সরাসরি মূল কন্টেন্টে যান

Management Accounting: ব্যয়-পরিমাণ-মুনাফা বিশ্লেষণ

২১ টি প্রশ্ন
টপিক তালিকা
একই বিষয়ের সব টপিক
ব্যাখ্যা (Explanation)
সঠিক উত্তরটি হলো মার্কআপ (Markup)।
ব্যাখ্যা:
উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মার্কআপ (Markup) হলো সেই পরিমাণ অর্থ যার মাধ্যমে বিক্রয়মূল্য তার উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে বেশি হয় । অর্থাৎ, একটি পণ্য উৎপাদন করতে বা ক্রয় করতে যে মোট ব্যয় হয়, তার সাথে প্রতিষ্ঠান যে অতিরিক্ত অর্থ (প্রত্যাশিত মুনাফা হিসেবে) যোগ করে পণ্যটির চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে, হিসাববিজ্ঞানের ভাষায় তাকেই মার্কআপ বলা হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো এই প্রশ্নের ক্ষেত্রে সঠিক নয় কারণ:
* মার্জিন (Margin): হিসাববিজ্ঞানে মার্জিন (যেমন: কন্ট্রিবিউশন মার্জিন) বলতে সাধারণত মোট বিক্রয়মূল্য এবং পরিবর্তনশীল ব্যয়ের মধ্যকার পার্থক্যকে বোঝানো হয় [2, 3]। এটি মূলত বিক্রয়ের ওপর মুনাফার একটি হার বা অনুপাত নির্দেশ করে।
* কমিশন (Commission): এটি হলো কোনো কাজ বা সেবা (যেমন- বিক্রয়কর্মীর মাধ্যমে পণ্য বিক্রয়) সম্পাদনের বিনিময়ে প্রদত্ত পারিশ্রমিক বা ব্যয় ।
* বাট্টা (Discount): এটি হলো পণ্যের নির্ধারিত মূল্য বা পাওনা থেকে ক্রেতা বা দেনাদারকে যে পরিমাণ অর্থ ছাড় দেওয়া হয় ।
সুতরাং, যেহেতু প্রশ্নে উৎপাদন ব্যয়ের সাথে অতিরিক্ত অর্থ যোগ করে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে, তাই এর সঠিক সংজ্ঞাগত পরিভাষা হলো 'মার্কআপ' ।
ব্যাখ্যা (Explanation)
আপনার প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি "স্থির ব্যয়" হওয়ার চমৎকার একটি গাণিতিক ও তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:
সমচ্ছেদ বিন্দু (Break-even point) কী?
সমচ্ছেদ বিন্দু হলো উৎপাদনের এমন একটি স্তর যেখানে প্রতিষ্ঠানের মোট আয় এবং মোট ব্যয় একদম সমান হয়। অর্থাৎ, এই বিন্দুতে পৌঁছালে প্রতিষ্ঠানের কোনো লাভ বা লোকসান কোনটিই হয় না (মুনাফা = ০) ।
অবদান বা দত্তাংশ (Contribution) কী?
মোট বিক্রয় থেকে মোট পরিবর্তনশীল ব্যয় (Variable Cost) বাদ দিলে যে উদ্বৃত্ত পাওয়া যায়, তাকেই অবদান বা দত্তাংশ বলা হয় ।
ব্যাখ্যা ও সমীকরণ:
আয়-ব্যয়ের সাধারণ সমীকরণ অনুযায়ী আমরা জানি,
বিক্রয় (Sales) = পরিবর্তনশীল ব্যয় (Variable Cost) + স্থির ব্যয় (Fixed Cost) + মুনাফা (Profit)
বা, S = V + F + P
সমীকরণটিকে একটু সাজিয়ে লিখলে পাই:
S - V = F + P
অর্থাৎ, অবদান (যেহেতু বিক্রয় - পরিবর্তনশীল ব্যয় = অবদান) = স্থির ব্যয় + মুনাফা
এখন, সমচ্ছেদ বিন্দুর শর্ত অনুযায়ী, এই বিন্দুতে কোনো মুনাফা থাকে না অর্থাৎ মুনাফা (P) = ০।
তাহলে সমচ্ছেদ বিন্দুতে সমীকরণটি দাঁড়ায়:
S - V = F + 0
বা, S - V = F
বা, অবদান বা দত্তাংশ = স্থির ব্যয়
উপসংহার:
যেহেতু সমচ্ছেদ বিন্দুতে কোনো মুনাফা অর্জিত হয় না, তাই বিক্রয়লব্ধ আয় থেকে পরিবর্তনশীল ব্যয় মেটানোর পর যে 'অবদান' বা 'দত্তাংশ' অবশিষ্ট থাকে, তা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠানের 'স্থির ব্যয়' মেটাতেই নিঃশেষ হয়ে যায়। এ কারণেই সমচ্ছেদ বিন্দুতে অবদান বা দত্তাংশ সর্বদা স্থির ব্যয়ের সমান হয় ।
ব্যাখ্যা (Explanation)
সঠিক উত্তরটি স্থির ব্যয় বা স্থায়ী খরচ (Fixed Cost) হওয়ার যৌক্তিক কারণ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
* স্থির বা স্থায়ী ব্যয় (Fixed Cost): হিসাববিজ্ঞানের নিয়মানুযায়ী, উৎপাদনের পরিমাণ যাই হোক না কেন, যে ব্যয়ের মোট পরিমাণ সর্বদা অপরিবর্তিত বা স্থির থাকে, তাকে স্থায়ী বা স্থির ব্যয় বলা হয় । অর্থাৎ, কারখানায় কোনো পণ্য উৎপাদন না হলেও (উৎপাদনের পরিমাণ শূন্য হলেও) এই খরচগুলো প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত বহন করতেই হয়। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো: মাসিক কারখানা ভাড়া, বীমা, এবং যন্ত্রপাতির অবচয় ইত্যাদি [1, 2]।
অন্যান্য অপশনগুলো কেন সঠিক নয় তার ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:
* পরিবর্তনশীল ব্যয় (Variable Cost) এবং প্রত্যক্ষ কাঁচামাল ব্যয়: যে ব্যয় উৎপাদনের পরিমাণের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয় (উৎপাদন বাড়লে বাড়ে, কমলে কমে), তাকে পরিবর্তনশীল ব্যয় বলে । প্রত্যক্ষ কাঁচামাল হলো একটি পরিবর্তনশীল ব্যয়ের উদাহরণ [1, 2]। যেহেতু কারখানায় উৎপাদন শূন্য হলে কোনো কাঁচামাল বা শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না, তাই উৎপাদন শূন্য হলে এই ব্যয়গুলোর পরিমাণও সম্পূর্ণ শূন্য হয়ে যায়।
* আধা-পরিবর্তনশীল বা মিশ্র ব্যয় (Semi-variable or Mixed Cost): এই ধরনের ব্যয়ের একটি অংশ স্থায়ী এবং অন্য একটি অংশ পরিবর্তনশীল হয় (যেমন: বিদ্যুৎ বিল, টেলিফোন বিল) [1, 2]। উৎপাদনের পরিমাণ শূন্য হলে এর পরিবর্তনশীল অংশটি শূন্য হয়ে যায়।
যেহেতু প্রশ্নটিতে নির্দিষ্টভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে যে, উৎপাদন শূন্য হলেও কোন "ধরনের" ব্যয়টি অবশ্যই বিদ্যমান থাকবে, তাই এর সবচেয়ে সঠিক ও উপযুক্ত উত্তর হলো স্থির ব্যয় বা স্থায়ী খরচ।
ব্যাখ্যা (Explanation)
প্রশ্নে উল্লেখিত গাণিতিক সূত্রটি হলো সমচ্ছেদ অনুপাত বা BEP Ratio এর সূত্র।
উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী অপশনগুলোর বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:
* সমচ্ছেদ অনুপাত (BEP Ratio): সমচ্ছেদ বিক্রয় (BEP) কে মোট বিক্রয় (Sales) দ্বারা ভাগ করে ১০০ দিয়ে গুণ করলে এই অনুপাতটি পাওয়া যায়। সূত্রটি হলো: $\text{BEP Ratio} = \frac{\text{BEP}}{\text{Sales}} \times 100$ ।
* পি/ভি অনুপাত (P/V Ratio) বা কন্ট্রিবিউশন মার্জিন অনুপাত (C/M Ratio): কন্ট্রিবিউশনকে মোট বিক্রয় দিয়ে ভাগ করে ১০০ দিয়ে গুণ করলে এই অনুপাত পাওয়া যায়। এর সূত্র হলো: $\frac{\text{Contribution}}{\text{Sales}} \times 100$ ।
* নিরাপত্তা প্রান্ত অনুপাত (Margin of Safety Ratio): নিরাপত্তা প্রান্তকে মোট বিক্রয় দিয়ে ভাগ করে ১০০ দিয়ে গুণ করলে এই অনুপাত পাওয়া যায়। এর সূত্র হলো: $\frac{\text{Margin of Safety}}{\text{Sales}} \times 100$ ।
যেহেতু প্রশ্নে সরাসরি সমচ্ছেদ বিক্রয় (BEP Sales) কে মোট বিক্রয় (Sales) দিয়ে ভাগ করে ১০০ দিয়ে গুণ করার কথা বলা হয়েছে, তাই সঠিক উত্তরটি হবে সমচ্ছেদ অনুপাত ।
ব্যাখ্যা (Explanation)
সঠিক উত্তর "কন্ট্রিবিউশন মার্জিন কমে যায়" হওয়ার কারণটি কন্ট্রিবিউশন মার্জিন (Contribution Margin) বা অবদানের গাণিতিক সূত্রের মাধ্যমে সহজেই ব্যাখ্যা করা যায়।
উৎস অনুযায়ী, কন্ট্রিবিউশন মার্জিন বা অবদান নির্ণয়ের মূল সূত্রটি হলো:
কন্ট্রিবিউশন মার্জিন (Contribution Margin) = বিক্রয় (Sales) – পরিবর্তনশীল ব্যয় (Variable Cost) [1, 2]।
অর্থাৎ, কোনো প্রতিষ্ঠানের মোট বিক্রয় থেকে মোট পরিবর্তনশীল ব্যয় বাদ দিলে যে অংশটুকু অবশিষ্ট থাকে, তাকেই কন্ট্রিবিউশন মার্জিন বা অবদান বলা হয় ।
এই সূত্র থেকে একটি সরল গাণিতিক সম্পর্ক স্পষ্ট বোঝা যায়—যেহেতু বিক্রয় থেকে পরিবর্তনশীল ব্যয়কে বিয়োগ করা হয়, তাই বিক্রয়মূল্য অপরিবর্তিত থাকা অবস্থায় যদি পরিবর্তনশীল ব্যয় বৃদ্ধি পায়, তবে বিক্রয় আয় থেকে তুলনামূলকভাবে বড় একটি অঙ্ক বাদ দিতে হবে। এর অনিবার্য ফলস্বরূপ বিয়োগফলের মান হ্রাস পাবে। অর্থাৎ, কন্ট্রিবিউশন মার্জিন বা অবদানের পরিমাণ কমে যাবে।
এ কারণেই কারখানায় পরিবর্তনশীল ব্যয় বৃদ্ধি পেলে প্রতিষ্ঠানের কন্ট্রিবিউশন মার্জিনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং তা হ্রাস পায়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
কোনো প্রতিষ্ঠানের 'নিরাপত্তা প্রান্ত' বা 'Margin of safety' বেশি হওয়া মূলত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা মজবুত হওয়ার নির্দেশক। নিচে এর যৌক্তিক ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:
নিরাপত্তা প্রান্ত (Margin of Safety) কী?
হিসাববিজ্ঞানের ভাষায়, প্রকৃত বা বাজেটেড বিক্রয় এবং সমচ্ছেদ বিক্রয়ের (Break-even sales) পার্থক্যকে নিরাপত্তা প্রান্ত বা সীমা বলা হয় [1, 2]। অর্থাৎ, কোনো প্রতিষ্ঠানের বর্তমান বা প্রকৃত বিক্রয় যখন সমচ্ছেদ বিন্দুর চেয়ে যতটুকু বেশি থাকে, সেই অতিরিক্ত অংশটিই হলো নিরাপত্তা প্রান্ত ।
কেন এটি আর্থিক অবস্থা মজবুত হওয়ার নির্দেশক?
সমচ্ছেদ বিন্দু (Break-even point) হলো বিক্রয়ের এমন একটি স্তর যেখানে প্রতিষ্ঠানের কোনো লাভ বা ক্ষতি কিছুই হয় না (আয় ও ব্যয় সমান থাকে) ।
১. লোকসানের ঝুঁকি হ্রাস: নিরাপত্তা প্রান্ত বেশি হওয়ার অর্থ হলো প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত বিক্রয় সমচ্ছেদ বিন্দুর চেয়ে অনেক বেশি রয়েছে। এর ফলে কোনো কারণে যদি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় হঠাৎ কমেও যায়, তবুও প্রতিষ্ঠানটি সহজে লোকসানের সম্মুখীন হবে না। এই বিশাল 'নিরাপদ দূরত্ব' প্রতিষ্ঠানের সুদৃঢ় আর্থিক অবস্থার প্রমাণ দেয়।
২. মুনাফা অর্জনের সক্ষমতা: নিরাপত্তা প্রান্ত যত বেশি হয়, প্রতিষ্ঠানের মুনাফা অর্জনের পরিমাণও তত বেশি হয়।
৩. ইতিবাচক প্রভাবকের উপস্থিতি: সাধারণত একটি প্রতিষ্ঠানে বেশ কিছু ইতিবাচক কারণে নিরাপত্তা প্রান্ত বৃদ্ধি পায়। যেমন :
* স্থায়ী ব্যয় (Fixed cost) হ্রাস পাওয়া।
* পরিবর্তনশীল ব্যয় (Variable cost) হ্রাস পাওয়া।
* পণ্যের বিক্রয়মূল্য (Selling price) বৃদ্ধি পাওয়া।
* সামগ্রিক উৎপাদন ও বিক্রয় বৃদ্ধি পাওয়া।
উপরোক্ত বিষয়গুলো প্রমাণ করে যে, নিরাপত্তা প্রান্ত বেশি হলে প্রতিষ্ঠানের স্থির ব্যয় বৃদ্ধির বা দেউলিয়া হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না, বরং এটি প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী ও মজবুত আর্থিক অবস্থাকেই নির্দেশ করে।
ব্যাখ্যা (Explanation)
লক্ষ্য মুনাফা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় বিক্রয়ের একক (Target volume units) নির্ণয়ের সঠিক সূত্রটি হলো: (স্থির ব্যয় + লক্ষ্য মুনাফা) ÷ একক প্রতি কন্ট্রিবিউশন মার্জিন।
নিচে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:
* লক্ষ্য মুনাফা (Target/Desired Profit): এটি হলো একটি প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশিত বা কাঙ্ক্ষিত মুনাফা, যা তারা নির্দিষ্ট সময়ে অর্জন করতে চায়।
* একক প্রতি কন্ট্রিবিউশন মার্জিন (Contribution Margin per unit): একটি পণ্যের বিক্রয়মূল্য থেকে একক প্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয় (Variable Cost) বাদ দিলে যা অবশিষ্ট থাকে, তাকে কন্ট্রিবিউশন মার্জিন বলে। এই মার্জিনটি প্রথমে প্রতিষ্ঠানের স্থির ব্যয় (Fixed Cost) মেটাতে সাহায্য করে এবং স্থির ব্যয় মিটে যাওয়ার পর তা প্রতিষ্ঠানের মুনাফা হিসেবে যুক্ত হতে থাকে।
যখন কোনো প্রতিষ্ঠান একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ লক্ষ্য মুনাফা অর্জন করতে চায়, তখন তাদের ঠিক ততগুলো পণ্য (Units) বিক্রি করতে হবে, যেগুলোর মোট কন্ট্রিবিউশন মার্জিন দিয়ে প্রতিষ্ঠানের স্থির ব্যয় এবং লক্ষ্য মুনাফা উভয়ের যোগফলকে মেটানো সম্ভব হয়।
তাই প্রয়োজনীয় বিক্রয়ের পরিমাণ এককে (Units) বের করার জন্য, স্থির ব্যয় এবং লক্ষ্য মুনাফার যোগফলকে একক প্রতি কন্ট্রিবিউশন মার্জিন দ্বারা ভাগ করতে হয় [1, 2]।
সূত্রটি হলো:
Target volume (units) বা Required Sales (Unit) = (Fixed Cost + Target Profit) ÷ Contribution margin per unit [1, 2]।
অন্যান্য অপশনগুলো কেন ভুল:
* অপশন ২: `(স্থির ব্যয় + লক্ষ্য মুনাফা) ÷ পি/ভি অনুপাত (P/V Ratio)` - এই সূত্রটি ব্যবহার করা হয় তখন, যখন প্রয়োজনীয় বিক্রয়ের পরিমাণ এককের (Units) পরিবর্তে টাকায় (Taka) বা মুদ্রায় নির্ণয় করতে বলা হয় । যেহেতু প্রশ্নে 'একক' জানতে চাওয়া হয়েছে, তাই এটি প্রযোজ্য নয়।
* অপশন ১ এবং ৩: এগুলো গাণিতিক বা ধারণাগতভাবে ভিত্তিহীন, কারণ লক্ষ্য বিক্রয় বের করতে হলে স্থির ব্যয় ও লক্ষ্য মুনাফাকে যোগ করতে হয়, বিয়োগ নয়।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো অপশন ৪।
ব্যাখ্যা (Explanation)
আপনার প্রশ্নের সঠিক উত্তর "নিরপেক্ষ বিন্দু" (Point of Indifference) হওয়ার কারণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
* নিরপেক্ষ বিন্দু (Point of Indifference): নিরপেক্ষ বিন্দু হলো এমন একটি পর্যায় বা অবস্থা যেখানে দুটি ভিন্ন বিকল্পের মোট ব্যয় সম্পূর্ণ সমান হয় [1, 2]। এই বিন্দুতে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী যেকোনো একটি বিকল্প বেছে নিতে পারেন, কারণ উভয় ক্ষেত্রেই ব্যয়ের পরিমাণ একই থাকে।
অন্যান্য অপশনগুলো কেন সঠিক নয়:
* সমচ্ছেদ বিন্দু (Break-even point): এটি হলো উৎপাদনের সেই বিন্দু যেখানে মোট আয় এবং মোট ব্যয় সমান হয়, অর্থাৎ কারবারের কোনো লাভ বা ক্ষতি কিছুই হয় না [3, 4]।
* কাম্য বিন্দু (Optimum point): এটি সাধারণত সেই বিন্দুকে বোঝায় যেখানে উৎপাদন ব্যয় সর্বনিম্ন এবং মুনাফা সর্বোচ্চ হয়, তবে এটি দুটি ভিন্ন বিকল্পের ব্যয় সমান হওয়ার ধারণাকে প্রকাশ করে না।
* প্রান্তিক বিন্দু (Marginal point): প্রান্তিক বলতে সাধারণত অতিরিক্ত এক একক উৎপাদনের কারণে সৃষ্ট ব্যয় বা আয়কে বোঝায়, তাই এটিও এই প্রশ্নের জন্য সঠিক উত্তর নয় [5, 6]।
সুতরাং, যেহেতু দুটি বিকল্পের ব্যয় যে বিন্দুতে সমান হয় তাকে নিরপেক্ষ বিন্দু বলা হয়, তাই সঠিক উত্তরটি হলো অপশন ২ [1, 2]।

প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা ওয়েবসাইটে; সবগুলোর সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে অ্যাপ ইন্সটল করুন।

ব্যাখ্যা (Explanation)
আপনার প্রশ্নটি এবং এর উত্তরটি প্রদান করা সোর্স ডকুমেন্টের (ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টিং অংশের) সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায় ।
সঠিক উত্তর "তত বেশি হবে" হওয়ার পেছনের যৌক্তিক এবং হিসাববিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:
আপতন কোণ বা Angle of Incidence কী?
কস্ট-ভলিউম-প্রফিট (CVP) বিশ্লেষণ বা সমচ্ছেদ (Break-even) চার্টে, 'আপতন কোণ' বলতে সেই কোণটিকে বোঝায় যা সমচ্ছেদ বিন্দুতে (যেখানে মোট আয় ও মোট ব্যয় সমান হয়) মোট বিক্রয় রেখা (Total Sales Line) এবং মোট ব্যয় রেখা (Total Cost Line) পরস্পরকে ছেদ করার ফলে উৎপন্ন হয় ।
মুনাফা অর্জনের ক্ষমতার সাথে এর সম্পর্ক:
১. উচ্চ দত্তাংশ বা কন্ট্রিবিউশন মার্জিন (Contribution Margin): আপতন কোণ বড় হওয়ার গাণিতিক অর্থ হলো, মোট বিক্রয় রেখা মোট ব্যয় রেখার চেয়ে বেশি খাড়াভাবে ওপরের দিকে উঠছে। এর মানে হলো প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তনশীল ব্যয় (Variable Cost) আনুপাতিক হারে কম এবং কন্ট্রিবিউশন মার্জিন অনেক বেশি।
২. দ্রুত মুনাফা বৃদ্ধি: কন্ট্রিবিউশন মার্জিন বেশি হওয়ার কারণে, প্রতিষ্ঠানটি একবার সমচ্ছেদ বিন্দু বা ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট অতিক্রম করার পর, প্রতিটি অতিরিক্ত একক পণ্য বিক্রয়ের ফলে মুনাফা খুব দ্রুত এবং উচ্চ হারে বাড়তে থাকে।
৩. নিরাপত্তা প্রান্ত (Margin of Safety): আপতন কোণ বড় হলে সামান্য বিক্রয় বৃদ্ধিতেই বড় অঙ্কের মুনাফা অর্জিত হয়, যা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থাকে শক্তিশালী করে। বিপরীতভাবে, আপতন কোণ ছোট বা সংকীর্ণ হলে তা নির্দেশ করে যে পরিবর্তনশীল ব্যয় বেশি এবং ব্রেক-ইভেন বিন্দু পার হওয়ার পরেও মুনাফা বৃদ্ধির হার তুলনামূলক ধীর।
সংক্ষেপে, সমচ্ছেদ বিন্দুতে সৃষ্ট আপতন কোণ যত প্রশস্ত বা বড় হবে, বিক্রয় বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রতিষ্ঠানের মুনাফা অর্জনের হার বা ক্ষমতা তত বেশি হবে। তাই সঠিক উত্তরটি হলো: তত বেশি হবে।
ব্যাখ্যা (Explanation)
সঠিক উত্তরটি হলো আপতন কোণ (Angle of Incidence)।
ব্যাখ্যা:
* সমচ্ছেদ বিন্দু (Break-Even Point): হিসাববিজ্ঞানে সমচ্ছেদ বিন্দু বলতে এমন একটি অবস্থাকে বোঝায় যেখানে একটি প্রতিষ্ঠানের মোট আয় এবং মোট ব্যয় সম্পূর্ণ সমান হয়। অর্থাৎ, এই বিন্দুতে প্রতিষ্ঠানের কোনো লাভ বা লোকসান কোনোটাই হয় না ।
* CVP গ্রাফ বা BEP চার্ট: যখন কোনো প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব (আয়), ব্যয়, পরিমাণ এবং মুনাফার এই পারস্পরিক সম্পর্ককে একটি গ্রাফ বা চিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়, তখন তাকে CVP (Cost-Volume-Profit) গ্রাফ বা BEP চার্ট বলা হয় ।
* আপতন কোণ (Angle of Incidence): এই গ্রাফ অঙ্কন করার সময় যখন মোট আয় রেখা (Total Revenue Line) ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হয়ে মোট ব্যয় রেখাকে (Total Cost Line) ছেদ করে, তখন ওই ছেদবিন্দু বা সমচ্ছেদ বিন্দুতে রেখা দুটির মাঝে যে কোণ তৈরি হয়, তাকেই আপতন কোণ বা Angle of Incidence বলা হয় [3, 4]।
সহজ কথায়, চিত্রের মাধ্যমে আয়-ব্যয়ের সম্পর্ক দেখানোর সময় যে নির্দিষ্ট বিন্দুতে আয় ও ব্যয়ের রেখা মিলিত হয়ে সমচ্ছেদ বিন্দুর সৃষ্টি করে, ঠিক সেখানেই এই 'আপতন কোণ' উৎপন্ন হয়। এই কোণটি নির্দেশ করে সমচ্ছেদ বিন্দু অতিক্রম করার পর প্রতিষ্ঠানটি কী হারে মুনাফা অর্জন করবে।
ব্যাখ্যা (Explanation)
সঠিক উত্তরটি Cost Structure (ব্যয় কাঠামো) হওয়ার যৌক্তিক কারণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
হিসাববিজ্ঞানের নিয়মানুযায়ী, পরিবর্তনশীল ব্যয় (Variable cost) এবং স্থায়ী ব্যয়ের (Fixed cost) সঠিক সংমিশ্রণ বা আনুপাতিক হারকে ব্যয় কাঠামো বা Cost Structure বলা হয় ।
একটি প্রতিষ্ঠানের মোট ব্যয়ের মধ্যে কতটুকু স্থায়ী ব্যয় (যে ব্যয় উৎপাদন বাড়লে বা কমলেও অপরিবর্তিত থাকে) এবং কতটুকু পরিবর্তনশীল ব্যয় (যে ব্যয় উৎপাদনের সাথে পরিবর্তিত হয়) থাকবে, তার অনুপাতই হলো ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যয় কাঠামো। এই কাঠামোর সঠিক সংমিশ্রণ প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে ।
অন্যান্য অপশনগুলো সঠিক নয় কারণ:
* Capital Structure / Financial Structure: এগুলো সাধারণত একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণ এবং মালিকানা স্বত্বের (Debt and Equity) সংমিশ্রণকে নির্দেশ করে, ব্যয়ের সংমিশ্রণকে নয়।
* Break-even Structure: এটি মূলত ব্রেক-ইভেন বিন্দু বা সমচ্ছেদ বিন্দু নির্দেশ করে, যেখানে প্রতিষ্ঠানের মোট আয় এবং মোট ব্যয় সমান হয়, অর্থাৎ কোনো লাভ বা ক্ষতি হয় না।
তাই পরিবর্তনশীল ও স্থায়ী ব্যয়ের সঠিক সংমিশ্রণকে ব্যবস্থাপনা হিসাববিজ্ঞানে Cost Structure বা ব্যয় কাঠামো হিসেবেই আখ্যায়িত করা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
সঠিক উত্তরটি Operating Leverage (পরিচালন লিভারেজ) হওয়ার মূল কারণ হলো এর সংজ্ঞাগত বৈশিষ্ট্য ও সূত্র।
উৎস অনুযায়ী, পরিচালন লিভারেজ (Operating Leverage) বিক্রয়ের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ পরিবর্তনের ফলে নিট পরিচালন আয়ের ওপর প্রভাব পরিমাপ করে ।
এটি গাণিতিকভাবে নির্ণয়ের ক্ষেত্রে কন্ট্রিবিউশন মার্জিনকে (Contribution margin) নিট পরিচালন আয় (Net operating income) দিয়ে ভাগ করা হয় । অর্থাৎ:
Operating Leverage = কন্ট্রিবিউশন মার্জিন ÷ নিট পরিচালন আয় ।
যেহেতু প্রশ্নে উল্লেখিত গাণিতিক সূত্র এবং এর কাজ (বিক্রয়ের পরিবর্তনের সাপেক্ষে আয়ের পরিবর্তন পরিমাপ করা) উভয়েই 'Operating Leverage'-এর সংজ্ঞাকে নির্দেশ করে, তাই অপশন ২ সঠিক উত্তর।
ব্যাখ্যা (Explanation)
সঠিক উত্তরটি স্থির ব্যয় (Fixed Cost) হওয়ার কারণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
স্থির ব্যয়ের ধারণা:
যে ব্যয় উৎপাদনের পরিমাণ হ্রাস বা বৃদ্ধির সাথে সাথে পরিবর্তিত না হয়ে একটি প্রাসঙ্গিক সীমা (relevant range) বা নির্দিষ্ট স্তর পর্যন্ত মোট পরিমাণে সম্পূর্ণ স্থির বা অপরিবর্তিত থাকে, তাকে স্থির বা স্থায়ী ব্যয় বলে ।
একক প্রতি হারে কেন পরিবর্তিত হয়?
স্থির ব্যয়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর মোট পরিমাণ স্থির থাকলেও, একক প্রতি ব্যয় পরিবর্তনশীল । অর্থাৎ, উৎপাদনের পরিমাণ বা একক বৃদ্ধি পেলে একক প্রতি স্থির ব্যয় হ্রাস পায় এবং উৎপাদন কমলে একক প্রতি স্থির ব্যয় বৃদ্ধি পায় ।
সহজ কথায়, স্থায়ী ব্যয় সর্বদা স্থায়ী হয়, কিন্তু একক প্রতি স্থির ব্যয় সর্বদা পরিবর্তনশীল হয়ে থাকে ।
উদাহরণ:
ধরা যাক, একটি কারখানার মাসিক ভাড়া ১০,০০০ টাকা।
* কারখানায় যদি ১,০০০টি পণ্য উৎপাদন হয়, তবে পণ্যপ্রতি (একক প্রতি) ভাড়া পড়বে ১০ টাকা (১০,০০০ ÷ ১,০০০)।
* কিন্তু উৎপাদন কমে যদি ১০০টি হয়, তবে একক প্রতি ভাড়া পড়বে ১০০ টাকা (১০,০০০ ÷ ১০০)।
অর্থাৎ, উৎপাদনের স্তর যাই হোক না কেন মোট ভাড়ার পরিমাণ ১০,০০০ টাকাই (অপরিবর্তিত) থাকছে, কিন্তু উৎপাদনের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে একক প্রতি হারে তা পরিবর্তিত হচ্ছে।
কারখানার ভাড়া, যন্ত্রপাতির অবচয়, বিমা, কর্মচারীর বেতন ইত্যাদি হলো স্থির ব্যয়ের উৎকৃষ্ট উদাহরণ [1, 3]।
অন্যান্য অপশনগুলো কেন সঠিক নয়:
* পরিবর্তনশীল ব্যয় (Variable Cost): এটি স্থির ব্যয়ের ঠিক উল্টো। উৎপাদনের পরিমাণ বাড়লে মোট ব্যয় বাড়ে, কমলে কমে। কিন্তু এর একক প্রতি ব্যয় সবসময় স্থির থাকে ।
* মিশ্র ব্যয় (Mixed Cost): এই ব্যয়ে স্থির এবং পরিবর্তনশীল উভয় ধরনের ব্যয়ের উপাদান একত্রে মিশ্রিত থাকে (যেমন: বিদ্যুৎ বিল, টেলিফোন বিল) [1, 3]।
তাই প্রশ্নের সংজ্ঞার সাথে শুধুমাত্র 'স্থির ব্যয়'-এর বৈশিষ্ট্যই সম্পূর্ণরূপে মিলে যায়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
সঠিক উত্তরটি হলো Margin of Safety (নিরাপত্তা সীমা বা প্রান্ত)।
ব্যাখ্যা:
উৎস অনুযায়ী, প্রকৃত বা বাজেটেড বিক্রয় যখন সমচ্ছেদ বিক্রয়ের (Break-even Sales) চেয়ে বেশি হয়, তখন সেই অতিরিক্ত বা উদ্বৃত্ত অংশকে Margin of Safety বা নিরাপত্তা সীমা বলা হয় ।
বিষয়টি ভালোভাবে বোঝার জন্য নিচের বিষয়গুলো লক্ষ্য করা যেতে পারে:
* সমচ্ছেদ বিন্দু (Break-even Point): এটি হলো কারবারের এমন একটি বিক্রয় স্তর যেখানে মোট আয় এবং মোট ব্যয় একেবারে সমান হয়। অর্থাৎ, এই স্তরে প্রতিষ্ঠানের কোনো লাভ বা ক্ষতি কোনোটিই হয় না ।
* Margin of Safety-এর তাৎপর্য: যেহেতু সমচ্ছেদ বিন্দুতে কোনো লাভ বা লোকসান থাকে না, তাই এই বিন্দুর পর থেকে যে অতিরিক্ত পণ্য বা সেবা বিক্রয় করা হয়, তা সরাসরি প্রতিষ্ঠানের মুনাফা অর্জন করে। এই অতিরিক্ত বিক্রয়টুকুই হলো প্রতিষ্ঠানের "নিরাপত্তা প্রান্ত"। এটি নির্দেশ করে যে, একটি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় বর্তমান অবস্থান থেকে কতটা নিচে নামলে বা হ্রাস পেলে তারা লোকসানের ঝুঁকির সম্মুখীন হবে। নিরাপত্তা প্রান্ত যত বড় হবে, প্রতিষ্ঠান তত বেশি ঝুঁকিমুক্ত থাকবে।
* সূত্র: গাণিতিকভাবে এটি নির্ণয়ের সূত্র হলো: Margin of Safety = Sales (প্রকৃত বিক্রয়) – BEP Sales (সমচ্ছেদ বিক্রয়) ।
সুতরাং, সমচ্ছেদ বিন্দু অতিক্রম করার পর যে উদ্বৃত্ত বিক্রয় থাকে, হিসাববিজ্ঞানের পরিভাষায় তাকেই Margin of Safety বলা হয়। অন্যান্য অপশনগুলোর মধ্যে 'Contribution Margin' হলো বিক্রয় এবং পরিবর্তনশীল ব্যয়ের পার্থক্য এবং 'Target Sales' হলো একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ মুনাফা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা [1, 2]। তাই সঠিক উত্তরটি Margin of Safety।
ব্যাখ্যা (Explanation)
যে স্তরে প্রতিষ্ঠানের মোট আয় এবং মোট ব্যয় সমান হয়, অর্থাৎ কোনো লাভ বা লোকসান কোনটিই হয় না, সেই স্তরকে সমচ্ছেদ বিন্দু (Break-even point) বলা হয় ।
ব্যাখ্যা:
* সমচ্ছেদ বিন্দুর ধারণা: এটি এমন একটি উৎপাদন বা বিক্রয়ের স্তর যেখানে একটি প্রতিষ্ঠানের মোট বিক্রয়লব্ধ আয় তার মোট ব্যয়ের (স্থির ব্যয় ও পরিবর্তনশীল ব্যয়ের যোগফল) একদম সমান হয় ।
* যেহেতু এই বিন্দুতে আয় এবং ব্যয় সমান থাকে, তাই প্রতিষ্ঠানের কোনো আর্থিক লাভ বা ক্ষতি হয় না ।
* সমীকরণ: সমচ্ছেদ বিন্দুতে সাধারণ সমীকরণটি হলো:
$\text{Sale (S)} = \text{Variable Cost (V)} + \text{Fixed Cost (F)} + \text{Profit (P)}$ ।
যেহেতু সমচ্ছেদ বিন্দুতে মুনাফা (P) শূন্য থাকে, তাই সমীকরণটি দাঁড়ায়: $\text{S} - \text{V} = \text{F}$ (অর্থাৎ, অবদান বা কন্ট্রিবিউশন মার্জিন = স্থির ব্যয়) ।
* তাৎপর্য: কোনো প্রতিষ্ঠানই কেবল সমচ্ছেদ বিন্দুতে পৌঁছে সন্তুষ্ট হতে পারে না, কারণ ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন। তবে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে উৎপাদন ও বিক্রয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে এই বিন্দুটি অতিক্রম করতে হয় । এই বিন্দুর চেয়ে বেশি বিক্রি হলে প্রতিষ্ঠানের লাভ হয় এবং কম বিক্রি হলে লোকসান হয়।
সুতরাং, উপরের আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট যে সঠিক উত্তর সমচ্ছেদ বিন্দু।
ব্যাখ্যা (Explanation)
সঠিক উত্তর: মুনাফা-বিক্রয় অনুপাত
ব্যাখ্যা:
অবদান (Contribution) বা দত্তাংশের সাথে বিক্রয়ের যে সম্পর্ক বা অনুপাত, তাকে মুনাফা-বিক্রয় অনুপাত (Profit volume ratio) বলা হয় ।
বিষয়টি নিচে বিশদভাবে আলোচনা করা হলো:
* অবদান বা দত্তাংশ (Contribution): মোট বিক্রয় থেকে মোট পরিবর্তনশীল ব্যয় বাদ দিলে যা অবশিষ্ট থাকে, তাকে অবদান বা দত্তাংশ বলে (বিক্রয় - পরিবর্তনশীল ব্যয় = অবদান) ।
* মুনাফা-বিক্রয় অনুপাত (P/V Ratio): অবদানের সাথে বিক্রয়ের সম্পর্ক জানার জন্য যে অনুপাত নির্ণয় করা হয়, তাকে মুনাফা বিক্রয় অনুপাত বলে ।
* সূত্র: মুনাফা বিক্রয় অনুপাত (Profit volume ratio) = $\frac{\text{মোট অবদান}}{\text{মোট বিক্রয়}} \times ১০০$ ।
পরিচালনকমণ্ডলীর কাছে এই অনুপাতটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই অনুপাতের সাহায্যে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বিক্রয়ে অবদানের পরিমাণ বা বিক্রয়মূল্য ও পরিবর্তনশীল ব্যয় স্থির থাকলে আনুপাতিক হারে মুনাফা হ্রাস-বৃদ্ধি নির্ণয় করা যায় ।
তাই প্রশ্ন অনুযায়ী, অবদান ও বিক্রয়ের অনুপাতকে মুনাফা-বিক্রয় অনুপাত বলা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
সঠিক উত্তরটি Contribution Margin (অবদান) হওয়ার কারণ নিচে উৎস থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হলো:
ব্যাখ্যা:
ব্যয়-পরিমাণ-মুনাফা (Cost-Volume-Profit) বিশ্লেষণে, মোট বিক্রয় (Total Sales) থেকে মোট পরিবর্তনশীল ব্যয় (Total Variable Cost) বাদ দিলে যে উদ্বৃত্ত বা পার্থক্য পাওয়া যায়, তাকে Contribution Margin বা অবদান বলা হয় [1, 2]।
উৎসপত্রে উল্লেখিত সূত্রানুসারে [1, 2]:
Contribution Margin = Sales - Variable Cost
অথবা,
বিক্রয় (Sales)
(-) বাদ: পরিবর্তনশীল ব্যয় (Variable Cost)
= অবদান (Contribution)
এই উদ্বৃত্ত অংশটি প্রতিষ্ঠানের স্থির ব্যয় (Fixed Cost) মেটাতে এবং নিট মুনাফা অর্জনে 'অবদান' রাখে।
অন্যান্য অপশনগুলো কেন সঠিক নয়, তার ব্যাখ্যা:
* Net Income (নিট মুনাফা): উপরিউক্ত Contribution Margin বা অবদান থেকে যখন মোট স্থির ব্যয় (Fixed Cost) বাদ দেওয়া হয়, তখন যে অবশিষ্ট থাকে তাকে Net Income বা নিট মুনাফা বলে ।
* Margin of Safety (নিরাপত্তা প্রান্ত): প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত বা বাজেটেড বিক্রয় যখন সমচ্ছেদ বিক্রয়ের (Break-even sales) চেয়ে বেশি হয়, তখন সেই অতিরিক্ত অংশকে Margin of Safety বলে । এর সূত্র হলো: Margin of Safety = Total Sales - Break-Even Sales ।
সুতরাং, শুধুমাত্র বিক্রয় থেকে পরিবর্তনশীল ব্যয় বাদ দেওয়ার সরাসরি ফলাফল হলো Contribution Margin ।
ব্যাখ্যা (Explanation)
প্রান্তিক ব্যয় (Marginal Costing) পদ্ধতিতে উৎপাদন ব্যয় নির্ধারণ এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিব্যয়কে প্রধানত স্থির ব্যয় (Fixed Cost) এবং পরিবর্তনশীল ব্যয় (Variable Cost)- এই দুটি ভাগে ভাগ করা হয়।
এর পেছনের মূল কারণ ও ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:
* ব্যয় বিভাজন: এই পদ্ধতিতে উৎপাদন ব্যয় নির্ধারণ এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য কারখানার মোট ব্যয়কে স্থির এবং পরিবর্তনশীল—এই দুই ভাগে ভাগ করা বাধ্যতামূলক ।
* পরিবর্তনশীল ব্যয়কে প্রাধান্য: প্রান্তিক ব্যয় পদ্ধতিতে শুধুমাত্র পরিবর্তনশীল ব্যয় (যেমন: প্রত্যক্ষ কাঁচামাল, প্রত্যক্ষ শ্রম এবং পরিবর্তনশীল উপরিভ্যয়)-কেই কোনো দ্রব্য বা সেবার প্রকৃত উৎপাদন ব্যয় হিসেবে গণ্য করা হয় [2, 3]। কারণ উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি বা হ্রাস পেলে পরিবর্তনশীল ব্যয়েরও আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি বা হ্রাস ঘটে ।
* স্থির ব্যয়কে কালীন ব্যয় হিসেবে গণ্য করা: এই পদ্ধতিতে স্থির ব্যয়কে (যেমন: কারখানার ভাড়া, মেশিনের অবচয় ইত্যাদি) উৎপাদনের অংশ না ধরে 'কালীন ব্যয়' (Period Cost) হিসেবে বিবেচনা করা হয় [2, 3]। উৎপাদনের পরিমাণ বাড়লে বা কমলে স্থির ব্যয়ের কোনো পরিবর্তন ঘটে না । তাই নিট মুনাফা নির্ণয় করার সময় সম্পূর্ণ স্থির ব্যয়কে 'মোট অবদান' (Total Contribution) থেকে সরাসরি বাদ দেওয়া হয় ।
যেহেতু প্রান্তিক ব্যয় ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থির ও পরিবর্তনশীল ব্যয়ের আচরণগত পার্থক্য জানা অত্যন্ত জরুরি, তাই পরিব্যয়কে এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়।

নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন — অ্যাপে লাইভ পরীক্ষা দিয়ে মেরিট লিস্টে নিজের অবস্থান দেখুন।

ব্যাখ্যা (Explanation)
সঠিক উত্তরটি হলো C-V-P বিশ্লেষণ (Cost-Volume-Profit Analysis)।
ব্যাখ্যা:
উৎস বইয়ের সরাসরি সংজ্ঞা অনুযায়ী, C-V-P বিশ্লেষণ হলো একটি কোম্পানির মুনাফার ওপর ব্যয় এবং পরিমাণের পরিবর্তনের প্রভাব সংক্রান্ত অধ্যয়ন । এটি মূলত প্রতিষ্ঠানের ব্যয়, উৎপাদনের পরিমাণ এবং মুনাফার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে কাজ করে । একটি প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন বা বিক্রয়ের পরিমাণ হ্রাস-বৃদ্ধি পেলে তার প্রভাব কীভাবে পরিবর্তনশীল ব্যয়, স্থির ব্যয় এবং সর্বোপরি মোট মুনাফার ওপর পড়ে, তা এই সি-ভি-পি (C-V-P) বা ব্যয়-পরিমাণ-মুনাফা বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিরূপণ করা হয় ।
অন্যান্য অপশনগুলো কেন সঠিক নয় তার ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:
* মূলধন বাজেটিং (Capital Budgeting): এটি কারবার প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি বড়ো ধরনের বিনিয়োগ প্রকল্প সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ব্যবহৃত একটি কৌশল । এটি ব্যয় বা পরিমাণের প্রাত্যহিক পরিবর্তনের সাথে সরাসরি জড়িত নয়।
* অনুপাত বিশ্লেষণ (Ratio Analysis): এটি একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বিবরণীর বিভিন্ন তথ্যের (যেমন- লাভজনকতা, তারল্য ইত্যাদি) মধ্যকার সম্পর্ক বা প্রবণতা বিশ্লেষণের কাজে ব্যবহৃত হয় ।
* পার্থক্যমূলক বিশ্লেষণ (Differential Analysis): সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় একটি বিকল্পের পরিবর্তে অন্য একটি বিকল্প গ্রহণ করা হলে যে অতিরিক্ত ব্যয়ের সৃষ্টি হয় বা পার্থক্য তৈরি হয়, তার বিশ্লেষণকে পার্থক্যমূলক ব্যয় বিশ্লেষণ বলে ।
যেহেতু প্রশ্নে সরাসরি কোম্পানির মুনাফার ওপর ব্যয় এবং পরিমাণের পরিবর্তনের প্রভাব অধ্যয়নের কথা বলা হয়েছে, তাই এর সঠিক উত্তর হবে C-V-P বিশ্লেষণ।
ব্যাখ্যা (Explanation)
সঠিক উত্তর: প্রান্তিক ব্যয়-এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:
উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রান্তিক ব্যয় (Marginal Cost) হলো উৎপাদনের পরিমাণ এক একক বৃদ্ধি বা হ্রাস করলে মোট উৎপাদন ব্যয়ে যে সমপরিমাণ বৃদ্ধি বা হ্রাস ঘটে, অর্থাৎ যে অতিরিক্ত ব্যয় হয় । প্রান্তিক ব্যয়ের হিসাব পদ্ধতিতে সাধারণত শুধুমাত্র পরিবর্তনশীল ব্যয়কে (Variable Cost) বিবেচনা করা হয়। এর কারণ হলো, উৎপাদনের পরিমাণের হ্রাস-বৃদ্ধির সাথে সাথে পরিবর্তনশীল ব্যয়ের পরিবর্তন ঘটলেও স্থির ব্যয়ের (Fixed Cost) কোনো পরিবর্তন ঘটে না [1, 2]।
অন্যান্য অপশনগুলো কেন এই প্রশ্নের উত্তর নয়, তার ব্যাখ্যা:
* সুযোগ ব্যয় (Opportunity Cost): একটি সিদ্ধান্তের কারণে বা একটি বিকল্প বেছে নেওয়ার ফলে অন্য কোনো বিকল্প থেকে যে সম্ভাব্য সুবিধা বা আয় হারানো হয়, তাকে সুযোগ ব্যয় বলে [3, 4]। এটি এক একক অতিরিক্ত উৎপাদনের ব্যয়ের সাথে সম্পর্কিত নয়।
* নিমজ্জিত ব্যয় (Sunk Cost): এটি এমন একটি অতীত ব্যয় যা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে এবং বর্তমান বা ভবিষ্যতের কোনো সিদ্ধান্ত দ্বারাই এই ব্যয় পরিবর্তন বা উদ্ধার করা সম্ভব নয় (যেমন: পুরনো যন্ত্রপাতি কেনার খরচ) [2, 3]।
* মিশ্র ব্যয় (Mixed Cost): যে ব্যয়ের মধ্যে কিছু অংশ স্থির এবং কিছু অংশ পরিবর্তনশীল থাকে, তাকে মিশ্র ব্যয় বলে (যেমন: বিদ্যুৎ বিল বা টেলিফোন বিল) [3, 5]।
যেহেতু প্রশ্নে সরাসরি "এক একক বৃদ্ধি বা হ্রাস করলে উৎপাদন ব্যয়ে যে পরিবর্তন ঘটে" তার কথা বলা হয়েছে, তাই সংজ্ঞানুযায়ী এর সঠিক উত্তর হলো প্রান্তিক ব্যয়।
সঠিক উত্তর: ০ ভুল উত্তর: ০
নোটিশ

 ✅ টপিক ও সাব-টপিকভিত্তিক জব সলিউশন্স 

২০০৫ – ২০২৬ সাল পর্যন্ত সব জব সলিউশন্স প্রশ্ন টপিক ও সাব-টপিক আকারে যোগ করা হয়েছে — সর্বমোট প্রায় ২৫ হাজার ইউনিক প্রশ্ন। ১২তম – ২০তম গ্রেডের পরীক্ষার্থীরা শুধু এইগুলো পড়লেই হবে।

▶ প্রশ্ন ব্যাংক → অনুশীলন → এরপর উপরের ডানে হলুদ বাটনে ক্লিক করে Job Solutions ফিল্টার করে নিন।
↻ প্রতি সপ্তাহে নতুন জব প্রশ্ন টপিক ও সাব-টপিক আকারে যোগ করা হয়।


 ★ বর্তমান চলমান কোর্স (সব পরীক্ষা website থেকে OMR পদ্ধতিতে দিতে পারবেন) 

১) ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি'র লং কোর্স (১৫৬ দিন)  নতুন 
২) প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (লেকচার শিট ভিত্তিক কোর্স) নতুন 
৩) ‘অগ্রদূত বাংলা’ ৯০ দিনের মাস্টার স্টাডি রুটিন নতুন 
৪) Master English Study (৯৯ দিনের স্পেশাল কোর্স) নতুন 
৫)
১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন — লেকচারশীট ভিত্তিক
৬) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) — বাংলা 
 নতুন 
৭) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) — বাংলা 
 নতুন 
৮) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন — সমাজবিজ্ঞান
৯) ১৯তম নিবন্ধন (প্রভাষক) — গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান
১০) ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি — ২৩৬ দিনে সম্পূর্ণ সিলেবাস
১১) টপিক ভিত্তিক জব সলিউশন রুটিন (১৬৫ দিনের)
১২) প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (৩য় ব্যাচ)
১৩)  ৫১তম স্পেশাল বিসিএস (স্বাস্থ্য) সমন্বিত প্রস্তুতি রুটিন (মেডিকেল)  নতুন 
১৪) সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী


 ➤ আপকামিং কোর্স ও রুটরশ

✦ ১০তম-১৩তম গ্রেডের প্রস্তুতি।  
◆ ১৪তম-২০তম গ্রেডের প্রস্তুতি।  
◆ ৫২তম বিসিএস প্রস্তুতি।