বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে বিশেষ এক শ্রেণির ধর্মবিষয়ক আখ্যান কাব্য মঙ্গলকাব্য নামে পরিচিত। বলা হয়ে থাকে, যে কাব্যে দেবতার আরাধনা, মাহাত্ম্য-কীর্তন করা হয়, যে কাব্য শ্রবণেও মঙ্গল হয় এবং বিপরীতে হয় অমঙ্গল; যে কাব্য মঙ্গলাধার, এমন কি, যে কাব্য ঘরে রাখলেও মঙ্গল হয় তাকে বলা হয় মঙ্গলকাব্য।
- মঙ্গলকাব্যের মধ্যে প্রাচীনতম শাখা— মনসামঙ্গল। রচিত: সর্প দেবী মনসা/পদ্মাবতীর কাহিনী অবলম্বনে।
- এ কাব্য ধারার ২২ জন কবির নাম পাওয়া যায়। কাব্যে রূপায়িত হয়েছে— মনসা দেবীর পূজা প্রচার ও দেবীর গুণকীর্তন।
- মনসা দেবীর অপর নাম— কেতকা ও পদ্মাবতী।
- ড. দীনেশচন্দ্র সেনের মতে এ সাহিত্য ধারার কবি ৬২ জন।
- মঙ্গলকাব্য প্রধানত ২ প্রকার। (পৌরাণিক মঙ্গল ও লৌকিক মঙ্গল)।
- মঙ্গলকাব্যের অংশ ৫টি যথাঃ বন্দনা, আত্মপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড, শ্রুতিফল। কোন কোন মতে মঙ্গল কাব্যের বিষয়বস্তু ৪টি অংশে বিভক্ত। যথা- বন্দনা, আত্মপরিচয়, দেবখণ্ড এবং নরখণ্ড ও আখ্যায়িকা।