'হৃদয় মাঝে মেঘ উদয় করি, নয়নের মাঝে ঝড়িল বারি', এখানে কী ধরনের অলংকারের প্রয়োগ হয়েছে?
Solution
Correct Answer: Option C
অলংকার শাস্ত্রমতে, যখন কারণ ও কার্যের স্থান ভিন্ন হয়, অর্থাৎ কারণ এক আধারে বা স্থানে থাকে এবং তার কার্য বা ফল অন্য আধারে বা স্থানে প্রকাশ পায়, তখন তাকে 'অসংগতি' অলংকার বলে।
সাধারণত কার্য ও কারণ একই আধারে বা স্থানে থাকার কথা। যেমন— আকাশের মেঘ থেকে আকাশেই বৃষ্টি ঝরবে। কিন্তু আলোচ্য পঙক্তিতে বলা হয়েছে—
* কারণ: ‘হৃদয় মাঝে মেঘ উদয় করি’ (মেঘ বা দুঃখের উদয় হয়েছে হৃদয়ে)।
* কার্য: ‘নয়নের মাঝে ঝড়িল বারি’ (বৃষ্টি বা অশ্রু ঝরছে নয়নে বা চোখে)।
এখানে মেঘ (কারণ) হৃদয়ে থাকলেও তার ফলস্বরূপ বৃষ্টি (কার্য) ঝরছে চোখে। যেহেতু কারণ ও কার্যের স্থান ভিন্ন, তাই এটি অসংগতি অলংকার।
প্রশ্নের সাথে সম্পর্কিত তথ্যগুলো:
- এই বিখ্যাত পঙক্তিটি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার প্রবর্তক বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত 'সারদামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে ‘ভোরের পাখি’ বলে আখ্যায়িত করেন।
• বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- সাধের আসন,
- মায়াদেবী,
- ধুমকেতু ইত্যাদি।
• জেনে রাখা ভালো:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ কাব্য 'সারদামঙ্গল'। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দাবি করেন যে, এই কাব্যের প্রভাবে তাঁর নিজের 'কড়ি ও কোমল' কাব্যের সুর বাঁধা হয়েছিল।
- বাংলা কবিতায় তিনি প্রথম কবির অন্তর্বেদনা ও আত্মগত ভাব প্রকাশের রীতি প্রবর্তন করেন।