সরাসরি মূল কন্টেন্টে যান

উপরি খরচের হিসাব (Accounting for Overhead)

২০ টি প্রশ্ন
টপিক তালিকা
একই বিষয়ের সব টপিক
ব্যাখ্যা (Explanation)
প্রতিষ্ঠানের 'অডিট ফি' (Audit fees) বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে বণ্টনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযুক্ত ভিত্তি হলো 'বিক্রয় রাজস্ব' (Sales Revenue)।

যৌক্তিক ব্যাখ্যা: আপনার প্রদত্ত উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী অডিট ফি বণ্টনের সঠিক ভিত্তি হলো বিক্রয় রাজস্ব। হিসাববিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এর পেছনের মূল কারণগুলো হলো:

১. কাজের পরিধি: অডিট বা নিরীক্ষা কার্যক্রম মূলত প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় ও সামগ্রিক আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা প্রমাণের জন্য পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠানের প্রধান আয় আসে পণ্য বা সেবা বিক্রয় থেকে। তাই যে বিভাগের বিক্রয় রাজস্বের পরিমাণ যত বেশি, স্বাভাবিকভাবেই সেই বিভাগের আর্থিক লেনদেন এবং নথিপত্রের পরিমাণও তত বেশি হয়।

২. সময় ও শ্রম ব্যয়: লেনদেনের পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণে নিরীক্ষক বা অডিটরদের ওই বড় বিভাগের হিসাব যাচাই-বাছাই করতে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হয়। ৩. যৌক্তিক বণ্টন: প্রতিষ্ঠানের উপরিখরচ বা সাধারণ ব্যয়গুলো (Overhead) বণ্টনের মূলনীতিই হলো যে বিভাগ কোনো ব্যয়ের সুবিধা বা কারণ যতটুকু বহন করবে, খরচটিও সেই অনুপাতে বণ্টিত হবে।

এই আনুপাতিক সম্পর্কটির কারণেই অন্যান্য ভিত্তি (যেমন: প্রত্যক্ষ শ্রম, শ্রম ঘণ্টা বা লাইট পয়েন্ট)-এর পরিবর্তে 'বিক্রয় রাজস্ব'-কে অডিট ফি বণ্টনের সবচেয়ে বিজ্ঞানসম্মত ও উপযুক্ত ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
উপরি খরচ বা ওভারহেড বণ্টনের ক্ষেত্রে 'সহ-সমীকরণ পদ্ধতি' (Simultaneous Equation Method) মূলত পারস্পরিক সেবা পদ্ধতি' বা Reciprocal Service Method-এর একটি প্রকারভেদ।

সহজ কথায়, কারখানায় যখন একাধিক সেবা বিভাগ (Service Departments) একে অপরের ওপর নির্ভরশীল থাকে এবং একে অপরকে পারস্পরিকভাবে সেবা প্রদান করে, তখন তাদের মোট ব্যয় যুক্তিসংগতভাবে বণ্টনের জন্য 'পারস্পরিক সেবা পদ্ধতি' ব্যবহৃত হয় [৮]। হিসাববিজ্ঞানে এই পারস্পরিক সেবা পদ্ধতির অধীনে ব্যয় বণ্টনের কাজ সম্পন্ন করার জন্য কয়েকটি গাণিতিক কৌশল বা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে 'সহ-সমীকরণ পদ্ধতি', 'পৌনঃপুনিক পদ্ধতি' (Repeated distribution method) এবং 'ট্রায়াল অ্যান্ড এরর পদ্ধতি' অন্যতম [৯]। তাই সহ-সমীকরণ পদ্ধতিকে পারস্পরিক সেবা পদ্ধতিরই একটি গাণিতিক রূপ বা প্রকারভেদ হিসেবে গণ্য করা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
কারখানায় একাধিক সেবা বিভাগ থাকলে এবং তারা নিজেদের মধ্যে সেবা আদান-প্রদান করলে ব্যয় বণ্টনের জন্য পারস্পরিক সেবা পদ্ধতি (Reciprocal Service Method) ব্যবহার করা হয়।
অন্যান্য পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা:
• প্রত্যক্ষ বণ্টন পদ্ধতি: এটি সেবা বিভাগগুলোর পারস্পরিক সেবা সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে।
• ধাপ বা অনুক্রমিক পদ্ধতি: এটি কেবল একমুখী সেবা বিবেচনা করে।
যেহেতু পারস্পরিক সেবা পদ্ধতিতে প্রতিটি সেবা বিভাগের ব্যয় অন্য সেবা বিভাগ এবং উৎপাদন বিভাগের মধ্যে গাণিতিক (যেমন- যুগপৎ সমীকরণ বা ম্যাট্রিক্স) উপায়ে সুনির্দিষ্টভাবে বণ্টন করা হয়, তাই এটি সবচেয়ে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি।
ব্যাখ্যা (Explanation)
উৎপাদন ব্যয় হিসাবে (Cost Accounting) কারখানার মোট উৎপাদন ব্যয় বা 'Works Cost' (কারখানা ব্যয়) নির্ণয়ের একটি সুনির্দিষ্ট ধারাবাহিক প্রক্রিয়া রয়েছে।
ধাপসমূহ:
১. প্রথমে প্রত্যক্ষ কাঁচামাল, প্রত্যক্ষ মজুরি এবং প্রত্যক্ষ খরচের যোগফল হিসেবে মুখ্য ব্যয় (Prime Cost) নির্ণয় করা হয়।
২. এরপর এই মুখ্য ব্যয়ের সাথে কারখানার ভেতরে সংঘটিত যাবতীয় পরোক্ষ খরচ বা কারখানার উপরি ব্যয় (Factory Overhead) যোগ করা হয়।
অতএব, গাণিতিক সূত্রানুযায়ী: Works Cost = মুখ্য ব্যয় + কারখানার উপরি ব্যয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
হিসাববিজ্ঞানে কোনো পণ্য উৎপাদনের প্রাথমিক বা প্রধান ব্যয়কে মুখ্য ব্যয় (Prime Cost) বলা হয়। এটি মূলত পণ্যের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যয়গুলোর সমষ্টি।
মুখ্য ব্যয়ের উপাদানসমূহ:
• প্রত্যক্ষ কাঁচামাল (Direct Material): পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত মূল উপাদান।
• প্রত্যক্ষ মজুরি (Direct Wages/Labor): উৎপাদনের সাথে সরাসরি জড়িত শ্রমিকদের পারিশ্রমিক।
• প্রত্যক্ষ অন্যান্য খরচ (Direct Expenses): উৎপাদনের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত অন্যান্য খরচ।
সুতরাং, মুখ্য ব্যয় নির্ণয়ের গাণিতিক সূত্রটি হলো: মুখ্য ব্যয় = প্রত্যক্ষ কাঁচামাল + প্রত্যক্ষ মজুরি। কারখানার পরোক্ষ খরচগুলো উপরি ব্যয়ের (Overhead) অন্তর্ভুক্ত হয়, এগুলো মুখ্য ব্যয়ের অংশ নয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
'All indirect cost are termed as overhead' বা 'যাবতীয় পরোক্ষ ব্যয়ই উপরিখরচ'— এই বিখ্যাত উক্তিটি প্রদান করেছেন প্রখ্যাত হিসাববিজ্ঞানী ডব্লিউ. ডব্লিউ. বিগ (W. W. Bigg)।
উক্তির তাৎপর্য:
উৎপাদন ব্যয় হিসাবে ব্যয়কে মূলত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ— এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যে ব্যয়গুলো সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট পণ্য বা সেবার সাথে চিহ্নিত করা যায় না, তাদের পরোক্ষ ব্যয় বলে। যেমন: পরোক্ষ কাঁচামাল, পরোক্ষ মজুরি এবং অন্যান্য পরোক্ষ খরচ। হিসাববিজ্ঞানের পরিভাষায় এই সকল পরোক্ষ ব্যয়ের সমষ্টিকেই উপরিব্যয় (Overhead) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, যা ডব্লিউ. ডব্লিউ. বিগ তাঁর সংজ্ঞায় সুস্পষ্ট করেছেন।
ব্যাখ্যা (Explanation)
কারখানায় উপরিখরচ (Overhead) বণ্টনের ক্ষেত্রে যখন প্রতিটি বিভাগের জন্য আলাদা বা পৃথক হার নির্ধারণ না করে, সমগ্র কারখানার জন্য একটিমাত্র সাধারণ হার ব্যবহার করা হয়, তখন তাকে Blanket Rate (বা Plant-wide Rate) বলা হয়।
Blanket Rate এর গাণিতিক বৈশিষ্ট্য:
• এটি নির্ণয়ের সূত্র: (পুরো কারখানার মোট উপরিখরচ ÷ কারখানার মোট শ্রম ঘণ্টা বা মেশিন ঘণ্টা)।
• সাধারণত যেসব কারখানায় মাত্র এক ধরনের পণ্য উৎপাদিত হয় বা বিভিন্ন বিভাগের কাজের ধরন প্রায় একই রকম, সেখানে এই পদ্ধতি বেশি কার্যকর।
অন্যদিকে, ভিন্ন ভিন্ন কাজের প্রকৃতির জন্য প্রতিটি বিভাগের জন্য আলাদা হার ব্যবহার করলে তাকে বিভাগীয় হার (Departmental Rate) বলে।
ব্যাখ্যা (Explanation)
উৎপাদনের পরিমাণের সাথে খরচের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
• স্থায়ী উপরিখরচ (Fixed Overhead): মোট খরচ অপরিবর্তিত থাকে, কিন্তু উৎপাদনের পরিমাণ হ্রাস পেলে একক প্রতি খরচ বৃদ্ধি পায়।
• পরিবর্তনশীল উপরিখরচ (Variable Overhead): উৎপাদনের পরিমাণের সাথে মোট খরচ সমানুপাতিক হারে পরিবর্তিত হয়। অর্থাৎ উৎপাদন কমলে মোট খরচ কমে, কিন্তু একক প্রতি খরচ সর্বদা অপরিবর্তিত থাকে।
• উদাহরণস্বরূপ: একটি কলম তৈরিতে যদি ৫ টাকার কালি লাগে (পরিবর্তনশীল খরচ), তবে ১০০টি কলম তৈরিতে ৫০০ টাকা এবং ৫০টি কলম তৈরিতে ২৫০ টাকা লাগবে। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই একক প্রতি কালির খরচ ৫ টাকাই থাকবে।
ব্যাখ্যা (Explanation)
গাণিতিক নিয়ম অনুযায়ী, ভগ্নাংশের লব স্থির রেখে হর বৃদ্ধি করলে তার মান হ্রাস পায়।
• একক প্রতি স্থায়ী খরচ = (মোট স্থায়ী খরচ) ÷ (মোট উৎপাদন একক)
• যেহেতু মোট স্থায়ী উপরিখরচ সর্বদা স্থির বা অপরিবর্তিত থাকে, তাই উৎপাদনের পরিমাণ (উৎপাদন একক) বৃদ্ধি পেলে ওই নির্দিষ্ট খরচটি অধিক সংখ্যক এককের মধ্যে বণ্টিত হয়ে যায়।
• ফলে গাণিতিক নিয়মানুযায়ী একক প্রতি স্থায়ী উপরিখরচ হ্রাস পায়।
• উদাহরণ: কারখানার ভাড়া যদি ১০,০০০ টাকা হয় এবং ১,০০০ একক উৎপাদিত হয়, তবে একক প্রতি ভাড়া = ১০ টাকা। যদি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ২,০০০ একক হয়, তবে একক প্রতি ভাড়া হবে = ৫ টাকা।

প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা ওয়েবসাইটে; সবগুলোর সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে অ্যাপ ইন্সটল করুন।

ব্যাখ্যা (Explanation)
হিসাববিজ্ঞানে কোনো মেশিন প্রতি ঘণ্টায় কতটুকু উপরিখরচ শোষণ করবে তা নির্ণয় করার পদ্ধতিকে 'মেশিন ঘণ্টা হার' বলা হয়।
• গাণিতিক সূত্রটি হলো: মেশিন ঘণ্টা হার = (মোট উপরিখরচ) ÷ (মোট মেশিন ঘণ্টা)
• এখানে, কারখানার নির্দিষ্ট একটি মেশিনের জন্য বরাদ্দকৃত বা বণ্টিত মোট উপরিখরচকে (Total Overhead) উক্ত মেশিনটি নির্দিষ্ট সময়ে যত ঘণ্টা চলেছে বা মোট মেশিন ঘণ্টা (Total Machine Hours) দ্বারা ভাগ করা হয়।
• ভগ্নাংশের আকারে প্রকাশ করলে বিষয়টি দাঁড়ায়: \(\frac{\text{মোট উপরিখরচ}}{\text{মোট মেশিন ঘণ্টা}}\)
• উদাহরণ: যদি একটি মেশিনের মোট উপরিখরচ ১০,০০০ টাকা হয় এবং সেটি মোট ১,০০০ ঘণ্টা চলে, তবে হার হবে \(\frac{10000}{1000}\) = ১০ টাকা প্রতি ঘণ্টা।
ব্যাখ্যা (Explanation)
হিসাববিজ্ঞানে উপরিখরচকে বিভিন্ন বিভাগে যুক্ত করার দুটি প্রধান পদ্ধতি রয়েছে:
• উপরি খরচের বিভাজন (Allocation of Overhead): যখন কোনো খরচ সুনির্দিষ্টভাবে কেবল একটি মাত্র বিভাগের জন্য সংঘটিত হয় এবং কোনো আনুপাতিক হিসাব ছাড়াই সরাসরি সম্পূর্ণ খরচটি উক্ত বিভাগে হিসাবভুক্ত করা হয়, তখন তাকে উপরি খরচের বিভাজন বলে।
• উপরি খরচের বণ্টন (Apportionment of Overhead): যখন কোনো সাধারণ খরচ একাধিক বিভাগের জন্য সংঘটিত হয় এবং একটি নির্দিষ্ট ভিত্তির ওপর নির্ভর করে আনুপাতিক হারে তা বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ভাগ করা হয়।
• যেহেতু সরাসরি চার্জ করার কথা বলা হয়েছে, তাই এটি উপরি খরচের বিভাজন।
ব্যাখ্যা (Explanation)
কারখানার বিভিন্ন বিভাগকে তাদের কাজের ধরন অনুযায়ী প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:
• উৎপাদন বিভাগ (Production Department): যে বিভাগগুলো সরাসরি কাঁচামালকে প্রস্তুত পণ্যে রূপান্তর করার কাজে নিয়োজিত থাকে।
• সেবা বিভাগ (Service Department): যে বিভাগগুলো সরাসরি পণ্য উৎপাদনে জড়িত থাকে না, কিন্তু উৎপাদন বিভাগগুলো যাতে নির্বিঘ্নে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে।
• উদাহরণ: স্টোররুম, রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ, ক্যান্টিন ইত্যাদি। এগুলো সরাসরি পণ্য তৈরি না করলেও উৎপাদন কার্যক্রমকে সচল রাখতে সাহায্য করে।
ব্যাখ্যা (Explanation)
অবচয় এবং বিমা খরচ সরাসরি সম্পত্তির আর্থিক মূল্যের ওপর নির্ভরশীল।
ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ:
• অবচয়: মেশিনের ক্রয়মূল্য বা বর্তমান মূল্যের নির্দিষ্ট শতকরা হারে অবচয় ধার্য করা হয়।
• বিমা খরচ: মেশিনের যে মূল্য থাকে, তার ওপর ভিত্তি করেই বিমা কোম্পানি প্রিমিয়াম নির্ধারণ করে।
সুতরাং, যে বিভাগের মেশিনের মূল্য যত বেশি, সেই বিভাগে এই খরচগুলোর আনুপাতিক হারও তত বেশি হবে। তাই মেশিনের মূল্য-কে ভিত্তি ধরে এই খরচগুলো বণ্টন করা গাণিতিক ও যৌক্তিকভাবে সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত।
ব্যাখ্যা (Explanation)
শ্রমিক কল্যাণ বা ক্যান্টিন খরচ সরাসরি কারখানায় কর্মরত মানুষের সাথে সম্পর্কিত।
ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ:
• ক্যান্টিনে খাবারের ব্যবস্থা বা চিকিৎসাসহ অন্যান্য কল্যাণমূলক খরচ মূলত মাথাপিছু হিসাব করা হয়।
• কোনো বিভাগে শ্রমিকের সংখ্যা বেশি হলে, সেখানে স্বাভাবিকভাবেই এই সুবিধাগুলো বেশি ব্যবহৃত হবে এবং খরচও বেশি হবে।
• অন্যদিকে মেঝের আয়তন বা শ্রম ঘণ্টার সাথে এর সরাসরি কোনো গাণিতিক সম্পর্ক নেই।
এ কারণে কর্মচারীর সংখ্যা-কে ভিত্তি ধরে আনুপাতিক হারে এই খরচগুলো বণ্টন করা সর্বোত্তম।
ব্যাখ্যা (Explanation)
কারখানা ভবনের ভাড়া বা পৌর কর মূলত ভবনের ব্যবহৃত জায়গার ওপর নির্ভর করে।
ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ:
• একটি কারখানার মোট ভাড়াকে তার মোট আয়তন দিয়ে ভাগ করলে প্রতি বর্গফুটের ভাড়া পাওয়া যায়।
• এরপর প্রতিটি বিভাগ কারখানার মোট আয়তনের যতটুকু অংশ দখল করে আছে, সেই মেঝের আয়তন বা ক্ষেত্রফলের অনুপাতে মোট ভাড়া ও কর বণ্টন করা হয়।
• উদাহরণস্বরূপ: একটি বিভাগ যদি মোট জায়গার ৪০% ব্যবহার করে, তবে মোট ভাড়ার ৪০% উক্ত বিভাগের ওপর বর্তাবে।
তাই এক্ষেত্রে মেঝের আয়তন-ই হলো গাণিতিকভাবে সবচেয়ে নিখুঁত ভিত্তি।
ব্যাখ্যা (Explanation)
উৎপাদন ও সেবা খাতে পরোক্ষ খরচগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করে ভাগ করার একটি সুনির্দিষ্ট হিসাববিজ্ঞানিক প্রক্রিয়া রয়েছে।
ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ:
• কারখানার মোট উপরি খরচ নির্দিষ্ট কোনো একটি বিভাগের জন্য হয় না, বরং সম্পূর্ণ কারখানার জন্য হয়।
• এই সাধারণ খরচগুলোকে একটি যুক্তিসংগত ও আনুপাতিক ভিত্তির (যেমন- আয়তন, শ্রমিকের সংখ্যা ইত্যাদি) ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়।
• হিসাববিজ্ঞানের পরিভাষায় এই আনুপাতিক বণ্টনের প্রক্রিয়াকেই উপরি খরচের বিভাগীয়করণ বলা হয়। এর মাধ্যমে প্রতিটি বিভাগের প্রকৃত ব্যয় সঠিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
হিসাববিজ্ঞানে উপরি খরচের হিসাব রাখার সময় দুটি ভিন্ন মান বিবেচনা করা হয়: একটি হলো অনুমিত বা আরোপিত খরচ এবং অন্যটি হলো প্রকৃত খরচ।
ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ:
• আরোপিত উপরিখরচ: বছর বা হিসাবকালের শুরুতে পূর্ব-অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট হারে যে খরচ ধরা হয়।
• প্রকৃত উপরিখরচ: হিসাবকাল শেষে বাস্তবে যে খরচটি সংঘটিত হয়।
• যখন গাণিতিক হিসাবে দেখা যায় যে, পূর্বনির্ধারিত আরোপিত উপরিখরচ-এর পরিমাণ প্রকৃত উপরিখরচ-এর চেয়ে বেশি হয়ে গেছে, তখন সেই অতিরিক্ত প্রয়োগকৃত অংশটিকে উপরি খরচের অধি-প্রয়োগ বলা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
প্রকৃত উৎপাদনের পূর্বেই প্রাক্কলিত উৎপাদন ও প্রমাণ সময়ের ভিত্তিতে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে উপরিখরচের যে হার নির্ধারণ করা হয়, তাকে উপরি খরচের পূর্বনির্ধারিত হার (Predetermined Overhead Rate) বলা হয়।
- পূর্বনির্ধারিত হার: উৎপাদনের আগেই খরচ অনুমান করার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়, যাতে পণ্যের ব্যয় আগে থেকেই নির্ধারণ করে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া সহজ করা যায়।
অন্যান্য অপশনসমূহ:
- স্বাভাবিক হার: একটি নির্দিষ্ট সময়ে স্বাভাবিক উৎপাদন ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হার।
- প্রকৃত হার: উৎপাদন কার্যক্রম শেষে প্রকৃত উপরিখরচকে প্রকৃত উৎপাদন মাত্রা দিয়ে ভাগ করে যে হার পাওয়া যায়।
- প্রমাণ হার: এটি প্রমাণ ব্যয় (Standard Costing) হিসাববিজ্ঞানের নিয়মানুযায়ী পূর্বনির্ধারিত একটি আদর্শ বা স্ট্যান্ডার্ড হার।
ব্যাখ্যা (Explanation)
কারখানার ভাড়া, বিদ্যুৎ, পানি ও যন্ত্রপাতি মেরামত সংক্রান্ত যাবতীয় খরচ উৎপাদন ওভারহেড (Production/Manufacturing Overhead) এর অন্তর্ভুক্ত।
- উৎপাদন ওভারহেড: কারখানায় পণ্য উৎপাদনের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয় কিন্তু উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার জন্য যে পরোক্ষ খরচগুলো হয়, তাকে উৎপাদন ওভারহেড বা কারখানার উপরিখরচ বলে। কারখানার সাথে জড়িত যেকোনো পরোক্ষ খরচই এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
অন্যান্য অপশনসমূহ:
- প্রশাসনিক ওভারহেড: অফিস ও প্রশাসন পরিচালনার জন্য যে খরচ হয় (যেমন: অফিসের ভাড়া, ব্যবস্থাপকের বেতন, স্টেশনারি)।
- বিক্রয় ওভারহেড: পণ্য বিক্রয় বা চাহিদা বৃদ্ধির জন্য যে খরচ হয় (যেমন: বিজ্ঞাপন, বিক্রয়কর্মীর কমিশন)।
- বণ্টন ওভারহেড: উৎপাদিত পণ্য ক্রেতার নিকট পৌঁছানোর জন্য যে খরচ হয় (যেমন: ডেলিভারি ভ্যানের মেরামত, প্যাকিং খরচ)।

নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন — অ্যাপে লাইভ পরীক্ষা দিয়ে মেরিট লিস্টে নিজের অবস্থান দেখুন।

ব্যাখ্যা (Explanation)
যাবতীয় পরোক্ষ কাঁচামাল, পরোক্ষ শ্রম ও অন্যান্য পরোক্ষ খরচের সমষ্টিকে হিসাববিজ্ঞানের ভাষায় উপরিবা্যয় (Overhead Cost) বলা হয়।
- উপরিবা্যয়: এটি হলো সেইসব খরচ যা সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট পণ্য উৎপাদনের সাথে যুক্ত বা চিহ্নিত করা যায় না, কিন্তু সামগ্রিক উৎপাদন বা ব্যবসা পরিচালনার জন্য অপরিহার্য। অর্থাৎ, সকল প্রকার পরোক্ষ খরচের যোগফলই হলো উপরিবা্যয়।
অন্যান্য অপশনসমূহ:
- মুখ্য ব্যয় (Prime Cost): যাবতীয় প্রত্যক্ষ কাঁচামাল, প্রত্যক্ষ শ্রম ও অন্যান্য প্রত্যক্ষ খরচের সমষ্টি।
- প্রত্যক্ষ ব্যয় (Direct Cost): যে খরচগুলো সরাসরি নির্দিষ্ট পণ্য বা সেবার সাথে সরাসরি চিহ্নিত করা যায়।
- রূপান্তর ব্যয় (Conversion Cost): কাঁচামালকে চূড়ান্ত পণ্যে রূপান্তর করতে যে খরচ হয় (অর্থাৎ প্রত্যক্ষ শ্রম এবং কারখানা উপরিবা্যয়ের সমষ্টি)।
সঠিক উত্তর: ০ ভুল উত্তর: ০
নোটিশ

 ✅ টপিক ও সাব-টপিকভিত্তিক জব সলিউশন্স 

২০০৫ – ২০২৬ সাল পর্যন্ত সব জব সলিউশন্স প্রশ্ন টপিক ও সাব-টপিক আকারে যোগ করা হয়েছে — সর্বমোট প্রায় ২৫ হাজার ইউনিক প্রশ্ন। ১২তম – ২০তম গ্রেডের পরীক্ষার্থীরা শুধু এইগুলো পড়লেই হবে।

▶ প্রশ্ন ব্যাংক → অনুশীলন → এরপর উপরের ডানে হলুদ বাটনে ক্লিক করে Job Solutions ফিল্টার করে নিন।
↻ প্রতি সপ্তাহে নতুন জব প্রশ্ন টপিক ও সাব-টপিক আকারে যোগ করা হয়।


 ★ বর্তমান চলমান কোর্স (সব পরীক্ষা website থেকে OMR পদ্ধতিতে দিতে পারবেন) 

১) ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি'র লং কোর্স (১৫৬ দিন)  নতুন 
২) প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (লেকচার শিট ভিত্তিক কোর্স) নতুন 
৩) ‘অগ্রদূত বাংলা’ ৯০ দিনের মাস্টার স্টাডি রুটিন নতুন 
৪) Master English Study (৯৯ দিনের স্পেশাল কোর্স) নতুন 
৫)
১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন — লেকচারশীট ভিত্তিক
৬) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) — বাংলা 
 নতুন 
৭) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) — বাংলা 
 নতুন 
৮) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন — সমাজবিজ্ঞান
৯) ১৯তম নিবন্ধন (প্রভাষক) — গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান
১০) ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি — ২৩৬ দিনে সম্পূর্ণ সিলেবাস
১১) টপিক ভিত্তিক জব সলিউশন রুটিন (১৬৫ দিনের)
১২) প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (৩য় ব্যাচ)
১৩)  ৫১তম স্পেশাল বিসিএস (স্বাস্থ্য) সমন্বিত প্রস্তুতি রুটিন (মেডিকেল)  নতুন 
১৪) সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী


 ➤ আপকামিং কোর্স ও রুটরশ

✦ ১০তম-১৩তম গ্রেডের প্রস্তুতি।  
◆ ১৪তম-২০তম গ্রেডের প্রস্তুতি।  
◆ ৫২তম বিসিএস প্রস্তুতি।