাতিক হিসাব মান বা IAS 16 (International Accounting Standard 16) অনুযায়ী, ব্যবসায়ের পরিচালন কার্যক্রমে ব্যবহৃত দৃশ্যমান স্থায়ী সম্পদগুলোকে সম্মিলিতভাবে Property, Plant and Equipment (PPE) নামে অভিহিত করা হয়।
- Fixed Assets বা স্থায়ী সম্পদ একটি সাধারণ শব্দ, কিন্তু IAS 16 এ সুনির্দিষ্টভাবে দাপ্তরিক নাম হিসেবে PPE শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
- Non-current Assets একটি বৃহত্তর শ্রেণি, যার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং অস্পর্শনীয় সম্পদও অন্তর্ভুক্ত থাকে।
- Tangible Assets বলতে দৃশ্যমান সম্পদকে বোঝায়, তবে হিসাববিজ্ঞানের মান অনুযায়ী সঠিক শিরোনাম হলো PPE।
ব্যাখ্যা (Explanation)
সঠিক উত্তর হলো IAS 16।

আন্তর্জাতিক হিসাব মান IAS 16 (Property, Plant and Equipment) অনুযায়ী অবচয়ের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। এই মান অনুযায়ী, কোনো সম্পদের অবচয়যোগ্য মূল্যকে (Depreciable amount) এর আনুমানিক আয়ুষ্কালের (Useful life) মধ্যে যুক্তিসঙ্গত ও ধারাবাহিকভাবে বণ্টন করাকেই অবচয় বলা হয়।

অন্যান্য মানগুলোর বিষয়বস্তু:
- IAS 2: মজুত পণ্য (Inventories) সংক্রান্ত হিসাবরক্ষণ।
- IAS 38: অস্পর্শনীয় সম্পদ (Intangible Assets) সংক্রান্ত নিয়মাবলি।
- IAS 1: আর্থিক বিবরণী উপস্থাপন (Presentation of Financial Statements)।
ব্যাখ্যা (Explanation)
সঠিক উত্তর হলো জমি।

অবচয় বলতে সময়ের সাথে সাথে বা ব্যবহারের ফলে স্থায়ী সম্পদের মূল্য বা কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়াকে বোঝায়।
- জমি (Land): জমির আয়ুষ্কাল অসীম। এর কার্যকারিতা এবং আয় উৎপাদন ক্ষমতা সাধারণত সময়ের সাথে কমে যায় না বা সর্বদা অক্ষুণ্ণ থাকে। তাই হিসাববিজ্ঞান নীতি অনুযায়ী জমির ওপর কোনো অবচয় ধার্য করা হয় না।
- অন্যান্য বিকল্প যেমন: দালানকোঠা, যন্ত্রপাতি এবং আসবাবপত্র- ব্যবহারের ফলে বা সময়ের আবর্তনে এগুলোর কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়, তাই এগুলোর ওপর অবচয় ধার্য করা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
সঠিক উত্তর হলো ফ্র্যাঞ্চাইজ।

কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোনো উৎপাদনকারী বা ব্যবসায়ীর কোনো দ্রব্য বা সেবা উৎপাদন তথা বিক্রি করার জন্য প্রাপ্ত বিশেষ অধিকারকে ফ্র্যাঞ্চাইজ (Franchise) বলে।

- লাইসেন্সিংয়ের একটি বিশেষ রূপ হচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিং, যেখানে শুধুমাত্র অদৃশ্যমান সম্পত্তি (সাধারণত ট্রেডমার্ক) বিক্রি করা হয় না, সেই সাথে ফ্র্যাঞ্চাইজি কীভাবে তার ব্যবসা পরিচালনা করবে, সে সম্পর্কে কঠোর নিয়ম মেনে চলতে সম্মত হয়। ফলে এটি সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে।
- ফ্র্যাঞ্চাইজার (Franchisor) এই অধিকার প্রদানের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজির (Franchisee) আয়ের কিছু শতাংশ রয়্যালটি আয় হিসেবে পেয়ে থাকে।
- উদাহরণ: ফ্র্যাঞ্চাইজিংয়ের একটি বড় উদাহরণ হলো ম্যাকডোনাল্ড, যারা তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর খাবারের মেন্যু, রান্নার পদ্ধতি, কর্মীনীতি, রেস্তোরাঁর নকশা, অবস্থান, সরবরাহের চেইন, ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণসহ আর্থিক সহায়তা দান করে থাকে।

অন্যান্য বিকল্পগুলো:
- ট্রেডমার্ক: ব্যবসায়ের প্রতীক বা নাম ব্যবহারের অধিকার।
- কপিরাইট: সাহিত্য বা শিল্পকর্মের স্বত্ব।
- পেটেন্ট: নতুন কোনো আবিষ্কারের ওপর একচেটিয়া অধিকার।
ব্যাখ্যা (Explanation)
প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন- তেল, গ্যাস বা কয়লাখনি ইত্যাদির মোট ব্যয়কে এর আয়ুষ্কালের মধ্যে যুক্তিসংগত উপায়ে বণ্টন করার প্রক্রিয়াকে শূন্যকরণ (Depletion) বলে।
- শূন্যকরণ মূলত প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, কারণ সম্পদ উত্তোলনের সাথে সাথে এর পরিমাণ কমতে থাকে।
- অন্যদিকে, দৃশ্যমান স্থায়ী সম্পদের ক্ষেত্রে অবচয় (Depreciation) এবং অস্পর্শনীয় সম্পদের ক্ষেত্রে অবলোপন (Amortization) ব্যবহৃত হয়।
- ক্ষয় হলো সম্পদের ভৌত ব্যবহারজনিত সাধারণ হ্রাস।

নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন — অ্যাপে লাইভ পরীক্ষা দিয়ে মেরিট লিস্টে নিজের অবস্থান দেখুন।

ব্যাখ্যা (Explanation)
কোনো অস্পর্শনীয় সম্পত্তি (যেমন- সুনাম, প্যাটেন্ট, ট্রেডমার্ক ইত্যাদি)-এর মোট ব্যয়কে তার কার্যকর আয়ুষ্কালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে খরচ হিসেবে বণ্টন করার প্রক্রিয়াকে অবলোপন (Amortization) বলা হয়।
- অবলোপন হলো অস্পর্শনীয় সম্পদের মূল্য হ্রাসের হিসাবরক্ষণ প্রক্রিয়া।
- অন্যদিকে, অবচয় দৃশ্যমান স্থায়ী সম্পদের (যেমন- যন্ত্রপাতি, দালানকোঠা) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
- শূন্যকরণ প্রাকৃতিক সম্পদের (যেমন- খনিজ সম্পদ) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
হিসাববিজ্ঞানে যেসব সম্পত্তির কোনো বাস্তব বা ভৌত অস্তিত্ব নেই এবং যেগুলোর কোনো বাজারমূল্য বা আদায়যোগ্য মূল্য থাকে না, তাদের অলীক সম্পত্তি (Fictitious Assets) বলা হয়।
- প্রাথমিক খরচ, শেয়ার অবহার, এবং বিলম্বিত বিজ্ঞাপন হলো অলীক সম্পত্তির প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- এগুলো মূলত এক ধরনের মূলধন জাতীয় ক্ষতি বা বিলম্বিত মুনাফা জাতীয় ব্যয়, যা পর্যায়ক্রমে কয়েক বছর ধরে অবলোপন করা হয়।
- এগুলো অস্পর্শনীয় সম্পত্তি নয়, কারণ অস্পর্শনীয় সম্পত্তির (যেমন- সুনাম) নির্দিষ্ট বিক্রয়যোগ্য মূল্য থাকে, যা অলীক সম্পত্তির থাকে না।
ব্যাখ্যা (Explanation)
কোনো স্থায়ী সম্পদের মূল ক্রয়মূল্য (বা ঐতিহাসিক মূল্য) থেকে এর পুঞ্জীভূত অবচয় (সম্পদের ব্যবহারজনিত কারণে মোট অবচয়) বাদ দিলে যে মূল্য পাওয়া যায়, তাকে পুস্তক মূল্য (Book Value) বলে।
- গাণিতিক সূত্র: পুস্তক মূল্য = সম্পদের ক্রয়মূল্য - পুঞ্জীভূত অবচয়।
- ভগ্নাবশেষ মূল্য হলো আয়ুষ্কাল শেষে সম্পদটি বিক্রি করে যে সম্ভাব্য মূল্য পাওয়া যায়।
- অবচয়যোগ্য মূল্য হলো ক্রয়মূল্য থেকে ভগ্নাবশেষ মূল্য বাদ দেওয়ার পর প্রাপ্ত মূল্য, যার ওপর ভিত্তি করে অবচয় ধার্য করা হয়।
- সুতরাং, ক্রয়মূল্য এবং পুঞ্জীভূত অবচয়ের পার্থক্য নির্দেশ করতে পুস্তক মূল্য-ই সঠিক।
ব্যাখ্যা (Explanation)
যেসব দীর্ঘমেয়াদি সম্পদের কোনো ভৌত বা বাহ্যিক অস্তিত্ব নেই, অর্থাৎ যেগুলো ধরা বা ছোঁয়া যায় না কিন্তু ব্যবসায়ের আয় বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদে সহায়তা করে, তাদের অস্পর্শনীয় সম্পত্তি (Intangible Assets) বলে।
- অস্পর্শনীয় সম্পত্তির উদাহরণ: সুনাম (Goodwill), প্যাটেন্ট (Patent), ট্রেডমার্ক (Trademark), কপিরাইট ইত্যাদি।
- অন্যদিকে, স্থায়ী সম্পত্তি (যেমন- জমি, দালানকোঠা) দৃশ্যমান এবং স্পর্শযোগ্য।
- চলতি সম্পত্তি হলো সেসব সম্পদ যা এক বছরের মধ্যে নগদে রূপান্তরযোগ্য (যেমন- দেনাদার)।
- কাল্পনিক বা অলীক সম্পত্তি-এর কোনো বাস্তব মূল্য থাকে না (যেমন- শেয়ার অবহার)।
ব্যাখ্যা (Explanation)
নতুন প্রযুক্তি বাজারে আসার ফলে পুরোনো যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা বা চাহিদা কমে যায়, যাকে হিসাববিজ্ঞানের ভাষায় অবলুপ্তি (Obsolescence) বলে।
• এটি মূলত প্রযুক্তিগত অগ্রগতি-এর কারণে ঘটে।
• উদাহরণস্বরূপ: টাইপরাইটারের বদলে কম্পিউটারের ব্যবহার শুরু হওয়ায় টাইপরাইটার দ্রুত অচল হয়ে পড়ে এবং এর মূল্য দ্রুত হ্রাস পায়।
তাই এই ধরনের পরিবর্তনকে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রভাব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
যে পদ্ধতিতে সম্পত্তির আয়ুষ্কালকে সময়ের (যেমন: বছর বা মাস) পরিবর্তে মোট উৎপাদন ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয়, তাকে উৎপাদন একক পদ্ধতি (Units of Production Method) বলে।
• গাণিতিক নিয়ম: অবচয়যোগ্য একক প্রতি হার = (সম্পত্তির মোট ক্রয়মূল্য - ভগ্নাবশেষ মূল্য) ÷ মোট আনুমানিক উৎপাদন ক্ষমতা।
• এরপর, বার্ষিক অবচয় = অবচয়যোগ্য একক প্রতি হার × বর্তমান বছরের উৎপাদন।
যেহেতু সূত্রটিতে সরাসরি উৎপাদনের পরিমাণ গুণ করা হয়, তাই এখানে সময়ের চেয়ে সম্পত্তির ব্যবহার বা উৎপাদনের পরিমাণ-এর ওপরই বেশি জোর দেওয়া হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতিতে (Declining Balance Method) প্রতি বছর সম্পত্তির প্রারম্ভিক উদ্বৃত্ত বা অবলিখিত মূল্যের (Book Value) ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে অবচয় ধার্য করা হয়।
• গাণিতিক নিয়ম: চলতি বছরের অবচয় = (সম্পত্তির প্রারম্ভিক ক্রয়মূল্য - পুঞ্জীভূত অবচয়) × অবচয়ের হার।
• যেহেতু প্রতি বছর অবচয় বাদ দেওয়ার পর সম্পত্তির অবলিখিত মূল্য কমতে থাকে, তাই সেই হ্রাসপ্রাপ্ত মূল্যের ওপর ধার্যকৃত অবচয়ের পরিমাণও পরবর্তী বছরগুলোতে ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে।
• এই কারণে সম্পত্তির আয়ুষ্কালের প্রথম বছরে অবচয়ের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
যে পদ্ধতিতে সম্পত্তির অবচয়যোগ্য মূল্য তার আয়ুষ্কালের প্রতিটি বছরে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়, তাকে সরলরৈখিক অবচয় পদ্ধতি (Straight Line Method) বলে।
• গাণিতিক নিয়ম: বার্ষিক অবচয় = (সম্পত্তির মোট ক্রয়মূল্য - ভগ্নাবশেষ মূল্য) ÷ আনুমানিক আয়ুষ্কাল।
• এই পদ্ধতিতে যেহেতু সমীকরণের লব (মোট অবচয়যোগ্য মূল্য) এবং হর (আয়ুষ্কাল) স্থির থাকে, তাই প্রতি বছর অবচয়ের পরিমাণ একেবারে সমান হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
ইংরেজি 'Depreciation' (অবচয়) শব্দটি ল্যাটিন শব্দ 'Depretium' থেকে উদ্ভূত হয়েছে।
• শব্দটি দুটি ল্যাটিন খণ্ডাংশের সমন্বয়ে গঠিত: 'De' এবং 'Pretium'।
• এখানে 'De' শব্দের অর্থ হলো হ্রাস বা কমানো (Decline)।
• আর 'Pretium' শব্দের অর্থ হলো মূল্য বা দাম (Price/Value)।
সুতরাং, ল্যাটিন শব্দ 'Pretium'-এর সঠিক বাংলা অর্থ হলো মূল্য।
ব্যাখ্যা (Explanation)
ইংরেজি 'Depreciation' শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Depretium থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
শব্দতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করলে এটি দুটি ল্যাটিন অংশের সমন্বয়ে গঠিত দেখতে পাওয়া যায়:
• De: এর অর্থ হলো হ্রাস পাওয়া বা কমে যাওয়া (Decrease/Decline)।
• Pretium: এর অর্থ হলো মূল্য বা দাম (Price/Value)।
সুতরাং, শাব্দিক অর্থে Depretium বলতে কোনো সম্পত্তির মূল্য বা দাম কালক্রমে হ্রাস পাওয়াকে বোঝায়।
হিসাববিজ্ঞানের নিয়ম: কোনো দৃশ্যমান স্থায়ী সম্পত্তি ব্যবহারের ফলে বা সময়ের আবর্তনে এর যে কার্যক্ষমতা ও মূল্য হ্রাস পায়, তাকেই গাণিতিকভাবে নির্দিষ্ট আয়ুষ্কালের মধ্যে বণ্টন করার প্রক্রিয়া হলো অবচয় বা Depreciation।

এই টপিকের সব প্রশ্ন ব্যাখ্যাসহ, ভুল-সঠিক-বুকমার্ক আলাদা করে রিভিশন — অ্যাপে।

ব্যাখ্যা (Explanation)
আন্তর্জাতিক হিসাববিজ্ঞান মান বা IAS-36 (International Accounting Standard-36) এর মূল আলোচ্য বিষয় হলো Impairment of Assets বা সম্পত্তির ক্ষতিসাধন।
এই মান অনুযায়ী প্রতি আর্থিক বছর শেষে দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী স্পর্শনীয় সম্পত্তির ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে নিচের বিষয়গুলো যাচাই করা আবশ্যক:
• প্রথম ধাপ (সূচক যাচাই): বছর শেষে দেখতে হবে সম্পত্তির মূল্য হ্রাসের কোনো বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ প্রমাণ বা সূচক (Indicators) রয়েছে কি না।
• দ্বিতীয় ধাপ (আদায়যোগ্য মূল্য নির্ধারণ): যদি এমন কোনো সূচক পরিলক্ষিত হয়, তবে গাণিতিক নিয়মে সম্পত্তির আদায়যোগ্য মূল্য (Recoverable Amount) হিসাব করতে হবে।
• তৃতীয় ধাপ (ক্ষতিসাধন মূল্যায়ন): সম্পত্তির পুস্তক মূল্য বা বহিমূল্য (Carrying Amount) যদি এর আদায়যোগ্য মূল্যের চেয়ে বেশি হয়, তবে সেই অতিরিক্ত পরিমাণকেই ক্ষতিসাধন বা Impairment হিসেবে গণ্য করা হয়।
তাই দীর্ঘমেয়াদি সম্পত্তির সঠিক ও নির্ভরযোগ্য আর্থিক চিত্র তুলে ধরার জন্য বছর শেষে ক্ষতিসাধন যাচাই করা আবশ্যক।
সঠিক উত্তর: ০ ভুল উত্তর: ০
নোটিশ

 ✅ টপিক ও সাব-টপিকভিত্তিক জব সলিউশন্স 

২০০৫ – ২০২৬ সাল পর্যন্ত সব জব সলিউশন্স প্রশ্ন টপিক ও সাব-টপিক আকারে যোগ করা হয়েছে — সর্বমোট প্রায় ২৫ হাজার ইউনিক প্রশ্ন। ১২তম – ২০তম গ্রেডের পরীক্ষার্থীরা শুধু এইগুলো পড়লেই হবে।

▶ প্রশ্ন ব্যাংক → অনুশীলন → এরপর উপরের ডানে হলুদ বাটনে ক্লিক করে Job Solutions ফিল্টার করে নিন।
↻ প্রতি সপ্তাহে নতুন জব প্রশ্ন টপিক ও সাব-টপিক আকারে যোগ করা হয়।


 ★ বর্তমান চলমান কোর্স (সব পরীক্ষা website থেকে OMR পদ্ধতিতে দিতে পারবেন) 

১) ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি'র লং কোর্স (১৫৬ দিন)  নতুন 
২) প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (লেকচার শিট ভিত্তিক কোর্স) নতুন 
৩) ‘অগ্রদূত বাংলা’ ৯০ দিনের মাস্টার স্টাডি রুটিন নতুন 
৪) Master English Study (৯৯ দিনের স্পেশাল কোর্স) নতুন 
৫)
১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন — লেকচারশীট ভিত্তিক
৬) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) — বাংলা 
 নতুন 
৭) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) — বাংলা 
 নতুন 
৮) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন — সমাজবিজ্ঞান
৯) ১৯তম নিবন্ধন (প্রভাষক) — গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান
১০) ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি — ২৩৬ দিনে সম্পূর্ণ সিলেবাস
১১) টপিক ভিত্তিক জব সলিউশন রুটিন (১৬৫ দিনের)
১২) প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (৩য় ব্যাচ)
১৩)  ৫১তম স্পেশাল বিসিএস (স্বাস্থ্য) সমন্বিত প্রস্তুতি রুটিন (মেডিকেল)  নতুন 
১৪) সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী


 ➤ আপকামিং কোর্স ও রুটরশ

✦ ১০তম-১৩তম গ্রেডের প্রস্তুতি।  
◆ ১৪তম-২০তম গ্রেডের প্রস্তুতি।  
◆ ৫২তম বিসিএস প্রস্তুতি।