ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি (ফিল্ড অফিসার, RDS) - ০১.০২.২০১৩ (100 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ইসলামের ইতিহাসে উমাইয়া খলিফা উমার ইবনে আব্দুল আযীয (রহ.)-কে পঞ্চম খলিফা হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- খোলাফায়ে রাশেদীনের চারজন খলিফার পর তাঁর শাসনামলে পুনরায় ইসলামের প্রাথমিক যুগের ন্যায় ইনসাফ, ন্যায়বিচার এবং কুরআন-সুন্নাহর সঠিক প্রতিফলন ঘটেছিল।
- তাঁর শাসনকাল সংক্ষিপ্ত (৭১৭-৭২০ খ্রিষ্টাব্দ) হলেও, তাঁর অসাধারণ ন্যায়পরায়ণতা, সুশাসন এবং অনাড়ম্বর জীবনযাপনের কারণে মুসলিম স্কলারগণ তাঁকে সম্মানসূচকভাবে 'পঞ্চম খলিফা' বা পঞ্চম খলিফায়ে রাশেদ হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ইমাম গাজ্জালী (রঃ)-কে 'হুজ্জাতুল ইসলাম' বা 'ইসলামের প্রমাণ' উপাধি দেওয়া হয়।
- তাঁর পুরো নাম আবু হামিদ মুহম্মদ ইবনে মুহম্মদ আল-গাজ্জালী।
- তিনি একাদশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট দার্শনিক, ধর্মতাত্ত্বিক ও আইনজ্ঞ ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'ইহ্ইয়াউ উলুমিদ দ্বীন' (ধর্মীয় জ্ঞানের পুনরুজ্জীবন) মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত সমাদৃত।
- দর্শন ও ইসলামের সমন্বয়ে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে এই বিশেষ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সাইফুল্লাহ (Saifullah) শব্দের অর্থ হলো 'আল্লাহর তলোয়ার'। এই উপাধিটি প্রখ্যাত সাহাবী খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ)-কে দেওয়া হয়েছিল।
- ইসলাম গ্রহণের পর তিনি বিভিন্ন যুদ্ধে অসাধারণ বীরত্ব প্রদর্শন করেন।
- মুতার যুদ্ধে তাঁর অসামান্য বীরত্বের কারণে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁকে এই উপাধিতে ভূষিত করেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হযরত হামযা (রাঃ) ওহুদ যুদ্ধে ওয়াহশী ইবনে হারব নামক এক হাবশী দাসের বর্শার আঘাতে শাহাদাত বরণ করেন।
- ওহুদ যুদ্ধ হিজরি ৩য় সনে (৬২৫ খ্রিষ্টাব্দে) সংঘটিত হয়।
- তিনি ছিলেন রাসূল (সাঃ)-এর আপন চাচা এবং দুধভাই।
- তাঁর অসাধারণ বীরত্বের কারণে তাঁকে 'আসাদুল্লাহ' বা 'আল্লাহর সিংহ' উপাধি দেওয়া হয়েছিল।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির হেদায়েতের জন্য যুগে যুগে অনেক আসমানি কিতাব নাজিল করেছেন। এর মধ্যে প্রধান চারটি কিতাব হলো তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল ও কুরআন। তাওরাত কিতাব নাজিল হয় আল্লাহর নবী হযরত মুসা (আঃ)-এর উপর।
অন্যান্য প্রধান কিতাবগুলো নাজিল হয়:
- যাবুর: হযরত দাউদ (আঃ)-এর উপর।
- ইঞ্জিল: হযরত ঈসা (আঃ)-এর উপর।
- কুরআন: হযরত মুহম্মদ (সাঃ)-এর উপর।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হযরত মুসা (আঃ)-এর উপাধি হলো কালীমুল্লাহ
- 'কালীমুল্লাহ' আরবি শব্দ, যার অর্থ হলো যার সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন
- হযরত মুসা (আঃ) সিনাই পর্বতে (তুর পাহাড়ে) সরাসরি মহান আল্লাহর সাথে কথোপকথন করেছিলেন বলে তাঁকে এই বিশেষ উপাধি দেওয়া হয়।
- অন্যান্য নবীদের উপাধি: হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উপাধি হাবিবুল্লাহ (আল্লাহর বন্ধু) এবং হযরত আদম (আঃ)-এর উপাধি ছফিউল্লাহ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মদিনা সনদে সর্বমোট ৪৭টি ধারা ছিল।
- ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী (সাঃ) মদিনায় হিজরত করার পর সেখানকার মুসলমান, ইহুদি, খ্রিস্টান ও পৌত্তলিকদের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি স্থাপনের লক্ষ্যে এই সনদ প্রণয়ন করেন।
- এটি পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম লিখিত সংবিধান হিসেবে স্বীকৃত।
- এই সনদের মাধ্যমে মদিনাকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং মহানবী (সাঃ) হন এর রাষ্ট্রপ্রধান।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ওহুদ যুদ্ধে রাসূল (সাঃ)-এর পবিত্র দন্ত মোবারক শহীদ হয়।
- তৃতীয় হিজরিতে (৬২৫ খ্রিষ্টাব্দে) মদিনার উপকণ্ঠে ওহুদ পাহাড়ের পাদদেশে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর একাংশের অসতর্কতার সুযোগে কাফেররা পেছন থেকে অতর্কিত আক্রমণ চালায়।
- যুদ্ধের এক পর্যায়ে কাফেরদের নিক্ষিপ্ত পাথরের আঘাতে রাসূল (সাঃ)-এর নিচের ঠোঁট কেটে যায় এবং সামনের সারির একটি দাঁত (দান্দান মোবারক) ভেঙে যায়
- এই যুদ্ধে তিনি মুখের চোয়ালেও আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং তাঁর শিরস্ত্রাণ ভেঙে যায়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মেরাজ বা ঊর্ধ্বাকাশে গমনের ঐতিহাসিক ঘটনাটি সংঘটিত হয় নবুওয়তের ১১তম বছরে।
- ৬২০ খ্রিষ্টাব্দে রজব মাসের ২৭ তারিখে এই অলৌকিক ঘটনা ঘটে।
- এই রাতে তিনি মসজিদুল হারাম (মক্কা) থেকে মসজিদুল আকসা (জেরুজালেম) এবং সেখান থেকে সাত আসমান পেরিয়ে আল্লাহর সান্নিধ্যে গমন করেন।
- মেরাজের রাতেই মুসলমানদের জন্য দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সালেহ (আঃ)-কে সামুদ জাতির নিকট নবী হিসেবে পাঠানো হয়েছিল।
- সামুদ জাতি ছিল আদ জাতির পরবর্তী বংশধর এবং তারা স্থাপত্যশিল্পে অত্যন্ত দক্ষ ছিল, যারা পাহাড় কেটে ঘর বানাত।
- তারা আল্লাহর অবাধ্য হলে নিদর্শনস্বরূপ একটি অলৌকিক উষ্ট্রী পাঠানো হয়।
- তারা সেই উষ্ট্রীকে হত্যা করলে আল্লাহর গজবে তারা ধ্বংস হয়ে যায়।
- পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আরাফ এবং সূরা হুদ-এ এই ঘটনা বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
খন্দক বা আহযাবের যুদ্ধে মদিনা রক্ষার জন্য পরিখা বা খন্দক খননের পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রখ্যাত সাহাবী হযরত সালমান ফার্সী (রা)
- তৎকালীন আরবে পরিখা খনন করে যুদ্ধ করার কৌশলটি অপরিচিত ছিল। সালমান ফার্সী (রা) ছিলেন পারস্যের (বর্তমান ইরান) অধিবাসী, যেখানে এই কৌশল প্রচলিত ছিল।
- তাঁর এই দূরদর্শী পরামর্শের ফলেই মুসলিম বাহিনী বিশাল কুরাইশ ও মিত্র বাহিনীর আক্রমণ থেকে মদিনাকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
প্রাথমিক যুগে পবিত্র কুরআন লিখিত হতো নুক্তা বা হরকত (স্বরচিহ্ন) ছাড়া। পরবর্তীতে অনারব বা আজমিদের জন্য কুরআন পাঠ সহজ ও নির্ভুল করার লক্ষ্যে উমাইয়া শাসনামলে ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ-এর নির্দেশে বা তত্ত্বাবধানে কুরআনে যবর, জের, পেশ বা হরকত সংযোজন করা হয়। এটি কুরআন পঠনের বিশুদ্ধতা রক্ষায় একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ছিল।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মুসলিম জাতির পিতা হিসেবে হযরত ইব্রাহীম (আ)-কে অভিহিত করা হয়।
- পবিত্র কুরআনের সূরা হজ্জের ৭৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: "...তোমাদের পিতা ইব্রাহীমের মিল্লাত (ধর্মাদর্শ)। তিনি পূর্বে তোমাদের নামকরণ করেছেন 'মুসলিম'..."।
- তাঁর একত্ববাদের আদর্শ এবং আল্লাহর প্রতি অটল অবিচলতার কারণেই তাঁকে মুসলিম জাতির পিতা বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁর জীবনে মাত্র ১ বার হজ্ব পালন করেছেন।
- তাঁর পালিত এই একমাত্র হজ্বটি ইতিহাসে 'বিদায় হজ্ব' নামে পরিচিত।
- তিনি ১০ম হিজরীতে (৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে) এই হজ্ব পালন করেন এবং আরাফাতের ময়দানে ঐতিহাসিক বিদায় হজ্বের ভাষণ প্রদান করেন।
- তবে তিনি তাঁর জীবনে মোট ৪ বার উমরাহ পালন করেছেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের সময় মহানবী (সা) এবং হযরত আবু বকর (রা) মক্কার অদূরে সাওর গুহায় (গারে সাওর) তিন দিন আত্মগোপন করেছিলেন।
- হেরা গুহায় মহানবী (সা) নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে ধ্যানমগ্ন থাকতেন এবং এখানেই তাঁর ওপর পবিত্র কুরআনের প্রথম ওহী অবতীর্ণ হয়।
- তুর পাহাড়ে হযরত মূসা (আ) আল্লাহর সাথে কথোপকথন করেছিলেন।
- সতর্কতা: হিজরতের সময় অবস্থান করা গুহাটি হলো 'সাওর গুহা'। প্রশ্নে প্রদত্ত উত্তর 'হেরা' ঐতিহাসিকভাবে সঠিক নয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ইসলামী ইতিহাসের প্রথম সংকলিত হাদীস গ্রন্থ হলো 'মুয়াত্তা' (মুয়াত্তা ইমাম মালিক)।
- এই গ্রন্থের সংকলক হলেন প্রখ্যাত ইসলামী স্কলার ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রহ.)
- এটি হাদীস ও ইসলামী ফিকহ উভয়েরই একটি নির্ভরযোগ্য প্রাথমিক উৎস।
- অন্যদিকে, সহীহ বুখারী হলো সবচেয়ে বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থ, যা মুয়াত্তার অনেক পরে সংকলিত হয়েছে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- মহানবী (সা.)-এর কথা, কাজ ও অনুমোদনকে একত্রে হাদীস বলা হয়।
- সাহাবীগণের কোনো কথা বা কাজ দেখে মহানবী (সা.) চুপ থেকেছেন বা সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন, এমন অনুমোদন বা সম্মতিসূচক হাদীসকে তাকরীরি হাদীস বলা হয়।
- এছাড়া মহানবী (সা.)-এর মুখনিঃসৃত বাণীকে কাউলি হাদীস এবং তাঁর নিজস্ব কাজ বা কর্মকে ফেলী হাদীস বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবী হলেন আবু হুরায়রা (রা.)। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে মোট ৫,৩৭৪টি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি সর্বদা রাসূল (সা.)-এর সান্নিধ্যে থাকতেন এবং আসহাবে সুফফার অন্যতম সদস্য ছিলেন।
অন্যান্য সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীগণ হলেন:
- আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা.): ২,৬৩০টি হাদীস বর্ণনা করে দ্বিতীয় স্থানে আছেন।
- আয়েশা সিদ্দীকা (রা.): ২,২১০টি হাদীস বর্ণনা করে চতুর্থ স্থানে আছেন।
- আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.): ১,৬৬০টি হাদীস বর্ণনা করে পঞ্চম স্থানে আছেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- 'মুত্তাফাকুন আলাইহি' (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ) একটি আরবি পরিভাষা, যার আভিধানিক অর্থ হলো 'একমত হওয়া' বা 'ঐকমত্য পোষণ করা'।
- হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষায়, যে হাদীস একই সাহাবী থেকে ইমাম বুখারী (র.) এবং ইমাম মুসলিম (র.) উভয়েই নিজ নিজ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ যে হাদীস বুখারী ও মুসলিম উভয় গ্রন্থেই স্থান পেয়েছে তাকে 'মুত্তাফাকুন আলাইহি' বলা হয়।
- সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমকে একত্রে 'সহীহাইন' বা দুইটি বিশুদ্ধ গ্রন্থ বলা হয় এবং 'মুত্তাফাকুন আলাইহি' হাদীসগুলো বিশুদ্ধতার সর্বোচ্চ স্তরের বলে গণ্য হয়।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হাদীস শাস্ত্র অনুযায়ী একটি হাদীসের দুটি প্রধান অংশ থাকে: ১. সনদ এবং ২. মতন।
- সনদ: হাদীস বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিক বা পর্যায়ক্রমিক সূত্র বা তালিকাকে 'সনদ' বলা হয়। সাহাবী থেকে শুরু করে গ্রন্থকার পর্যন্ত এই চেইনটিই হলো হাদীসের সূত্র।
- মতন: হাদীসের মূল কথা, বক্তব্য বা টেক্সটকে 'মতন' বলা হয়। অর্থাৎ রাসূল (সা.) যা বলেছেন বা করেছেন তার মূল বিবরণই হলো মতন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সনদ বা বর্ণনাকারীদের পরম্পরার শেষ প্রান্তের ওপর ভিত্তি করে হাদীসকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
- মারফু হাদীস: যে হাদীসের বর্ণনা পরম্পরা বা সনদ রাসূল (সাঃ) পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মারফু হাদীস বলে। অর্থাৎ, যে হাদীসে রাসূল (সাঃ)-এর কথা, কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে।
- মাওকুফ হাদীস: যে হাদীসের সনদ সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে অর্থাৎ যা সাহাবীর কথা বা কাজ হিসেবে বর্ণিত।
- মাকতু হাদীস: যে হাদীসের সনদ তাবেয়ী পর্যন্ত পৌঁছেছে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হাদীস শাস্ত্র অনুযায়ী একটি হাদীসের দুটি প্রধান অংশ থাকে: ১. সনদ এবং ২. মতন।
- সনদ: হাদীস বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিক বা পর্যায়ক্রমিক সূত্র বা তালিকাকে 'সনদ' বলা হয়। সাহাবী থেকে শুরু করে গ্রন্থকার পর্যন্ত এই চেইন বা বর্ণনা পরম্পরাই হলো সনদ।
- মতন: হাদীসের মূল কথা, বক্তব্য বা টেক্সটকে 'মতন' বলা হয়। অর্থাৎ রাসূল (সা.) যা বলেছেন বা করেছেন তার মূল বিবরণই মতন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাকারার ২৭৫ নম্বর আয়াতে সুদের (রিবা) বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি এবং নিষেধাজ্ঞা এসেছে।
- এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা সুদখোরদের অবস্থা এবং সুদের অবৈধতা সম্পর্কে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন।
- আয়াতে বলা হয়েছে, 'আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন'
- এছাড়া সূরা বাকারার ২৭৬-২৮০ আয়াতেও সুদ প্রসঙ্গ এবং এর ভয়াবহতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
পবিত্র কুরআনের সর্বশেষ অবতীর্ণ পূর্ণাঙ্গ সূরা হলো 'সূরা নসর'
- বিদায় হজের সময় এটি নাজিল হয়, যেখানে মক্কা বিজয়ের সুসংবাদ এবং মানুষের দলে দলে ইসলাম গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
- উল্লেখ্য, কুরআনের সর্বশেষ নাজিলকৃত আয়াতটি হলো সূরা বাকারার ২৮১ নম্বর আয়াত। তবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি সম্পূর্ণ বা পূর্ণাঙ্গ সূরা হিসেবে সর্বশেষ নাজিল হয়েছিল সূরা নসর
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ইসলামের তৃতীয় খলিফা হজরত ওসমান (রা)-কে 'জামিউল কুরআন' বা 'কুরআন একত্রকারী/সংকলক' বলা হয়
- তাঁর খিলাফতকালে ইসলামী সাম্রাজ্য ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হলে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে কুরআন পাঠের রীতিতে ভিন্নতা দেখা দেয়।
- এই বিভ্রান্তি দূর করতে এবং মুসলিম উম্মাহকে একই পাঠের ওপর ঐক্যবদ্ধ করতে তিনি কুরআনের একটি প্রমিত কপি (মুসহাফ) সংকলন করেন এবং বিভিন্ন অঞ্চলে এর অনুলিপি পাঠিয়ে দেন।
- এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের জন্যই তাঁকে 'জামিউল কুরআন' উপাধি দেওয়া হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ইসলামের ইতিহাসে সর্বপ্রথম নির্মিত মসজিদ হলো মসজিদে কুবা
- মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার পথে মদিনার অদূরে 'কুবা' নামক স্থানে পৌঁছান এবং সেখানে কয়েকদিন অবস্থানকালে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন।
- এটি ইসলামের প্রথম যুগে নির্মিত সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদ, যার ভিত্তি স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ হাতে স্থাপন করেছিলেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
'কুরআন' শব্দটি আরবি 'কারাআ' ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ পড়া বা পাঠ করা। সেই হিসেবে আল-কুরআন শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো 'অধিক পঠিত'
- বিশ্বের বুকে কুরআনই একমাত্র গ্রন্থ যা প্রতিদিন সবচেয়ে বেশিবার পাঠ করা হয়।
- মুসলিমরা প্রতিদিনের নামাজে এবং অন্যান্য সময়ে এটি নিয়মিত তিলাওয়াত করেন বলেই একে 'অধিক পঠিত' বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
পবিত্র কুরআনে কারীমের বিন্যাসে সর্বপ্রথম স্থান পেয়েছে 'সূরা ফাতিহা'
- পবিত্র কুরআনের সর্বপ্রথম নাজিলকৃত আয়াতগুলো হলো সূরা আলাকের প্রথম ৫টি আয়াত।
- তবে, ওহী নাজিলের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ বা পূর্ণাঙ্গ সূরা হিসেবে সর্বপ্রথম নাজিল হয় 'সূরা ফাতিহা'
- সূরা আলাক বা মুদ্দাসসিরের কিছু অংশ আগে নাজিল হলেও পূর্ণাঙ্গ সূরা হিসেবে ফাতিহাই প্রথম।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
রাসূল (সা.)-এর উপর যখন ওহী নাজিল হতো, তখন তিনি তা সাহাবীদের দিয়ে লিখিয়ে নিতেন। যারা ওহী লিখতেন, তাদের 'কাতেবে ওহী' বা 'ওহী লেখক' বলা হতো।
মোট ৪২ জন সাহাবী ওহী লেখার কাজে নিয়োজিত ছিলেন, যার মধ্যে যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) ছিলেন অন্যতম এবং প্রধান।
পরবর্তীতে খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-এর শাসনামলে তাঁর নেতৃত্বেই পবিত্র কুরআন গ্রন্থাকারে সংকলনের ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালিত হয়।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
পবিত্র কুরআনে মোট ১৪টি সিজদার আয়াত রয়েছে।
এই আয়াতগুলো তেলাওয়াত করলে বা শুনলে তেলাওয়াতকারী ও শ্রোতা উভয়ের ওপর সিজদা করা ওয়াজিব। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে সিজদার আয়াতের সংখ্যা ১৪টি, তবে ইমাম শাফিয়ী (রহ.)-এর মতে ১৫টি। আমাদের দেশে ১৪টি হিসেবেই আমল করা হয়।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0