Solution
Correct Answer: Option A
বৈষ্ণব পদাবলী বা পদাবলী সাহিত্যের আদি কবি হলেন চণ্ডীদাস। তিনি চতুর্দশ শতকের কবি ছিলেন এবং তাঁর পদের ভাষা ও ভাব অকৃত্রিম ও সহজ-সরল। বাংলা পদাবলী সাহিত্যে বিদ্যাপতিও একজন অতি গুরুত্বপূর্ণ কবি, তবে চণ্ডীদাস কালানুক্রমিকভাবে তাঁর পূর্ববর্তী বা সমসাময়িক হয়েও বাংলা ভাষায় পদ রচনায় প্রথম বলে স্বীকৃত।
প্রশ্নের সাথে সম্পর্কিত তথ্যগুলো:
- চণ্ডীদাসকে ‘পদের আদি কবি’ বলা হয়।
- পদাবলী সাহিত্যের প্রধান উপজীব্য হলো রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমলীলা।
- বৈষ্ণব পদাবলীতে ‘রস’ পর্যায়ের পদগুলো মূলত পাঁচ প্রকার: শান্ত, দাস্য, সখ্য, বাৎসল্য ও মধুর।
- বৈষ্ণব পদাবলী সাহিত্যে ব্রজবুলি নামের এক কৃত্রিম মিশ্র ভাষার ব্যবহার দেখা যায়, তবে চণ্ডীদাস মূলত বাংলা ভাষাতেই পদ রচনা করেছেন।
- বিদ্যাপতিকে বাংলা সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যদিও তিনি মিথিলার কবি ছিলেন এবং মৈথিলী ও ব্রজবুলি ভাষায় পদ রচনা করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিদ্যাপতিকে 'মৈথিল কোকিল' উপাধি দিয়েছিলেন।
• চণ্ডীদাস সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- চণ্ডীদাস সমস্যা: বাংলা সাহিত্যে একাধিক চণ্ডীদাসের অস্তিত্ব নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে, তাকে ‘চণ্ডীদাস সমস্যা’ বলা হয়। পন্ডিতদের মতে অন্তত তিনজন চণ্ডীদাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায় (বড়ু চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস, দীন চণ্ডীদাস)।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: বড়ু চণ্ডীদাস রচিত এই কাব্যগ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের আদি নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত। এটি ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামের এক গোয়ালঘর থেকে উদ্ধার করেন।