মধ্যযুগ (1035 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
১২০৪ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজীর তুর্কি বিজয়ের পর বাংলায় রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সাহিত্য রচিত হয়নি। তাই এই সময়কে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়।
এই সময়ের উল্লেখযোগ্য নিদর্শন:
- শূন্যপুরাণ (রামাই পণ্ডিত রচিত)
- প্রাকৃতপৈঙ্গল (শ্রীহর্ষ সংকলিত)
- সেক শুভোদয়া (হলাযুধ মিশ্র রচিত)

সোর্স: অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরের নিকটবর্তী কাঁকিলা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘরের মাচার ওপর থেকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' উদ্ধার করেন । পরবর্তীতে ১৯১৬ সালে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' থেকে এটি তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় । কাব্যটির রচয়িতা মধ্যযুগের আদি কবি বড়ু চণ্ডীদাস ।

সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের লোকমুখে প্রচলিত পালাগানগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে । পরবর্তীতে ড. দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এটি 'ময়মনসিংহ গীতিকা' নামে প্রকাশিত হয় ।
- সংগ্রাহক: চন্দ্রকুমার দে
- সম্পাদক: ড. দীনেশচন্দ্র সেন
- প্রকাশ বছর: ১৯২৩ সাল
- পৃষ্ঠপোষক: স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ময়মনসিংহ গীতিকা হলো বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের লৌকিক পালাগানের সংকলন । এই সংকলনে স্থান পাওয়া কিশোরগঞ্জের স্থানীয় কাহিনীভিত্তিক অন্যতম বিখ্যাত লৌকিক লোকগাথা হলো 'কঙ্ক ও লীলা' ।
- এই পালার রচয়িতা হলেন দামোদর, রঘুসুত ও নয়ানচাঁদ ঘোষ ।
- এতে কঙ্ক ও লীলার ট্র্যাজিক প্রেমের উপাখ্যান ফুটে উঠেছে ।
সোর্স: অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
'মহুয়া' ও 'দেওয়ানা মদিনা' হলো ময়মনসিংহ গীতিকা-র দুটি বিখ্যাত লৌকিক পালাগান । সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত ও রচিত গান, গীতিকা বা কাহিনী গাথা লোক সাহিত্য-র প্রধান অংশ । দ্বিজ কানাই রচিত 'মহুয়া' এবং মনসুর বয়াতি রচিত 'দেওয়ানা মদিনা' লোকমানুষের বাস্তব জীবন ও বিয়োগান্তক প্রেমকাহিনি নিয়ে রচিত হওয়ায় এগুলো লোক সাহিত্য শাখার অন্তর্ভুক্ত ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
'মার্সিয়া' শব্দটি মূলত একটি আরবি শব্দ । আরবি 'রিসা' (Risa) শব্দ থেকে এর উৎপত্তি, যার শাব্দিক অর্থ হলো শোকপ্রকাশ করা বা শোকগাথা । মূলত কারবালার শোকাবহ ঘটনা বা কোনো ব্যক্তির মৃত্যু উপলক্ষে রচিত শোকসূচক গান বা কবিতাকে বাংলা সাহিত্যে 'মার্সিয়া' বলা হয় ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
'মার্সিয়া' শব্দটি আরবি ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ শোক প্রকাশ করা । কারবালা প্রান্তরে নিহত হযরত ইমাম হোসেন (রা.) ও অন্যান্য শহীদদের বিষাদময় ঘটনাকে উপজীব্য করে রচিত শোকাবহ কাব্যধারাকে মার্সিয়া সাহিত্য বলা হয় ।
- প্রথম কবি: শেখ ফয়জুউল্লাহ (কাব্য: 'জয়নবের চৌতিশা') ।
- জঙ্গনামা: যুদ্ধের কাহিনী নির্ভর কাব্যধারা ।
তাই সঠিক উত্তর মার্সিয়া সাহিত্য।

সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
নাথ সাহিত্য মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য ধারা, যা নাথ গুরুদের অলৌকিক মাহাত্ম্য নিয়ে রচিত । এর মূল কাহিনী ২ ভাগে বিভক্ত:
- মীননাথ ও গোরক্ষনাথ: গুরু-শিষ্যের সাধনতত্ত্ব ও অলৌকিক কাহিনী ।
- ময়নামতী ও গোপীচাঁদ: মা ময়নামতীর নির্দেশে পুত্র গোপীচাঁদের সন্ন্যাস রূপকথা ।
তাই নাথ কাব্যে মূলত মীননাথ, গোরক্ষনাথ, ময়নামতী ও গোপীচাঁদ-এর ধর্মীয় মাহাত্ম্য ফুটে উঠেছে।

সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে বৌদ্ধ ধর্মমত ও শৈবধর্মের মিশ্রণে নাথধর্মের উদ্ভব হয় । এই ধারায় প্রধানত শিব এবং নাথ গুরু বা সিদ্ধাচার্যদের (যেমন: মীননাথ, গোরক্ষনাথ) মাহাত্ম্য ও সাধনার কাহিনী গান আকারে রচিত হয়েছে ।
নাথ সাহিত্যের মূল বিষয়বস্তু:
- মীননাথ ও গোরক্ষনাথের কাহিনী
- রাজা গোবিন্দচন্দ্রের কাহিনী
সুতরাং, শিব ও নাথ গুরুদের মাহাত্ম্য কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই ধারাকে নাথ সাহিত্য বলা হয় ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কবি মহাকবি আলাওল আরাকান রাজসভার আমাত্য মাগন ঠাকুরের অনুপ্রেরণায় ১৬৪৮ সালে 'পদ্মাবতী' কাব্যটি রচনা করেন । এটি হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর 'পদ্মাবৎ' কাব্যের অনুসরণে রচিত একটি বিখ্যাত রোমান্টিক প্রণয়কাব্য ।
- মূল কাব্য: মালিক মুহম্মদ জায়সীর 'পদ্মাবৎ'
- অনুবাদ কাব্য: মহাকবি আলাওলের 'পদ্মাবতী'
- পৃষ্ঠপোষক: মাগন ঠাকুর
তাই সঠিক উত্তর হলো পদ্মাবতী ।

সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম প্রতিনিধি স্থানীয় ও শ্রেষ্ঠ কবি হলেন বিজয়গুপ্ত । তিনি বাংলা সাহিত্যে প্রথম সুনির্দিষ্ট সন-তারিখযুক্ত মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেন ।
তাঁর রচিত এই বিখ্যাত কাব্যের নাম পদ্মাপুরান ।
- তিনি বরিশালের ফতেহাবাদের ফুলশ্রী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।
- সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের শাসনামলে (১৪৯৪ সালে) তিনি দেবী মনসার আদেশে কাব্যটি রচনায় প্রবৃত্ত হন ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য প্রধানত ২টি শাখায় বিভক্ত । এগুলো হলো:
- পৌরাণিক শ্রেণি: পৌরাণিক দেব-দেবীর কাহিনী নিয়ে রচিত কাব্য, যেমন— অন্নদামঙ্গল, দুর্গামঙ্গল ।
- লৌকিক শ্রেণি: লৌকিক দেব-দেবী ও মানুষের কাহিনী নিয়ে রচিত কাব্য, যেমন— মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ।
মঙ্গলকাব্যে মূলত দেব-দেবীর মাহাত্ম্য ও পূজা প্রচারের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে । বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে একে এই দুই ভাগে ভাগ করা হয় ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
শ্রীচৈতন্যদেবের প্রেমধর্ম প্রচারের প্রভাবে ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলা সাহিত্যে বৈষ্ণব সাহিত্য বা বৈষ্ণব পদাবলীর ব্যাপক বিকাশ ঘটে । এই সাহিত্যের মূল উপজীব্য হলো রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা ।
এখানে রূপক হিসেবে-
- কৃষ্ণ হলেন পরমাত্মা (ভগবান বা ঈশ্বর) ।
- রাধা হলেন জীবাত্মা (ভক্ত বা সৃষ্টি) ।
শ্রীচৈতন্যদেব প্রচারিত অচিন্ত্য ভেদাভেদ তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে বৈষ্ণব কবিগণ পরমাত্মা ও জীবাত্মার মিলন এবং গভীর ভক্তিভাবকে কবিতার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন । তাই সঠিক উত্তর বৈষ্ণব সাহিত্য।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম নিদর্শন ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যে মূল চরিত্রের সংখ্যা ৩টি । চরিত্র তিনটি হলো:
- রাধা: মানবাত্মা বা জীবাত্মার প্রতীক ।
- কৃষ্ণ: পরমাত্মা বা ঈশ্বরের প্রতীক ।
- বড়ায়ি: রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমের দূত বা দুতি ।
মূলত এই তিন চরিত্রের নাট্যগীতি ও কথোপকথনের মাধ্যমেই সমগ্র কাব্যটির কাহিনী উপস্থাপিত হয়েছে ।
সোর্স: অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বৈষ্ণব পদাবলীর কবি বিদ্যাপতিকে একাধিক খ্যাতিমান উপাধিতে ভূষিত করা হয় । মিথিলার রাজা শিবসিংহ তাঁকে কবি কণ্ঠহার উপাধি দেন । জয়দেবের মতো মধুর পদ রচনার জন্য তিনি অভিনব জয়দেব এবং পদের সুমিষ্টতার জন্য মিথিলার কোকিল নামে পরিচিত ।
- কবি কণ্ঠহার: রাজা শিবসিংহ প্রদত্ত উপাধি ।
- অভিনব জয়দেব: জয়দেবের অনুসরণে প্রাপ্ত ।
- মিথিলার কোকিল: সুমিষ্ট পদের জন্য খ্যাত ।

সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যটি বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম ও অন্যতম প্রধান নিদর্শন।
- প্রখ্যাত ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে এই কাব্যের আনুমানিক রচনাকাল ১৪০০ খ্রিস্টাব্দ।
- গবেষক গোপাল হালদারের মতে এর রচনাকাল ১৪৫০-১৫০০ সালের মধ্যে।
- ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়ার কাকিল্যা গ্রাম থেকে এ কাব্যের পুঁথি আবিষ্কার করেন।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিলা গ্রাম থেকে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের পুঁথি উদ্ধার করেন ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- পুঁথিটি কাঁকিলা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘরের মাচা থেকে আবিষ্কৃত হয় ।
- কাব্যটি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন এবং এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস ।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য (১৯৩৫) গ্রন্থটি ড. মুহম্মদ এনামুল হক ও পণ্ডিত আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের যৌথ গবেষণার ফসল।
- বিষয়বস্তু: আরাকান রাজসভার কবি দৌলত কাজী ও আলাওলের সাহিত্যচর্চা এবং মধ্যযুগে তাদের অবদান এতে আলোচিত হয়েছে।
- যৌথ অবদান: আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের সংগৃহীত পুঁথি ও তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ড. এনামুল হক এটি রচনা করেন।
তাই সঠিক উত্তর আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বাংলা সাহিত্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ সময়কালকে যুগসন্ধিক্ষণ বলা হয় ।
- পটভূমি: ১৭৬০ সালে মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের মৃত্যু এবং ১৮৬০ সালে মাইকেলের মাধ্যমে আধুনিক যুগের সূচনার মধ্যবর্তী সময় এটি ।
- বৈশিষ্ট্য: এ সময়ে লৌকিক ধারায় কবিগান, টপ্পাগান ও কবিওয়ালাদের সৃষ্টিশীলতার ব্যাপক আধিপত্য দেখা যায় ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মধ্যযুগের সর্বশেষ শ্রেষ্ঠ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজসভার কবি ছিলেন । রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি তাঁর কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ 'অন্নদামঙ্গল' রচনা করেন । কাব্যটি ১৭৫২–১৭৫৩ খ্রিষ্টাব্দে রচিত হয়, তাই প্রদত্ত অপশন অনুযায়ী ১৭৫৩ খ্রিষ্টাব্দ সঠিক উত্তর । কাব্যটি তিনটি খণ্ডে বিভক্ত এবং এর দ্বিতীয় অংশ বিখ্যাত 'বিদ্যাসুন্দর' কাহিনী ।

সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
'আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য' (১৯৩৫) মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসভিত্তিক একটি বিখ্যাত গবেষণা গ্রন্থ । গ্রন্থটি যৌথভাবে রচনা করেন ড. মুহম্মদ এনামুল হক এবং আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ । এই গ্রন্থে আরাকান বা রোসাঙ্গ রাজসভার কবিদের (যেমন: দৌলত কাজী, মহাকবি আলাওল) সাহিত্য সাধনা ও ঐতিহাসিক অবদান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের আদি কবি বড়ু চণ্ডীদাস ভাগবতের কৃষ্ণলীলা সম্পর্কিত কাহিনী অবলম্বনে, জয়দেবের গীতগোবিন্দ কাব্যের প্রভাব স্বীকার করে, লোকসমাজে প্রচলিত রাধা-কৃষ্ণের প্রেম সম্পর্কিত গ্রাম্য গল্প অবলম্বনে ৪১৮টি পদ, ১৬১টি শ্লোক ও ১৩টি খণ্ডের মাধ্যমে খাঁটি বাংলা ভাষায় রচিত মধ্যযুগের প্রথম কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' রচনা করেন।
- ১৯০৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় নামক এক ব্রাহ্মণের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ এটি উদ্ধার করেন।
- পরে তিনি ১৯১৬ সালে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' থেকে এটি প্রকাশ করেন।
- চরিত্র তিনটি: রাধা (জীবাত্মা বা প্রাণীকুল), কৃষ্ণ (পরমাত্মা বা ঈশ্বর) ও বড়ায়ি (রাধাকৃষ্ণের প্রেমের দূতি)।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- সপ্তদশ শতকের বাঙালি কবি দৌলত কাজী আরাকান রাজসভার আশ্রয়ে-এ 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য রচনা শুরু করেন।
- এটি হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসত' কাব্য অবলম্বনে রচিত।
- কাব্যটি সমাপ্ত করার পূর্বেই দৌলত কাজীর মৃত্যু হয়।
- পরবর্তীকালে আরাকান রাজসভার আরেক বিশিষ্ট কবি আলাওল এই অসমাপ্ত কাব্যের সমাপ্তি ঘটান।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- জ্ঞানদাস ষোড়শ শতকের একজন প্রখ্যাত বৈষ্ণব পদকর্তা ছিলেন।
- 'মুরলীশিক্ষা' তাঁর রচিত একটি উল্লেখযোগ্য গীতিকাব্য।
- তাঁর রচিত পদাবলীতে প্রেম ও ভক্তির গভীর আর্তি ফুটে উঠেছে।
- তাঁর লেখা "রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর" এবং "সুখের লাগিয়ে এ ঘর বান্ধিলুঁ" ইত্যাদি পদ বৈষ্ণব সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
- জ্ঞানদাসকে চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য মনে করা হয় এবং তাঁর পদে চণ্ডীদাসের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

অন্যদিকে,
- 'পদকল্পতরু': এটি একটি বৈষ্ণব পদ সংকলন গ্রন্থ, যা বৈষ্ণবদাস সংকলন করেন।
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন': এটি বড়ু চণ্ডীদাস রচিত একটি আখ্যানকাব্য।
- 'বিদগ্ধমাধব': এটি রূপ গোস্বামী রচিত একটি সংস্কৃত নাটক।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- বৈষ্ণব পদকর্তা গোবিন্দদাসকে 'কবিরাজ' উপাধি প্রদান করেন শ্রীনিবাস আচার্য।
- গোবিন্দদাস ছিলেন চৈতন্য-পরবর্তী যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং তাঁকে 'দ্বিতীয় বিদ্যাপতি' বলেও অভিহিত করা হয়।
- তাঁর পদে বিদ্যাপতির প্রভাব থাকলেও, তিনি ভক্তি ও রসের গভীরতায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে 'কবীন্দ্র' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মধ্যযুগের প্রথম কাব্য এবং বড় চণ্ডীদাস মধ্যযুগের আদি কবি।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের অপর নাম ‘শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ’৷ ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামটি রাখেন বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মােট তেরােটি খণ্ড আছে ।  যথা:
১. জন্ম খণ্ড,
২. তাম্বুল খণ্ড,
৩. দান খণ্ড,
৪. নৌকা খণ্ড,
৫. ভার খণ্ড,
৬. ছত্র খণ্ড,
৭. বৃন্দাবন খণ্ড,
৮. কালিয়দমন খণ্ড,
৯. যমুনা খণ্ড,
১০. হার খণ্ড,
১১. বাণ খণ্ড,
১২. বংশী খণ্ড,
১৩. বিরহ খণ্ড।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- সৈয়দ হামজা ছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর একজন উল্লেখযোগ্য মুসলিম কবি।
- যদিও "আমীর হামজা" এবং "হাতেম তাই"-এর মতো পুঁথি সাহিত্য রচনা করে তিনি বেশি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন, তাঁর কবি প্রতিভার প্রথম প্রকাশ ঘটেছিল রোমান্টিক প্রণয়কাব্য "মধুমালতী"-তে।
- এই কাব্যটি তিনি ১৭৮৮-৮৯ খ্রিস্টাব্দে রচনা করেন।
- এটি মনঝন নামক একজন হিন্দি কবির "মধুমালত" কাব্যের ভাবানুবাদ।
- সৈয়দ হামজার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে "আমীর হামজা", "হাতেম তাই" এবং "জৈগুনের পুঁথি"।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- দৌলত উজির বাহরাম খান বিরচিত লায়লী-মজনু কাব্য রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান কাব্যধারায় একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে স্থান পেয়েছে। 
- পারসিয়ান কবি জামির 'লায়লা ওয়া মজুনুন' থেকে বাংলায় 'লায়লী -মজনু' নামে অনুবাদ করেন দৌলত উজির বাহরাম খান ।
- এর উৎস ইরানকেন্দ্রিক আরবি লোকগাঁথা ।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মের আগেই বাংলায় ভাগবত পুরাণকে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় করার কৃতিত্ব মালাধর বসুর।
- তিনি পঞ্চদশ শতকে ভাগবতের দশম ও একাদশ স্কন্ধ অবলম্বনে 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' কাব্য রচনা করেন।
- এটিই বাংলা ভাষায় প্রথম ভাগবতের অনুবাদ এবং শ্রীকৃষ্ণ বিষয়ক প্রথম কাব্য।
- এই কাব্য রচনার জন্য তৎকালীন গৌড়ের সুলতান রুকনুদ্দিন বারবক শাহ তাঁকে 'গুণরাজ খান' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- মালাধর বসুর সুললিত ও সাবলীল অনুবাদের ফলেই ভাগবতের কৃষ্ণ-কাহিনী বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে যায় এবং পরবর্তী বৈষ্ণব আন্দোলনের পথকে সুগম করে তোলে।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0