Solution
Correct Answer: Option A
- বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলার কবি, তিনি বাঙালি ছিলেন না। তার জন্ম বিহারের মিথিলা অঞ্চলের বিসফী গ্রামে।
- তিনি মৈথিলী ভাষায় পদ রচনা করলেও তার পদগুলো কালক্রমে বাংলা সাহিত্যে এক স্বতন্ত্র ও মর্যাদাপূর্ণ স্থান দখল করে নিয়েছে। মৈথিলী এবং বাংলা ভাষার মিশ্রণে যে কৃত্রিম ও শ্রুতিমধুর ভাষার সৃষ্টি হয়েছিল, তা ‘ব্রজবুলি’ নামে পরিচিত।
- বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা বিষয়ক বহু পদ রচনা করেন। বাঙালি কবি না হয়েও তিনি বৈষ্ণব পদাবলীর অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে স্বীকৃত।
- তাকে 'মিথিলার কোকিল' (মৈথিল কোকিল) এবং 'অভিনব জয়দেব' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস এবং বিদ্যাপতিকে সমসাময়িক কবি হিসেবে ধরা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'কবি সার্বভৌম' এবং 'রাজকণ্ঠের মণিমালা' বিশেষণে বিশেষায়িত করেছেন।
• বিদ্যাপতি রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলি:
- পুরুষ পরীক্ষা,
- কীর্তিলতা (অবহট্ট ভাষায়),
- কীর্তিপতাকা (অবহট্ট ভাষায়),
- ভূ-পরিক্রমা,
- লিখনাবলী ইত্যাদি।
• জেনে রাখা ভালো:
- জয়দেব: সংস্কৃত ভাষার মহাকবি, তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘গীতগোবিন্দম্’। তিনি সেন রাজা লক্ষ্মণসেনের সভাকবি ছিলেন।
- গোবিন্দদাস: বৈষ্ণব পদাবলীর একজন শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি। তাকে 'দ্বিতীয় বিদ্যাপতি' বলা হয়।