বাংলা ভাষার ঠিক পূর্ববতী রূপ চর্যার ভাষায় লক্ষযোগ্য। চর্যার ভাষা হচ্ছে সঙ্কেতের ভাষা। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বলেছেন- এ জন্যই তার নাম সন্ধ্যা / সান্ধ্য / আলো আাঁধারী ভাষা। তিনি বলেছেন সন্ধ্যা ভাষা মানে আলো আধাঁরি ভাষা , কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না অর্থাৎ এই সকল উচু অঙ্গের ধর্মকথার ভিতরে একটা অন্যভাবের কথাও আছে। গুহ্য ধর্মতত্ত্ব ও যোগ সাধনের কথা প্রহেলিকাময় ভাষায় সাঙ্কেতিক ভঙ্গিতে ব্যঞ্জিত হয়েছে বলে চর্যাপদের ভাষা সন্ধ্যাভাষা নামে পরিচিত। বিধু শেখর শাস্ত্রী সন্ধ্যাভাষাকে বলেছেন সন্ধাভাষা। সন্ধাভাষার অর্থ অভিপ্রায়িক ভাষা। একে সন্ধিভাষাও বলা যায় কারণ এই ভাষা প্রাকৃত ও প্রাচীন বাংলার সন্ধিস্থলে অবস্থিত। ম্যক্সমুলারের মতে, চর্যাপদের ভাষা হলো প্রচ্ছন্ন ভাষা। ডঃ সুকুমার সেন বলেন-“সন্ধা ভাষার শব্দের বাহ্য অর্থ এক, আর ভিতরের অর্থ সম্পূর্ণ অন্য।” চর্যার বাইরের অর্থ বোঝা গেলেও ভিতরের অর্থ সহজে বোঝা যেত না। এই ভাষায় যা প্রকাশ পায় তার চেয়ে বেশি অস্পষ্টই থেকে যায়। এ ভাষার নমুনা-
“উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহি বসই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবরী গীবত গুঞ্জরী মালী||”