Solution
Correct Answer: Option D
⇒ বাংলা উপন্যাসে ‘চেতনা প্রবাহ’ রীতির সার্থক ও নিপুণ প্রয়োগকারী হিসেবে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহকে অগ্রগণ্য বিবেচনা করা হয়।
⇒ তাঁর রচিত ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ (১৯৬৮) উপন্যাসে এই রীতির চূড়ান্ত ও সফল প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়। এই উপন্যাসে তিনি প্রথাগত কাহিনীর বদলে চরিত্রের অবচেতন মনের ভাবনা ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
⇒ ‘চেতনা প্রবাহ’ রীতি হলো এমন এক ধরণের আখ্যান কৌশল, যেখানে চরিত্রের মনের ভেতরকার বিচ্ছিন্ন চিন্তা, স্মৃতি, অনুভূতি এবং কল্পনার স্রোতকে কোনো রকম ভনিতা ছাড়াই সরাসরি তুলে ধরা হয়।
⇒ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘চাঁদের অমাবস্যা’ (১৯৬4) উপন্যাসেও এই রীতির আংশিক ও পরীক্ষামূলক প্রয়োগ দেখা যায়, যেখানে যুবক শিক্ষক আরেফ আলীর মনের গভীর দোদুল্যমানতা ও অস্তিত্বের সংকট মূর্ত হয়ে উঠেছে।
⇒ ইউরোপীয় সাহিত্যে জেমস জয়েস বা ভার্জিনিয়া উলফ যেমন এই রীতিতে সিদ্ধহস্ত ছিলেন, বাংলা সাহিত্যে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ঠিক তেমনিভাবে চরিত্রের মনের গহীনে ডুব দিয়ে তাদের নিঃসঙ্গতা ও হতাশার চিত্র এঁকেছেন।
⇒ তাঁর লেখনীতে ঘটনার ঘনঘটার চেয়ে চরিত্রের মনের প্রতিক্রিয়া এবং অবচেতন স্তরের চিন্তার এলোমেলো স্রোত প্রধান হয়ে ওঠে, যা বাংলা কথাসাহিত্যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।