Solution
Correct Answer: Option C
- বাংলা ভাষায় যেসব অব্যয় শব্দ বা শব্দাংশ বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে পৃথকভাবে বসে শব্দবি্ভক্তির ন্যায় কাজ করে এবং কারক সম্পর্ক স্থাপন করে, তাদেরকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো বিভক্তির মতো কাজ করে বলে এদের 'অনুসর্গ বিভক্তি'ও বলা হয়।
- 'জন্য' অনুসর্গটি সাধারণত নিমিত্ত বা উদ্দেশ্য অর্থে ব্যবহৃত হয়। বাক্যে যখন কোনো কিছুর উদ্দেশ্যে বা কারো খাতিরে কোনো কাজ করা বোঝায়, তখন এই অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়।
• উদাহরণ:
- এ সম্পদ তোমার জন্য: এখানে সম্পদটি 'তোমার উদ্দেশ্যে' বা 'তোমার নিমিত্তে' বরাদ্দ, তাই এটি নিমিত্ত অর্থ প্রকাশ করছে।
- স্বদেশের জন্য প্রাণ দাও: এখানেও দেশের উদ্দেশ্যে বা নিমিত্তে প্রাণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
- ব্যাপ্তি: কোনো কিছু কতদূর বিস্তৃত বা কতক্ষণ স্থায়ী, তা বোঝাতে 'ব্যাপ্তি' অর্থ ব্যবহৃত হয়। যেমন: 'সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত' (এখানে 'পর্যন্ত' ব্যাপ্তি বোঝাচ্ছে)। 'জন্য' সাধারণত ব্যাপ্তি বোঝায় না।
- সঙ্গে: কারো সাথে থাকা বা সঙ্গী হওয়া বোঝাতে 'সঙ্গে' ব্যবহৃত হয়। যেমন: 'বাবার সঙ্গে মেলায় যাব'। 'জন্য' দিয়ে সাহচর্য বা সঙ্গী হওয়া বোঝায় না।
- মালিকানা: কোনো কিছুর ওপর অধিকার বা স্বত্ব বোঝাতে মালিকানা ব্যবহৃত হয়। যদিও বাক্যটিতে সম্পদের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু ব্যকরণগতভাবে 'জন্য' শব্দটি এখানে মালিকানা নয়, বরং যার উদ্দেশ্যে সম্পদটি রাখা হয়েছে, সেই উদ্দেশ্য বা নিমিত্ত নির্দেশ করছে।
নোট: ব্যাকরণগতভাবে 'জন্য', 'নিমিত্ত', 'তরে', 'লেগে' শব্দগুলো নিমিত্ত কারক বা সম্প্রদান কারক এর ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, যার সাধারণ অর্থ হলো 'কারো মঙ্গলের বা উপকারের উদ্দেশ্যে'।