দ্বিরুক্ত শব্দ (177 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):

- 'ধপ+ধপ' থেকে 'ধপাধপ' শব্দটি অসমীকরণ (Dissimilation) প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ।
- যখন দুটি একই রকম ধ্বনি বা শব্দের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে একটি স্বরধ্বনির আগমন ঘটে, তখন তাকে অসমীকরণ বলা হয়।

- এখানে 'ধপ' শব্দটি দুবার উচ্চারিত হয়েছে। এই পুনরাবৃত্তির ফলে সৃষ্ট একঘেয়েমি দূর করার জন্য মাঝখানে একটি 'আ' স্বরধ্বনি যুক্ত হয়ে 'ধপাধপ' শব্দটি গঠিত হয়েছে।
- এর ফলে উচ্চারণ সহজ এবং শ্রুতিমধুর হয়। একই ধরনের আরও উদাহরণ হলো 'টপ+টপ' থেকে 'টপাটপ'।

i
ব্যাখ্যা (Explanation):
⇒ সঠিক উত্তর: ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।
• কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলা হয় এবং এই শব্দের পরপর দুবার প্রয়োগকে ‘ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি’ বলে।
• ‘হাপুস হুপুস’ শব্দটি দিয়ে মূলত গোগ্রাসে বা খুব দ্রুত শব্দ করে কিছু খাওয়ার একটি কাল্পনিক অনুভূতি বা শব্দকে বোঝানো হয়।
• বাংলা ব্যাকরণে যুগ্মরীতিতে গঠিত ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তির ক্ষেত্রে প্রথম শব্দের সাথে মিল রেখে দ্বিতীয় শব্দের স্বরের সামান্য পরিবর্তন করা হয়।
• যেমন— টাপুর টুপুর (বৃষ্টি পড়ার শব্দ), কিচির মিচির (পাখির ডাক), ঠিক তেমনি ‘হাপুস হুপুস’ গোগ্রাসে খাওয়ার কাল্পনিক শব্দ নির্দেশ করে।
• যেহেতু এটি কোনো বাস্তব বা কাল্পনিক শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়ে দ্বিরুক্ত হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, তাই এটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তির একটি নিখুঁত উদাহরণ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
'বীপ্সা' কথাটির অর্থ হলো বারবার বা প্রতিটি বোঝানো।
- 'পথে পথে সে কথা রটে গেল' বাক্যটিতে 'পথে পথে' বলতে 'প্রতিটি পথে' বা সব স্থানে বোঝানো হয়েছে।
- কোনো শব্দ পরপর দুবার বসে যখন 'প্রতিটি' বা 'ব্যাপ্তি' অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে বীপ্সা অর্থে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
তাই এখানে এটি বীপ্সা অর্থে ব্যবহৃত।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- শব্দদ্বিত্ব তিন ধরনের: অনুকার দ্বিত্ব, ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।
- অনুকার দ্বিত্বঃ পরপর প্রয়ােগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়, যেমন-অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বঃ কোনাে প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলােকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। যেমন –ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। কোনাে ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনাে ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনাে ততােধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়। যেমন –কুটুস-কুটুস, খক খক, খুটুর-খুটুর, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, ইত্যাদি।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বঃ পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন – জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, ভালো ভালো, জোরে জোরে ইত্যাদি।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বাংলা ব্যাকরণে এমন কিছু শব্দ আছে যা শুনতে প্রায় একই রকম, কিন্তু তাদের অর্থ সম্পূর্ণ আলাদা। এগুলোকে প্রায় সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ বলে।
- ফিক শব্দটির অর্থ হলো মৃদু হাসি বা মুচকি হাসি। যেমন আমরা কথায় বলি, 'ফিক করে হাসা'।
- ফীক শব্দটির অর্থ হলো বসন্তের সুরেলা পাখি কোকিল
তাই এই শব্দজোড়টির সঠিক অর্থ 'মৃদু হাসি - কোকিল'।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারায় কোনাে শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে।
- শব্দদ্বিত্ব তিন ধরনের: অনুকার দ্বিত্ব, ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব। 
- অনুকার দ্বিত্বঃ পরপর প্রয়ােগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়, যেমন-অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর
 
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বঃ কোনাে প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলােকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন –ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। কোনাে ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনাে ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনাে ততােধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়। যেমন –কুটুস-কুটুস, খক খক, খুটুর-খুটুর, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, ইত্যাদি।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব: পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমনঃ
- বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালাে ভালাে (কথা), কত কত (লােক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।
- বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- যে সকল অব্যয় রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, তাকে ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।
- এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব বা আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়।
- যেমন: বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এল বান।প্রদত্ত উদাহরণে 'টাপুর টুপুর' ধ্বন্যাত্মক শব্দটি বৃষ্টির ধ্বনির অবস্থাকে প্রকাশ করেছে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
একই বিভক্তি যুক্ত পদের পরপর দুবার ব্যবহারকে পদের দ্বিরুক্তি বা পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলে।

১. দুটি পদে একই বিভক্তি প্রয়োগ করা হয়, শব্দ দুটি ও বিভক্তি অপরিবর্তিত থাকে। যেমন- ঘরে ঘরে লেখাপড়া হচ্ছে। দেশে দেশে ধন্য ধন্য করতে লাগল। মনে মনে আমিও এ কথাই ভেবেছি।
২. পদের দ্বিরুক্তির ক্ষেত্রে দ্বিতীয় পদের আধুনিক ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটে, কিন্তু পদ বিভক্তি একইরকম অবিকৃত থাকে। যেমন- চোর হাতে নাতে ধরা পড়েছে। আমার সন্তান যেন দুধে ভাতে থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):

- বাংলা ভাষায় কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলোকে দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগেই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়। ভাবের গভীরতা বোঝাতে অব্যয়ের দ্বিরুক্তি বা দ্বিত্ব হয়। যেমন: ছি! ছি! তুমি এত খারাপ।

- ভাবের ধারাবাহিকতা বোঝাতে পদের দ্বিরুক্তি বা দ্বিত্ব হয়। যেমন: তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ।

- দ্বিরুক্ত শব্দ ৩ প্রকার- শব্দের দ্বিরুক্তি, পদের দ্বিরুক্তি ও অনুকার দ্বিরুক্তি

অব্যয় পদের দ্বিরুক্তি -
১. ভাবের গভীরতা বোঝাতেঃ সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
২. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতেঃ
    বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
৩. অনুভূতি বা ভাব বোঝাতেঃ
    ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
৪. বিশেষণ বোঝাতেঃ
   পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।
৫. ধ্বনিব্যঞ্জনাঃ
    ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- যেমন: এলোমেলো, অঙ্ক-টঙ্ক, আম- টাম, কেক-টেক, ঘর-টর, গরু-টরু, ছাগল-টাগল, ঝাল- টাল, আগড়ম-বাগড়ম, চাকর-বাকর, ঝিলমিল, শেষ-মেষ, অল্পস্বল্প, গুটিশুটি, মোটাসোটা, নরম-সরম, বুঝে-সুঝে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- পরপর প্রয়ােগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
যেমন- অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর, গরু-টরু, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, টাটু-ফাটু, আগড়ম-বাগড়ম, চাকর-বাকর, এলােমেলাে, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল, শেষ মেষ, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, মােটাসােটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝেসুঝে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
-অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারায় কোনাে শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে।
-শব্দদ্বিত্ব তিন ধরনের: অনুকার দ্বিত্ব, ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব। 
-অনুকার দ্বিত্বঃ পরপর প্রয়ােগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়, যেমন-অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর
 
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বঃ কোনাে প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলােকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। যেমন –ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। কোনাে ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনাে ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনাে ততােধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়। যেমন –কুটুস-কুটুস, খক খক, খুটুর-খুটুর, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, ইত্যাদি।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বঃ পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন – জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

(নবম-দশম শ্রেনীর পুরাতন বইয়ে এই অধ্যায়টার নাম ছিল দ্বিরুক্ত শব্দ এবং ধন্যাত্মক ও অনুকার কে একই বলা হলেও নতুন বইয়ে এই অধ্যায়ের নাম শব্দদ্বিত্ব এবং ধন্যাত্মক ও অনুকার কে আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে)
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- যে সকল অব্যয় রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, তাকে অনুকার অব্যয় বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।
- এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব বা আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়।
- যেমন: বাতাসের গতি → শন শন; মেঘের গর্জন  → গুড় গুড়; কোকিলের রব → কুহু কুহু ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারায় কোনাে শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে।
- শব্দদ্বিত্ব তিন ধরনের: অনুকার দ্বিত্ব, ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব। 
- অনুকার দ্বিত্বঃ পরপর প্রয়ােগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়, যেমন-অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর
 
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বঃ কোনাে প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলােকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন –ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। কোনাে ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনাে ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনাে ততােধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়। যেমন –কুটুস-কুটুস, খক খক, খুটুর-খুটুর, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, ইত্যাদি।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব: পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমনঃ
- বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালাে ভালাে (কথা), কত কত (লােক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।
- বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। ঠন শব্দটি পর পর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।

- কয়েকটি ধ্বন্যাত্বক দ্বিত্বের উদাহরণ:
চকচক, জ্বলজ্বল, থকথকে, কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস কুটুস, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঢং ঢং, ঝমঝম, ধুপ ধুপ, শোঁ শোঁ ইত্যাদি।

- কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন: খপাখপ, হবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। ঠন শব্দটি পর পর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।

- কয়েকটি ধ্বন্যাত্বক দ্বিত্বের উদাহরণ:
চকচক, জ্বলজ্বল, থকথকে, কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস কুটুস, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঢং ঢং, ঝমঝম, ধুপ ধুপ, শোঁ শোঁ ইত্যাদি।

- কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন: খপাখপ, হবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- একই শব্দ পরপর দুই বার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে । 

দ্বিরুক্ত শব্দের প্রকারভেদ
দ্বিরুক্ত শব্দ মূলত তিন প্রকার। যথা :
ক. শব্দের দ্বিরুক্তি : একই শব্দ দুবার ব্যবহারকে শব্দের দ্বিরুক্তি বলে। যেমন : ভালো ভালো ফল, ফোঁটা ফোঁটা পানি, বড় বড় দালান ইত্যাদি।

খ. পদের দ্বিরুক্তি : একই পদ দুবার ব্যবহার হলে তাকে পদের দ্বিরুক্তি বলে। যেমন : ঘরে ঘরে, দেশে দেশে, মনে মনে ইত্যাদি।

গ. অনুকার দ্বিরুক্তি : কোনো কিছুর ধ্বনি, ডাক, আওয়াজ ও কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে অনুকার দ্বিরুক্তি বলে। যেমন : মিউমিউ, ঘেউঘেউ, টাপুর টুপুর ইত্যাদি।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বিভিন্ন পদরূপে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার-
বিশেষ্য- বৃষ্টির ঝমঝমানি আমাদের অস্থির করে তোলে,
বিশেষণ- নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়,
ক্রিয়া- কলকলিয়ে উঠিল সেথায় নারীর প্রতিবাদ,
ক্রিয়া বিশেষণ- চিকচিক করে বালি কোথা নাই কাদা।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বিভিন্ন পদরূপে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার-
বিশেষ্য- বৃষ্টির ঝমঝমানি আমাদের অস্থির করে তোলে,
বিশেষণ- নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়,
ক্রিয়া- কলকলিয়ে উঠিল সেথায় নারীর প্রতিবাদ,
ক্রিয়া বিশেষণ- চিকচিক করে বালি কোথা নাই কাদা।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
উচ্চারণের সময় শব্দ মধ্যস্থিত কোনো বর্ণ দুবার উচ্চারিত হলে তাকে বর্ণ দ্বিত্ব বলে। যথা- ছোট>ছোট্ট, বড়>বড্ড, একেবারে>এক্কেবারে, এতটুকু>এত্তটুকু ইত্যাদি।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বিভিন্ন পদরূপে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার-
বিশেষ্য- বৃষ্টির ঝমঝমানি আমাদের অস্থির করে তোলে,
বিশেষণ- নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়,
ক্রিয়া- কলকলিয়ে উঠিল সেথায় নারীর প্রতিবাদ,
ক্রিয়া বিশেষণ- চিকচিক করে বালি কোথা নাই কাদা।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
'ছোট ছোট জমি বিক্রি করে দাও' বাক্যে 'ছোট ছোট' দ্বিরুক্ত শব্দটি দিয়ে জমির আকার বা পরিমাণ খুবই অল্প বা ক্ষুদ্র বোঝানো হয়েছে।
- যখন কোনো শব্দ পরপর দুবার বসে কোনো কিছুর অল্পতা, সামান্য অবস্থা বা ক্ষুদ্রতাকে বিশেষভাবে বোঝায়, তখন তা সামান্যতা অর্থ প্রকাশ করে।
- এখানে জমির ক্ষুদ্রতাকে জোর দিয়ে বোঝাতেই শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।

সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
'কাটিতে কাটিতে ধান এল বর্ষা' বাক্যে 'কাটিতে কাটিতে' অসমাপিকা ক্রিয়াটি দুবার ব্যবহৃত হয়েছে ।
- এর মাধ্যমে ধান কাটার কাজটি না থেমে একটানা চলতে থাকাকে বোঝানো হয়েছে।
- ব্যাকরণে কোনো কাজ অবিরাম চলতে থাকলে তাকে নিরন্তরতা বলে ।
যেহেতু কাজটি শেষ না হয়ে একটানা চলছে, তাই এটি 'নিরন্তর' অর্থে ব্যবহৃত।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বাক্যে লুচিমুচি শব্দটি বিকার বা অনীহা প্রকাশ করছে ।
- সাধারণত আমরা যখন কোনো কিছু পছন্দ করি না বা কোনো কিছুর প্রতি আমাদের আগ্রহ থাকে না, তখন মূল শব্দের সাথে একটি অর্থহীন ধ্বনি জুড়ে দিই।
- এখানে 'লুচি' খাওয়ার প্রতি বক্তার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। তাই এই অনাগ্রহ বা অনীহা বোঝাতেই লুচিমুচি শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
বাংলায় কিছু দ্বিরুক্ত শব্দ বাক্যের প্রয়োগের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে।
- 'হাড়ে হাড়ে' বোঝায় আধিক্য
- 'চোখে চোখে' বোঝায় সতর্কতা।
- 'ভাবতে ভাবতে' বোঝায় ধারাবাহিকতা।
- কিন্তু 'বাছা বাছা' শব্দটি বাক্যের প্রয়োজনে আধিক্যস্বল্পতা উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- বাংলা ভাষায় কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলোকে দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে।
- এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগেই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
- একই শব্দ পরপর দুই বার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
- যেমন: ডেকে ডেকে হয়রান হচ্ছি। প্রসন্ত বাক্যে 'ডেকে ডেকে' দ্বিরুক্ত শব্দ দ্বারা ক্রিয়াবাচক শব্দের পৌনঃপুনিকতা বোঝানো হয়েছে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
⇒ বাংলা ব্যাকরণে একই শব্দ পরপর দুবার ব্যবহৃত হয়ে বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
⇒ দ্বিরুক্ত শব্দ প্রধানত কয়েকভাবে গঠিত হয়; এর মধ্যে বিভক্তিযুক্ত পদের দুবার ব্যবহারকে 'পদাত্মক দ্বিরুক্তি' বা 'পদের দ্বিরুক্তি' বলা হয়।
⇒ প্রশ্নে প্রদত্ত 'হাটে হাটে বিকিয়ে তোর ভরা আপণ' বাক্যে মূল শব্দ 'হাট'-এর সাথে 'এ' (৭মী) বিভক্তি যুক্ত হয়ে 'হাটে' পদটি গঠিত হয়েছে।
⇒ এখানে 'হাটে' পদটি অবিকৃত অবস্থায় পরপর দুবার (হাটে হাটে) ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থের ধারাবাহিকতা ও ব্যাপ্তি বুঝিয়েছে।
⇒ যেহেতু বিভক্তিযুক্ত পদ একইরূপে দুবার ব্যবহৃত হয়েছে, তাই এটি পদাত্মক দ্বিরুক্তির একটি নিখুঁত উদাহরণ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ধ্বন্যাত্মক শব্দ হলো কোনো ধ্বনি বা আওয়াজের অনুকরণে তৈরি শব্দ ।
- টুপটাপ: বৃষ্টির শব্দ।
- ভনভন: মাছি উড়ার শব্দ।
- ঝিরঝির: বাতাসের শব্দ।
কিন্তু টলটল দ্বারা কোনো আওয়াজ বোঝায় না। এটি মূলত পানির স্বচ্ছতা বা পরিষ্কার অবস্থা বোঝাতে ব্যবহৃত একটি অনুকার বা ভাব প্রকাশক শব্দ। তাই এটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ নয় ।
সোর্সঃ ,
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
যেসব শব্দ কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনি বা জীবজন্তুর ডাকের অনুকরণে তৈরি হয়, তাকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি বলে ।
- ঘেউ ঘেউ হলো কুকুরের ডাক বা ধ্বনির অনুকরণ, তাই এটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তির উদাহরণ ।
- অন্যদিকে 'চোখে চোখে' বিশেষ্য এবং 'কেউ কেউ' সর্বনাম পদের দ্বিরুক্তি।
সোর্সঃ অগ্রদূত বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- যে সকল অব্যয় রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, তাকে ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।

- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব বা আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়। যেমন: বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এল বান।

- প্রদত্ত উদাহরণে ‘টাপুর টুপুর' ধ্বন্যাত্মক শব্দটি বৃষ্টির ধ্বনির অবস্থাকে প্রকাশ করেছে।

- উদাহরণ: গড়গড়, ধরা ধরি, শন শন, কুহু কুহু ইত্যাদি।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0