Solution
Correct Answer: Option C
নাথ সম্ভবত তিব্বত শব্দ এবং 'নাথ'মাত্রই অভিধায় বৌদ্ধ সম্পৃক্ত। তাঁতিশ্রেণির বৌদ্ধরাই প্রধানত নাথপন্থী। এরা নাথযোগী বা যুগী নামে পরিচিত। এদেরই একটি বিরাট অংশ ইসলাম বরণ করে জোলা (জুলহা) নামে পরিচিত হয়েছে।
জর্জ গ্রিয়ার্সন উত্তরবঙ্গের কৃষকদের মুখ হতে যে নাথ সাহিত্য সংগ্রহ করেছিলেন তার ভাষা অর্বাচীনকালের । এর ভাষা প্রাকৃত-প্রধান বাংলা। বিষয়বস্তুর প্রাচীনতায় এটি আদি যুগের সাহিত্য বলে ধারণা করা হলেও ভাষার অর্বাচীনতার জন্য একে মধ্যযুগের অন্তর্গত বলে বিবেচনা করা হয়।
আদিনাথ শিব, মীননাথ, হাড়িপা, কানুপা - এই চারজন সিদ্ধাচার্যের মাহাত্ম্যসূচক অলৌকিক কাহিনী অবলম্বনে নাথ সাহিত্যের বিকাশ ঘটে। দশম ও একাদশ শতক ছিল নাথ ধর্মের বিকাশের ঐতিহাসিক যুগ এবং নাথ ধর্মের এই শ্রেষ্ঠ যুগেই নাথ সাহিত্যের সূচনা। নাথ সাহিত্যে আদিনাথ শিব, পার্বতী, মীননাথ, গোরক্ষনাথ, হাড়িপা, কানুপা, ময়নামতি ও গোপীচন্দ্রের আখ্যান প্রভৃতি সাহিত্যিক নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য ।
১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দে জর্জ গ্রিয়ার্সন রংপুর থেকে সংগৃহীত একটি গীতিকা ‘মানিক রাজার গান' নামে প্রকাশ করেন। পরবর্তীকালে উত্তর ও পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল হতে একই কাহিনীভিত্তিক পুঁথি আবিষ্কৃত হয়েছে। আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ শেখ ফয়জুল্লাহর ‘গোরক্ষবিজয়’ আবিষ্কার করেন। 'গোরক্ষবিজয়' এর ষোলখানা পুথি সংগৃহীত হয়েছে।
এছাড়া ‘গোৰ্খবিজয়’ প্রকাশ করেছেন পঞ্চানন মণ্ডল। এসব গ্রন্থ থেকে নাথ সাহিত্যের পরিচয় মেলে। গোরক্ষনাথের মহিমা বিষয়ক কাহিনী এবং ময়নামতী ও গোপীচন্দ্রের আখ্যান নাথ সাহিত্যের সাহিত্যিক নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য। নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্পকাহিনী এতে বিধৃত। নাথ সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য কবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ, শ্যামদাস সেন, ভীম সেন, ভবানী দাস, শুকুর মহম্মদ, দুর্লভ মল্লিক।
বাংলা সাহিত্যে শাক্তধারার প্রবর্তক রামপ্রসাদ সেন । তার নামে প্রচারিত পদের সংখ্যা তিন শতাধিক মহারাজ কৃষ্ণ চন্দ্র রায় তার গান শুনে মুগ্ধ হয়ে তাকে ‘কবিরঞ্জন’ উপাধি দেন । বিদ্যাসুন্দর ও কালীকীর্তন তার উল্লেখযোগ্য কবিতাগ্রন্থ