সরাসরি মূল কন্টেন্টে যান

মধ্যযুগ

১০৭৩ টি প্রশ্ন
টপিক তালিকা
একই বিষয়ের সব টপিক
ব্যাখ্যা (Explanation)
নাথ সাহিত্য হলো বৌদ্ধ ও শৈব ধর্মের মিশ্রণে গড়ে ওঠা সাহিত্য ধারা ।
- গোরক্ষনাথ (বা গোক্ষকনাথ) হলেন নাথ সাহিত্যের অন্যতম প্রধান চরিত্র ও সিদ্ধাচার্য ।
- এ সাহিত্যের প্রধান কাহিনী মীননাথ ও তাঁর শিষ্য গোরক্ষনাথ এবং রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাসকে ঘিরে গঠিত ।
- অন্যদিকে লুইপা ও কাহ্নপা হলেন 'চর্যাপদ'-এর প্রধান পদকর্তা।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি মহাকবি আলাওল-এর শ্রেষ্ঠ ও প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো পদ্মাবতী (১৬৪৮) ।
- এটি হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর 'পদুমাবৎ' কাব্য অবলম্বনে রচিত একটি রোমান্টিক প্রেমকাব্য ।
- আরাকানের প্রধান অমাত্য মাগন ঠাকুর-এর অনুপ্রেরণায় তিনি কাব্যটি রচনা করেন ।
- চমৎকার রচনাশৈলী, নাগরিক পাণ্ডিত্য ও গভীর ভাবাবেগের জন্য 'পদ্মাবতী' আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি পায় ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
মাওলানা আকরম খাঁ রচিত হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর শ্রেষ্ঠ জীবনচরিত হলো 'মোস্তফা চরিত' (১৯২৩) । এটি মূলত মহানবী (স.)-এর জীবনীভিত্তিক একটি বিখ্যাত সিরাতগ্রন্থ ।
অপশনগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচয়:
- মরুভাস্কর: কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্য/গদ্যগ্রন্থ ।
- বিশ্বনবী: গোলাম মোস্তফা রচিত বিখ্যাত সিরাতগ্রন্থ ।
- মোস্তফা চরিত: মাওলানা আকরম খাঁ রচিত শ্রেষ্ঠ জীবনচরিত ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
- বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (সুকুমার সেন) অনুসারে, মধ্যযুগের আদি কবি বড়ু চণ্ডীদাস রচিত 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের প্রধান তিনটি চরিত্র হলো: রাধা (জীবাত্মা), কৃষ্ণ (পরমাত্মা) ও বড়ায়ি বা বড়াই (রাধাকৃষ্ণের প্রেমের দূতী)।
- ১৯০৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ এই কাব্যের পুঁথি উদ্ধার করেন।
- পরবর্তীতে ১৯১৬ সালে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' থেকে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- জয়দেবের গীতগোবিন্দ এবং লোকসমাজে প্রচলিত রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকাহিনী অবলম্বনে খাঁটি বাংলা ভাষায় রচিত এটি মধ্যযুগের প্রথম কাব্য।
ব্যাখ্যা (Explanation)
- ধর্মমঙ্গল কাব্য হলো বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম শাখা ।
- ধর্মমঙ্গল কাব্যের আদি কবি হলেন ময়ূরভট্ট ।
- তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থের নাম 'হাঙ্কুড়পুরাণ' ।
- ধর্মমঙ্গল কাব্যের কাহিনী দুটি প্রধান পালায় বিভক্ত: রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনী ও লাউসেনের কাহিনী ।
- এই কাব্যের অন্যান্য প্রখ্যাত কবি হলেন রূপরাম চক্রবর্তী ও ঘনরাম চক্রবর্তী ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
ড. দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৬ সালে 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা' প্রকাশিত হয় । এতে সংকলিত মোট গীতিকা বা পালাগানের সংখ্যা ৫৪টি (যা ৫০-এর অধিক) । চন্দ্রকুমার দে নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে এসব লোকগাথা সংগ্রহ করেছিলেন এবং ড. দীনেশচন্দ্র সেন তা সম্পাদনা করেন । অন্যদিকে, 'ময়মনসিংহ গীতিকা'-য় সংকলিত গীতিকার সংখ্যা ছিল ১০টি । তাই সঠিক উত্তর হলো ৫৪টি ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ ? 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা' ও 'ময়মনসিংহ গীতিকা'র সংগ্রাহক ও রচয়িতাদের তালিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা দেখতে চান?
ব্যাখ্যা (Explanation)
মধ্যযুগের চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্যতম কবি ছিলেন শাহ বারিদ খান । তিনি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রাজ্য জয় ও মাহাত্ম্য বর্ণনা করে 'রসূল বিজয়' নামক যুদ্ধকাব্য রচনা করেন ।
- রসূল বিজয়: এটি শাহ বারিদ খানের রচিত একটি বিখ্যাত যুদ্ধকাব্য ।
- অন্যান্য কাব্য: 'নবী বংশ', 'শবে মেরাজ' ও 'রসূল চরিত' কাব্যগুলো কবি সৈয়দ সুলতান-এর রচনা ।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো রসূল বিজয়।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
'শ্রীচৈতন্যভাগবত' হলো বাংলা ভাষায় রচিত শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনীকাব্য, যার রচয়িতা কবি বৃন্দাবন দাস ।
- চৈতন্যচরিতামৃত: কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত শ্রেষ্ঠ জীবনীগ্রন্থ ।
- চৈতন্যমঙ্গল: লোচন দাস রচিত জীবনীকাব্য ।
- শ্রীশ্রী কৃষ্ণ চৈতন্যচরিতামৃত: মুরারি গুপ্ত রচিত সংস্কৃত জীবনীকাব্য ।

সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে অন্ধকার যুগ বলা হয় ।
এর মূল কারণসমূহ:
- ১২০৪ সালে বখতিয়ার খলজীর বাংলা জয়ের পর রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা দেখা দেয় ।
- এই ১৫০ বছরে উল্লেখযোগ্য কোনো সাহিত্য রচিত হয়নি বা সন্ধান মেলেনি ।
ড. হুমায়ুন আজাদের মতে, লিখিত সাহিত্যকর্মের সুস্পষ্ট পরিচয় না পাওয়ায় এ সময়কে অন্ধকার যুগ বলা হয় । তবে একেবারে সাহিত্যহীন ছিল না; 'প্রাকৃতপৈঙ্গল' ও 'শূন্যপুরাণ' এ যুগের সাহিত্যিক নিদর্শন ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ

প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা ওয়েবসাইটে; সবগুলোর সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে অ্যাপ ইন্সটল করুন।

ব্যাখ্যা (Explanation)
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে অন্ধকার যুগ বলা হয় । ১২০৪ সালে ইখতিয়ার উদ্দীন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজীর বাংলা বিজয়ের পর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এ সময়ে কোন মানসম্মত সাহিত্য রচিত হয়নি ।
- কারণ: রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও সাহিত্য সৃষ্টির অভাব
- নিদর্শন: প্রাকৃতপৈঙ্গল, শূন্যপুরাণ ও সেক শুভোদয়া

সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
- বাংলাপিডিয়া ও বাংলা একাডেমির তথ্যানুযায়ী, মহাকবি আলাওল ১৭ শতকের আরাকান রাজসভার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি।
- তিনি ১৬৪৮ সালে ইতিহাস-আশ্রিত রোমান্টিক কাব্য 'পদ্মাবতী' রচনা করেন। এটি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর হিন্দি কাব্য 'পদ্মাবৎ'-এর অবলম্বনে রচিত।
- মূল কাব্য: মালিক মুহম্মদ জায়সীর 'পদ্মাবৎ'।
- অনূদিত কাব্য: আলাওলের 'পদ্মাবতী'।
- পৃষ্ঠপোষক: আরাকান রাজসভার অমাত্য মাগন ঠাকুর।
- আলাওল রচিত অন্যান্য অনুবাদ কাব্যগ্রন্থ: হপ্তপয়কর, তোহফা, সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, সিকান্দরনামা।
ব্যাখ্যা (Explanation)
- বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত 'ইউসুফ-জুলেখা' কাব্যটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মুসলমান কবিগণের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান। শাহ মুহম্মদ সগীর ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি।
- মধ্যযুগের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান (অনুবাদ কাব্যগ্রন্থ):
- ইউসুফ-জুলেখা: অনুবাদক - শাহ মুহম্মদ সগীর, আবদুল হাকিম, গরীবুল্লাহ।
- লায়লী-মজনু: অনুবাদক - দৌলত উজির বাহরাম খান।
- পদ্মাবতী, হপ্তপয়কর, সিকান্দরনামা, তোহফা, সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল: অনুবাদক - আলাওল।
- গুলে বকাওলী: অনুবাদক - নওয়াজিস খান, মুহম্মদ মুকীম।
ব্যাখ্যা (Explanation)
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি, মঙ্গলকাব্যের সর্বশেষ কবি এবং মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি হলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তিনি অন্নদামঙ্গল ধারার প্রধান ও শ্রেষ্ঠ কবি।
- বাংলা একাডেমি ও বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে ৩টি খণ্ডে বিভক্ত 'অন্নদামঙ্গল কাব্য' (১৭৫২-৫৩) রচনা করেন। এ কাব্যের দ্বিতীয় অংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- তাঁর রচিত কাব্যে সংস্কৃত, আরবি, ফারসি ও হিন্দুস্থানি ভাষার আশ্চর্য সংমিশ্রণ লক্ষ করা যায়; যা ড. সুকুমার সেনের মতে আধুনিক যুগের সাহিত্যের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে পরিগণিত হয়।
- ১৭৬০ সালে তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের সমাপ্তি ঘটে।
ব্যাখ্যা (Explanation)
বাংলাপিডিয়া ও বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান অনুযায়ী, মধ্যযুগের আরাকান রাজসভার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে 'তোহফা' কাব্য রচনা করেন।
- এটি ফারসি কবি ইউসুফ গদা রচিত নীতিশাস্ত্রবিষয়ক গ্রন্থ 'তুহফ-ই নসাইহ'-এর বাংলা অনুবাদ।
- রাজসভার অমাত্য সৈয়দ মুহম্মদ খান-এর পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি এটি রচনা করেন।
- নীতি ও ধর্মীয় উপদেশমূলক শিক্ষার জন্য কাব্যটি বাংলা সাহিত্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- আলাওল রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: পদ্মাবতী, সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, হপ্তপয়কর, সিকান্দারনামা।
ব্যাখ্যা (Explanation)
মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের বিকাশ ও পৃষ্ঠপোষকতায় পাঠান শাসকগণ প্রথম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন । পাঠান বা সুলতানি আমলে রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা লাভের মাধ্যমেই বাংলা ভাষা ও সাহিত্য প্রথম স্থায়ী মর্যাদা লাভ করে ।
পাঠান সুলতানদের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অবদান:
- গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ কবি শাহ মুহম্মদ সগীরকে 'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্য রচনায় পৃষ্ঠপোষকতা দেন ।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ ও অন্যান্য সুলতানদের দরবারে কৃত্তিবাস ও মালাধর বসুর মতো কবিরা অনুবাদ সাহিত্য রচনার সুযোগ পান ।
এই দরবারি পৃষ্ঠপোষকতাই বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে তোলে ।

সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
মধ্যযুগের আরাকান রাজসভার কবি মহাকবি আলাওল ১৬৬৪ সালে 'তোহফা' কাব্যটি রচনা করেন । এটি একটি বিখ্যাত নীতি কাব্য ।
কাব্যটির মূল বৈশিষ্ট্য:
- এটি ফরাসি কবি ইউসুফ গদার নীতিশাস্ত্রীয় গ্রন্থ 'তুহফ-ই নসাইহ' অবলম্বনে অনূদিত ।
- এতে ধর্ম, নীতিশাস্ত্র ও সমাজ পরিচালনার উপদেশ বর্ণিত হয়েছে ।
তাই বিষয়বস্তুর বিচারে এটি নীতি কাব্য ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল ও শ্রেষ্ঠ জীবনীগ্রন্থ 'চৈতন্যচরিতামৃত' (১৬১৫) রচনা করেন কৃষ্ণদাস কবিরাজ ।
শ্রীচৈতন্যদেবের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য জীবনীগ্রন্থ:
- বৃন্দাবন দাস: বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থ 'চৈতন্য-ভাগবত' রচনা করেন ।
- লোচন দাস: শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনীগ্রন্থ 'চৈতন্যমঙ্গল' রচনা করেন ।
- মুরারিগুপ্ত: সংস্কৃত ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থ 'শ্রী শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্যচরিতামৃত' রচনা করেন ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
লোকসাহিত্যের অন্যতম প্রাচীন শাখা খনার বচন-এ প্রধানত কৃষি ও আবহাওয়া সংক্রান্ত প্রথাগত জ্ঞান প্রকাশ পেয়েছে । প্রাচীন বাংলার বিদুষী নারী খনার রচিত এই বচনগুলোতে ফসল রোপণ, বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ছড়া স্থান পেয়েছে ।
অন্যান্য শাখা:
- ডাকের কথা: নীতিবাক্য ও মানবচরিত্র কেন্দ্রিক ।
- লোকধাঁধা: বুদ্ধি যাচাই ও বিনোদনমূলক।
- প্রবাদ-প্রবচন: অভিজ্ঞতালব্ধ জীবনদর্শনের প্রকাশ ।
তাই সঠিক উত্তর খনার বচন ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
'মার্সিয়া' শব্দটি আরবি ভাষা থেকে এসেছে, যার মূল অর্থ হলো শোক প্রকাশ করা বা আহাজারি করা । এটি আরবি 'রিসা' শব্দ থেকে উৎপন্ন, যার অর্থ শোক প্রকাশ করা। সাহিত্যিক অর্থে, কারবালার প্রান্তরে নিহত হযরত ইমাম হোসেন ও অন্যান্য শহীদদের স্মরণে রচিত শোককাব্যকে মার্সিয়া সাহিত্য বলা হয় ।
- মূল অর্থ: শোক বা আহাজারি
- উৎস ভাষা: আরবি
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ

নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন — অ্যাপে লাইভ পরীক্ষা দিয়ে মেরিট লিস্টে নিজের অবস্থান দেখুন।

ব্যাখ্যা (Explanation)
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনীগ্রন্থসমূহকে সাধারণভাবে কড়চা বলা হয় । 'কড়চা' শব্দের অর্থ হলো ডায়েরি বা দিনলিপি । শ্রীচৈতন্যদেব ও তাঁর শিষ্যদের জীবনকাহিনি সংক্ষেপে এতে লিপিবদ্ধ করা হতো ।
- সংস্কৃত ভাষায় প্রথম জীবনীগ্রন্থ মুরারি গুপ্তের 'মুরারি গুপ্তের কড়চা' ।
- বাংলা ভাষায় প্রথম জীবনীগ্রন্থ বৃন্দাবন দাসের 'চৈতন্য-ভাগবত' ।

সোর্স: অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪০৯ খ্রি.) মধ্যযুগের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যটি রচনা করেন । এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ।
কাব্যটি সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- এটি পারস্যের কবি আবদুর রহমান জামীর 'ইউসুফ ওয়া জুলায়খা' কাব্যের অনুসরণে রচিত ।
- এই কাব্যের মূল উপজীব্য হলো হযরত ইউসুফ (আ.) ও জুলেখার প্রেমের কাহিনী ।
- শাহ মুহম্মদ সগীরকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মুসলিম কবি বলা হয় ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
'মহাভারতের কথা অমৃত সমান / কাশীরাম দাস ভণে শুনে পুণ্যবান'— চরণ দুটির রচয়িতা কাশীরাম দাস।
- তিনি মধ্যযুগের সতের শতকের কবি এবং বাংলা ভাষায় মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক।
- তিনি সংস্কৃত ভাষায় রচিত বেদব্যাসের মহাভারতকে সাধারণ মানুষের বোধগম্য করে বাংলায় রূপান্তর করেন।
- বাংলা ভাষায় মহাভারতের প্রথম অনুবাদক ছিলেন ষোলো শতকের কবি কবীন্দ্র পরমেশ্বর, তবে কাশীরাম দাসের অনুবাদই সর্বাধিক জনপ্রিয়তা লাভ করে।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
মহাকবি আলাওল ১৬৪৮ সালে তাঁর বিখ্যাত রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান 'পদ্মাবতী' কাব্যটি রচনা করেন ।
- কাব্যটি সুফি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সী রচিত হিন্দি কাব্য 'পদুমাবত'-এর অনুবাদ ও অবলম্বনে রচিত ।
- আরাকান রাজসভার আমাত্য কোরেশী মাগন ঠাকুর-এর উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় আলাওল এটি রচনা করেন ।
- এতে চিতোরের রানা রত্নসেন ও সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীর প্রেমকাহিনী বর্ণিত হয়েছে ।

সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’— অমর পঙ্ক্তিটি মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদাবলির অন্যতম প্রধান কবি চণ্ডীদাসের রচনা ।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের পাশাপাশি মানবপ্রেমের মহিমা প্রকাশ পেয়েছে ।
- চণ্ডীদাস জাত-পাত ও সমাজ-সংস্কারের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে সবার উপরে স্থান দিয়েছেন, এজন্য তাঁকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয় ।
- তাই এই পঙ্ক্তিটি বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য ধারার অন্তর্ভুক্ত ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী রচিত 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের দুটি প্রধান কাহিনী রয়েছে- আখোটিক বা ব্যাধখণ্ড এবং বণিকখণ্ড । ব্যাধখণ্ডের মূল কাহিনী গড়ে উঠেছে ব্যাধ কালকেতু ও তাঁর স্ত্রী ফুল্লরার জীবনসংগ্রাম এবং চণ্ডীদেবীর কৃপালাভকে কেন্দ্র করে । তাই এই খণ্ডের প্রধান চরিত্র কালকেতু ও ফুল্লরা। অন্যদিকে ধনপতি, লহনা ও খুল্লনা মঙ্গলকাব্যের বণিকখণ্ডের চরিত্র ।

সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
মহাকবি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্য 'পদ্মাবতী' (১৬৪৮) হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর বিখ্যাত 'পদ্মাবৎ' কাব্যের অনুসরণে রচিত । আরাকান রাজসভার আমাত্য মাগন ঠাকুরের অনুপ্রেরণায় তিনি এই রোমান্টিক প্রণয়কাব্যটি অনুবাদ করেন । এই কাব্যের মূল পটভূমি হলো চিতোরের রাজা রত্নসেন এবং সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীর প্রেমকাহিনী ।
- উল্লেখ্য, মালিক মুহম্মদ জায়সীর মূল হিন্দি কাব্যটির সঠিক নাম 'পদ্মাবৎ'।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম কাব্য শ্রীকৃষ্ণকীর্তন রচনা করেন কবি বড়ু চণ্ডীদাস । এই কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে (যেমন: জন্ম খণ্ড, তাম্বুল খণ্ড, দান খণ্ড ইত্যাদি) । কাব্যে প্রধান চরিত্র রয়েছে মোট ৩টি । চরিত্রগুলো হলো:
- রাধা (জীবাত্মার প্রতীক)
- কৃষ্ণ (পরমাত্মার প্রতীক)
- বড়ায়ি (প্রেমের দ্যূতি)
তাই সঠিক উত্তর: ১৩টি খণ্ড ও ৩টি প্রধান চরিত্র।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) পণ্ডিত বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরের কাকিল্যা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘরের মাচা থেকে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের পুথি উদ্ধার করেন ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম ও একমাত্র একক কাব্যগ্রন্থ ।
- কাব্যের রচয়িতা মধ্যযুগের আদি কবি বড়ু চণ্ডীদাস ।
- পরবর্তীতে ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে কাব্যটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ।

সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা (Explanation)
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে অন্ধকার যুগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ।
এর প্রধান কারণসমূহ:
- রাজনৈতিক অস্থিরতা: ১২০৪ সালে বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের পর তুর্কি শাসন শুরু হলে সমাজে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় ।
- সাহিত্য সৃষ্টির অভাব: সাময়িক এই বিমূঢ় অবস্থার কারণে এ সময়ে উল্লেখযোগ্য কোনো বাংলা সাহিত্য রচিত হয়নি বা তার সন্ধান পাওয়া যায়নি ।

সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ

এই টপিকের সব প্রশ্ন ব্যাখ্যাসহ, ভুল-সঠিক-বুকমার্ক আলাদা করে রিভিশন — অ্যাপে।

ব্যাখ্যা (Explanation)
'নগরের পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'— এই বিখ্যাত উক্তিটি মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর-এর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের অন্তর্গত ।
কাব্যটি সম্পর্কে কিছু তথ্য:
- ১৭৫২-৫৩ সালে নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে কবি কাব্যটি রচনা করেন ।
- কাব্যের অন্য বিখ্যাত উক্তি: 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে' ।
উক্তিটির অর্থ হলো— কোনো বড় বিপদ বা বিপর্যয় ঘটলে তা থেকে কারোরই রেহাই মেলে না।

সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
সঠিক উত্তর: ০ ভুল উত্তর: ০
নোটিশ

 ✅ টপিক ও সাব-টপিকভিত্তিক জব সলিউশন্স 

২০০৫ – ২০২৬ সাল পর্যন্ত সব জব সলিউশন্স প্রশ্ন টপিক ও সাব-টপিক আকারে যোগ করা হয়েছে — সর্বমোট প্রায় ২৫ হাজার ইউনিক প্রশ্ন। ১২তম – ২০তম গ্রেডের পরীক্ষার্থীরা শুধু এইগুলো পড়লেই হবে।

▶ প্রশ্ন ব্যাংক → অনুশীলন → এরপর উপরের ডানে হলুদ বাটনে ক্লিক করে Job Solutions ফিল্টার করে নিন।
↻ প্রতি সপ্তাহে নতুন জব প্রশ্ন টপিক ও সাব-টপিক আকারে যোগ করা হয়।


 ★ বর্তমান চলমান কোর্স (সব পরীক্ষা website থেকে OMR পদ্ধতিতে দিতে পারবেন) 

১) ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি'র লং কোর্স (১৫৬ দিন)  নতুন 
২) প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (লেকচার শিট ভিত্তিক কোর্স) নতুন 
৩) ‘অগ্রদূত বাংলা’ ৯০ দিনের মাস্টার স্টাডি রুটিন নতুন 
৪) Master English Study (৯৯ দিনের স্পেশাল কোর্স) নতুন 
৫)
১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন — লেকচারশীট ভিত্তিক
৬) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন (স্কুল পর্যায়) — বাংলা 
 নতুন 
৭) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন (কলেজ পর্যায়) — বাংলা 
 নতুন 
৮) ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন — সমাজবিজ্ঞান
৯) ১৯তম নিবন্ধন (প্রভাষক) — গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান
১০) ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি — ২৩৬ দিনে সম্পূর্ণ সিলেবাস
১১) টপিক ভিত্তিক জব সলিউশন রুটিন (১৬৫ দিনের)
১২) প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি (৩য় ব্যাচ)
১৩)  ৫১তম স্পেশাল বিসিএস (স্বাস্থ্য) সমন্বিত প্রস্তুতি রুটিন (মেডিকেল)  নতুন 
১৪) সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী


 ➤ আপকামিং কোর্স ও রুটরশ

✦ ১০তম-১৩তম গ্রেডের প্রস্তুতি।  
◆ ১৪তম-২০তম গ্রেডের প্রস্তুতি।  
◆ ৫২তম বিসিএস প্রস্তুতি।