ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি (অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, গ্রেড-৩, মহিলা) - ২৭.০১.২০১২ (76 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- আল কুরআনের সুরা ফাতহ-এর প্রথম আয়াতে হুদায়বিয়ার সন্ধিকে 'ফাতহুম মুবীন' বা 'সুস্পষ্ট বিজয়' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- বাহ্যিকভাবে এটি মুসলিমদের জন্য অপমানজনক বা একপেশে মনে হলেও, প্রকৃতপক্ষে এই সন্ধির ফলেই ইসলাম প্রচারের পথ ব্যাপকভাবে উন্মুক্ত হয়।
- এই চুক্তির ফলে মক্কার কুরাইশরা মুসলিমদের একটি স্বাধীন শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়, যা পরবর্তীতে মক্কা বিজয়ের শক্ত ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- হাদিস অনুযায়ী, রমজান মাসে উমরাহ পালন করা সওয়াবের দিক দিয়ে হজের সমান
- রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, 'রমজান মাসে একটি উমরাহ আদায় করা আমার সাথে হজ করার সমতুল্য।' (বুখারী ও মুসলিম)।
- রমজান মাসের বরকত ও পবিত্রতার কারণে এই মাসে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
- তবে মনে রাখতে হবে, এটি ফরজ হজের বিকল্প নয়, বরং এটি কেবল সওয়াব ও মর্যাদার দিক থেকে হজের সমতুল্য হিসেবে গণ্য হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ইসলামের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) এর একটি বিখ্যাত হাদিস অনুসারে, যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ তা'আলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখেন।
- বিশেষ করে, কিয়ামতের কঠিন দিনে আল্লাহ তার পাপসমূহ গোপন করে তাকে ক্ষমা করে দেবেন
- এই কাজটি মুসলিমদের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সম্মান ও আস্থা বৃদ্ধি করে।
- এটি সমাজকে গীবত, অপবাদ এবং হিংসা-বিদ্বেষের মতো মন্দ কাজ থেকে রক্ষা করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যে সকল যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন, সেগুলোকে ইসলামী পরিভাষায় 'গাযওয়া' বলা হয়।
- ঐতিহাসিকদের মতে, রাসূল (সাঃ) এর জীবনে সংঘটিত গাযওয়ার সংখ্যা হলো ২৭টি
- এই ২৭টি গাযওয়ার মধ্যে ৯টিতে তিনি সরাসরি যুদ্ধ বা সংঘাতে লিপ্ত হয়েছিলেন।
- তাঁর অংশগ্রহণ করা কয়েকটি উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ হলো বদর, উহুদ, খন্দক, খায়বার এবং হুনাইনের যুদ্ধ
- যেসব অভিযানে তিনি নিজে উপস্থিত না থেকে সাহাবীদের প্রেরণ করতেন, সেগুলোকে 'সারিয়া' বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
আনাস ইবনে মালেক (রাঃ)-কে 'খাদেমে রাসুল' বা রাসূলের সেবক উপাধি দেওয়া হয়।
- হিজরতের পর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যখন মদিনায় আসেন, তখন আনাস (রাঃ)-এর বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর।
- তাঁর মাতা উম্মে সুলাইম (রাঃ) তাঁকে রাসুল (সাঃ)-এর খেদমতের জন্য সমর্পণ করেছিলেন।
- তিনি দীর্ঘ ১০ বছর রাসুল (সাঃ)-এর একান্ত সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- অত্যন্ত নিষ্ঠা ও ভালোবাসার সাথে সুদীর্ঘ সময় সেবা করার কারণেই তাঁকে এই বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যক্তিগত উটনীর নাম ছিল আল-কাসওয়া
- তিনি এই উটনীতে চড়েই মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেছিলেন।
- মদিনায় প্রবেশের পর কাসওয়া যেখানে বসে পড়েছিল, সেখানেই মসজিদে নববী নির্মাণ করা হয়।
- এই উটনীটি তিনি হযরত আবু বকর (রা.)-এর কাছ থেকে কিনেছিলেন।
- মহানবী (সা.) বিদায় হজ্জের ভাষণও এর পিঠে বসেই দিয়েছিলেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- প্রাথমিক যুগে পবিত্র কুরআন লিখিত হতো নুক্তা বা হরকত (স্বরচিহ্ন) ছাড়া।
- পরবর্তীতে অনারব বা আজমিদের জন্য কুরআন পাঠ সহজ ও নির্ভুল করার লক্ষ্যে উমাইয়া শাসনামলে ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ-এর নির্দেশে বা তত্ত্বাবধানে কুরআনে যবর, জের, পেশ বা হরকত সংযোজন করা হয়।
- এটি কুরআন পঠনের বিশুদ্ধতা রক্ষায় একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ছিল।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল হলো প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম বুখারী (রহ.)-এর প্রকৃত নাম।
- তিনি বর্তমান উজবেকিস্তানের বুখারা নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন, যে কারণে তিনি 'বুখারী' নামে পরিচিতি লাভ করেন।
- তাঁর সংকলিত হাদীস গ্রন্থ 'সহীহ বুখারী' ইসলামী শরীয়তে পবিত্র কুরআনের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবনে মাত্র ১ বার হজ্ব পালন করেছেন।
- তাঁর পালিত এই একমাত্র হজ্বটি ইতিহাসে 'বিদায় হজ্ব' নামে পরিচিত।
- তিনি ১০ম হিজরীতে (৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে) এই হজ্ব পালন করেন এবং আরাফাতের ময়দানে ঐতিহাসিক বিদায় হজ্বের ভাষণ প্রদান করেন।
- তবে তিনি তাঁর জীবনে মোট ৪ বার উমরাহ পালন করেছেন।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ইসলামী ইতিহাসের প্রথম সংকলিত হাদীস গ্রন্থ হলো 'মুয়াত্তা' (মুয়াত্তা ইমাম মালিক)।
- এই গ্রন্থের সংকলক হলেন প্রখ্যাত ইসলামী স্কলার ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রহ.)
- এটি হাদীস ও ইসলামী ফিকহ উভয়েরই একটি নির্ভরযোগ্য প্রাথমিক উৎস।
- অন্যদিকে, সহীহ বুখারী হলো সবচেয়ে বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থ, যা মুয়াত্তার অনেক পরে সংকলিত হয়েছে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ বা হাদীসকে প্রকৃতি অনুযায়ী তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
- ফেলী হাদীস: নবী (সা.)-এর যাবতীয় কার্যাবলি বা বাস্তব কর্মকে ফেলী হাদীস বলা হয়। অর্থাৎ তিনি নিজে যা করে দেখিয়েছেন।
- কাওলী হাদীস: নবী (সা.)-এর মুখনিঃসৃত বাণী বা আদেশ-উপদেশকে কাওলী হাদীস বলে।
- তাকরিরী হাদীস: নবী (সা.)-এর সামনে সাহাবীগণ কোনো কাজ করেছেন কিন্তু তিনি বাধা দেননি, বরং মৌন সম্মতি বা অনুমোদন দিয়েছেন, এমন হাদীসকে তাকরিরী হাদীস বলে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ইসলাম ধর্মে ইবাদত কবুল হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো হালাল বা বৈধ উপার্জন।
- অন্যান্য ফরয ইবাদতের পর প্রত্যেক সক্ষম মুসলমানের জন্য হালাল জীবিকা অন্বেষণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরয
- রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি হাদিসে বলেছেন, "ফরয ইবাদতগুলোর পর হালাল রুজি অন্বেষণ করাও একটি ফরয"।
- হারাম খাদ্য ও উপার্জন দ্বারা ইবাদত এবং দোয়া কবুল হয় না। তাই হালাল উপায়ে আয় করাকে ইসলাম সওয়াবের কাজ হিসেবে গণ্য করে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
'রোজা ঈমানদারদের জন্য ঢালস্বরূপ' (আস-সিয়ামু জুন্নাহ) এটি রাসূল (সা.)-এর একটি বিখ্যাত বাণী।
- ঢাল যেমন যুদ্ধে শত্রুর আঘাত থেকে রক্ষা করে, তেমনি রোজা একজন মুমিনকে পাপকাজ ও জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে।
- এটি বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সহীহ হাদীস।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হাদীস মূলত তিন প্রকার। যথা: কাওলী, ফেলী ও তাকরিরী।
- কাওলী হাদীস: রাসূল (সা.)-এর পবিত্র মুখনিঃসৃত বাণী বা কথাকে কাওলী হাদীস বলা হয়।
- ফেলী হাদীস: রাসূল (সা.)-এর যাবতীয় কাজ বা কর্মকে ফেলী হাদীস বলা হয়।
- তাকরিরী হাদীস: সাহাবীগণের কোনো কথা বা কাজে রাসূল (সা.) মৌন সম্মতি বা অনুমোদন দিলে তাকে তাকরিরী হাদীস বলে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হাদীস শাস্ত্র অনুযায়ী একটি হাদীসের দুটি প্রধান অংশ থাকে: ১. সনদ এবং ২. মতন।
- সনদ: হাদীস বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিক বা পর্যায়ক্রমিক সূত্র বা তালিকাকে 'সনদ' বলা হয়। সাহাবী থেকে শুরু করে গ্রন্থকার পর্যন্ত এই চেইন বা বর্ণনা পরম্পরাই হলো সনদ।
- মতন: হাদীসের মূল কথা, বক্তব্য বা টেক্সটকে 'মতন' বলা হয়। অর্থাৎ রাসূল (সা.) যা বলেছেন বা করেছেন তার মূল বিবরণই মতন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- আমানতের খিয়ানত করা অর্থাৎ বিশ্বাস ভঙ্গ করা মুনাফিকের অন্যতম স্পষ্ট লক্ষণ।
- ইসলামের পরিভাষায়, যে ব্যক্তি মুখে ঈমানের কথা স্বীকার করে কিন্তু অন্তরে অবিশ্বাস লালন করে, তাকে মুনাফিক বা কপটচারী বলা হয়।
- সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত হাদিস অনুসারে, মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি।
- চিহ্নগুলো হলো: যখন সে কথা বলে, মিথ্যা বলে; যখন ওয়াদা করে, তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার কাছে আমানত রাখা হয়, তখন সে তার খিয়ানত করে।
- সুতরাং, কারও কাছে গচ্ছিত কোনো বস্তু, অর্থ বা কথার আমানত রক্ষা না করা নিফাকি বা কপটতার পরিচায়ক।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- 'মুমিনের ওয়াদা ঋণস্বরূপ' উক্তিটি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর।
- এটি একটি বিখ্যাত হাদিস, যেখানে ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে।
- ইসলামে ওয়াদা পালন করাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুমিন ব্যক্তি কাউকে কোনো প্রতিশ্রুতি দিলে তা ঋণের মতোই অবশ্য পালনীয় হয়ে দাঁড়ায়।
- ওয়াদা ভঙ্গ করা মুনাফিকের অন্যতম লক্ষণ, তাই প্রকৃত মুমিন সর্বদা নিজের ওয়াদা রক্ষায় সচেষ্ট থাকেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ইসলামী শরীয়তে বৃহত্তর অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জনের জন্য গোসলের ফরজ ৩টি। এর কোনো একটি বাদ পড়লে বা শুকনো থাকলে গোসল শুদ্ধ হবে না।
- গোসলের ৩টি ফরজ হলো:
১. কুলি করা: গলায় পানি পৌঁছিয়ে ভালোভাবে কুলি করা (রোজাদার না হলে গরগরাসহ)।
২. নাক পরিষ্কার করা: নাকের নরম হাড় পর্যন্ত পানি পৌঁছিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করা।
৩. সমস্ত শরীর ধৌত করা: সারা শরীরে এমনভাবে পানি প্রবাহিত করা যেন শরীরের একটি পশমের গোড়াও শুকনো না থাকে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে নামাজ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত।
- নামাজ আদায়ের জন্য শরীর, পোশাক এবং নামাজের স্থান পবিত্র হওয়া অপরিহার্য, যাকে তাহারাত বা পবিত্রতা বলা হয়।
- বৃহত্তর অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল ফরজ হয়, যা তখন নামাজের অন্যতম প্রধান পূর্বশর্তে পরিণত হয়। গোসল বা অযু ছাড়া নামাজ শুদ্ধ হয় না।
- কুলি করা অযুর অঙ্গ এবং জায়গা পবিত্র করাও নামাজের অন্যতম শর্ত, তবে অপবিত্র অবস্থায় গোসল করা সর্বাগ্রে বিবেচ্য।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- পবিত্র কুরআনের সূরা নিসা এর ৪৩ নং আয়াত এবং সূরা মায়িদার ৬ নং আয়াত দ্বারা তায়াম্মুম ফরজ হওয়ার বিধান নাজিল হয়েছে।
- পানি পাওয়া না গেলে বা ব্যবহার করা ক্ষতিকর হলে পবিত্রতা অর্জনের বিকল্প পদ্ধতি হলো তায়াম্মুম।
- তায়াম্মুমের ফরজ ৩টি। যথা:
১. পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত করা।
২. পবিত্র মাটি বা সমজাতীয় বস্তুতে হাত ঘষে সমস্ত মুখমণ্ডল একবার মাসেহ করা।
৩. পুনরায় মাটিতে হাত ঘষে উভয় হাত কনুইসহ মাসেহ করা।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ইমাম আবু হানিফা (রা.) ফিকাহ শাস্ত্রের একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইমাম। তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম ‘ফিকহুল আকবর’। এটি ইসলামি আকিদা ও বিশ্বাস বিষয়ক একটি মৌলিক গ্রন্থ।
অন্যান্য গ্রন্থগুলোর পরিচয়:
কিতাবুল উম্ম: এটি ইমাম শাফিয়ী (রহ.)-এর রচিত গ্রন্থ।
কিতাবুল মানাযির: এটি আলোকবিজ্ঞানের ওপর ইবনে আল-হাইসামের রচিত গ্রন্থ।
মুয়াত্তা: এটি ইমাম মালিক (রহ.)-এর সংকলিত হাদিস ও ফিকাহ গ্রন্থ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ইসলামি শরীয়তের প্রধান উৎস হলো ৪টি। এগুলো হলো:
১. আল-কুরআন: শরীয়তের প্রথম ও প্রধান উৎস।
২. সুন্নাহ বা হাদিস: মহানবী (সা.)-এর বাণী, কর্ম ও অনুমোদন।
৩. ইজমা: কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে ইসলামি স্কলার বা আলিমদের ঐকমত্য।
৪. কিয়াস: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে যুক্তিভিত্তিক ও সাদৃশ্যমূলক সমাধান।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মানুষের মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামত বা পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়কালের জগতকে আলমে বারযাখ বা বারযাখ জগত বলা হয়।
- ‘বারযাখ’ শব্দের অর্থ হলো অন্তরায় বা পর্দা, যা দুনিয়া ও আখিরাতের মাঝখানের একটি অবস্থান।
- হাশর, মীযান এবং পুলসিরাত হলো কিয়ামত পরবর্তী বিচার দিবসের ধাপ, কিন্তু বারযাখ হলো মৃত্যুর ঠিক পরের অবস্থা।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
পৃথিবীতে আগত সকল নবী ও রাসুলগণের শিক্ষার মূল ভিত্তি ছিল তাওহীদ বা একত্ববাদ।
তাওহীদ হলো আল্লাহ তায়ালাকে এক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে বিশ্বাস করা। যুগে যুগে যত নবী-রাসুল এসেছেন, তাঁদের সকলের প্রথম ও প্রধান দাওয়াত ছিল আল্লাহর একত্ববাদের দিকে মানুষকে আহ্বান করা।
অন্য অপশনগুলোর পরিচয়:
ঈমান: ইসলামের মূল বিষয়গুলোর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা।
ইসলাম: আল্লাহর আদেশের কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করা।
ইবাদত: আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তাঁর দাসত্ব ও আনুগত্য করা।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
‘রিসালাত’ আরবি শব্দ, যার শাব্দিক অর্থ হলো বার্তা, সংবাদ বহন বা চিঠি পৌঁছানো। ইসলামি পরিভাষায়, মহান আল্লাহর বাণী, আদেশ-নিষেধ ও পরিচয় মানুষের নিকট পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বকে রিসালাত বলা হয়। যিনি এই দায়িত্ব পালন করেন, তাকে বলা হয় রাসুল।
অন্য অপশনগুলোর অর্থ:
• আল্লাহর ইবাদত করা হলো ‘ইবাদত’।
• আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা হলো ‘শির্ক’।
• আল্লাহর আনুগত্য করা হলো ‘ইতাআত’ বা ‘তাকওয়া’র অংশ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর ওপর ১০টি সহীফা অবতীর্ণ হয়।
- আল্লাহ তায়ালা নবী-রাসূলদের প্রতি মোট ১০০টি ছোট আসমানি কিতাব বা সহীফা নাজিল করেছেন।
- এই ১০০টি সহীফা মূলত চারজন নবীর ওপর নাজিল হয়: হযরত আদম (আ.)-এর ওপর ১০টি, হযরত শীষ (আ.)-এর ওপর ৫০টি, হযরত ইদরীস (আ.)-এর ওপর ৩০টি এবং হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর ওপর ১০টি
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
আল্লাহর বাণী সংবলিত ছোট আসমানি কিতাবগুলোকে সহীফা বলা হয়।
- 'সহীফা' শব্দের অর্থ হলো পুস্তিকা বা ছোট গ্রন্থ।
- আল্লাহ তায়ালা নবী-রাসূলদের প্রতি মোট ১০৪ খানা আসমানি কিতাব নাজিল করেছেন।
- এর মধ্যে ৪টি বড় কিতাব (তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল ও কুরআন) এবং বাকি ১০০টি ছোট কিতাব বা সহীফা।
- ১০০টি সহীফা চারজন নবীর ওপর নাজিল হয়েছে: হযরত আদম (আ.)-এর ওপর ১০টি, হযরত শীষ (আ.)-এর ওপর ৫০টি, হযরত ইদরীস (আ.)-এর ওপর ৩০টি এবং হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর ওপর ১০টি
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
নামাজ পড়ার বা সিজদা করার নিষিদ্ধ সময় মূলত ৩টি
সময়গুলো হলো:
১. সূর্যোদয়ের সময় (সূর্য পুরোপুরি না ওঠা পর্যন্ত)।
২. ঠিক দ্বিপ্রহরের সময় (সূর্য যখন ঠিক মাথার ওপরে থাকে)।
৩. সূর্যাস্ত যাওয়ার সময় (সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করা থেকে ডুবে যাওয়া পর্যন্ত)।
এই ৩টি সময়ে যেকোনো ধরনের নামাজ পড়া বা সিজদা করা নিষিদ্ধ বা মাকরুহে তাহরীমি।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় জানাযার নামাজ হলো ফরজে কিফায়া
- এর অর্থ হলো, সমাজের কিছু সংখ্যক মানুষ যদি এই নামাজ আদায় করে নেয়, তবে সবার পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে।
- কিন্তু যদি কেউ আদায় না করে, তবে সমাজের সবাই গুনাহগার হবে।
- এটি মূলত মৃত ব্যক্তির জন্য মাগফিরাত ও দোয়ার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, যাকাত দেওয়া সেই ব্যক্তির ওপর ফরজ যার নিজস্ব মালিকানায় নিসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। স্ত্রীর অলংকারের মালিকানা সম্পূর্ণভাবে স্ত্রীর নিজের, তাই এর যাকাত দেওয়ার দায়িত্বও তার।
- স্বামী বা পিতা এই যাকাত দিতে বাধ্য নয়।
- তবে স্বামী বা অন্য কেউ যদি স্বেচ্ছায় স্ত্রীর সম্মতি নিয়ে তার পক্ষ থেকে যাকাত আদায় করে দেন, তবে তা আদায় হয়ে যাবে।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0