ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার) - ০১.১১.২০২৫ (102 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
‘রিয়াদুস সালেহীন’ (Riyad as-Salihin) বিশ্বখ্যাত একটি হাদীস সংকলন গ্রন্থ। ইমাম নববী (রহ.) ১২০০ শতকে এই মূল্যবান গ্রন্থটি সংকলন করেন, যা দৈনন্দিন জীবনে ইসলামী শিষ্টাচার ও নৈতিকতা শিক্ষার জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়।

উল্লেখ্য যে, প্রশ্নটিতে উল্লেখিত অপশনের সাথে বিভ্রান্তি এড়াতে মনে রাখা প্রয়োজন: প্রায় কাছাকাছি নামের আরেকটি বই ‘রিয়াজ আস সালাতিন’ হলো বাংলার একটি বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থ, যার রচয়িতা গোলাম হোসেন সলিম। কিন্তু 'রিয়াদুস সালেহীন' নিশ্চিতভাবেই হাদিস গ্রন্থ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস হলো 'কাবিলের বোন'। বাংলাপিডিয়া ও অন্যান্য সাহিত্য সমালোচকের মতে, এই উপন্যাসে পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিক সংকট, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট উঠে এসেছে। এখানে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের বিমূর্ত প্রকাশও লক্ষ করা যায়।

আল মাহমুদের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসসমুহ:
- কাবিলের বোন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)
- উপমহাদেশ (রাজনৈতিক উপন্যাস)
- ডাহুকী
- আগুনের মেয়ে
- যেভাবে বেড়ে উঠি
- মরু ও মূষিক

অনেকে ভুলবশত 'উপমহাদেশ'কে মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস মনে করেন, কিন্তু এটি মূলত দেশভাগ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের উপন্যাস।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ওহুদ যুদ্ধ (৩য় হিজরি) ইসলামের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। মহানবী (সা.) এই যুদ্ধে ৫০ জন তীরন্দাজ সাহাবীকে ওহুদ পাহাড়ের একটি গিরিপথে (পাহাড়ের নাম: জাবালে রুমাত) মোতায়েন করেছিলেন যাতে শত্রুবাহিনী পিছন দিক থেকে আক্রমণ করতে না পারে। এই বিশেষ বাহিনীটির নেতৃত্বে ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রা.)। রাসূল (সা.) তাঁদেরকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধ জয় বা পরাজয় যাই হোক না কেন, নির্দেশ ছাড়া স্থান ত্যাগ না করতে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
নবুয়তের দ্বাদশ বছর হজ্জের মৌসুমে মদিনা থেকে আসা একদল লোক মক্কার মিনা প্রান্তরে ‘আকাবা’ নামক স্থানে রাসুল (সাঃ)-এর হাতে বাইয়াত বা শপথ গ্রহণ করেন। এটিই ইতিহাসে ‘প্রথম আকাবার বাইয়াত’ বা ‘বাইয়াতে আকাবা আল-উলা’ নামে পরিচিত।
- এই বাইয়াতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ১২ জন
- এর ঠিক পরের বছর, অর্থাৎ নবুয়তের ত্রয়োদশ বছরে ‘দ্বিতীয় আকাবার বাইয়াত’ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৭৩ জন পুরুষ ও ২ জন নারীসহ মোট ৭৫ জন অংশগ্রহণ করেছিলেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হুদাইবিয়ার সন্ধি ৬ষ্ঠ হিজরিতে মুসলিম ও মক্কার কুরাইশদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। এই ঐতিহাসিক সন্ধিতে কুরাইশদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন সুহাইল ইবনে আমর
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- তখন পর্যন্ত সুহাইল ইবনে আমর মুসলিম হননি, কিন্তু পরবর্তীতে মক্কা বিজয়ের পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।
- এই সন্ধিটি বাহ্যিক দৃষ্টিতে মুসলিমদের জন্য অপমানজনক মনে হলেও, কুরআনে একে ‘ফাতহুম মুবিন’ বা প্রকাশ্য বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
‘বাইয়াত’ (بَيْعَة) শব্দটি আরবি ‘বাইউন’ (بَيْعٌ) মূল ধাতু থেকে এসেছে, যার শাব্দিক ও মৌলিক অর্থ হলো ‘ক্রয়-বিক্রয়’ বা লেনদেন করা। ইসলামী পরিভাষায়, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ পালনের জন্য আমীরের হাতে হাত রেখে যে শপথ নেওয়া হয়, তাকে বাইয়াত বলা হয়।
- এর মাধ্যমে মুমিন তার জান ও মাল আল্লাহর রাস্তায় সঁপে দেওয়ার অঙ্গীকার করে, যা এক প্রকার আত্মিক ‘বিক্রয়’ বা চুক্তি।
- শব্দটির অর্থগত মিল রয়েছে সমার্থক শব্দ যেমন- ‘বায়ু’ বা বাতাসের সমার্থক শব্দগুলোর (মরুৎ, অনিল, পবন ইত্যাদি) মতো নয়, বরং এটি একটি বাণিজ্যিক পরিভাষা থেকে ধর্মীয় অঙ্গীকারে রূপান্তরিত হয়েছে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
‘ইসলাম এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ’ (Islam and the Economic Challenge) বইটি লিখেছেন ড. এম. উমর চাপড়া। তিনি একজন বিশ্বখ্যাত ইসলামী অর্থনীতিবিদ। তার এই বইটিতে ইসলামী অর্থনীতির মূলনীতি এবং আধুনিক অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানে ইসলামের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
অন্যান্য লেখকদের পরিচিতি:
- মাওলানা মওদূদী (রঃ): তাফহীমুল কুরআনসহ বহু ইসলামিক গ্রন্থের রচয়িতা।
- শাহ আব্দুল হান্নান: বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও অর্থনীতিবিদ।
- অধ্যাপক হাবিবুর রহমান: বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা লেখক এবং শিক্ষাবিদ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) জামাতে নামাজ পড়ার প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি হাদিসে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে, যারা জামাতে নামাজে উপস্থিত হয় না, তিনি তাদের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিতে ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন।
বুখারী ও মুসলিম শরীফের হাদিস অনুযায়ী, রাসুল (সাঃ) বলেন: 'আমার প্রাণ যার হাতে, তাঁর শপথ! আমার ইচ্ছা হয় আমি কাঠ সংগ্রহ করার নির্দেশ দেই, তারপর নামাজের জন্য আজান দেয়ার নির্দেশ দেই, এরপর এক ব্যক্তিকে ইমামতি করার আদেশ করি এবং তারপর আমি ওই সব লোকদের কাছে যাই, যারা নামাজে (জামাতে) উপস্থিত হয়নি, এবং তাদের বাড়ি-ঘর তাদেরসহ জ্বালিয়ে দেই।'- রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর জীবনে সংঘটিত গাযওয়ার সংখ্যা হলো ২৭টি এবং ৯টিতে তিনি সরাসরি যুদ্ধ বা সংঘাতে লিপ্ত হয়েছিলেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
'আল আনকাবুত' (العنكبوت) একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ হলো মাকড়সা
- পবিত্র কুরআনের ২৯তম সূরার নাম 'সূরা আল-আনকাবুত'।
- এই সূরায় মাকড়সার জালের দুর্বলতার সাথে অবিশ্বাসীদের উপাস্যদের উদাহরণ দেয়া হয়েছে।
- আল্লাহ তায়ালা বুঝিয়েছেন, মাকড়সার ঘর যেমন সবচেয়ে দুর্বল, তেমনি আল্লাহর পরিবর্তে অন্য কাউকে অভিভাবক বা উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করাও অত্যন্ত ভিত্তিহীন ও দুর্বল।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ইসলামের ইতিহাসে নারীদের মধ্যে প্রথম শাহাদাত বরণ করেন হযরত সুমাইয়া (রাঃ)
- তিনি ছিলেন বিখ্যাত সাহাবী হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাঃ)-এর মা।
- মক্কার কুরাইশ নেতা আবু জাহেলের নির্মম নির্যাতনের ফলে তিনি শহীদ হন।
- সত্য ও ইসলামের পথে তাঁর এই আত্মত্যাগ ইসলামের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মুসলিম মিল্লাতে পিতা হিসেবে হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-কে অভিহিত করা হয়।
- পবিত্র কুরআনের সূরা হজ্জের ৭৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: ''...তোমাদের পিতা ইব্রাহীমের মিল্লাত (ধর্মাদর্শ)। তিনি পূর্বে তোমাদের নামকরণ করেছেন 'মুসলিম'...''।
- তাঁর একত্ববাদের আদর্শ এবং আল্লাহর প্রতি অটল অবিচলতার কারণেই তাঁকে মুসলিম জাতির পিতা বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
কুরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন:
''নিশ্চয়ই আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।'' (সূরা আল-হিজর, আয়াত ৯)
- যদিও হাফিজ সাহেবরা অন্তরে এবং লিপিকাররা কাগজে কুরআন সংরক্ষণ করেন, কিন্তু এই ব্যবস্থার মূল রক্ষক আল্লাহ।
- এই কারণেই হাজার বছর পেরিয়ে গেলেও কুরআনের কোনো শব্দ বা বর্ণের পরিবর্তন হয়নি।
- অতিরিক্ত তথ্য: 'কুরআন' শব্দটি 'ক্বারউন' শব্দমূল থেকে এসেছে, যার অর্থ 'পাঠ করা'। বা 'যা বারবার বা সর্বাধিক পঠিত হয়' তাকে কুরআন বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
আল কুরআনের মূল আলোচ্য বিষয় হলো মানুষ। যদিও কুরআনে আল্লাহ তায়ালা, নবী-রাসূল, পরকাল—সব বিষয়েই আলোচনা রয়েছে, কিন্তু এই সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হলো মানুষের হেদায়েত বা পথপ্রদশন।
- আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং এই মানুষের কল্যাণের জন্যই তিনি কুরআন নাজিল করেছেন।
- মানুষের জীবনযাপন পদ্ধতি, ভালো-মন্দের বিচার এবং পরকালীন মুক্তির উপায়—সবই কুরআনের মূল আলোচনার অন্তর্ভুক্ত।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ওহুদ যুদ্ধে রাসূল (সাঃ)-এর পবিত্র দন্ত মোবারক শহীদ হয়।
- এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর অসতর্কতার সুযোগে কাফেররা পুনরায় আক্রমণ চালায়।
- যুদ্ধের এক পর্যায়ে কাফেরদের নিক্ষিপ্ত পাথরের আঘাতে রাসূল (সাঃ)-এর নিচের ঠোঁট কেটে যায় এবং সামনের সারির একটি দাঁত ভেঙে যায়
- এই যুদ্ধে তিনি মুখের চোয়ালেও আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং রক্তপাত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সালেহ (আঃ)-কে সামুদ জাতির নিকট নবী হিসেবে পাঠানো হয়েছিল।
- সামুদ জাতি ছিল আদ জাতির পরবর্তী বংশধর এবং তারা স্থাপত্যশিল্পে অত্যন্ত দক্ষ ছিল, যারা পাহাড় কেটে ঘর বানাত।
- তারা আল্লাহর অবাধ্য হলে নিদর্শনস্বরূপ একটি অলৌকিক উষ্ট্রী পাঠানো হয়।
- তারা সেই উষ্ট্রীকে হত্যা করলে আল্লাহর গজবে তারা ধ্বংস হয়ে যায়।
- পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আরাফ এবং সূরা হুদ-এ এই ঘটনা বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
রাসূল (সাঃ) হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর কক্ষে ইন্তেকাল করেন।
- তিনি ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে বা ১১ হিজরি সনের ১২ই রবিউল আউয়াল ওফাত লাভ করেন।
- মৃত্যুর সময় তাঁর মাথা মোবারক হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর কোলে ছিল।
- যেখানে তিনি ইন্তেকাল করেন, অর্থাৎ হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর হুজরা শরীফেই তাঁকে দাফন করা হয়, যা বর্তমানে 'রওজা মোবারক' নামে পরিচিত।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হযরত হামজা (রাঃ) ওহুদ যুদ্ধে শহীদ হন।
- ওহুদ যুদ্ধ হিজরি ৩য় সনে (৬২৫ খ্রিষ্টাব্দে) সংঘটিত হয়।
- তিনি ছিলেন রাসূল (সাঃ)-এর আপন চাচা এবং দুধভাই।
- তাঁর অসাধারণ বীরত্বের কারণে তাঁকে 'আসাদুল্লাহ' বা 'আল্লাহর সিংহ' উপাধি দেওয়া হয়েছিল।
- যুদ্ধের ময়দানে ওয়াহশী ইবনে হারব নামক এক হাবশী দাসের বর্শার আঘাতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ইমাম গাজ্জালী (রঃ) কে 'হুজ্জাতুল ইসলাম' বা 'ইসলামের প্রমাণ' উপাধি দেওয়া হয়।
- তাঁর পুরো নাম আবু হামিদ মুহম্মদ ইবনে মুহম্মদ আল-গাজ্জালী।
- তিনি একাদশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট দার্শনিক, ধর্মতাত্ত্বিক ও আইনজ্ঞ ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'ইহ্ইয়াউ উলুমিদ দ্বীন' (ধর্মীয় জ্ঞানের পুনরুজ্জীবন) মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত সমাদৃত।
- দর্শন ও ইসলামের সমন্বয়ে তাঁর অবদানের জন্য তাঁকে এই বিশেষ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
আধুনিক বিশ্বে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রথম ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হয় মিশরে। ১৯৬৩ সালে মিশরের মিত গামার (Mit Ghamr) নামক স্থানে 'মিত গামার সেভিংস ব্যাংক' নামে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ড. আহমাদ আল নাজ্জার-এর উদ্যোগে চালু হয়েছিল।
যদিও এটি পরীক্ষামূলক ছিল, তবুও এটিকে আধুনিক ইসলামী ব্যাংকিংয়ের পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে দুবাইতে 'দুবাই ইসলামী ব্যাংক' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাণিজ্যিক ধারার ইসলামী ব্যাংকিং শুরু হয়।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
প্রশ্নে উল্লেখিত 'জেরুজালেমঃ বিশ্ব মুসলিম সমস্যা' (মূল আরবি নাম: আল-কু'দস কাদিহাতু কুল্লি মুসলিম) বইটির লেখক হলেন প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ড. ইউসুফ আল কারযাবী
তিনি ফিলিস্তিন সমস্যা এবং জেরুজালেম বা বায়তুল মুকাদ্দাসের গুরুত্ব নিয়ে মুসলিম উম্মাহর করণীয় সম্পর্কে এই বইটিতে আলোচনা করেছেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সুদ বা রিবা সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে মোট ৪টি স্তরে আয়াত নাজিল হয়। এর মধ্যে মক্কায় অবতীর্ণ সূরা আর রুম-এর ৩৯ নম্বর আয়াতটি হলো সুদের ব্যাপারে নাজিলকৃত প্রথম আয়াত
এই আয়াতে সুদের অপকারিতা সম্পর্কে ইঙ্গিত দেওয়া হলেও তখনো তা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়নি। পরবর্তীতে সূরা আলে ইমরান ও সূরা বাকারার মাধ্যমে সুদকে চূড়ান্তভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সূরা আল হাশরের শেষ তিন আয়াতে (২২-২৪) মহান আল্লাহর সর্বমোট ১৫টি গুণবাচক নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে নির্দিষ্টভাবে প্রশ্নের দাবি অনুযায়ী শেষ দুই আয়াতে (আয়াত ২৩ ও ২৪) ১১টি গুণবাচক নাম বা 'আসমাউল হুসনা' রয়েছে।
২৩ নম্বর আয়াতে ৮টি: আল-মালিক, আল-কুদ্দুস, আস-সালাম, আল-মুমিন, আল-মুহাইমিন, আল-আজিজ, আল-জাব্বার ও আল-মুতাকাব্বির।
২৪ নম্বর আয়াতে ৩টি: আল-খালিক্ব, আল-বারিউ ও আল-মুসাওয়ির।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
‘ইসরা’ অর্থ হলো নৈশভ্রমণ এবং ‘মিরাজ’ শব্দের অর্থ হলো উর্ধ্বগমন বা সিঁড়ি। নবুওয়াতের একাদশ সালে রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে অর্থাৎ ২৭ তারিখে আল্লাহ তা'আলা হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা এবং সেখান থেকে উর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ করান।
এই অলৌকিক ভ্রমণকে ইসলামি পরিভাষায় ‘ইসরা ও মিরাজ’ বলা হয়, যা শবে মেরাজ নামেও পরিচিত। তাই ২৭ রজব তারিখটি ইসলামি ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ইসলামী অর্থনীতিতে ভূমি ও উৎপাদনের ওপর বিভিন্ন ধরনের কর বা রাজস্ব ব্যবস্থা রয়েছে:
- খারাজ: অমুসলিম প্রজাদের মালিকানাধীন কৃষি জমির ওপর ধার্যকৃত ভূমি করকে 'খারাজ' বলা হয়।
- উশর: মুসলিমদের কৃষি জমির ফসলের ওপর ধার্যকৃত যাকাত বা কর (১০ শতাংশ বা ৫ শতাংশ)।
- জিজিয়া: ইসলামী রাষ্ট্রে বসবাসরত অমুসলিম নাগরিকদের জান-মালের নিরাপত্তার বিনিময়ে দেয়া কর।
- ফাই: যুদ্ধ ছাড়া শত্রুপক্ষ থেকে প্রাপ্ত সম্পদ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
আরবি 'আসমা' শব্দটি 'ইসম' (নাম)-এর বহুবচন এবং 'হুসনা' অর্থ সুন্দরতম। তাই 'আসমাউল হুসনা' অর্থ হলো 'সুন্দরতম নামসমূহ' বা 'আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ'।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন: 'আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম। অতএব তোমরা তাঁকে সেই সকল নামেই ডাকো।' (সূরা আল-আরাফ ১৮০)।
প্রসিদ্ধ একটি হাদিস অনুযায়ী, আল্লাহর ৯৯টি গুণবাচক নাম রয়েছে, যা আসমাউল হুসনা নামে পরিচিত।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ইসলামে সুদ বা রিবা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। হাদিস শরীফে সুদের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকেই সমানভাবে দায়ী বা গোনাহগার করা হয়েছে।
হযরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: 'সুদ গ্রহীতা, সুদ দাতা, সুদের লেখক এবং সুদের দুই সাক্ষীকে আল্লাহ লানত (অভিশাপ) করেছেন।' এবং তিনি বলেছেন, 'পাপের ক্ষেত্রে তারা সকলেই সমান।'
তাই এই প্রশ্নে সঠিক উত্তর হবে 'সকলে'ই গোনাহগার।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ইসলামী শরিয়ত ও কুরআনের ভাষ্যমতে, আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করা বা শিরক করাকে সবচেয়ে বড় জুলুম বা অবিচার বলা হয়েছে।
সূরা লোকমানের ১৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, 'নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলুম।'
অন্যান্য অপশনগুলোও (পিতা-মাতার অবাধ্যতা, এতিমের সম্পদ ভক্ষণ, নিপীড়ন) বড় গুনাহ বা কবিরা গুনাহ, কিন্তু শিরক হলো ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ যদি না তওবা করা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির হেদায়েতের জন্য বিভিন্ন সময়ে নবী-রাসুলদের প্রতি আসমানী কিতাব নাজিল করেছেন। প্রসিদ্ধ চারটি বড় আসমানি কিতাবের মধ্যে যাবুর হযরত দাউদ (আ.)-এর উপর অবতীর্ণ হয়।
অন্যান্য কিতাবগুলো কার ওপর অবতীর্ণ হয়েছে:
- তাওরাত: হযরত মুসা (আ.)-এর উপর।
- ইনজিল: হযরত ঈসা (আ.)-এর উপর।
- কুরআন মাজিদ: হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উপর।
এছাড়া ছোট ছোট পুস্তিকাসমূহকে 'সহিফা' বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
পবিত্র কুরআনের ভাষ্যমতে হাজার মাস বা রাত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ রাত হলো 'লাইলাতুল কদর'। সূরা আল-কদরের ৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, 'লাইলাতুল কদরি খাইরুম মিন আলফি শাহর', অর্থ: 'কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম'। এই মহিমান্বিত রজনীতেই পবিত্র কুরআন লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে নাজিল করা হয়। রমজান মাসের শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিতে এই বরকতময় রাত তালাশ করার নির্দেশ রয়েছে।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
আরবি 'সিরাত' (سيرة) শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো- পদ্ধতি, আচরণ, বা চলার পথ। তবে ইসলামি পরিভাষায় 'সিরাত' বা 'সিরাহ' বলতে নবী-রাসূল বা মহান ব্যক্তিদের জীবন-চরিত বা জীবনীকে বুঝায়। বিশেষত রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সমগ্র কর্মময় জীবন, তাঁর চরিত্র, ঘটনাবলি ও ইতিহাসকে সামগ্রিকভাবে 'সিরাতুন্নবী' বা সংক্ষেপে সিরাত বলা হয়।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0