ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (প্রবেশনারি অফিসার) - ১৩.০৯.২০১৩ (100 টি প্রশ্ন )
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁর জীবনে মাত্র ১ বার হজ্ব পালন করেছেন।
- তাঁর পালিত এই একমাত্র হজ্বটি ইতিহাসে 'বিদায় হজ্ব' নামে পরিচিত।
- তিনি ১০ম হিজরীতে (৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে) এই হজ্ব পালন করেন এবং আরাফাতের ময়দানে ঐতিহাসিক বিদায় হজ্বের ভাষণ প্রদান করেন।
- তবে তিনি তাঁর জীবনে মোট ৪ বার উমরাহ পালন করেছেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের সময় মহানবী (সা) এবং হযরত আবু বকর (রা) মক্কার অদূরে সাওর গুহায় (গারে সাওর) তিন দিন আত্মগোপন করেছিলেন।
- হেরা গুহায় মহানবী (সা) নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে ধ্যানমগ্ন থাকতেন এবং এখানেই তাঁর ওপর পবিত্র কুরআনের প্রথম ওহী অবতীর্ণ হয়।
- তুর পাহাড়ে হযরত মূসা (আ) আল্লাহর সাথে কথোপকথন করেছিলেন।
- সতর্কতা: হিজরতের সময় অবস্থান করা গুহাটি হলো 'সাওর গুহা'। প্রশ্নে প্রদত্ত উত্তর 'হেরা' ঐতিহাসিকভাবে সঠিক নয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- ইসলামী ইতিহাসের প্রথম সংকলিত হাদীস গ্রন্থ হলো 'মুয়াত্তা' (মুয়াত্তা ইমাম মালিক)।
- এই গ্রন্থের সংকলক হলেন প্রখ্যাত ইসলামী স্কলার ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রহ.)
- এটি হাদীস ও ইসলামী ফিকহ উভয়েরই একটি নির্ভরযোগ্য প্রাথমিক উৎস।
- অন্যদিকে, সহীহ বুখারী হলো সবচেয়ে বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থ, যা মুয়াত্তার অনেক পরে সংকলিত হয়েছে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- মহানবী (সা)-এর কথা, কাজ ও অনুমোদনকে হাদীস বলা হয়।
- সাহাবীগণের কোনো কথা বা কাজ দেখে মহানবী (সা) চুপ থেকেছেন বা সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন, এমন অনুমোদন বা সম্মতিসূচক হাদীসকে তাকরীরি হাদীস বলা হয়।
- মহানবী (সা)-এর মুখনিঃসৃত বাণীকে কাউলি হাদীস এবং তাঁর নিজস্ব কাজ বা কর্মকে ফেলী হাদীস বলা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হাদীস বিশারদ ও সাহাবীদের জীবনীকারদের মতে, সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবী হলেন আবু হুরাইরা (রাঃ)। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছ থেকে মোট ৫,৩৭৪টি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি সর্বদা রাসূল (সাঃ)-এর সান্নিধ্যে থাকতেন এবং আসহাবে সুফফার অন্যতম সদস্য ছিলেন।
অন্যান্য সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীগণ হলেন:
- আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ): ২,৬৩০টি হাদীস বর্ণনা করে দ্বিতীয় স্থানে আছেন।
- আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ): ২,২১০টি হাদীস বর্ণনা করে চতুর্থ স্থানে আছেন।
- আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ): ১,৬৬০টি হাদীস বর্ণনা করে পঞ্চম স্থানে আছেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
- 'মুত্তাফাকুন আলাইহি' (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ) একটি আরবি পরিভাষা, যার আভিধানিক অর্থ হলো 'একমত হওয়া' বা 'ঐকমত্য পোষণ করা'।
- হাদীসশাস্ত্রের পরিভাষায়, যে হাদীস একই সাহাবী থেকে ইমাম বুখারী (র.) এবং ইমাম মুসলিম (র.) উভয়েই নিজ নিজ সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ যে হাদীস বুখারী ও মুসলিম উভয় গ্রন্থেই স্থান পেয়েছে তাকে 'মুত্তাফাকুন আলাইহি' বলা হয়।
- সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমকে একত্রে 'সহীহাইন' বা দুইটি বিশুদ্ধ গ্রন্থ বলা হয়।
- 'মুত্তাফাকুন আলাইহি' হিসেবে বর্ণিত হাদীসগুলো ইসলামী পন্ডিতদের নিকট বিশুদ্ধতার সর্বোচ্চ স্তরের বলে গণ্য হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হাদীস শাস্ত্র অনুযায়ী একটি হাদীসের দুটি প্রধান অংশ থাকে: ১. সনদ এবং ২. মতন।
- সনদ: হাদীস বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিক বা পর্যায়ক্রমিক সূত্র বা তালিকাকে 'সনদ' বলা হয়। সাহাবী থেকে শুরু করে গ্রন্থকার পর্যন্ত এই চেইনটিই হলো হাদীসের সূত্র বা সনদ।
- মতন: হাদীসের মূল কথা, বক্তব্য বা টেক্সটকে 'মতন' বলা হয়। অর্থাৎ রাসূল (সা.) যা বলেছেন বা করেছেন তার মূল বিবরণই মতন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সনদ বা বর্ণনাকারীদের পরম্পরার শেষ প্রান্তের ওপর ভিত্তি করে হাদীসকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
- মারফু হাদীস: যে হাদীসের বর্ণনা পরম্পরা বা সনদ রাসূল (সাঃ) পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মারফু হাদীস বলে। অর্থাৎ, যে হাদীসে রাসূল (সাঃ)-এর কথা, কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে।
- মাওকুফ হাদীস: যে হাদীসের সনদ সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে অর্থাৎ যা সাহাবীর কথা বা কাজ হিসেবে বর্ণিত।
- মাকতু হাদীস: যে হাদীসের সনদ তাবেয়ী পর্যন্ত পৌঁছেছে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হাদীস শাস্ত্র অনুযায়ী একটি হাদীসের দুটি প্রধান অংশ থাকে: ১. সনদ এবং ২. মতন।
- সনদ: হাদীস বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিক বা পর্যায়ক্রমিক সূত্র বা তালিকাকে 'সনদ' বলা হয়। সাহাবী থেকে শুরু করে গ্রন্থকার পর্যন্ত এই চেইন বা বর্ণনা পরম্পরাই হলো সনদ।
- মতন: হাদীসের মূল কথা, বক্তব্য বা টেক্সটকে 'মতন' বলা হয়। অর্থাৎ রাসূল (সা.) যা বলেছেন বা করেছেন তার মূল বিবরণই মতন।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাকারার ২৭৫ নম্বর আয়াতে সুদের (রিবা) বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি এবং নিষেধাজ্ঞা এসেছে।
- এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা সুদখোরদের অবস্থা এবং সুদের অবৈধতা সম্পর্কে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন।
- আয়াতে বলা হয়েছে, 'আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন'
- এছাড়া সূরা বাকারার ২৭৬-২৮০ আয়াতেও সুদ প্রসঙ্গ এবং এর ভয়াবহতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
পবিত্র কুরআনের সর্বশেষ অবতীর্ণ পূর্ণাঙ্গ সূরা হলো 'সূরা আন-নসর'
- বিদায় হজের সময় মিনায় অবস্থানকালে এই সূরাটি সম্পূর্ণ অবতীর্ণ হয়।
- এই সূরায় মক্কা বিজয়ের ইঙ্গিত এবং মহানবী (সা.)-এর ইন্তেকালের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
- উল্লেখ্য, ওহী নাজিলের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ বা পূর্ণাঙ্গ সূরা হিসেবে সর্বপ্রথম নাজিল হয়েছিল 'সূরা ফাতিহা'। কিন্তু সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ সূরা হিসেবে নাজিল হয় 'সূরা নসর' এবং সর্বশেষ আয়াত নাজিল হয় সূরা বাকারার ২৮১ নম্বর আয়াত।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
হজরত ওসমান (রা.)-কে 'জামিউল কুরআন' বা 'কুরআন একত্রকারী' বলা হয়।
- তাঁর খিলাফতকালে ইসলামী সাম্রাজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটলে বিভিন্ন অঞ্চলে কুরআন পাঠের রীতি বা উচ্চারণে ভিন্নতা দেখা দেয়।
- সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে একই পঠনরীতির ওপর ঐক্যবদ্ধ করতে তিনি কুরআনের একটি প্রমিত কপি (মুসহাফ) তৈরি করে বিভিন্ন প্রদেশে প্রেরণ করেন।
- তাঁর এই অসামান্য অবদানের জন্যই তাঁকে জামিউল কুরআন উপাধি দেওয়া হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ইসলামের ইতিহাসে সর্বপ্রথম নির্মিত মসজিদ হলো কুবা মসজিদ
- এটি সৌদি আরবের মদিনা শহর থেকে কিছুটা দূরে কুবা নামক স্থানে অবস্থিত।
- মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার সময় এই স্থানে অবস্থান করেন এবং এই মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন।
- পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তাওবায় এই মসজিদকে 'তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত মসজিদ' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
'কুরআন' শব্দটি আরবি 'কারাউ' (পড়া) মূল ধাতু থেকে উৎপন্ন। এর আভিধানিক অর্থ হলো অধিক পঠিত বা যা বারবার পড়া হয়।
- পৃথিবীতে আল-কুরআন হলো সবচেয়ে বেশি পঠিত গ্রন্থ।
- প্রতিদিন সারা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিম নামাজে এবং ব্যক্তিগতভাবে এটি তেলাওয়াত করেন, তাই এর নামকরণ অত্যন্ত সার্থক।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
পবিত্র কুরআনের প্রথম নাজিলকৃত আয়াতগুলো হলো সূরা আলাকের প্রথম ৫টি আয়াত। তবে, ওহী নাজিলের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ বা পূর্ণাঙ্গ সূরা হিসেবে সর্বপ্রথম নাজিল হয় 'সূরা ফাতিহা'
এটি একটি মক্কী সূরা এবং কুরআনে কারিমের বিন্যাসে এটি সর্বপ্রথম স্থান পেয়েছে। যদিও সূরা আলাক বা মুদ্দাসসিরের কিছু অংশ আগে নাজিল হয়েছিল, কিন্তু সেগুলো খণ্ডাকারে ছিল, পূর্ণাঙ্গ সূরা হিসেবে ফাতিহাই প্রথম।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
রাসূল (সা.)-এর উপর যখন ওহী নাযিল হতো, তখন তিনি তা সাহাবীদের দিয়ে লিখিয়ে নিতেন। যারা ওহী লিখতেন, তাদের 'কাতেবে ওহী' বা 'ওহী লেখক' বলা হতো।
মোট ৪২ জন সাহাবী ওহী লেখার কাজে নিয়োজিত ছিলেন, যার মধ্যে যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) ছিলেন অন্যতম এবং প্রধান।
পরবর্তীতে খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-এর শাসনামলে তাঁর নেতৃত্বেই পবিত্র কুরআন গ্রন্থাকারে সংকলনের ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালিত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
পবিত্র কুরআনে মোট ১৪টি সিজদার আয়াত রয়েছে।
এই আয়াতগুলো তেলাওয়াত করলে বা শুনলে তেলাওয়াতকারী ও শ্রোতা উভয়ের ওপর সিজদা করা ওয়াজিব। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে সিজদার আয়াতের সংখ্যা ১৪টি, তবে ইমাম শাফিয়ী (রহ.)-এর মতে ১৫টি। আমাদের দেশে ১৪টি হিসেবেই আমল করা হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সামর্থ্যবান প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর জন্য জীবনে একবার হজ্জ করা ফরজ।
হাদিস শরীফে উল্লেখ আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'মানুষের ওপর আল্লাহ হজ্জ ফরজ করেছেন।' এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ! তা কি প্রতি বছর?' রাসূল (সা.) চুপ থেকে পরে বললেন, 'যদি আমি হ্যাঁ বলতাম, তবে তা প্রতি বছরই ওয়াজিব হয়ে যেত, কিন্তু তোমরা তা পালন করতে পারতে না।' (মুসলিম ও নাসায়ী)
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
"সাওম কেবল আমার জন্য এবং আমি এর প্রতিদান দেবো।" - এটি একটি হাদীসে কুদসী
হাদীসে কুদসী (Hadees-e-Qudsi) হলো এমন এক বিশেষ প্রকারের হাদীস, যার ভাব বা মর্মার্থ আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নাযিল হয়েছে, কিন্তু ভাষাগত রূপ বা শব্দ চয়ন করেছেন রাসূল (সা.)
সাধারণ কুরআনের আয়াত এবং হাদীসে কুদসীর মূল পার্থক্য হলো- কুরআনের শব্দ ও অর্থ উভয়ই আল্লাহর, আর হাদীসে কুদসীর শব্দ রাসূলের কিন্তু বার্তা আল্লাহর।

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
সাদাকায়ে ফিতরের বিধান হলো ওয়াজিব। এটি সুন্নাত বা নফল নয়।
রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদের নামাজের আগে এই সাদাকা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। সামর্থ্যবান প্রতিটি মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর ঈদুল ফিতরের দিন সাদাকায়ে ফিতর আদায় করা আবশ্যক, যাতে গরীব ও দুঃস্থরাও ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
কিবলা পরিবর্তনের ঘটনাটি ঘটেছিল দ্বিতীয় হিজরী সনের শাবান মাসে
এর আগে মুসলমানরা বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করতেন। মহান আল্লাহর আদেশে মদিনায় বনু সালিম গোত্রের মসজিদে জোহর বা আসরের নামাজরত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সা.) বাইতুল্লাহ বা কাবা শরীফের দিকে মুখ ফিরিয়ে নেন।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
নামাজ পড়ার বা সিজদা করার নিষিদ্ধ সময় ৩টি
সময়গুলো হলো:
১. সূর্যোদয়ের সময় (সূর্য পুরোপুরি না ওঠা পর্যন্ত)।
২. ঠিক দ্বিপ্রহরের সময় (সূর্য যখন ঠিক মাথার ওপরে থাকে)।
৩. সূর্যাস্ত যাওয়ার সময় (সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করা থেকে ডুবে যাওয়া পর্যন্ত)।
তবে এই সময়ে নামাজ পড়া মাকরুহে তাহরীমি বা হারাম।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
জানাজার নামায মুসলিম সমাজে একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় এটি ফরযে কিফায়া
⇒ এর অর্থ হলো, সমাজের কিছু সংখ্যক মানুষ যদি এই নামাজ আদায় করে নেয়, তবে সবার পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে।
⇒ কিন্তু যদি কেউ আদায় না করে, তবে সমাজের সবাই গুনাহগার হবে।
⇒ এটি মূলত মৃত ব্যক্তির জন্য মাগফিরাত ও দোয়ার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
নামাজের ভেতরে যে ফরজ কাজগুলো পালন করা আবশ্যক, সেগুলোকে আরকান বলা হয়।
নামাজের আরকান মোট ৬টি। যথা:
১. তাকবিরে তাহরিমা বলা।
২. দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা (ক্বিয়াম)।
৩. কোরআন তিলাওয়াত করা (কিরাত)।
৪. রুকু করা।
৫. দুই সিজদা করা।
৬. শেষ বৈঠকে বসা।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
ইসলামী পরিভাষায় ফসলের যাকাতকে 'উশর' বলা হয়।
- 'উশর' একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ হলো এক-দশমাংশ (১০ ভাগের ১ ভাগ)
- প্রাকৃতিকভাবে (বৃষ্টি, ঝরণা বা নদীর পানি দ্বারা) উৎপাদিত ফসলের ক্ষেত্রে ১০ ভাগের ১ ভাগ যাকাত হিসেবে দিতে হয়।
- আর কৃত্রিম সেচ বা প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত ফসলের ক্ষেত্রে ২০ ভাগের ১ ভাগ (বা ৫%) যাকাত দেওয়া ওয়াজিব।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তাওবার ৬০ নম্বর আয়াত অনুযায়ী যাকাত বন্টনের খাত ৮টি
- খাতগুলো হলো: ফকির, মিসকিন, যাকাত আদায়কারী, অনুরাগী ব্যক্তি (নওমুসলিম), দাসমুক্তি, ঋণগ্রস্ত, আল্লাহর পথে সংগ্রামকারী এবং মুসাফির
- যাকাত শব্দের অর্থ পরিশুদ্ধ করা বা বৃদ্ধি পাওয়া; এটি ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি
- নিসাব পরিমাণ (সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার সমমূল্য) সম্পদের উপর শতকরা ২.৫% হারে যাকাত প্রদান করা ফরজ।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
মুসলমানদের প্রথম কিবলা হলো বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসা।
- এটি ফিলিস্তিনের জেরুজালেম শহরে অবস্থিত।
- মক্কায় থাকাকালীন এবং মদীনায় হিজরতের পর প্রায় ১৬ বা ১৭ মাস নবী করিম (সা.) ও সাহাবীগণ বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করতেন।
- পরবর্তীতে আল্লাহর নির্দেশে (সূরা বাকারার ১৪৪ নং আয়াত অনুযায়ী) কিবলা পরিবর্তন করে মক্কার কাবা শরীফকে মুসলমানদের চিরস্থায়ী কিবলা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
- ইসলামে মক্কার মসজিদুল হারাম এবং মদীনার মসজিদে নববীর পর বায়তুল মুকাদ্দাস হলো তৃতীয় পবিত্রতম স্থান।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
আল্লাহর বাণী সংবলিত ছোট আসমানি কিতাবকে সহীফা বলা হয়।
- ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির হেদায়াতের জন্য নবী-রাসূলদের প্রতি আসমানি কিতাব নাযিল করেছেন।
- সর্বমোট আসমানি কিতাব ১০৪টি। এর মধ্যে ৪টি বড় এবং ১০০টি ছোট
- বড় ৪টি কিতাব হলো: তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল ও কুরআন।
- ছোট ১০০টি কিতাবকে একত্রে 'সহীফা' বলা হয়। 'সহীফা' শব্দের অর্থ পুস্তিকা বা ছোট গ্রন্থ।
- এই সহীফাগুলো হযরত আদম (আ.), হযরত শীস (আ.), হযরত ইদ্রিস (আ.) এবং হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ওপর নাযিল হয়েছিল।
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
তায়াম্মুম হলো পানি পাওয়া না গেলে বা পানি ব্যবহারে অক্ষম হলে পবিত্র মাটি দিয়ে পবিত্রতা অর্জনের একটি বিকল্প পদ্ধতি।
- পবিত্র কুরআনের সূরা আল-মায়িদাহর ৬ নম্বর আয়াতে তায়াম্মুমের বিধান দেওয়া হয়েছে।
- তায়াম্মুমের ফরয মোট তিনটি, যা অবশ্যই পালনীয়।
- প্রথম ফরয হলো পবিত্রতা অর্জনের জন্য নিয়ত করা
- দ্বিতীয় ফরয হলো পবিত্র মাটিতে দুই হাত মেরে তা দিয়ে সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল একবার মাসেহ (মোছা) করা
- তৃতীয় ফরয হলো আবার মাটিতে দুই হাত মেরে তা দিয়ে উভয় হাতের কনুই পর্যন্ত একবার মাসেহ করা

এখানে প্রথম ৩০টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন, বাকি সব প্রশ্নের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা পেতে এখনই অ্যাপ ইন্সটল করুন।

Install App
i
ব্যাখ্যা (Explanation):
শূন্যস্থানে সঠিক শব্দটি হবে ঈমান। এটি একটি বিখ্যাত হাদিসের অংশ।
হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যার মধ্যে আমানতদারী নেই, তার ঈমান নেই; আর যার মধ্যে প্রতিশ্রুতি রক্ষার সদিচ্ছা নেই, তার কোনো দ্বীন বা ধর্ম নেই।" (মুসনাদে আহমাদ)।
সুতরাং, আমানত রক্ষা করা প্রকৃত মুমিনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য এবং এর অভাবে ঈমান অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
সঠিক উত্তর: 0 | ভুল উত্তর: 0