সরাসরি মূল কন্টেন্টে যান

কাঁচামালের হিসাব (Accounting for Materials)

৩০ টি প্রশ্ন
টপিক তালিকা
একই বিষয়ের সব টপিক
ব্যাখ্যা (Explanation)
দেওয়া আছে,
প্রারম্ভিক কাঁচামাল = ১,০০০ টাকা
কাঁচামাল ক্রয় = ৫,০০০ টাকা
সমাপনী কাঁচামাল = ১,৫০০ টাকা

আমরা জানি,
ব্যবহৃত কাঁচামালের পরিমাণ = প্রারম্ভিক কাঁচামাল + ক্রয় - সমাপনী কাঁচামাল
বা, ব্যবহৃত কাঁচামাল = ১,০০০ + ৫,০০০ - ১,৫০০
বা, ব্যবহৃত কাঁচামাল = ৬,০০০ - ১,৫০০
বা, ব্যবহৃত কাঁচামাল = ৪,৫০০ টাকা

শর্টকাট নিয়ম:
ব্যবহৃত কাঁচামাল বের করার জন্য শুরুতে যা ছিল তার সাথে নতুন ক্রয় যোগ করে, দিনশেষে যা বেঁচে আছে তা বিয়োগ করতে হয়। অর্থাৎ, (১০০০ + ৫০০০) - ১৫০০ = ৪৫০০। এটি খুব সহজেই মুখে মুখে হিসাব করা যায়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
দেওয়া আছে,
বার্ষিক চাহিদা (D) = ১,২০০ ইউনিট
প্রতি অর্ডারের খরচ (S) = ৩০ টাকা
প্রতি ইউনিট বার্ষিক সংরক্ষণ খরচ (H) = ৬ টাকা

আমরা জানি,
মিতব্যয়ী ফরমায়েশ পরিমাণ (EOQ) = √((২ × D × S) / H)

মান বসিয়ে পাই,
EOQ = √((২ × ১,২০০ × ৩০) / ৬)
বা, EOQ = √(৭২,০০০ / ৬)
বা, EOQ = √(১২,০০০)
বা, EOQ = ১০৯.৫৪ (প্রায়)

যেহেতু ফরমায়েশ বা অর্ডারের ইউনিট সংখ্যা কখনও ভগ্নাংশ হতে পারে না, তাই এর সবচেয়ে কাছাকাছি পূর্ণসংখ্যাটি নিতে হবে। অর্থাৎ ১০৯.৫৪ এর কাছাকাছি পূর্ণসংখ্যা হলো ১১০।
সুতরাং, মিতব্যয়ী ফরমায়েশ পরিমাণ ১১০ ইউনিট।

শর্টকাট নিয়ম:
পরীক্ষার হলে দ্রুত হিসাবের জন্য: (২ × ১২০০ × ৩০) = ৭২০০০। একে ৬ দিয়ে ভাগ করলে হয় ১২০০০। আমরা জানি ১০০২ = ১০০০০ এবং ১১০২ = ১২১০০। যেহেতু ১২০০০ সংখ্যাটি ১২১০০-এর খুব কাছাকাছি, তাই খুব সহজেই বোঝা যায় এর বর্গমূল ১১০ এর কাছাকাছি হবে। তাই সঠিক অপশন ১১০ ইউনিট।
ব্যাখ্যা (Explanation)
'FOB' বা Free on Board হলো পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তিতে ব্যবহৃত একটি অন্যতম শর্ত। মূলত বিক্রেতার কাছ থেকে ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছানো পর্যন্ত মাঝপথের পরিবহন খরচ এবং ঝুঁকি কে বহন করবে, তা নির্ধারণ করার জন্যই এই শর্তটি ব্যবহৃত হয়।

উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ক্রয়-বিক্রয় চুক্তিতে যদি 'F.O.B destination' শর্তটি উল্লেখ থাকে, তবে এর অর্থ হলো— বিক্রেতা নিজ খরচে পণ্যটি ক্রেতার নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। অর্থাৎ, এই শর্তে পণ্যের সম্পূর্ণ বহন বা পরিবহন খরচ বিক্রেতাকে বহন করতে হয়। পণ্যটি ক্রেতার কাছে নিরাপদে না পৌঁছানো পর্যন্ত এর যাবতীয় দায়দায়িত্ব বিক্রেতার ওপরই বর্তায়।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জাহাজে বা অন্য কোনো বাহনে মাল পরিবহনের ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যকার পরিবহন সংক্রান্ত আর্থিক বোঝাপড়া স্পষ্ট করার জন্যই মূলত এই 'FOB' শর্তটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
সাধারণত যেসব কোম্পানি উচ্চমূল্যের এবং সীমিত আকারের বা কম পরিমাণ পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করে থাকে, তাদের মজুত হিসাব সংরক্ষণের জন্য অবিরত বা নিত্য মজুত পদ্ধতি (Perpetual Inventory System) সবচেয়ে কার্যকর।
কারণ: এই পদ্ধতিতে প্রতিবার পণ্য ক্রয় এবং বিক্রয়ের পরপরই সাথে সাথে মজুত পণ্যের উদ্বৃত্ত ও মূল্য নির্ণয় করে হিসাবের খাতায় তা হালনাগাদ বা আপডেট করা হয় । যেহেতু এসব প্রতিষ্ঠানে পণ্যের পরিমাণ কম কিন্তু প্রতিটির মূল্য অনেক বেশি থাকে, তাই প্রতিটি পণ্যের নিখুঁত ও তাৎক্ষণিক মজুত হিসাব রাখা অত্যন্ত জরুরি এবং অবিরত মজুত পদ্ধতির মাধ্যমে তা সহজেই করা সম্ভব হয়।
পূর্ববর্তী একটি আলোচনায় আমরা যেমনটি জেনেছিলাম যে, মজুত সংরক্ষণের এই নিত্য হিসাব ব্যবস্থার পাশাপাশি এ ধরনের কোম্পানিগুলো বিক্রীত ও মজুত পণ্যের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণত 'সুনির্দিষ্ট শনাক্তকরণ পদ্ধতি' ব্যবহার করে থাকে।
ব্যাখ্যা (Explanation)
কালান্তিক মজুত পদ্ধতিতে প্রারম্ভিক মজুতের সাথে ক্রয়কৃত পণ্যের মূল্য যোগ করে তা থেকে সমাপনী মজুতের মূল্য বাদ দিলে বিক্রীত পণ্যের ক্রয়মূল্য (Cost of Goods Sold) বা বিক্রীত পণ্যের ব্যয় পাওয়া যায়।
সহজ কথায়, নির্দিষ্ট হিসাবকালের শুরুতে আপনার গুদামে বিক্রির জন্য যে পরিমাণ মজুত পণ্য ছিল (প্রারম্ভিক মজুত), তার সাথে ওই সময়ে নতুন ক্রয়কৃত পণ্য যোগ করলে আপনি 'বিক্রয়যোগ্য মোট পণ্য' পাবেন। বছর বা নির্দিষ্ট সময় শেষে গুদামে যে পণ্যগুলো অবিকৃত অবস্থায় থেকে যায় (সমাপনী মজুত), তা বিক্রয়যোগ্য মোট পণ্য থেকে বাদ দিলেই খুব সহজে বের হয়ে যায় যে, ঠিক কত টাকার ক্রয়মূল্যের পণ্য ওই হিসাবকালে বাস্তবে বিক্রি করা হয়েছে।
আগের একটি প্রশ্নে আমরা যেমন দেখেছিলাম যে, কারখানায় প্রারম্ভিক কাঁচামালের সাথে ক্রয় যোগ করে সমাপনী কাঁচামাল বাদ দিলে 'ব্যবহৃত কাঁচামালের পরিমাণ' পাওয়া যায়; ঠিক একইভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা মজুত পণ্যের ক্ষেত্রে এই সূত্রটি প্রয়োগ করলে 'বিক্রীত পণ্যের ক্রয়মূল্য' নির্ণীত হয় ।
ব্যাখ্যা (Explanation)
স্বর্ণের দোকান বা গাড়ির শোরুমের মতো যেসব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক উচ্চ মূল্যের এবং কম পরিমাণ পণ্যের ব্যবসা করে, তারা বিক্রীত ও মজুত পণ্যের মূল্য নির্ধারণে সাধারণত সহজ কথায়, এই পদ্ধতিতে ধরে নেওয়া হয় যে, ক্রয়কৃত, বিক্রয়কৃত কিংবা মজুত থাকা প্রতিটি পণ্য একে অপরের চেয়ে একেবারেই আলাদা এবং তাদের নিজস্ব স্বকীয়তা বা বৈশিষ্ট্য রয়েছে । যেহেতু এসব প্রতিষ্ঠানে পণ্যের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম কিন্তু মূল্য অনেক বেশি থাকে, তাই প্রতিটি পণ্যের আলাদাভাবে হিসাব রাখা এবং সুনির্দিষ্টভাবে তার ক্রয়মূল্য শনাক্ত করে বিক্রীত পণ্যের ব্যয় ও সমাপনী মজুতের মূল্য নির্ধারণ করা সহজেই সম্ভব হয়।এছাড়া, মজুত সংরক্ষণের হিসাব রাখার ক্ষেত্রে এ ধরনের উচ্চমূল্যের ও সীমিত পণ্যের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত 
ব্যাখ্যা (Explanation)
বাজারে কাঁচামালের দাম যদি ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে বা নিম্নগামী হয়, তবে মজুত মালের মূল্যায়নে 'প্রথম আগত-প্রথম ব্যবহৃত' বা ফিফো (FIFO - First In, First Out) পদ্ধতি অর্থাৎ 'আগের মূল্যের মাল আগে যাবে' পদ্ধতি অনুসরণ করে পণ্য ইস্যু করা সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত ও সুবিধাজনক।

কারণ:যখন বাজারে মালের দাম কমতে থাকে, তখন ফিফো (FIFO) পদ্ধতি ব্যবহার করলে গুদামে আগে থেকে থাকা পুরনো ও তুলনামূলক বেশি দামে কেনা কাঁচামালগুলো সর্বপ্রথম উৎপাদনে ইস্যু বা ব্যবহার করা হয় । এর ফলে উৎপাদিত পণ্যের ব্যয়ে ঐ পুরনো ও বেশি দামটি যুক্ত হয়। অন্যদিকে, নির্দিষ্ট সময় শেষে গুদামে যে সমাপনী মজুত পণ্যটি অবশিষ্ট থাকে, তা একদম নতুন বা সর্বশেষ হ্রাসকৃত বাজারদরের ভিত্তিতে অবিকৃত অবস্থায় মূল্যায়িত হয়।
আগের আলোচনায় আমরা যেমনটি দেখেছি যে, বাজারে দাম বাড়লে (ঊর্ধ্বমুখী বাজারে) আয়কর সাশ্রয়ের জন্য লিফো (LIFO) পদ্ধতি বেশি কার্যকর। ঠিক এর বিপরীত অবস্থায়, অর্থাৎ মালের বাজারমূল্য যখন নিম্নগামী থাকে বা মূল্যহ্রাসের ধারা অব্যাহত থাকে, তখন কারখানার মজুত মূল্যায়নে ফিফো (FIFO) বা 'আগে আসলে আগে যাবে' পদ্ধতিটিই হিসাববিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে যৌক্তিক এবং আদর্শ পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
ঊর্ধ্বগতির বাজার দরে বা মূল্যবৃদ্ধির সময়ে আয়কর প্রদান কমানোর লক্ষ্যে ইস্যুকৃত মালের মূল্য নির্ধারণে 'সর্বশেষ আগত-প্রথম ব্যবহৃত' বা লিফো (LIFO - Last In, First Out) পদ্ধতি ব্যবহার করা সর্বাধিক উপযোগী ও আয়কর সাশ্রয়ী। কারণ, যখন বাজারে কাঁচামালের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে, তখন লিফো (LIFO) পদ্ধতি অনুযায়ী সর্বশেষ কেনা অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি দামের কাঁচামালগুলো উৎপাদনের জন্য সবার আগে ইস্যু বা ব্যবহার দেখানো হয়। এর ফলে উৎপাদিত পণ্যের খরচ বা ব্যয় বেশি প্রদর্শিত হয় এবং প্রতিষ্ঠানের মোট মুনাফা বা লাভ তুলনামূলক কম দেখায় [২]। আর যেহেতু আয়কর মূলত অর্জিত মুনাফার ওপর ধার্য করা হয়, তাই কম মুনাফা প্রদর্শনের কারণে প্রতিষ্ঠানকে কম আয়কর প্রদান করতে হয়। এই কারণেই মূল্যস্ফীতি বা ঊর্ধ্বমুখী বাজারের সময় আয়কর সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে লিফো (LIFO) পদ্ধতিটি একটি অত্যন্ত কার্যকর কৌশল হিসেবে বিবেচিত হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
উৎপাদনের পর কাঁচামালের যে ব্যবহার অনুপযোগী অবশিষ্টাংশ থেকে যায় এবং যা পরবর্তীতে অত্যন্ত কম দামে বিক্রয় করা হয়, হিসাববিজ্ঞানের ভাষায় তাকে ধ্বংসাবশেষ (Scrap) বলা হয়। সহজ কথায়, কারখানায় পণ্য উৎপাদনের সময় কাঁচামালের কিছু অংশ অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায় বা মূল পণ্যের অংশ হিসেবে আর ব্যবহার করা যায় না। এই ধরনের বাতিল অংশগুলো বা অবশিষ্টাংশ যখন খুব সামান্য মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়, তখন মজুত হিসাবরক্ষণে একে ধ্বংসাবশেষ হিসেবে গণ্য করা হয়।

প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা ওয়েবসাইটে; সবগুলোর সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে অ্যাপ ইন্সটল করুন।

ব্যাখ্যা (Explanation)
পণ্য উৎপাদনের পূর্ব পর্যন্ত ভাণ্ডারের অভ্যন্তরে মালের সংরক্ষণ বা গুদামজাতকরণ বাবদ যে ব্যয় সংঘটিত হয়, তাকে হিসাববিজ্ঞানের ভাষায় বহন ব্যয় (Carrying Cost) বা মজুতকরণ ব্যয় বলা হয় । সহজ কথায় বলতে গেলে, কারখানার জন্য কেনা কাঁচামালগুলো গুদামে এনে উৎপাদনের কাজে ব্যবহারের আগ পর্যন্ত নিরাপদে ও সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার জন্য যে আনুষঙ্গিক খরচগুলো হয়, সেগুলোর সমষ্টিই হলো এই বহন ব্যয়। মজুত মাল সংরক্ষণের এই ব্যয়টিকে মিতব্যয়ী ফরমায়েশ পরিমাণ (EOQ) বা আদর্শ ক্রয়ের পরিমাণ নির্ণয়ের সূত্রে 'C' অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়, যা কারখানার মোট উৎপাদন ব্যয় ও মজুত খরচ সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার জন্য সঠিকভাবে হিসাব করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।
ব্যাখ্যা (Explanation)
সরবরাহকারীর নিকট পণ্যের অর্ডার বা ফরমায়েশ দেওয়ার পর থেকে গুদামে উক্ত পণ্য এসে পৌঁছানোর মধ্যবর্তী যে সময়টুকু লাগে, তাকে হিসাববিজ্ঞানের ভাষায় লিড টাইম (Lead Time) বলা হয়। সহজ কথায় বলতে গেলে, কারখানার কাঁচামাল কমে যাওয়ার পর যখন আমরা নতুন মালের জন্য সরবরাহকারীর কাছে অর্ডার দিই, সেই মাল প্রস্তুত হয়ে আমাদের গুদামে এসে পৌঁছাতে যে কয়দিন বা যতটুকু সময় লাগে, সেই অপেক্ষার সময়টিই হলো লিড টাইম। প্রতিষ্ঠানের মজুত নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এই সময়টুকু সঠিকভাবে জানা অত্যন্ত জরুরি; কারণ লিড টাইম জানা থাকলে গুদামের মজুত একেবারে শূন্য হয়ে যাওয়ার আগেই আমরা নতুন মালের ব্যবস্থা করতে পারি, যার ফলে কাঁচামালের অভাবে কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া কখনোই থেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে না।
ব্যাখ্যা (Explanation)
উৎপাদনে কাঁচামালের প্রয়োগ ও প্রয়োজন অর্থাৎ গুরুত্বের ওপর ভিত্তি করে কাঁচামালকে Vital (অপরিহার্য), Essential (প্রয়োজনীয়) এবং Desirable (প্রত্যাশিত) শ্রেণিতে ভাগ করে নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতিকে হিসাববিজ্ঞানের ভাষায় VED বিশ্লেষণ (VED Analysis) বলা হয়। সহজ কথায় বলতে গেলে, কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখার জন্য সব কাঁচামালের গুরুত্ব কিন্তু সমান থাকে না। কোনো কোনো কাঁচামাল ছাড়া উৎপাদন একেবারেই অসম্ভব (Vital), কোনোটি খুব দরকারি (Essential), আবার কোনোটি না থাকলেও হয়তো সাময়িকভাবে বা বিকল্প উপায়ে কাজ চালিয়ে নেওয়া যায় (Desirable)। তাই কাঁচামালের এই ব্যবহারের গুরুত্ব বা প্রয়োজনের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে কারখানায় সঠিক ও কার্যকর মজুত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্যই মূলত এই VED বিশ্লেষণ পদ্ধতিটি অনুসরণ করা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
উৎপাদনে ব্যবহৃত সমস্ত কাঁচামালকে তাদের পরিমাণের পরিবর্তে আর্থিক মূল্যের ভিত্তিতে A, B এবং C— এই তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করে যে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপ করা হয়, তাকে হিসাববিজ্ঞানের ভাষায় ABC বিশ্লেষণ পদ্ধতি বলা হয়। সহজ কথায়, কারখানার গুদামে রক্ষিত সব কাঁচামালের গুরুত্ব বা দাম সমান হয় না। তাই কোন মালের পেছনে প্রতিষ্ঠানের কত টাকা বিনিয়োগ করা আছে, তার ভিত্তিতে কাঁচামালগুলোকে আলাদা আলাদা শ্রেণিতে (A, B ও C) ভাগ করে এই মজুত নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা হয়, যাতে কারখানার মূল্যবান মালের ওপর অধিক নজরদারি ও সঠিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
বিপুল পরিমাণ মজুত গুদামে সংরক্ষণ না করে ঠিক যখন প্রয়োজন তখনই উৎপাদনমাফিক কাঁচামাল সংগ্রহ করার আধুনিক পদ্ধতিকে হিসাববিজ্ঞানের ভাষায় JIT (Just In Time) বা সঠিক সময়োচিত পদ্ধতি বলা হয় । সহজ কথায় বলতে গেলে, এই পদ্ধতিতে কারখানায় আগে থেকে প্রচুর কাঁচামাল কিনে গুদামে জমিয়ে রাখা হয় না; বরং উৎপাদন কাজ ঠিক যখন শুরু হবে এবং যতটুকু কাঁচামাল লাগবে, ঠিক সেই সময়েই সরবরাহকারীর কাছ থেকে প্রয়োজনমাফিক মাল সংগ্রহ করা হয় । এর মূল উদ্দেশ্য হলো গুদামে মাল সংরক্ষণের খরচ (Carrying Cost) কমানো এবং অব্যবহৃত কাঁচামাল নষ্ট হওয়ার বা অপচয়ের ঝুঁকি এড়িয়ে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও সাশ্রয়ী ও আধুনিক করে তোলা।
ব্যাখ্যা (Explanation)
হিসাবকালে প্রারম্ভিক কাঁচামালের সাথে ক্রয়কৃত কাঁচামাল যোগ করে তা থেকে সমাপনী কাঁচামাল বাদ দিলে কারখানায় ব্যবহৃত কাঁচামালের (Materials Used) পরিমাণ নির্ণীত হয়। সহজ কথায় বলতে গেলে, বছরের বা নির্দিষ্ট সময়ের শুরুতে তোমার গুদামে যে কাঁচামাল ছিল (প্রারম্ভিক কাঁচামাল), তার সাথে ওই সময়ে তুমি আরও নতুন যে কাঁচামাল কিনেছো (ক্রয়)— এই দুটির যোগফল হলো তোমার ব্যবহারের জন্য মোট উপলব্ধ কাঁচামাল। এরপর নির্দিষ্ট সময় শেষে গুদামে যেটুকু কাঁচামাল অবিকৃত বা অব্যবহৃত অবস্থায় অবশিষ্ট থাকে (সমাপনী কাঁচামাল), তা সেই মোট পরিমাণ থেকে বাদ দিলেই খুব সহজে বের হয়ে যায় যে, উৎপাদনের কাজে ঠিক কতটুকু কাঁচামাল বাস্তবে খরচ বা ব্যবহার করা হয়েছে ।
ব্যাখ্যা (Explanation)
গুদামে মালের ঘাটতি পূরণের জন্য ক্রয় বিভাগের নিকট পণ্য ক্রয়ের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়ে যে ফরম বা পত্র ব্যবহার করা হয়, তাকে হিসাববিজ্ঞানের ভাষায় ক্রয় অধিযাচন পত্র (Purchase Requisition) বা ফরমায়েশ পত্র বলা হয়। সহজ কথায়, কারখানার গুদামে কাঁচামাল বা মজুত পণ্যের পরিমাণ কমে গেলে গুদামরক্ষক সরাসরি বাজার থেকে মাল কিনতে পারেন না; বরং তাকে একটি নির্দিষ্ট ফরমে মালের বিস্তারিত বর্ণনা, প্রয়োজনীয় পরিমাণ এবং কত দিনের মধ্যে মালটি দরকার তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানের ক্রয় বিভাগের কাছে একটি লিখিত চাহিদাপত্র পাঠাতে হয়। এই আনুষ্ঠানিক অনুরোধপত্রটি পাওয়ার পরই মূলত ক্রয় বিভাগ ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে সরবরাহকারীর নিকট থেকে পণ্য সংগ্রহের মূল প্রক্রিয়াটি শুরু করে থাকে।
ব্যাখ্যা (Explanation)
যে পদ্ধতিতে দৈনন্দিন বা পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে সাথে হিসাব না রেখে একটি নির্দিষ্ট হিসাবকাল বা বছর শেষে গুদামে মজুত পণ্যের সরাসরি ভৌত গণনা (Physical counting) করে মজুতের পরিমাণ ও মূল্য নিরূপণ করা হয়, তাকে হিসাববিজ্ঞানের ভাষায় কালান্তিক মজুত পদ্ধতি (Periodic Inventory System) বলা হয় [৩, ৪]। সহজ কথায় বলতে গেলে, এই পদ্ধতিতে প্রতিদিন মাল আসা বা যাওয়ার সাথে সাথে হিসাবের খাতা আপডেট করা হয় না; বরং নির্দিষ্ট সময় শেষে (যেমন- মাস বা বছর শেষে) গুদামে গিয়ে সরাসরি গুণে দেখা হয় ঠিক কতটুকু পণ্য অবশিষ্ট আছে এবং তার ভিত্তিতেই সমাপনী মজুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত যেসব ছোটখাটো বা মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে (যেমন- ফার্মেসি, বস্ত্র বা খুচরা দোকান) প্রতিদিন প্রচুর স্বল্পমূল্যের পণ্য বিক্রি হয় এবং সাথে সাথে হিসাব রাখা বেশ কষ্টসাধ্য, তারা এই সহজ পদ্ধতিটি বেশি অনুসরণ করে থাকে ।
ব্যাখ্যা (Explanation)
যে পদ্ধতিতে প্রতিবার পণ্য ক্রয় এবং বিক্রয়ের পর সাথে সাথেই মজুত পণ্যের উদ্বৃত্ত ও মূল্য নির্ণয় করে নিয়মিতভাবে হিসাব রাখা হয়, তাকে হিসাববিজ্ঞানের ভাষায় অবিরত বা নিত্য মজুত পদ্ধতি (Perpetual Inventory System) বলা হয়। সহজ কথায় বলতে গেলে, এই পদ্ধতিতে গুদামে মাল আসা বা যাওয়ার সাথে সাথেই হিসাবের খাতায় তা হালনাগাদ (update) করে নেওয়া হয়। ফলে বছর বা মাস শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করেই যেকোনো নির্দিষ্ট দিনে বা সময়ে গুদামে ঠিক কত টাকার এবং কী পরিমাণ মাল মজুত আছে, তা মুহূর্তের মধ্যেই জানা সম্ভব হয় । সাধারণত যেসব প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক উচ্চমূল্যের এবং সীমিত আকারের পণ্য নিয়ে ব্যবসা করে, তাদের জন্য মজুত নিয়ন্ত্রণের এই তাৎক্ষণিক ও নিখুঁত হিসাব ব্যবস্থাটি অত্যন্ত কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ.
ব্যাখ্যা (Explanation)
গুদামের মজুত কমতে কমতে যখন সর্বনিম্ন স্তরেরও নিচে নেমে যায় এবং এর ফলে কাঁচামালের অভাবে উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়, তখন সেই চূড়ান্ত স্তরটিকে হিসাববিজ্ঞানের ভাষায় বিপদ স্তর বা নিরাপত্তা মজুত (Safety stock) বলা হয়। সহজ কথায়, কারখানার উৎপাদন কাজ যেন কোনো অবস্থাতেই কাঁচামালের অভাবে থেমে না যায়, তা নিশ্চিত করার জন্য মজুতের যে একটি শেষ সীমানা বা রিজার্ভ রাখা হয়, সেটিই হলো এই বিপদ স্তর বা নিরাপত্তা মজুত। গুদামে মালের পরিমাণ এই স্তরে পৌঁছানোর অর্থ হলো, কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থাকে নিরবচ্ছিন্ন ও ঝুঁকিমুক্ত রাখতে এখনই অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে নতুন কাঁচামাল সংগ্রহ করতে হবে।

নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন — অ্যাপে লাইভ পরীক্ষা দিয়ে মেরিট লিস্টে নিজের অবস্থান দেখুন।

ব্যাখ্যা (Explanation)
গুদামে মজুত মালের পরিমাণ কমতে কমতে যে মাত্রায় বা স্তরে নেমে এলে পুনরায় নতুন অর্ডারের জন্য ক্রয় অধিযাচন বা ফরমায়েশ দিতে হয়, তাকে হিসাববিজ্ঞানের ভাষায় রি-অর্ডার স্তর (Re-order Level) বলা হয়। সহজ কথায়, কারখানায় কাঁচামাল ব্যবহার করতে করতে মজুত যখন এমন একটি সীমানায় চলে আসে যেখান থেকে নতুন করে মালের অর্ডার দেওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে যায়, তাকেই রি-অর্ডার স্তর বলে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, গুদামের মজুত যেন একেবারে শূন্য হয়ে গিয়ে উৎপাদন প্রক্রিয়া বন্ধ বা ঝুঁকিতে না পড়ে যায়, তা নিশ্চিত করা। মজুত নিয়ন্ত্রণের এই স্তরটি সঠিকভাবে নির্ধারণ করা যেকোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নিরবচ্ছিন্ন কার্যকারিতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাখ্যা (Explanation)
মিতব্যয়ী ফরমায়েশ পরিমাণ বা EOQ নির্ণয়ের সূত্রে ব্যবহৃত 'C' অক্ষরটি দ্বারা মূলত Carrying cost বা বহন খরচ-কে বোঝানো হয়। সহজ কথায় বলতে গেলে, উৎপাদনের কাজে ব্যবহারের পূর্ব পর্যন্ত কাঁচামাল বা পণ্য কারখানার গুদামের বা ভাণ্ডারের অভ্যন্তরে নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করার জন্য যে ব্যয় সংঘটিত হয়, তাকেই বহন ব্যয় বলা হয়। অর্থাৎ, কারখানায় একসাথে অনেক কাঁচামাল কিনে গুদামে জমা রাখলে তার রক্ষণাবেক্ষণ বা স্টোরেজ বাবদ যে নিয়মিত খরচটি হয়, গাণিতিক সূত্রে সেটিকেই 'C' দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
যে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্যের ফরমায়েশ বা অর্ডার দিলে কারখানার ক্রয়কালীন অর্ডারিং খরচ এবং গুদামে পণ্য সংরক্ষণের বা বহন খরচ— এই দুটি মিলে মোট খরচ একদম সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকে, তাকে হিসাববিজ্ঞানের ভাষায় মিতব্যয়ী ফরমায়েশ পরিমাণ (Economic Order Quantity বা EOQ) বলা হয় [২, ৬]। সহজ কথায়, কারখানায় কাঁচামাল কেনার সময় আমরা যদি খুব বেশি পরিমাণে মাল একসাথে কিনি, তাহলে তা গুদামে রাখার খরচ বা বহন ব্যয় বেড়ে যায়; আবার যদি বারবার অল্প পরিমাণে কিনি, তাহলে বারবার অর্ডার দেওয়ার খরচ বেড়ে যায়। তাই, ঠিক যতটুকু পরিমাণ মালের অর্ডার দিলে এই দুই ধরনের খরচের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে এবং প্রতিষ্ঠানের মোট মজুত খরচ সবচেয়ে কম হয়, সেই আদর্শ ও সাশ্রয়ী পরিমাণটিকেই মিতব্যয়ী ফরমায়েশ পরিমাণ বা EOQ বলা হয়.
ব্যাখ্যা (Explanation)
গুদামে ইস্যুকৃত মালের মূল্য নির্ধারণের যে পদ্ধতিতে সর্বশেষ কেনা বা সবার শেষে আসা কাঁচামাল সর্বপ্রথম ব্যবহার বা উৎপাদনের জন্য ইস্যু করা হয়, তাকে 'সর্বশেষ আগত-প্রথম ব্যবহৃত' বা লিফো (LIFO - Last-In, First-Out) পদ্ধতি বলা হয়। সহজ কথায়, কারখানায় উৎপাদনের ক্ষেত্রে যে কাঁচামালগুলো গুদামে সবচেয়ে পরে প্রবেশ করে, হিসাবরক্ষণের নিয়মানুযায়ী সেগুলোর ক্রয়মূল্য ধরেই সবার আগে পণ্য ইস্যু করা হয়। যখন বাজারে কাঁচামালের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে (ঊর্ধ্বমুখী বাজার), তখন এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করা কারবারের জন্য বেশি সুবিধাজনক। কারণ, এর ফলে নতুন ও বেশি দামের কাঁচামাল আগে ইস্যু দেখানো হয়, যা উৎপাদন ব্যয় বা খরচ বেশি দেখায় এবং মুনাফা কম প্রদর্শনের মাধ্যমে আয়কর সাশ্রয়ে সাহায্য করে। এই পদ্ধতির ফলে বছর শেষে গুদামে যে সমাপনী মজুত পণ্য অবশিষ্ট থাকে, তা মূলত একেবারে শুরুর দিকে কেনা পুরোনো কাঁচামালগুলোর মূল্যকে নির্দেশ করে।
ব্যাখ্যা (Explanation)
গুদামে ইস্যুকৃত মালের মূল্য নির্ধারণের যে পদ্ধতিতে প্রথমে কেনা বা আগে আসা কাঁচামাল সর্বপ্রথম ব্যবহার বা উৎপাদনের জন্য ইস্যু করা হয়, তাকে 'প্রথম আগত-প্রথম ব্যবহৃত' বা ফিফো (FIFO - First In, First Out) পদ্ধতি বলা হয়। সহজ কথায়, কারখানায় উৎপাদনের ক্ষেত্রে যে কাঁচামালগুলো গুদামে সবার আগে প্রবেশ করে, হিসাবরক্ষণের নিয়মানুযায়ী সেগুলোর ক্রয়মূল্য ধরেই সর্বপ্রথম পণ্য ইস্যু করা হয়। মালের বাজারমূল্য যখন ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে কিংবা দ্রুত পচনশীল দ্রব্যের মজুত মূল্যায়নের প্রয়োজন হয়, তখন এই 'আগের মাল আগে ছাড়' পদ্ধতিটি অত্যন্ত সুবিধাজনক ও কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। এই পদ্ধতির একটি বড় সুবিধা হলো, এর ফলে নির্দিষ্ট সময় শেষে গুদামে যে সমাপনী মজুত পণ্য অবশিষ্ট থাকে, তা মূলত সর্বশেষ বা একেবারে নতুন কেনা কাঁচামালের বর্তমান বাজারমূল্যকে প্রতিফলিত করে।
ব্যাখ্যা (Explanation)
হিসাবরক্ষণ বিভাগের সংরক্ষিত যে খাতায় কাঁচামালের ক্রয়, ব্যবহার ও মজুত ইত্যাদির পরিমাণ এবং একইসাথে সেগুলোর অর্থমূল্য বা টাকার অঙ্ক উভয়ই লিপিবদ্ধ থাকে, তাকে মাল খতিয়ান (Stores Ledger) বলা হয়। বিন কার্ডে শুধুমাত্র মালের ভৌত পরিমাণের হিসাব রাখা হয়, কিন্তু মাল খতিয়ানে পরিমাণের পাশাপাশি প্রতিটি কাঁচামালের আর্থিক মূল্যও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ খাতাটি কারখানার হিসাবরক্ষণ বিভাগ পরিচালনা করে থাকে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো উৎপাদনের জন্য ইস্যুকৃত কাঁচামালের সঠিক খরচ নির্ধারণ করা এবং বছর শেষে গুদামে অবশিষ্ট মজুত পণ্যের প্রকৃত আর্থিক মূল্য নিরূপণ করা। ফিফো (FIFO), লিফো (LIFO) বা ওজন গড় পদ্ধতির মতো মজুত মূল্যায়নের কাজগুলো এই খতিয়ানের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়ে থাকে।
ব্যাখ্যা (Explanation)
বিন কার্ডে কাঁচামালের দৈনন্দিন প্রাপ্তি, ইস্যু এবং উদ্বৃত্তের পরিমাণের হিসাব খুব সুন্দরভাবে রাখা হলেও, এতে কাঁচামালের মূল্য বা আর্থিক দর একেবারেই লিপিবদ্ধ করা হয় না। বিন কার্ড সাধারণত স্টোর কিপার বা গুদামরক্ষক পরিচালনা করেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো মালের ভৌত পরিমাণ (কত ইউনিট এলো, কত ইউনিট গেল এবং কত ইউনিট মজুত আছে) ঠিক রাখা, যাতে গুদামে মালের চুরি বা অপচয় রোধ করা যায়। কাঁচামালের পরিমাণ এবং এর আর্থিক মূল্য বা টাকার অঙ্কের হিসাব একসাথে হিসাবরক্ষণ বিভাগের তৈরি করা 'মাল খতিয়ানে' (Stores Ledger) লিপিবদ্ধ করা হয়। তাই সহজ কথায় মনে রাখবে, বিন কার্ড হলো শুধুই মালের পরিমাণের হিসাব, মালের মূল্যের হিসাব নয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
গুদামে কাঁচামালের দৈনন্দিন আগমন (প্রাপ্তি), প্রস্থান (ইস্যু) এবং অবশিষ্ট মজুতের (উদ্বৃত্ত) পরিমাণ সংক্রান্ত তথ্য যে কার্ডে লিপিবদ্ধ করে মালের গায়ে, তাকে বা পাত্রে লাগিয়ে রাখা হয়, তাকে বিন কার্ড (Bin Card) বলা হয়। সহজ কথায়, স্টোর কিপার বা গুদামরক্ষক কাঁচামাল নিয়ন্ত্রণের জন্য এই কার্ডটি পরিচালনা করেন, যেখানে মালের কোনো আর্থিক মূল্য লেখা থাকে না, বরং শুধুমাত্র কাঁচামাল কত একক গুদামে এলো, কত একক উৎপাদনের জন্য গেল এবং বর্তমানে ঠিক কতটুকু মজুত আছে তার সঠিক হিসাব রাখা হয়। গুদামের কাঁচামাল চুরি বা অপচয় রোধ করতে এবং মজুত নিয়ন্ত্রণের একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে এই কার্ডটি কার্যকর ভূমিকা পালন করে
ব্যাখ্যা (Explanation)
যেসব কাঁচামাল সরাসরি উৎপাদিত পণ্যের অংশ হয় না, কিন্তু উৎপাদন কার্যে একটি অতি প্রয়োজনীয় 'সহায়ক দ্রব্য' হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং পণ্যের একক প্রতি যার ব্যয় প্রত্যক্ষভাবে নির্ণয় করা যায় না, তাকে পরোক্ষ কাঁচামাল (Indirect Material) বলা হয়। সহজভাবে বলতে গেলে, উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখতে এগুলোর ভূমিকা অপরিহার্য হলেও একটি নির্দিষ্ট পণ্য তৈরিতে এর ঠিক কতটুকু অংশ ব্যবহৃত হলো তা আলাদা করে মাপা বা চিহ্নিত করা যায় না। যেমন, কারখানার যন্ত্রপাতি সচল রাখার জন্য ব্যবহৃত তেল, গ্রিজ কিংবা পণ্য মোড়কজাত করার প্যাকেট ইত্যাদি হলো পরোক্ষ কাঁচামালের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। হিসাববিজ্ঞানে এই ধরনের কাঁচামালের ব্যয়কে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট পণ্যের খরচে না দেখিয়ে কারখানার 'উপরিভ্যয়' বা ওভারহেড (Overhead) হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation)
যে কাঁচামাল সরাসরি উৎপাদিত পণ্যের মূল অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং যার ব্যয় পণ্যের প্রতিটি এককের ওপর খুব সহজেই ও সরাসরি আরোপ করা যায়, তাকে প্রত্যক্ষ কাঁচামাল (Direct Material) বলা হয়। সহজ কথায় বলতে গেলে, কাপড় তৈরির জন্য যেমন সুতা বা আসবাবপত্র তৈরির জন্য কাঠ অপরিহার্য, ঠিক তেমনি যেকোনো পণ্য উৎপাদনে সরাসরি দৃশ্যমান ও পরিমাপযোগ্য কাঁচামালই হলো প্রত্যক্ষ কাঁচামাল। হিসাববিজ্ঞানের ভাষায়, এই প্রত্যক্ষ কাঁচামালের ব্যয়কে কারবারের 'মুখ্য ব্যয়ের' (Prime Cost) অন্তর্ভুক্ত করা হয়, কারণ এই প্রধান উপাদানটি ছাড়া নির্দিষ্ট পণ্যটির অস্তিত্ব বা উৎপাদন কোনোভাবেই সম্ভবপর নয়।

এই টপিকের সব প্রশ্ন ব্যাখ্যাসহ, ভুল-সঠিক-বুকমার্ক আলাদা করে রিভিশন — অ্যাপে।

ব্যাখ্যা (Explanation)
কোনো দ্রব্য উৎপাদন শুরু করার জন্য প্রাথমিকভাবেই যে বস্তুটি প্রয়োজন এবং যা ছাড়া উৎপাদনের কাজ শুরু করা একেবারেই সম্ভব নয়, তাকে কাঁচামাল (Raw Material) বা আরও নির্দিষ্টভাবে প্রত্যক্ষ কাঁচামাল বলা হয়। হিসাববিজ্ঞানে কাঁচামালকে পণ্য উৎপাদনের সবচেয়ে মৌলিক বা প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ, এই কাঁচামাল (যেমন- কাপড়, লোহা, কেমিক্যাল ইত্যাদি) ব্যতীত কোনো কারখানায় রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন পণ্য উৎপাদনের কাজ আদৌ শুরু করা সম্ভবপর হয় না এবং একটি প্রতিষ্ঠানের মোট উৎপাদন ব্যয়ের সিংহভাগই এই ব্যবহৃত কাঁচামালের পেছনে ব্যয় হয়ে থাকে।
সঠিক উত্তর: ০ ভুল উত্তর: ০
নোটিশ

 ✅ টপিক ও সাব-টপিকভিত্তিক জব সলিউশন্স 

২০০৫ – ২০২৬ সাল পর্যন্ত সব জব সলিউশন্স প্রশ্ন টপিক ও সাব-টপিক আকারে যোগ করা হয়েছে — সর্বমোট প্রায় ২৫ হাজার ইউনিক প্রশ্ন। ১২তম – ২০তম গ্রেডের পরীক্ষার্থীরা শুধু এইগুলো পড়লেই হবে।

▶ প্রশ্ন ব্যাংক → অনুশীলন → এরপর উপরের ডানে হলুদ বাটনে ক্লিক করে Job Solutions ফিল্টার করে নিন।
↻ প্রতি সপ্তাহে নতুন জব প্রশ্ন টপিক ও সাব-টপিক আকারে যোগ করা হয়।


 ★ বর্তমান চলমান কোর্স (সব পরীক্ষা website থেকে OMR পদ্ধতিতে দিতে পারবেন) 

১) ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি'র লং কোর্স (১৫৬ দিন)  নতুন 
২) প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (লেকচার শিট ভিত্তিক কোর্স) নতুন 
৩) ‘অগ্রদূত বাংলা’ ৯০ দিনের মাস্টার স্টাডি রুটিন নতুন 
৪) Master English Study (৯৯ দিনের স্পেশাল কোর্স) নতুন 
৫)
১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন — লেকচারশীট ভিত্তিক
৬) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) — বাংলা 
 নতুন 
৭) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) — বাংলা 
 নতুন 
৮) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন — সমাজবিজ্ঞান
৯) ১৯তম নিবন্ধন (প্রভাষক) — গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান
১০) ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি — ২৩৬ দিনে সম্পূর্ণ সিলেবাস
১১) টপিক ভিত্তিক জব সলিউশন রুটিন (১৬৫ দিনের)
১২) প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (৩য় ব্যাচ)
১৩)  ৫১তম স্পেশাল বিসিএস (স্বাস্থ্য) সমন্বিত প্রস্তুতি রুটিন (মেডিকেল)  নতুন 
১৪) সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী


 ➤ আপকামিং কোর্স ও রুটরশ

✦ ১০তম-১৩তম গ্রেডের প্রস্তুতি।  
◆ ১৪তম-২০তম গ্রেডের প্রস্তুতি।  
◆ ৫২তম বিসিএস প্রস্তুতি।