প্রাচীন যুগ ও চর্যাপদ (378 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে পণ্ডিতগণ প্রধানত তিনটি যুগে ভাগ করেছেন ।
প্রাচীন যুগের সময়সীমা নিয়ে প্রখ্যাত ভাষাবিদদের মতামত নিচে দেওয়া হলো :
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে প্রাচীন যুগের সময়সীমা ৬৫০–১২০০ খ্রিষ্টাব্দ ।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে প্রাচীন যুগের সময়সীমা ৯৫০–১২০০ খ্রিষ্টাব্দ ।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো অপশন ২ ।

সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
প্রাচীন হিন্দু ধর্মগ্রন্থ চার বেদের মধ্যে ঋগ্বেদ হলো সবচেয়ে প্রাচীন । প্রাচীন বৈদিক সাহিত্যেই প্রথম 'বঙ্গ' অঞ্চলের উল্লেখ পাওয়া যায় ।
- ঋগ্বেদে এবং পরবর্তীতে ঋগ্বেদের অন্যতম শাখাগ্রন্থ ঐতরেয় আরণ্যক-এ 'বঙ্গ' শব্দটি জনপদ হিসেবে প্রথম ব্যবহৃত হয় ।
- এই বৈদিক সাহিত্যিক প্রমাণ থেকে প্রাচীন বাংলার ভৌগোলিক অস্তিত্ব ও অধিবাসীদের পরিচয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় ।

সোর্সঃ Basic View (New Edition)
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে তিনটি যুগে ভাগ করা হয়: প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক যুগ । ১৭৬০ সালে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের মৃত্যুর পর মধ্যযুগ শেষ হয় এবং ১৮০০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গদ্যের সূচনা হয়ে ১৮০১ সাল থেকে আধুনিক যুগ শুরু হয় [1-3]। তাই বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সময়সীমা ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত । তবে সাহিত্যে প্রকৃত আধুনিকতা আসে ১৮৬০-১৮৬১ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্তের হাত ধরে ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে যুগসন্ধিক্ষণ বা অবক্ষয় যুগ বলা হয় । ১৭৬০ সালে মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের মৃত্যুর মাধ্যমে মধ্যযুগের সমাপ্তি ঘটে । এরপর ১৮৬০ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্তের আগমনের মাধ্যমে আধুনিক যুগের পূর্ণ বিকাশ ঘটে । মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের অন্তর্বর্তী এই ১০০ বছর সাহিত্যে বন্ধ্যা কাল চলছিল । পুরনো ও নতুন ধারার এই মিলনকালই হলো যুগসন্ধিক্ষণ । এই যুগের প্রধান কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ভাষাতাত্ত্বিক ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তাঁর বিখ্যাত 'ODBL' গ্রন্থে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে বিভিন্ন যুগে ভাগ করেছেন ।
তিনি মধ্যযুগকে মূলত দুটি পর্বে বিভক্ত করেন:
- আদি মধ্যযুগ বা প্রাক্চৈতন্য যুগ: ১৩০০-১৫০০ খ্রিষ্টাব্দ ।
- অন্ত্য মধ্যযুগ বা চৈতন্যোত্তর যুগ: ১৫০০-১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ ।
১৩০০-১৫০০ খ্রিষ্টাব্দ সময়কালটি শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাবের পূর্ববর্তী সময় হওয়ায় ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একে 'আদি মধ্যযুগ বা প্রাক্চৈতন্য যুগ' হিসেবে অভিহিত করেছেন ।

সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- কুটিল লিপি (Kutila Script) ছিল প্রায় ৯ম-১০ম শতকে প্রচলিত পূর্ব ভারতের একটি লিপি।
- এটি মূলত ব্রাহ্মী লিপির পরিণত রূপ। এটি সাধারণত খড়চিহ্নের মতো বাঁকা-বাঁকা রেখা দিয়ে লেখা হতো।
- কুটিল লিপি থেকে আঞ্চলিক লিপি যেমন বাঙালি, অসমীয়া, ও ওড়িয়া লিপি ধীরে ধীরে বিকশিত হয়।
- তাই বলা যায়, দশম শতকের কুটিল লিপি থেকেই সরাসরি আধুনিক বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে।

• উদাহরণ: প্রযোজ্য নয়

• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যাঃ
- ব্রাহ্মী লিপি: এটি ভারতীয় লিপিমালার আদি উৎস, তবে সরাসরি আধুনিক বাংলা লিপির জন্ম দশম শতকের কুটিল রূপ থেকে।
- খরোষ্ঠী লিপি: প্রাচীন ভারতবর্ষের উত্তর-পশ্চিম (বর্তমান পাকিস্তান/আফগানিস্তান) অঞ্চলে ব্যবহৃত লিপি।
- দেবনাগরী লিপি: প্রধানত উত্তর ভারতে হিন্দি, নেপালি, সংস্কৃত ইত্যাদি ভাষা লেখার জন্য ব্যবহৃত লিপি।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত তাঁর গবেষণাগ্রন্থ 'The Origin and Development of the Bengali Language' (ODBL)-এ চর্যাপদের ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিশ্লেষণ করেন । এই আলোচনার মাধ্যমে তিনি প্রথম প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন ।

- গ্রন্থের নাম: ODBL (১৯২৬)
- গবেষক: ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
- অবদান: চর্যাপদের ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
১৮৮২ সালে পণ্ডিত রাজেন্দ্রলাল মিত্র তাঁর 'Sanskrit Buddhist Literature in Nepal' গ্রন্থে নেপালে প্রাপ্ত বৌদ্ধ সাহিত্যের বিবরণ প্রকাশ করেন । এই গ্রন্থের মাধ্যমেই প্রথম চর্যাপদের অস্তিত্বের কথা জানা যায় । পরবর্তীতে ১৯০৭ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবার থেকে মূল পুঁথিটি আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে তা 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় রচিত বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে প্রকাশ করেন ।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
চর্যাপদে সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেছেন কাহ্নপা । তিনি মোট ১৩টি পদ রচনা করেন (যার মধ্যে ২৪ নম্বর পদটি পাওয়া যায়নি) । চর্যাপদের অন্যান্য পদকর্তাদের মধ্যে ভুসুকুপা ৮টি, সরহপা ৪টি, কুক্কুরীপা ৩টি এবং আদি কবি লুইপা ও শবরপা ২টি করে পদ রচনা করেছেন । চর্যাপদের কবিদের নামের শেষে সম্মানসূচক 'পা' যুক্ত রয়েছে । তাই সঠিক উত্তর কাহ্নপা।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মহামহোপাধ্যায় ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে নেপালের রাজদরবারের 'রয়েল লাইব্রেরি' থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী পুঁথি সংগ্রহের জন্য তিনবার (১৮৯৭, ১৮৯৮ ও ১৯০৭ সালে) নেপালে যান এবং ৩য় বার সফল হন।
- চর্যাপদের সাথে তিনি 'ডাকার্ণব', 'সরহপাদের দোহা' ও 'কৃষ্ণপাদের দোহা' পুঁথিও আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে তাঁর সম্পাদনায় এগুলো প্রকাশিত হয়।

সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে প্রধানত ৩টি যুগে ভাগ করা হয় । ঐতিহাসিক ঘটনা ও সামাজিক পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে এই যুগবিভাগ করা হয়েছে । যুগগুলো হলো:
- প্রাচীন যুগ: ৬৫০/৯৫০ থেকে ১২০০ সাল পর্যন্ত ।
- মধ্যযুগ: ১২০১ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত (১২০৪ সালে তুর্কি বিজয়ের পর শুরু) ।
- আধুনিক যুগ: ১৮০১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত (১৮০০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে সূচনা) ।
১৮০০ সালের পর ইংরেজি শিক্ষা ও বাংলা গদ্যের বিকাশের মাধ্যমে আধুনিক যুগের সূচনা হয় ।

সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের রয়েল লাইব্রেরি থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন ।
- পটভূমি: ১২০৪ সালে তুর্কি আক্রমণের সময় বৌদ্ধ পণ্ডিতগণ প্রাণের ভয়ে পুঁথিপত্র নিয়ে নেপালে পালিয়ে যান ।
- আবিষ্কারক: মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তৃতীয়বার চেষ্টা চালিয়ে ১৯০৭ সালে চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার করেন ।
- প্রকাশনা: ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ।

সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- 'নবচর্যাপদ' হলো চর্যাপদের পরবর্তী সময়ে আবিষ্কৃত একটি নতুন পুঁথি।
- ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত নেপাল থেকে এটি সংগ্রহ ও সম্পাদনা করেন।
- এটি ১৯৬৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়।
- অন্যদিকে, মূল চর্যাপদ সংগ্রহ করেছিলেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার থেকে চর্যাপদের মূল পুঁথিটি আবিষ্কার করেন।
- তিনি চর্যাপদের সাথে সরহপাদ ও কৃষ্ণাচার্যের দোহা এবং ডাকার্ণব নামক আরও তিনটি পুঁথি সম্পাদনা করেন।
- এই চারটি পুঁথি একত্রে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে প্রকাশিত হয়।
- এটি ১৩২৩ বঙ্গাব্দে (১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছিল।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন।
- এর বিষয়বস্তু হলো বৌদ্ধ ধর্মমতের সাধন ভজনের তত্ত্বপ্রকাশ।
- এর কবিরা ছিলেন সহজঘানী বৌদ্ধ।
- প্রাচীন বাংলা ভাষার চর্যাপদের মোট ৫০ টি পদের ২৩ জন কবির নাম পাওয়া যায়।
- চর্যাপদে আরও একজন পদকর্তার নাম আছে, কিন্তু তার পদটি নেই। সেটি ধরলে চর্যার পদ সংখ্যা ৫১ এবং কবি ২৪ জন।
- তবে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থ 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে ২৩ জন কবির নাম আছে।
- আর সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' গ্রন্থে ২৪ জন কবির কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেনঃ
» কাহ্নপা - ১৩টি
» ধর্মপা - ১টি
» ঢেণ্ডণপা - ১টি
» ডোম্বিপা - ১টি
» জয়নন্দীপা - ১টি
» কঙ্কণপা - ১টি
» কম্বলাম্বরপ - ১টি
» তাড়কপা - ১টি
» তন্ত্রীপা - ১টি
» বীণাপা - ১টি
» বুরুপা - ১টি
» কুক্কুরীপা - ৩টি
» মহীধরপা - ১টি
» শবরপা - ২টি
» শান্তিপা - ২টি
» আর্যদেবপা ১টি
» ভুসুকুপা - ৮টি
» ভাদেপা - ১টি
» লুইপা- ২ টি
» দারিকাপা - ১টি
» শরহপা - ৪টি
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী প্রথমবার নেপাল ভ্রমণ করেন ১৮৯৭ সালে।
- এই ভ্রমণের উদ্দেশ্য ছিল বৌদ্ধ লোকাচার ও ধর্মীয় পুঁথি সংগ্রহ।
- তিনি নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগারে বিভিন্ন প্রাচীন পুঁথি অনুসন্ধান করেন।
- যদিও চর্যাপদ আবিষ্কার করেন ১৯০৭ সালে, তার আগেই তিনি নেপালে গিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছিলেন।
- ১৮৯৭ সালে তার প্রথম নেপাল ভ্রমণ ছিল বৌদ্ধ ধর্মীয় পুঁথি ও লোকাচার সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে "চর্যাচর্যবিনিশ্চয়" নামক পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- এই পুঁথির সঙ্গে আরও দুটি গ্রন্থ পাওয়া যায়, সেগুলো হলো "ডাকার্ণব" এবং "দোহাকোষ"।
- এই তিনটি গ্রন্থ একত্রে ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে "হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা" নামে প্রকাশিত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন।
- এর বিষয়বস্তু হলো বৌদ্ধ ধর্মমতের সাধন ভজনের তত্ত্বপ্রকাশ।
- এর কবিরা ছিলেন সহজঘানী বৌদ্ধ।
- প্রাচীন বাংলা ভাষার চর্যাপদের মোট ৫০ টি পদের ২৩ জন কবির নাম পাওয়া যায়।
- চর্যাপদে আরও একজন পদকর্তার নাম আছে, কিন্তু তার পদটি নেই। সেটি ধরলে চর্যার পদ সংখ্যা ৫১ এবং কবি ২৪ জন।
- তবে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থ 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে ২৩ জন কবির নাম আছে।
- আর সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' গ্রন্থে ২৪ জন কবির কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেনঃ
» কাহ্নপা - ১৩টি
» ধর্মপা - ১টি
» ঢেণ্ডণপা - ১টি
» ডোম্বিপা - ১টি
» জয়নন্দীপা - ১টি
» কঙ্কণপা - ১টি
» কম্বলাম্বরপ - ১টি
» তাড়কপা - ১টি
» তন্ত্রীপা - ১টি
» বীণাপা - ১টি
» বুরুপা - ১টি
» কুক্কুরীপা - ৩টি
» মহীধরপা - ১টি
» শবরপা - ২টি
» শান্তিপা - ২টি
» আর্যদেবপা ১টি
» ভুসুকুপা - ৮টি
» ভাদেপা - ১টি
» লুইপা- ২ টি
» দারিকাপা - ১টি
» শরহপা - ৪টি

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বাংলা সাহিত্যের যুগকে প্রধান তিনটি পর্বে ভাগ করা যায়ঃ

- প্রাচীন যুগ (৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ)
- মধ্যযুগ (১২০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ)
- আধুনিক যুগ (১৮০১- বর্তমান), অর্থাৎ ১৯শতক থেকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক পর্ব শুরু হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন 'চর্যাপদ' গানের সংকলন বা সাধন সংগীত, যা বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন। এতে বিধৃত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার (রয়েল লাইব্রেরি) থেকে 'চর্যাপদ' আবিষ্কার করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয়', 'ডাকার্ণব, ‘সরহপাদের দোহা' ও 'কৃষ্ণপাদের দোহা' গ্রন্থের সম্মিলনে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা নামে প্রকাশিত হয়।
- এতে পদসংখ্যা ৫১টি এবং পদকর্তা ২৪ জন।
- প্রথম পদের রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ ১৩টি পদের রচয়িতা কাহ্নপা।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে ২৩ জন কবির নাম আছে।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (১ম খণ্ড) গ্রন্থে ২৪ জন কবির নাম পাওয়া গেছে। 
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন 'চর্যাপদ' গানের সংকলন বা সাধন সংগীত, যা বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- এতে বিধৃত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার (রয়েল লাইব্রেরি) থেকে 'চর্যাপদ' আবিষ্কার করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' থেকে 'চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয়', 'ডাকার্ণব, 'সরহপাদের দোহা' ও 'কৃষ্ণপাদের দোহা' গ্রন্থের সম্মিলনে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা নামে প্রকাশিত হয়। 
- প্রথম পদের রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ ১৩টি পদের রচয়িতা কাহ্নপা।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়।
- ১৭৬০ সালে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের মৃত্যুর মাধ্যমে মধ্যযুগের সমাপ্তি ঘটে এবং ১৮০১ সাল থেকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ শুরু হলেও বাংলা কাব্যসাহিত্যে ১৮৬১ সালে 'মেঘনাদবধ' প্রকাশিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত প্রকৃত অর্থে আধুনিকতা শুরু হয়নি।
- এই একশ (১৭৬০ - ১৮৬০) বছর কাব্যে আধুনিকতায় পৌঁছার প্রচেষ্টা চলেছে মাত্র।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত মধ্যযুগের দেব-দেবীর কাহিনী বর্জন করে ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে ছোট ছোট কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তাঁর কবিতায় সমাজচেতনা থেকে শুরু করে দেশাত্মবোধ পর্যন্ত স্পষ্ট হয়ে উঠে।
- আবার তাঁর কবিতায় কবিয়াল ও শায়েরদের রচনার ঢং, পয়ার ও ত্রিপদীর ব্যবহারও লক্ষণীয়।
- তাঁর মধ্যে মধ্যযুগের কাব্য-বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনা-বৈশিষ্ট্য সমানভাবে লক্ষ করা যায় বলে তাকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন 'চর্যাপদ' গানের সংকলন বা সাধন সংগীত, যা বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন। এতে বিধৃত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার (রয়েল লাইব্রেরি) থেকে 'চর্যাপদ' আবিষ্কার করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয়', 'ডাকার্ণব, ‘সরহপাদের দোহা' ও 'কৃষ্ণপাদের দোহা' গ্রন্থের সম্মিলনে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা নামে প্রকাশিত হয়।
- এতে পদসংখ্যা ৫১টি এবং পদকর্তা ২৪ জন।
- প্রথম পদের রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ ১৩টি পদের রচয়িতা কাহ্নপা।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ঋগ্বেদ, যা প্রাচীন ভারতীয় বৈদিক সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ, মূলত বিভিন্ন ঋষি বা মুনিদের দ্বারা রচিত।
- এই গ্রন্থে মোট ১০২৮টি সূক্ত এবং ১০,৫৫২টি মন্ত্র (ঋক) রয়েছে।
- প্রতিটি সূক্ত বা মন্ত্রের রচয়িতা হিসেবে বিভিন্ন ঋষির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
- ঋগ্বেদের রচয়িতাদের সংখ্যা সম্পর্কে বিভিন্ন উৎস থেকে জানা যায় যে, মোট ৩৭৮ জন ঋষি এই গ্রন্থের রচনায় অবদান রেখেছেন।
- এই ঋষিদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি এবং কিছু গোত্র বা পরিবারও অন্তর্ভুক্ত। যেমন, বিশ্বামিত্র, ভরদ্বাজ, অত্রি, কশ্যপ, এবং বাসিষ্ঠ প্রমুখ ঋষিরা ঋগ্বেদের রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- রামাই পণ্ডিত রচিত ৫১টি অধ্যায় সম্বলিত সংস্কৃত ভাষায় গদ্য পদ্য মিশ্রিত চম্পুকাব্য ‘শূন্যপুরাণ, যা বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগের নিদর্শন।
- এতে শূন্যময় দেবতা ধর্মঠাকুরের পূজা পদ্ধতির বর্ণনা আছে বলেই এর নাম রাখা হয় ‘শূন্যপুরাণ’।
- এ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ বা ‘নিরঞ্জনের উম্মাত কবিতায় ব্রাহ্মণ্য শাসনের বদলে মুসলিম শাসন প্রচলনের পক্ষে মনোভাব ব্যক্ত হয়েছে।
- ত্রয়োদশ শতকে প্রাকৃত ভাষায় শ্রীহর্ষ রচিত গীতিকবিতার ·মহাসঙ্কলন প্রাকৃতপৈঙ্গল, যা অন্ধকার যুগের প্রথম সাহিত্যিক নিদর্শন।
- রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি হলায়ুধ মিশ্র সংস্কৃত ভাষায় গদ্য পদ্যে (চম্পুকাব্য) ২৫টি অধ্যায়ে ‘সেক শুভোদয়া’ রচনা করেন।
- শেখের শুভোদয় অর্থাৎ শেখের গৌরব প্রচারই এর মূল উপজীব্য।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- বাংলা সাহিত্যে আধুনিক পর্ব শুরু হয় ১৮০১ সালে অর্থাৎ ১৯ শতকে।
- প্রকৃতপক্ষে আধুনিক যুগ শুরু হয় ১৮৬০ সালের দিকে মাইকেল মধুসূদনের আবির্ভাবের মাধ্যমে।

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগবিভাগ তিনটি।
যথা-
১. প্রাচীন যুগ (৬৫০-১২০০ খ্রি.),
২. মধ্যযুগ (১২০১-১৮০০ খ্রি.) ও
৩. আধুনিক যুগ (১৮০১-বর্তমান)।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০১-১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে অন্ধকার যুগ বলে।
- ১২০৪ সালে বখতিয়ার খলজি কর্তৃক বাংলা দখলের ফলে সমাজে নানা ধরনের অস্থিরতার সৃষ্টি হওয়ার কারণে উল্লেখযোগ্য সাহিত্য সৃষ্টি হতে পারেনি।
- তবে অনেক সাহিত্যিকের মতে, সে সময়ে বিশেষ কোনো সাহিত্য পাওয়া না গেলেও 'প্রাকৃতপৈঙ্গল', 'শূন্যপুরাণ' ও 'সেক শুভোদয়া' সাহিত্য রচিত হয়েছিল।
- সংস্কৃত ভাষায় রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি হলায়ুধ মিশ্র কর্তৃক রচিত ২৫টি অধ্যায়ে গদ্য পদ্যে মিশ্রিত চম্পুকাব্য 'সেক শুভোদয়া'।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
নব চর্যাপদ
- নব চর্যাপদ হলো চর্যাপদের অনুরূপ সাহিত্য।
- এর রচনাকাল ১৩-১৬ শতক।
- ড. অমিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৮৮ সালে কলকাতা হতে নব চর্যাপদ প্রকাশ করেন।
- ১৯৬০ সালে ড. শশীভূষণ দাস নেপাল হতে এটি আবিষ্কার করেন।
- নব চর্যাপদের পদসংখ্যা ২৫০টি কিন্তু প্রকাশিত হয় ৯৮টি পদ। 

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- যে ভাষা সুনির্দিষ্ট রুপ পায়নি, যে ভাষার অর্থ একাধিক অর্থাৎ আলো-আঁধারের মতো, সে ভাষাকে পণ্ডিতগণ সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষা বলেছেন ।
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন 'চর্যাগীতি ' বা চর্যাপদ '
- সান্ধ্য ভাষা সমপর্কে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বলেন 'আলো - আঁধারির ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না' ।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, চর্যাপদের ভাষা সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষা।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের ভাষা 'বঙ্গকামরূপী' ।
- প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদ। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন ।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে এর পদকর্তা ২৩ জন এবং
- ড. সুকুমার সেনের মতে ২৪ জন ।
- সবচেয়ে বেশি ১৩ টি পদের রচয়িতা কাহ্নপা এবং প্রথম রচয়িতা লুইপা ।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0